সময়ের মূল্য
ভূমিকা: ক্ষনিকের এই সময়ে মানুষ কত কিছুইনা করে। কেউ কষ্ট করে টাকা পয়সা রোজগার করে ধনী হওয়ার জন্য কেউবা কষ্ট করে নিজেকে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত করার জন্য। যে যাই হতে চাক না কেন সব কিছুর জন্য প্রয়োজন সময়। কারন ক্ষনিকের এই পৃথিবীতে নিজেকে সফল করার জন্য প্রয়োজন সময়ের মূল্য দেয়া। নিজেকে সফল ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন সময়কে শ্রদ্ধা করা, সময়ের হিসেব করে চলা। পৃথিবীতে যত বড় বড় জ্ঞানী এবং বিখ্যাত ব্যক্তি বর্গ ইতিহাসের পাতায় অবিস্মরণীয় হয়ে আছে তারা সবাই ছিলেন সময়ের প্রতি অনেক নিষ্ঠাবান ছিলেন। কথায় আছে "সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করেনা।" নদীর পানি যেমন চলমান তেমনি সময়ও চলমান। সময় তার গতিতে চলে তাকে কখনো আটকে রাখা যায়না। এই পৃথীবিতে তারাই সফল হতে পারে বা জয়মাল্য তারাই পায় যারা সময়ের মূল্য বোঝে। সুতরাং, মহামূল্যবান এই সময়কে কখনো অবহেলা করা উচিৎ নয়।
সময়ের মূল্য: "মহাকাল ছুটিছে অনন্ত ধায় কেহ তারে ধরিতে নাহি হায়।" যখন পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল তার আগ থেকে সময় তার নিজের গতিতে চলছে তো চলছেই। তার যাত্রা অসীমে। সারা জীবন ধরে কেউ যদি অধ্যাবসায় করে তবু সময় কে তার গতি থেকে আলাদা করা সম্ভব নয়। কেউ সময়কে আটকে রাখতে পারবেনা।
সময় হচ্ছে অমূল্য একটি সম্পদ। যাকে কখনো কেউ কিনতে পারবেনা। পৃথিবীতে অনেক কিছু কেনা গেলেও এই অমুল্য সম্পদ কে কখনো কেনা সম্ভব নয়। অনেক কিছুর আর্থিক মূল্য নিরুপন করা গেলেও সময়ের যে মূল্য রয়েছে তা নিরুপন করা সম্ভব নয়। বহমান নদী যেমন সাবলীল এবং প্রবাহমান সময় ঠিক তেমনি। এক সেকেন্ডের জন্যেও তার স্থির হওয়ার অবকাশ নেই। মানুষ এবং এই পৃথীবির সব কিছু একদিন থেমে যাবে কিন্তু দুরন্ত এই সময় তার গতিতে চলতেই থাকবে। তাই কবি Banjamin Franklin লিখেছেন- "You can't keep today's hour for tomorrow." অর্থাৎ আজকের কাজ কালকের জন্য রেখনা। আজ যে কাজটি করবে বলে কালকের জন্য রেখে দিবে কাল সেই কাজ করার সময় ও সুযোগ নাও পেতে পার। প্রকৃতির নিয়মে সময়ের সাথে সাথে আমাদের কাজও শেষ করা উচিৎ। কিন্তু সেটা অবহেলায় যদি কালকের জন্য ফেলে রাখি তাহলে এই সেই কাজ কখনোই সম্পন্ন করা হবেনা। এক সময় অন্য কাজের নিচে চাপা পরে যাবে। তাই সময়ের কাজ সময়ে করা উচিৎ।
সময়ের মূল্য নিয়ে ধর্ম যা বলেঃ মহান আল্লাহতালা বলেছেন, "সময়ের আদি এবং অন্ত নেই, আমিই সময়।" আল্লাহতালা সব কিছুর জন্য সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। মুসলিমরা দিনে যে পাচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। সেই নামাজের জন্যেও সময় বেধে দেয়া আছে। ফজরের নামাজ যেমন জোহরে পরলে হবেনা, তেমনি জোহরের নামাজও ফজরে পরলে হবেনা।
ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) সময়ের ব্যপারে অনেক সচেতন ছিলেন। তিনি সব সময় সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করতেন, তার সব কাজ সঠিক সময়ে করতেন। হযরত মুহাম্মাদ (সা) বলেছেন, "যদি কোনো মুমিন অন্য কোনো মুমিনের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ে সাক্ষাতের ওয়াদা করে এবং সময়মত হাজির না হয় তবে তার উপর খোদার লানত বর্ষিত হতে থাকে ততক্ষণ, যতক্ষণ সে ঐ মুমিনকে অপেক্ষায় রাখে।"
সময়ের সঠিক মূল্যায়ন করাঃ বাংলার লোক কবির কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে এ হাহাকার "এপার গঙ্গা ওপর গঙ্গা, মধ্যখানে চর " অর্থাৎ এপার বলতে কবি বুঝিয়েছেন জন্ম, ওপার বলতে কবি মৃত্যুকে বুঝিয়েছেন এবং মধ্যখানে চর বলতে জীবনের সীমাবদ্ধ সময় কে বুঝিয়েছেন। এই ছোট্ট এবং সীমাবদ্ধ সময়ে নিজেকে সফল ব্যক্তি এবং স্বপ্ন পুরন করতে চাইলে প্রয়োজন সময়ের সঠিক মূল্যায়ন। নির্দিষ্ট সময়ের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা। তবেই নিজেকে ব্যক্তিত্ববান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। যুগ যুগ ধরে বিখাত মনিষী, বিজ্ঞানী, জ্ঞানী ব্যক্তিরা তাই করে গেছেন। তাই তারা ইতিহাসের পাতায় চির স্বরনীয় হয়ে আছেন।
