দেশের উন্নয়নে, দেশরক্ষায় এবং দেশের প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার জন্য প্রস্তুত থাকার সদিচ্ছাকে দেশপ্রেম বলে।
জাতীয়তাবাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ভৌগোলিক ঐক্য। জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হতে হলে এবং জাতি গঠন করতে হলে একটি জনসমষ্টিকে কোনো একটি নির্দিষ্ট ও সংলগ্ন ভূখণ্ডে বসবাস করতে হয়। জাতি গঠনের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও শুধু ভৌগোলিক ঐক্যের অভাবে একটি 'ভবঘুরে জনসমষ্টি' (Nomadic Group) জাতি হিসেবে পরিগণিত হতে পারে না। ইহুদিরা দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র বিশেষ করে ইউরোপীয় রাষ্ট্রসমূহে বসবাস করে আসছিল। তাদের মধ্যে জাতীয়তার সুপ্ত ধারণা বিদ্যমান থাকলেও ইসরায়েল নামক রাষ্ট্র গঠনের পূর্বে তারা জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সংগঠনটি হলো আমলাতন্ত্র। আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদারী কর্মচারীদের সংগঠন। এই সংগঠনটি সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করে। আর এ বিষয়গুলো উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। নিচে আমলাতন্ত্রের কার্যক্রম ব্যাখ্যা করা হলো-
১. আইন কার্যকর করা: আমলারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করে সরকারের প্রাত্যহিক রুটিনমাফিক কাজ সম্পন্ন করেন। অর্থাৎ আমলারাই আইনকে বাস্তবে প্রয়োগ করেন।
২. আইন প্রণয়নে সহায়তা: বর্তমান আইনসভায় উপস্থাপিত, খসড়া বিলের অধিকাংশই আমলারা প্রস্তুত করে থাকেন। তবে এগুলো আইনসভায় উপস্থাপন করতে হয় এবং সেখানে তা সংশোধিত ও পরিবর্তিত হয়ে থাকে।
৩. সরকারি নীতি নির্ধারণে সহায়তা: মন্ত্রী বা রাজনৈতিক প্রশাসকগণ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বিষয়ে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনেক সময় আমলাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে থাকেন। কেননা আমলারা এসব বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী।
৪. বিচারসংক্রান্ত কাজ ট্রেড মার্ক, জমি ক্রয়-বিক্রয়, রেজিস্ট্রি ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমলারাই আইন মোতাবেক অনেক বিরোধ মীমাংসা করে থাকেন। আমলারাই এসব বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে থাকেন।
৫.তথ্য পরিবেশন: আমলারাই আইনসভার সদস্য ও মন্ত্রীদেরকে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ও পরিসংখ্যান প্রদান করে থাকেন। আমলাদের পরিবেশিত তথ্যাদিই সরকার দেশবাসীর নিকট প্রকাশ করে থাকে।
৬. সরকারের নিকট জনগণের দাবি-দাওয়া জ্ঞাপন: আমলারা সরকারের নিকট বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থ এবং দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমলাতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে ।
পারে। কেননা আমলাদের দ্বারা সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। আমলারা রাষ্ট্রের জনগুরুত্বপূর্ণ সব কাজের তদারকিতে নিয়োজিত থাকেন। প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ, নীতির বাস্তবায়ন তথা কাজ সম্পন্ন করা, সরকারি সম্পদের হেফাজত করা, বিচারসংশ্লিষ্ট কাজ ইত্যাদি আমলাদের রুটিনওয়ার্ক। সরকারের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা করা, সম্ভাব্যতা যাচাই করা, সমীক্ষা করা, বাজেট প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদনের সুপারিশ করা, কাজ বাস্তবায়ন করা, তদারকি করা ইত্যাদি আমলাদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সূচনা ও বাস্তবায়ন করার মূল দায়িত্ব এ আমলাদের ওপরই ন্যস্ত থাকে। আমলাদের দক্ষতা, যোগ্যতা, নিরপেক্ষতা, দায়িত্বশীলতা যত বেশি হবে, এসব ক্ষেত্রে সফলতা তত দ্রুত আসবে। কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রভাগে থাকেন এ আমলারা। এছাড়া সামাজিক পরিবর্তন, অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রেও আমলাদের ভূমিকা স্মরণযোগ্য। তবে আমলাতন্ত্রের অতি-আনুষ্ঠানিকতা, লালফিতার দৌরাত্ম্য, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা, অবহেলা এবং অপেশাদারী আচরণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। তাছাড়া আমলারা তাদের কাজের জন্য সাধারণত জবাবদিহি করে না। তাই আমলারা সাধারণত তাদের খুশিমতো কাজ করতে পারেন। ফলে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মতো ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্তরায়। সুশাসনের প্রথম ও প্রধান শর্ত হচ্ছে জবাবদিহিতা। আমলাতন্ত্রে যদি জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকে তবে যেকোনো কর্মসূচি সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়া সম্ভব। যেহেতু জবাবদিহিতা দুর্নীতিরোধ। করে, তাই আমলারা যদি তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন তবে রাষ্ট্র ও সমাজ অনেকাংশে দুর্নীতিমুক্ত হবে। আর দুর্নীতিমুক্ত সমাজব্যবস্থাই সুশাসনের জন্য কাম্য। সুতরাং বলা যায়, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমলাতন্ত্রের ভূমিকা এর জবাবদিহিতার ও দায়িত্বপরায়ণতার ওপর নির্ভরশীল।
