বিআরটিসি (BRTC) হলো Bangladesh Road Transport Corporation অর্থাৎ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা।
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য জনকল্যাণ করা।
রাষ্ট্র কর্তৃক গঠিত বা পরবর্তীতে জাতীয়করণকৃত কোনো ব্যবসায়ের মালিকানা, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের অধীনে থাকলে, তাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে। এরূপ ব্যবসায়ের মূল উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ বা রাষ্ট্রীয় কল্যাণসাধন করা। সাধারণত দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, সম্পদের সুষম বণ্টন ও ব্যবহার নিশ্চিত করা, জনস্বার্থ রক্ষা করা, একচেটিয়া ব্যবসায় পরিহার ইত্যাদির নিমিতে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় স্থাপন করা হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত শিল্প গড়ার ক্ষেত্রে সরকারের অভিপ্রায়ের মধ্যে দিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের সুসম শিল্পায়ন উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। এক ধরনের ব্যবসায় গড়ে না তুলে বা দেশের একটা অঞ্চলে শিল্প কেন্দ্রীভূত না করে সর্বত্র সকল ধরনের শিল্প গড়ে তোলাকে সুসম শিল্পায়ন বলে। বেসরকারি মালিকরা কেন্দ্রীভূত ব্যবসায় অঞ্চলে ব্যবসায় গড়তে পছন্দ করে। এছাড়া যে ব্যবসায় ভালো করছে সেখানেই বিনিয়োগে আগ্রহ দেখায়। এতে সুসম শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এ অবস্থা উত্তরণে দেশের সকল অঞ্চলের উন্নয়নের প্রতি গুরুত্বারোপ এবং সকল ধরনের শিল্পের উন্নয়নের উদ্দেশ্যেও অনেক সময় রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় পরিচালনা করা হয়।
উদ্দীপকে বেসরকারি মালিকগণ সাজানো-গুছানো ব্যবসায় কেন্দ্রগুলোতে ব্যবসায় গড়তে পছন্দ করেন। কিন্তু সরকার চায় দেশের সর্বত্র শিল্প ও ব্যবসায় গড়ে তুলতে। সরকার এক্ষেত্রে লাভ-ক্ষতির বিষয়টা এত বিবেচনা করে না। জনসাধারণের কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য সরকার ব্যবসায় ও শিল্প গঠন করে। কেননা দেশের কোনো নির্দিষ্টস্থানে দেশের সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীভূত হওয়া রাষ্ট্রের বা - জনগণের জন্য কল্যাণকর নয়। একইভাবে শুধু এক বা দু ধরনের শিল্পের বিস্তৃতিও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বিভিন্ন ধরনের শিল্প দেশের বিভিন্ন না স্থানে গড়ে তুলে দেশে সুসম শিল্পায়ন জাতীয় স্বার্থেই প্রয়োজন। ব্যক্তিমালিকেরা সে ঝুঁকি নিতে চায় না। যা রাষ্ট্র করতে পারে।
এক্ষেত্রে সরকার লাভ ক্ষতির বিষয়টা চিন্তা না করে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত শিল্প গড়ার ক্ষেত্রে সরকারের সুসম শিল্পায়ন উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে।
আমার মতে, উদ্দীপকে বর্ণিত বিআরটিসি গণপরিবহনটি জনগণকে আরও উন্নত সেবা দিতে পারবে। কেননা উন্নত সেবা দেওয়ার সুযোগ উক্ত প্রতিষ্ঠানের রয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা, (বিআরটিসি) হলো যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা। আর রাষ্ট্রীয় এই গণপরিবহনটি জনকল্যাণের উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকার সাশ্রয়ী মূল্যে মানুষ ও পণ্য পরিবহনের কথা চিন্তা করে সারাদেশে গণপরিবহন (বিআরটিসি) পরিচালনা করে আসছে। বিআরটিসি দেশের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে যাতায়াত সেবা প্রদানের মাধ্যমে উপকার করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবে বিআরটিসির বাস ও ট্রাকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় একবারেই কম বলে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবাদান সম্ভব হচ্ছে না। আর সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য বিআরটিসির বাস ও ট্রাক সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষ পরিচালনা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যথাযথ পরিচালনা সম্ভব হলে বিআরটিসি কাঙ্ক্ষিত মানের সেবা দিতে সক্ষম হবে। তাই আমার মতে, উদ্দীপকে বর্ণিত গণপরিবহনটি জনগণকে আরও উন্নত সেবা দিতে পারবে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!