সময়ের বৈশিষ্ট্যঃ কবি বলেছেন, "সময় হলো এক অমোঘ সত্য যা আমাদের সবাইকে একদিন ছাড়িয়ে যাবে।" অর্থাৎ সময় তার নিজস্ব গতিতে চলে। সে আপন গতিতে চলে কারো জন্য থামেনা। সব কিছুর যেমন নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে ঠিক তেমনি সময়েরও রয়েছে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য। সময়ের বৈশিষ্ট্য হলো এর গতিশীলতা। সময় কে জগতের কোনো নিয়মে বাধায় সম্ভব না। কেউ সময় কে তার নিয়ন্ত্রনে আনতে পারবেনা। কেয়ামত পর্যন্ত সময় তার নিজের গতিতে চলবে তার অস্তিত্ব বিরাজমান থাকবে। ঘড়ির কাটা সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে সময় অতীত কে আরো ভারী করে তোলে। আল্লাহ ছাড়া সময়কে ধরে রাখার ক্ষমতা আর কারো নেই। এখন যে সময় চলে যাচ্ছে একটু পর এই সময় অতীত হয়ে যাবে। ভবিষ্যৎ হলো মরিচীকার মত। কখনোই ভবিষ্যৎ কে হাতের মুঠোয় পাওয়া যায়না।
সময়ের সদ্ব্যবহারঃ ফকির লালন সাই বলে গেছেন তার গানে- "সময় গেলে সাধন হবেনা দিন থাকিতে দিনের সাধন কেন করলেনা।"
এই গানটির মাধ্যমে লালন সাই বোঝাতে চেয়েছেন যে সময় কে তুমি আজ অবহেলা করছ, যে কাজ ফেলে রাখছ পরের দিন করার জন্য সেই সময় কখনো ফিরে পাওয়া যাবেনা। যদি আমরা সময়ের সদ্ব্যবহার না করি তাহলে আমাদের সকল স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে, কোনো আশা পুরন হবেনা। আমাদের সাধনা কখনোই স্বার্থক হবেনা। " দিন থাকিতে দিনের সাধনা কেন করলেনা" এই লাইনটির মানে হচ্ছে মানুষ যখন সময় কে অবহেলা করে সময় ফুড়িয়ে ফেলে আফসোস করতে থাকে, সেই কান্না এবং আফসোস বৃথা। কারন সময় থাকতে সময়ের মর্ম না বুঝে আফসোস করা বোকামি। জীবনের লক্ষ্য পূরনের জন্য সময় থাকতে সময়ের কাজ শেষ করতে হবে, তবেই আমাদের স্বপ্ন পূরন হবে। লালন সাই এই গানের মাধ্যমে এই মুল্যবান কথাটিই বোঝাতে চেয়েছেন।
সময়ের সদ্বব্যবহার করে অনেক মানুষ তাদের স্বপ্ন পুরন করেছেন। বিজ্ঞানের ইতিহাসে বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনষ্টাইন মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে আপেক্ষিকতা তত্বের আবিষ্কার করেন। তার জীবনী থেকে জানা যায় সময়ের ব্যপারে অনেক সতর্ক ছিলেন। তাইতো মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে এমন জটিল একটি তত্ব আবিষ্কার করতে পেরেছেন।
ছাত্রজীবনে সময়ের মূল্যঃ ছাত্রজীবন কে বলা হয় জীবন সংগ্রামের প্রস্ততির সময়। এই সময় আমরা নিজেকে যেভাবে পরিচালিত করব ভবিষ্যতে ঠিক সেরকম ফলাফল পাব। এই সময় যে বীজ বপন করা হয় ভবিষ্যতে ঠিক তেমন ফল পাওয়া যায়। ছাত্রজীবনে অধ্যায়ন হচ্ছে প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। প্রতিদিনের পড়া পরবর্তী সময়ের জন্য ফেলে না রেখে প্রতিদিন শেষ করার মানসিকতা থাকতে হবে।
ছাত্রজীবনে পাঠাভ্যাসের পাশাপাশি শরীরচর্চা, চরিত্রগঠন এবং সংযমের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এক জন ছাত্র তার ছাত্রজীবনে যত পরিশ্রম করবে তার কর্মজীবন তত সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর এই সাফল্য নির্ভর করে একজন ছাত্রের সময়ের সঠিক মূল্যায়নের উপর। সুতরানফ, শৈশব থেকে সময়ের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিৎ। ছাত্রজীবনে যারা সময় নষ্ট করেনা, দৈনন্দিন কর্মসূচিকে অবহেলা করেনা তারাই ছাত্রজীবনে সোনার কাঠির পরশ পায়। তাইতো এ প্রসঙ্গে উইলিয়াম শেক্সপিয়ার বলেছেন, " সময়ের প্রতি যাদের শ্রদ্ধা নেই, তারাই পৃথিবীতে নিঃস্ব, বঞ্চিত ও পরমুখাপেক্ষী।"
জাতীয় জীবনে সময়ের মূল্যঃ ছাত্রজীবনের মত জাতীয় জীবনে সময়ের মূল্য অপরিসীম। যে জাতি কর্মতৎপর নয় সে জাতি কখনো এগিয়ে যেতে পারেনা। তাদের জীবনে শুধু পতন আছে কোনো উত্থান থাকেনা। একটি জাতি আলস্য, ঔদাসীন্য, অনিয়মানুবর্তিতার কারনে চিরতরের জন্য একটি সভ্যতা থেকে মুছে যেতে পারে। আমাদের দেশের সাথে যদি উন্নত দেশ গুলোর তুলনা করি তাহলে দেখা যাবে তারা সময়ের ব্যপারে অনেক সচেতন, সবাই প্রচন্ড অধ্যাবসায়ী। কিন্তু জাতি হিসেবে আমরা সবার কাছেই অলস হিসেবে পরিচিত। কারন আমাদের কোনো সময় জ্ঞান নেই। পরনিন্দা, পরচর্চা করে আমরা আমাদের সময়কে হেলায় নষ্ট করি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারনে জাপান একদম নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিল কিন্তু তাদের সময়নুবর্তীতার কারনে আজ তারা উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে গিয়েছে। আজ তারা বিশ্ব দরবারে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে। তাই আমরা যদি আমাদের দেশের উন্নতি করতে চাই জাতি হিসেবে নিজেদের জাপানিদের মত উন্নত করতে চাই তাহলে অবশ্যই সময়কে গুরুত্ব দিতে হবে এবং সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে। তাইতো স্পানিশ দার্শনিক ব্যালটাজার গার্সিয়ান বলেছেন, "যার হাতে কিছুই নেই, তার হাতেও সময় আছে। এটাই আসলে সবচেয়ে বড় সম্পদ"