Related Question
View AllBureaucracy' শব্দের প্রতিশব্দ 'আমলাতন্ত্র'।
আমলাতন্ত্রের এক বড় ত্রুটি হলো লালফিতায় দৌরাত্ম্য। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্বের নজিরকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে অতি আনুষ্ঠানিকতা পালনকে লালফিতার দৌরাত্ম্য বলা হয়। পদসোপান ভিত্তিতে কাগজপত্রের অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, যা দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। এর ফলে প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়।
আমলাতন্ত্র একটি পেশাদার, দক্ষ ও নিরপেক্ষ বাহিনী। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে তারা এই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে থাকেন। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের মমতাজ আলীর কার্যক্রমেও এরূপ দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেখা যায়। মমতাজ আলী তার কাজের ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করেন এবং সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন অনুসারে তার কাজ করেন। এটি আমলাতন্ত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মমতাজ আলী সাহেব তার। দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আমলাতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে তিনি তার কর্মকাণ্ডে যে সক্ষমতা প্রদর্শন। করেছেন, তা আমলাতন্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আমলাতন্ত্রের পদের ধারাক্রম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এখানে আমলাতন্ত্রের কার্যপ্রণালি এবং প্রক্রিয়া দেখা যায়।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আমলাদেরকে বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করতে হয়। উন্নয়মূলক কাজেও মমতাজ আলীদের মতো আমলারা মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন। অনেক সময় তাদের ভূমিকা দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহকের ন্যায়। আবার ক্ষেত্রবিশেষে এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়।
আমলারা রাষ্ট্রের জনগুরুত্বপূর্ণ সব কাজের তদারকিতে নিয়োজিত থাকেন। প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ, নীতির বাস্তবায়ন তথা কাজ সম্পন্ন করা, সরকারি সম্পদের হেফাজত করা, বিচারসংশ্লিষ্ট কাজ ইত্যাদি আমলাদের রুটিনওয়ার্ক। সরকারের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা করা, সম্ভাব্যতা যাচাই করা, সমীক্ষা করা, বাজেট প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদনের সুপারিশ করা, কাজ বাস্তবায়ন করা, তদারকি করা ইত্যাদি আমলাদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সূচনা ও বাস্তবায়ন করার মূল দায়িত্ব এ আমলাদের ওপরই ন্যস্ত থাকে।
আমলাদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা যত বেশি হবে, এসব ক্ষেত্রে সফলতা তত দ্রুত আসবে। কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রভাগে থাকেন এ আমলারা। এছাড়া সামাজিক পরিবর্তন, অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ইত্যাদি অবস্থাগত ক্ষেত্রেও আমলাদের ভূমিকা স্মরণযোগ্য। তবে আমলাতন্ত্রের অতি আনুষ্ঠানিকতা, লালফিতার দৌরাত্ম্য স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা, অবহেলা এবং অ-পেশাদারি আচরণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। কিন্তু এটি আমলাতন্ত্রের নীতির পরিপন্থী। আমলাতন্ত্রে কখনো এরূপ প্রত্যাশা করা হয় না। কিন্তু জনাব আলী সাহেবের মতো দক্ষ, সৎ ও কর্মনিষ্ঠ আমলারাই দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহক, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
অধ্যাপক অগ আমলাতন্ত্রকে পেশাদার দক্ষ বাহিনী বলে অভিহিত করেন।
কোনো সংগঠন পরিচালনার জন্য স্থায়ী বেতনভুক্ত দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে আমলা বলা হয়। আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র বলতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী বেতনভুক্ত কর্মীবাহিনীকে বোঝায়। আমলারা সুশৃঙ্খলভাবে পরস্পর পদের ক্রম অনুযায়ী সংযুক্ত এবং রাজনীতি নিরপেক্ষ থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ম্যাক্স ওয়েবারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!