সময়ই শ্রেষ্ঠ সম্পদঃ মানব জীবন গঠিত কতকগুলো মুহূর্তের সমষ্টি নিয়ে। তাই প্রতিটি মুহূর্তই মানুষের জন্য মহামূল্যবান। অনেকে সময়কে ক্ষুদ্র বলে অবমূল্যায়ন করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে সময়ের ক্ষেত্রে সামান্য বলে কোনো কিছু নেই। সময় হচ্ছে অসামান্য জিনিস। জীবনে এক সেকেন্ডের অপচয় করলেও জীবন থেকে অনেক সম্ভাবনাময় জিনিস মানুষ হারিয়ে ফেলে। যদি কেউ সময় কে জীবনে কাজে লাগায় তাহলে সেই ব্যক্তি তার জীবনে সফলতা অর্জন করতে পারে। সময় কে ভালভাবে কাজে লাগাতে পারলে ধন সম্পদ, বিদ্যা- বুদ্ধি, যশ খ্যাতি সব - কিছু অর্জন করা সম্ভব।
সময়ের গুরুত্বঃ আমাদের জীবন ক্ষনস্থায়ী। কিন্তু কাজের মাধ্যমে যে গৌরব অর্জন করি তা ক্ষনস্থায়ী। মানব জীবনে অফুরন্ত শিক্ষা রয়েছে, রয়েছে অপরিমেয় কর্তব্য, আর কর্ম জগতের পরিধি ক্রমবর্ধমান। তাই সময় কে সঠিক ভাবে কাজে লাগিয়ে জীবনের কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছানো উচিৎ। সঠিক সময়ে ফসলের বীজ বপন করলে যেমন শস্যের উৎপাদন ভাল করা যায়, রোগে আক্রান্ত হলে যেমন সঠিক সময়ে ওষুধ খেতে হয়, তেমনি সঠিক দায়িত্বের মাধ্যমে নিয়মিত পাঠাভ্যাসের মাধ্যমে পরীক্ষায় কাঙ্খিত ফলাফল লাভ করা যায়। তাইতো কবি বলেছেন, "সময়ের গুরুত্ব বুঝে করা যারা কাজ। তারা আজ স্মরনীয় জগতের মাঝ।" সময়ের মূল্যায়ন ও জীবনে সাফল্য সময় গতিশীল তাই তাকে কখনো থামিয়ে রাখা যায়না। সময় কে কোনো কিছু দিয়ে আটকে রাখা সম্ভব নয়। সে কোনো লোভ বা ভয়ের পরোয়া করেনা। সময় প্রকৃতিগত ভাবেই নিষ্ঠুর ও নির্মম। অথচ সময়কে সঠিক ভাবে কাজে লাগিয়ে জীবনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। যারা সময়কে সঠিক ভাবে কাজে লাগায় তারাই জীবনে সফল হয়। কিন্তু তারা সময় কে অবহেলা করে, হেলা করে তাদের জীবনে সম্ভাবনার সকল দ্বার বন্ধ হয়ে যায়, জীবনে ভয়াবহ পরিনতি ডেকে আনে।
সময়নিষ্ঠ ব্যক্তি ও জাতির উদাহরণঃ জগতে যারা ইতিহাসের পাতায় জ্বলজ্বল করছে তাদের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তারা সময়ের প্রতি অনেক নিষ্ঠাবান ছিলেন। তারা কেউ সময়ের ব্যপারে উদাসীন ছিলেন না। তারা জীবনের প্রতিটি মূহুর্ত কে মেপে মেপে ব্যবহার করেছেন। কোনো জড়তা বা অলসতা তাদের গ্রাস করতে পারেনি। আব্রাহাম লিংকন সামান্য শ্রমিক থেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন সময় কে কাজে লাগিয়ে। ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) তার জীবনের প্রতিটি সময় কে কাজে লাগিয়েছেন। এরিষ্টটল আলেকজেন্ডারের গৃহশিক্ষক থেকে সময়কে কাজে লাগিয়ে হয়েছিলেন বিখ্যাত দার্শনিক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শেরে বাংলা ফজলুল হক, আইনস্টাইন এবং টমাস আলভা এডিসন সহ বিখ্যাত ব্যক্তিগন তাদের সময়কে কাজে লাগিয়ে আজ চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
সময়নিষ্ঠ জাতি হিসেবে ইংরেজ, আমেরিকান, জাপানি, ভিয়েতনামি, চাইনিজ এরা বিশ্ব দরবারে মাথা উচু করে আছে। সময়কে কাজে লাগিয়ে যে উন্নতির চরম শিখরে পৌছানো যায় এই জাতি গুলো তা দেখিয়েছেন। আমাদের মত অউন্নত দেশের কাছে তারা আজ রোল মডেল।
উপসংহারঃ ছোট্ট এই জীবনে উন্নতি করতে চাইলে সময়ের মূল্য দেয়ার বিকল্প কিছু নেই। আমাদের জীবনকে মহিমান্বিত করতে পারে সময়ের সঠিক ব্যবহার। মানুষের জীবন মহামূল্যবান তাই মহামূল্যবান এই জীবনকে সময় অপচয় করে নষ্ট হতে দেয়া উচিৎ নয়। অতীতে যারা সফল ব্যক্তি হিসেবে সারাবিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে তারা সবাই অনেক নিষ্ঠাবান ছিলেন। ভবিষ্যতেও তারাই সফল হবেন যাদের সময় জ্ঞান আছে।
Related Question
View Allএকজন লেখক তিনিই যিনি লেখেন। তবে সব লেখা লিখেই লেখক হওয়া যায় না। লেখক সব ধরনের হতে পারে। তবে সৃজনশীল লেখকই হচ্ছে আমাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু। লেখক হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম একটি স্বাধীন সত্ত্বা।
একজন লেখক পুরোপুরি তার নিজের সত্ত্বার ওপরে বেঁচে থাকে। অনেকেই লেখক হবার সহজ উপায় খোঁজ করে। কিন্তু পড়তে পড়তে আর লিখতে লিখতেই শুধুমাত্র লেখক হওয়া যায়। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। লেখক অনেক ধরনের হতে পারে।
একজন সাংবাদিকও একজন লেখক। উপন্যাস, গল্প, কবিতা, ছড়া, সাহিত্য, প্রবন্ধ, রম্য, ব্লগ সব ধরনের লেখা যারা লেখে তারাই লেখক। অনেকেই মস্তিষ্কের মধ্যে ওকটা লেখার শক্তি পেয়ে যায় আর অনেকে হয়ত শিখে শিখে লেখক হয়।
সমাজ সভ্যতা কখনোই পুরোপুরি একজন লেখকের পক্ষে থাকে না। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপক্ষে চলে যায়। স্বাভাবিকভাবেই একজন লেখক তার কলমের আঘাতে জর্জরিত করতে চায় সকল অন্যায়, অপবাদ। তাই হয়ত বেঁধে যেতে পারে সংঘাত। কলমই হচ্ছে একজন লেখকের দাঁড়ানোর জায়গা। কলম ছাড়া লেখকের অস্তিত্ব বিলীন। তবে সবাইকে যে প্রতিবাদ লিখতে হবে এমন কোনো কথা। কেউ কেউ মনোরঞ্জনের জন্যও লেখে। অনেকে আবার চাটুকারিতা করতে লেখে। কেউ আবার কীভাবে পুরষ্কার তুলে নেওয়া যায় সেই ধান্দা করার জন্য লেখে।
একজন লেখক হয়ে উঠতে পারে ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্যকারী। সে কলমের ছোঁয়ায় প্রতিবাদ করতে অন্যায়ের আর ফুটিয়ে তুলবে ন্যায়ের কথা। লেখকের কলমের কালি প্রেরণার সুর হয়ে গান গাইবে। আর অশ্রুসিক্ত নয়নে হাসির ঝলক আনবে লেখকের কলম। একজন লেখকের প্রাণ তার লেখা, তার লেখার ভঙ্গি। সে তার লেখা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলতে পারবে অসুস্থ কোনো সভ্যতাকে। লেখক তার কলম দিয়ে জাগ্রত করতে পারবে মানুষের ভীতরে লুকিয়ে থাকা অদম্য সাহস।
একজন লেখক কল্পনাকে নিয়ে আসতে পারে বাস্তবে। আমাদের নিয়ে যেতে পারে কল্পনার গহীন বনে। লেখক আমাদের সবাক যুগ থেকে অবাক যুগে নিয়ে যেতে পারে মুহূর্তের মাঝেই। লেখক জাগাতে পারে প্রেম, লেখক জাগাতে পারে নতুন কাজের স্পৃহা।
অনেকেই মনে করে লেখকের সকল বিষয়ে দ্বায় আছে। কিন্তু লেখকের মূলত কারো কাছেই কোনো দ্বায় নেই। তার দ্বায় থাকে শুধু নিজের মনের কাছে, নিজের বিবেকের কাছে, নিজের সুপ্ত চেতনার কাছে। সমাজ কি ভাববে তা নিয়ে লেখক মাথা ঘামাবে না। লেখক ভয়ে নাথা নোয়াবে না। লেখক যতদিন বাঁচবে বীরের মতোই বাঁচবে।
সারা বিশ্বেই লেখকরা নির্যাতনের শিকার হয়। অনেকেই বলে থাকে লিখে কিছুই হয় না। তাই যদি হতো তাহলে লেখার জন্য লেখকের শাস্তি হতো না। লেখকের ফাঁসি হতো না।
লেখকের কলমে অনেক জোর। সেই জোর ভেঙে চুরে গুড়িয়ে দিতে পারে যেকোনো কিছু। বিশেষ করে সাংবাদিকরা বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত হয় অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে। শাস্তি, সাজা বহু কিছু তাদের সহ্য করতে হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখলে হুমকি আসে, হামলা মামলা বহু ঘটনাই ঘটে। কারণ শাসক, শোষক আর অন্যায়কারীদের অনেক ক্ষমতা। লেখকের সমাজের দায়মুক্তির জন্য জীবনও দিতে হয়। তাইতো একজন লেখক সমাজের শক্তি, সমাজের সম্পদ।
সাহিত্য হচ্ছে মানুষের চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি তথা মানব-অভিজ্ঞতার কথা বা শব্দের বাঁধনে নির্মিত নান্দনিক বহিঃপ্রকাশ। এই অর্থে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ইত্যাদি উচ্চতর গুণাবলি সমন্বিত বিশেষ ধরনের সৃজনশীল মহত্তম শিল্পকর্ম। সাহিত্য-শিল্পীগণ যখন ‘অন্তর হতে বচন আহরণ’ করে আত্মপ্রকাশ কলায় ‘গীতরস ধারা’য় সিঞ্চন করে ‘আনন্দলোকে’ নিজের কথা- পরের কথা- বাইরের জগতের কথা আত্মগত উপলব্ধির রসে প্রকাশ করেন- তখনই তা হয়ে ওঠে সাহিত্য। রবীন্দ্রনাথের কথায় “বহিঃপ্রকৃতি এবং মানব-চরিত্র মানুষের মধ্যে অনুক্ষণ যে আকার ধারণ করিতেছে, যে-সঙ্গীত ধ্বনিত করিয়া তুলিতেছে, ভাষা-রচিত সেই চিত্র এবং সেই গানই সাহিত্য।…সাধারণের জিনিসকে বিশেষভাবে নিজের করিয়া – সেই উপায়ে তাহাকে পুনরায় বিশেষভাবে সাধারণের করিয়া তোলাই হচ্ছে সাহিত্যের কাজ।” [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্য] সাহিত্য সত্য-সুন্দরের প্রকাশ হিসেবে প্রবহমাণ সময়ে যা ঘটে – সে-সবের মধ্য থেকে যা মহৎ, যা বস্তুসীমাকে ছাড়িয়ে বাস্তবাতীত প্রকাশ করে, যা জীবনের জন্য কল্যাণময় এবং মহৎ আদর্শের দ্যোতক তাকেই প্রকাশ করে। আসলে মহৎ সাহিত্য তাই- যা একাধারে সমসাময়িক-শাশ্বত-যুগধর্মী-যুগোপযোগী-যুগোত্তীর্ণ। সাহিত্য কেবল পাঠককে আনন্দ দেয় না- সমানভাবে প্রভাবিত করে পাঠক এবং সমাজকে।
আভিধানিকভাবে ‘সহিতের ভাব’ বা ‘মিলন’ অর্থে ‘সাহিত্য’ হলো কাব্য, নাটক, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি সৃজনশিল্পের মাধ্যমে এক হৃদয়ের সঙ্গে অন্য হৃদয়ের সংযোগ স্থাপন; সাহিত্য¯্রষ্টা-সাহিত্যের সাথে পাঠকের এক সানুরাগ বিনিময়। কিন্তু আভিধানিক অর্থের নির্দিষ্ট সীমায় সাহিত্যের স্বরূপ-গতি-প্রকৃতি-বৈচিত্র্য ও বিস্তৃতির সম্যক ধারণা দেওয়া যেমন অসম্ভব, কোনো বিশেষ সংজ্ঞায় তাকে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়াও তেমন দুঃসাধ্য। বাচ্যার্থ ও ব্যঞ্জনার্থর সীমাকে অতিক্রম করে নানা রূপে, রসে, প্রকরণ ও শৈলীতে সাহিত্যের নিরন্তর যাত্রা সীমা থেকে অসীমে। প্রত্যক্ষ সমাজপরিবেশ তথা সমকালীন বাস্তব পারিপার্শ্বিক, নিসর্গপ্রীতি ও মহাবিশ্বলোকের বৃহৎ-উদার পরিসরে ব্যক্তিচৈতন্য ও কল্পনার অন্বেষণ ও মুক্তি- আর এইভাবেই শ্রেণিবিভাজন, নামকরণ ও স্বরূপমীমাংসার প্রচেষ্টাকে ছাপিয়ে উঠে সাহিত্যের যাত্রা সীমাহীনতায়। প্রকৃত সাহিত্য তাই যেমন তার সমসময় যা যুগমুহূর্তের, তেমনই তা সর্বকালের সর্বজনের। মার্কসবাদী সাহিত্যতত্ত্বে বাস্তব সমাজজীবনকে ‘ভিত্তি’ আর শিল্প-সাহিত্যকে সমাজের উপরিকাঠামোর [ঝঁঢ়বৎংঃৎঁপঃঁৎব] অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাহিত্যের মৌল উপকরণসামগ্রী আহৃত হয় জীবনের ভা-ার থেকে- সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বৈরিতার বিচিত্র-অনিঃশেষ ভা-ার থেকে। সাহিত্যসৃষ্টির মূলে সক্রিয় যে সৃজনী-ব্যক্তিত্ব তা নিছক বিমূর্ত কোনো সত্তা নয়; আত্মপ্রকাশ ও মানবিক সংযোগ ও বিনিময়ের বাসনায় অনুপ্রাণিত সে সত্তা তার ভাব-ভাবনা, বোধ ও বিশ্বাসকে এক আশ্চর্য কৌশলে প্রকাশ করে জনসমক্ষে কোনো একটি বিশেষ রূপ-রীতি-নীতির আশ্রয়ে। ব্যক্তিক অনুুভূতি-যাপিতজীবন-মিশ্রকল্পনার জগৎ থেকেই সৃষ্টি হয় সাহিত্যের; যুগান্তরের আলোকবর্তিকা হিসেবে সাহিত্য সত্যের পথে সবসময় মাথা উঁচু করে থেকেছে- সত্যকে সন্ধান করেছে। আসলে সাহিত্য এমনি এক দর্পণ- যাতে প্রতিবিম্বিত হয় মানবজীবন, জীবনের চলচ্ছবি, পরিবেশ-প্রতিবেশ, সমাজজীবনে ঘটমান ইতিহাস- ইতিহাসের চোরাস্রােত নানাবিধ কৌণিক সূক্ষ্মতায়।
সাধারণত আত্মপ্রকাশের বাসনা, সমাজ-সত্তার সঙ্গে সংযোগ কামনা, অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ এবং রূপপ্রিয়তা- এই চতুর্মাত্রিক প্রবণতাই মানুষের সাহিত্য-সাধনার মৌল-উৎস। চতুর্মাত্রিক প্রবণতার [আত্মপ্রকাশের কামনা, পারিপার্শ্বিকের সাথে যোগাযোগ বা মিলনের কামনা, কল্প-জগতের প্রয়োজনীয়তা এবং সৌন্দর্য-সৃষ্টির আকাক্সক্ষা বা রূপমুগ্ধতা] মধ্যে সমাজসত্তার সঙ্গে সংযোগ-কামনা এবং অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ- এই উৎসদ্বয়ের মধ্যে নিহিত রয়েছে সাহিত্য ও সমাজের মধ্যে আন্তর-সম্পর্কের প্রাণ-বীজ। সমাজ শিল্পীকে সাহিত্য-সাধনায় প্রণোদিত করে। ‘সহৃদয়-হৃদয় সংবাদ’এর মাধ্যমে সাহিত্যিকগণ লেখক-পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেন- উভয়ের হৃদয়বীণার তারগুলোকে একই সুতায় গেঁথে দেন। এর কারণে সাহিত্য দেশ-কাল-সমাজের সীমা অতিক্রম করে সর্বসাধারণের হৃদয়কে আকর্ষণ করে। এর ফলে সাহিত্য হয়ে ওঠে সার্বজনীন-সর্বকালের মানুষের হৃদয়ের সামগ্রী এবং সাহিত্য¯্রষ্টাও হয়ে ওঠেন অনেক বড়। কিন্তু বর্তমান বাংলা সাহিত্যচর্চার গতি-প্রকৃতি, সমস্যা-সংকট-সমাধান কোন দিকে? এসব বিষয়ের সন্ধান- এ প্রবন্ধের অন্বিষ্ট।
আমাদের লোকশিল্প প্রবন্ধটি আমাদের লোককৃষ্টি গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। লেখক এ প্রবন্ধে বাংলাদেশের লোকশিল্প ও লোক-ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন । এ বর্ণনায় লোকশিল্পের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধের পরিচয় রয়েছে।
আমাদের নিত্যব্যবহার্য অধিকাংশ জিনিসই এ কুটিরশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ।
শিল্পগুণ বিচারে এ ধরনের শিল্পকে লোকশিল্পের মধ্যে গণ্য করা যেতে পারে । পূর্বে আমাদের দেশে যে সমস্ত লোকশিল্পের দ্রব্য তৈরি হতো তার অনেকগুলোই অত্যন্ত উচ্চমানের ছিল। ঢাকাই মসলিন তার অন্যতম। ঢাকাই মসলিন অধুনা বিলুপ্ত হলেও ঢাকাই জামদানি শাড়ি অনেকাংশে সে স্থান অধিকার করেছে।
বর্তমানে জামদানি শাড়ি দেশে-বিদেশে পরিচিত এবং আমাদের গর্বের বস্তু। নকশি কাথা আমাদের একটি গ্রামীণ লোকশিল্প। এ শিল্প আজ বিলুপ্তপ্রায় হলেও এর কিছু কিছু নমুনা পাওয়া যায়। আপন পরিবেশ থেকেই মেয়েরা তাদের মনের মতো করে কীথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরণা পেতেন । কাঁথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক-একটি পরিবারের কাহিনী, তাদের পরিবেশ, তাদের জীবনগাঁথা ।
আমাদের দেশের কুমোরপাড়ার শিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ছাড়াও পোড়ামাটি দিয়ে নানা প্রকার শৌখিন দ্রব্য তৈরি করে থাকে। নানা প্রকার পুতুল, মূর্তি ও আধুনিক রুচির ফুলদানি, ছাইদানি, চায়ের সেট ইত্যাদি তারা গড়ে থাকে।
খুলনার মাদুর ও সিলেটের শীতলপাটি সকলের কাছে পরিচিত। আমাদের দেশের এই যে লোকশিল্প তা সংরক্ষণের দায়িত আমাদের সকলের । লোকশিল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি।
আমাদের অর্থনৈতিক সম্পদ
বাংলাদেশ, একটি দ্রুত উন্নতি লক্ষ্য নির্ধারণ করা দেশ, যা প্রচুর অর্থনৈতিক সম্পদের বেশিরভাগ সম্পদ নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ মৌলিকভাবে চারটি প্রধান উৎস থেকে আসে: জমি, কাজ, উদ্যোগ, এবং মানুষের কাজের দক্ষতা। এই সম্পদের বিকাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, আর্থিক এবং সামাজিক পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদের মূল স্তম্ভ হল কৃষি। দেশটি একটি প্রধানত কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির মূল হিসেবে প্রধানত শস্য ও ফসল চাষ প্রসঙ্গে বিকাশ হয়েছে। বাংলাদেশে প্রধানত ধান, পাট, মশুর ডাল, আখ, পটল, পেঁপে, তেল সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। অত্যন্ত উচ্চ মানের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনের ফলে এই খাদ্য পণ্য রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সম্পদের গড়াতে সাহায্য করে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উৎস হল প্রবৃদ্ধি ও শিক্ষাগত উন্নতি। বাংলাদেশে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাব কমে আসছে এবং মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি করছে। বিশেষত, প্রযুক্তির আগমন এবং বিনিয়োগে বৃদ্ধি নেওয়া হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক সম্পদের উন্নতির পথে সাহায্য করছে।
অন্যান্য উৎস হিসেবে প্রযুক্তিবিদ্যা এবং সেবা অংশ গুলির অগ্রগতি আছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সম্পদ হল তার মানুষের চাকরিভার্থী শ্রমিকেরা। তাদের দক্ষতা, উদ্যোগ, ও সামর্থ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যদিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে অনেক উত্সাহজনক প্রগতি হয়েছে, তবে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ র
য়েছে। প্রধানতঃ গরিব মানুষের জন্য আর্থিক সম্পদের অগ্রগতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনও বেশিরভাগ লোকের মধ্যে বৃদ্ধির অভাব আছে। তাছাড়া, পরিবেশের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সঠিক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।
পুনর্নির্মাণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পদের বিস্তার ও উন্নতি নিশ্চিত করতে পারে। সঠিক নীতি নির্ধারণ, উদ্যোগের বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত প্রবর্তন এবং শিক্ষাগত উন্নতি এমন পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।
শেষ কথায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা দেশটির সমৃদ্ধি ও উন্নতির সাথে অবিভাজ্যভাবে সংযোগিত। একটি দ্রুত বৃদ্ধির উপায় হল সঠিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা এবং উদ্যোগের বৃদ্ধি করা। এই প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে, বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে আরও এগিয়ে যেতে পারে এবং তার মানুষের জন্য আরো উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।
"বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" বলতে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ১৯৮৯ সালের পর সাম্যবাদী শাসনের পতন এবং এর ফলে উদ্ভূত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে বোঝায়। এই সময়কালে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতির দিকে ধাবিত হয়, যার ফলে নতুন জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক পরিবর্তন দেখা যায়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কারণ:
সাম্যবাদের পতন:
১৯৮৯ সালের ঐতিহাসিক বছরটি পূর্ব ইউরোপে সাম্যবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটায়, যা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই পরিবর্তনের ফলে দেশগুলো তাদের সাম্যবাদী অতীত থেকে মুক্তি পেতে শুরু করে।
গণতন্ত্রের পথে যাত্রা:
সাম্যবাদের পতনের পর পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে।
বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতার কারণসমূহ:
অর্থনৈতিক সংকট:
সাম্যবাদী অর্থনীতি থেকে বাজার অর্থনীতিতে উত্তরণ অনেক দেশে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বাড়ে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে।
জাতীয়তাবাদের উত্থান:
অনেক দেশে সাম্যবাদী শাসনের অবসানের পর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয়তাবোধ তীব্র হয়, যা নতুন করে জাতিগত সংঘাতের জন্ম দেয়।
রাজনৈতিক অস্থিরতা:
নতুন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুসংহত হতে সময় লাগে, ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। অনেক দেশে ক্ষমতা ও আদর্শের লড়াইয়ের কারণে সহিংসতাও ঘটে।
সামাজিক পরিবর্তন:
পুরনো সাম্যবাদী নীতি ও ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন সামাজিক কাঠামো ও মূল্যবোধের জন্ম হতে থাকে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- এই বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে এক নতুন যুগের সূচনা করে, যেখানে তারা তাদের নিজস্ব পথে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পায়।
- যদিও এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি কঠিন ছিল, এটি এই অঞ্চলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এইভাবে, "বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" মূলত সেই সময়ের পরিবর্তন, অস্থিরতা এবং নতুন করে গড়ে ওঠার জটিল প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে, যা সাম্যবাদের পতন ও গণতান্ত্রিক যাত্রার ফলস্বরূপ ঘটেছিল।
পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতির সম্প্রসারণ। পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের গৃহীত সেসব নীতি যা রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদন করে থাকে। অন্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাকে তুলে ধরে।
১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে ভৌগোলিক অবস্থান, স্বল্প পরিসরের ভূখন্ড এবং সীমিত অর্থনৈতিক সম্পদ ইত্যাদি বিভিন্ন নিয়ামক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের সুযোগকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মূলত বহিঃশক্তির প্রভাব থেকে দেশের সাবভৌমত্ব ও ভূখন্ডকে রক্ষা করার মতো বিষয়েই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।
পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কীয় সাংবিধনিক বিধান বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনাসমূহ বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। এগুলি হলো:
জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অপর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা, এ সকল নীতিই হবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এ সকল নীতির ভিত্তিতে-
১. রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা এবং সাধারণ ও পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে; প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবে; এবং সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ বা বর্ণ্যবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে।
২. রাষ্ট্র ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করতে সচেষ্ট হবে। সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ-ঘোষণা সংক্রান্ত নীতি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সংসদের সম্মতি ব্যতিত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না, কিংবা প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক)তে বৈদেশিক চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে: ‘বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।’
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতিসমূহ পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছু মূলনীতি অনুসরণ করে থাকে। জাতিসংঘ এবং ন্যামের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এসব সংগঠনের মূলনীতিসমূহ মেনে চলে, এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান নীতিসমূহ এসব সংগঠনের নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান চারটি মূলনীতি হলো:
সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয় একটি দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হবার কারণে বাংলাদেশকে বিভিন্ন মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হতে হয়। এ কারণেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি হিসেবে বলেছিলেন, ‘আমাদের একটি ক্ষুদ্র দেশ, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়, আমরা চাই সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব’।
অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখন্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য। জাতিসংঘ সনদের ২(৪) ধারায় বলা হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল সদস্য-রাষ্ট্র আঞ্চলিক অখন্ডতার বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ভীতি প্রদর্শন থেকে এবং জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের সংঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো উপায় গ্রহণ করা থেকে নিবৃত্ত থাকবে’।
অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা জাতিসংঘ সনদের ২(৭) ধারায় বলা হয়েছে যে, ‘বর্তমান সনদ জাতিসংঘকে কোনো রাষ্ট্রের নিছক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার দিচ্ছে না বা সেরূপ বিষয়ের নিষ্পত্তির জন্য কোনো সদস্যকে জাতিসংঘের দারস্থ হতে হবে না; কিন্তু সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে এই নীতি অন্তরায় হবে না’। জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এই মূলনীতির উপর তার পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেছে, যা অন্য রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রকাশিত।
২০০৯ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে, এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনয়নের কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ধারণা বিবেচনায় রেখে প্রায় তিন দশক পর ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি সরকার রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রাশিয়ার সাহায্যে দেশে পারমাণবিক প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সময়ের পরিবর্তনের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যত অর্জনের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং বিশ্বের আরো কিছু রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ একটি সত্তুরের দশকের ধারণা, যা প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে পুরনো ধারার পরররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত তার অর্জনের সম্ভাবনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সুতরাং পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য নিয়ে নতুন কৌশল-পরিকল্পনা করা উচিত, যার মাধ্যমে পরিবর্তিত বিশ্বে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে। [ঊর্মি হোসেন]
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!