বুলগাকপুর অর্থ বিদ্রোহের নগরী।
বাংলা সাহিত্যের উন্নতি ও বিকাশ হুসেন শাহের শাসনকালকে অমর করে রেখেছে। তার উদার পৃষ্ঠপোষকতা বাংলা সাহিত্যের শ্রীবৃদ্ধি সাধন করেছে। তিনি যোগ্য কবি ও সাহিত্যিকদের উৎসাহিত করার জন্য পুরস্কার প্রদান করতেন। আলাউদ্দিন হুসেন শাহ আরবি ও ফারসি ভাষারও উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। এ যুগের প্রখ্যাত কবি ও লেখকদের মধ্যে রূপ গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী, মালাধর বসু, বিপ্রদাস প্রমুখ উল্লেখযোগ্য ছিলেন। তাদের নিরলস সাহিত্যকীর্তি বাংলার ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।
উদ্দীপকের তপনের দেশের স্বাধীন জমিদারদের সাথে মধ্যযুগের বারোভূঁইয়াদের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বারোভূঁইয়ারা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এ বারোভূঁইয়া বলতে নির্দিষ্ট বারোজনকে বুঝায় না, বরং অনির্দিষ্ট সংখ্যক জমিদারকে বুঝাতেই এ প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়। বারোভূঁইয়াদের আবির্ভাব ষোলো শতকের মাঝামাঝি থেকে সতেরো শতকের মধ্যবর্তী সময়ে। বাংলার এ বারোভূঁইয়া নামে পরিচিত জমিদারগণ মুঘলদের অধীনতা মেনে নেয়নি। তারা নিজ নিজ জমিদারিতে স্বাধীন ছিলেন। তাদের শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী ও নৌবহর ছিল। স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তারা একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। যেমনটি উদ্দীপকেও লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, তপনের দেশের জমিদারগণ কেন্দ্রের অধীনতা না মেনে নিজ নিজ জমিদারিতে স্বাধীন ছিলেন। এমনকি কেন্দ্রের সাথে কোনো বিষয়ে সংঘর্ষ দেখা দিলে তারা সৈন্য ও নৌবহর নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। তপনের দেশের এমন ঘটনার সাথে বাংলার বারোভূঁইয়াদের মিল লক্ষ করা যায়। যা উপরে উল্লিখিত আলোচনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, তপনের দেশের জমিদারদের সাথে বাংলার মধ্যযুগের বারোভূঁইয়াদের সাদৃশ্য রয়েছে।
উক্ত জমিদার অর্থাৎ বারোভূঁইয়াদের কর্মকাণ্ড সাহসিকতাপূর্ণ হলেও তা খুব বেশি প্রশংসনীয় নয়।
বাংলার বারোভূঁইয়া জমিদারগণ নিজ নিজ জমিদারিতে স্বাধীন ছিলেন। কারণ তারা মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি। এমনকি কেন্দ্রীয় কোনো বিষয় নিয়ে সংঘর্ষ বাঁধলে তারা মুঘল অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সৈন্য ও নৌবহর নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। তাদের এ কাজ সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রকাশ করলেও তা গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, একটি রাজ্যের মধ্যে বসবাস করতে হলে কেন্দ্রীয় শাসন মেনেই বসবাস করতে হয়। যদি তা একেবারেই জনবিরোধী না হয়। কিন্তু বারোভূঁইয়াদের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। তারা শুধুমাত্র স্বাধীন জমিদারি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই, এমন কাজ করতেন। যদিও বারোভূঁইয়ারা অল্প কিছু সময় বাংলা শাসন করেছেন। কিন্তু ঈসা খান ব্যতীত আর কেউই তেমন সফল ছিলেন না। কেননা, তিনি সম্রাট আকবরের আনুগত্য স্বীকার করে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন। পরবর্তীতে অন্য বারোভূঁইয়া জমিদারগণ মুঘলদের সাথে সংঘর্ষের মাধ্যমে টিকে থাকলেও তা খুব বেশি সময় নয়। অবশেষে মুসা খানের মুঘলদের কাছে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলার বারোভূঁইয়াদের শাসনের অবসান ঘটে।
পরিশেষে তাই বলা যায়, বাংলার বারোভূঁইয়াদের কর্মকাণ্ড বীরত্বপূর্ণ হলেও তা খুব প্রশংসনীয় নয় বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allরাজা গণেশ দিনাজপুরের ভাতুলিয়া অঞ্চলের রাজা ছিলেন।
ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলাকে একত্রিত করে এর প্রকৃত স্বাধীনতা সূচনা করেন। তাই তাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রবক্তা বলা হয়।
ইলিয়াস শাহ ফিরোজাবাদের সিংহাসনে আরোহণের মাধ্যমে উত্তর ও উত্তর পশ্চিম বাংলার অধিপতি হন। তারপর তিনি সোনারগাঁও, সাতগাঁও, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম ইত্যাদি জয় করে বৃহত্তর বাংলার সৃষ্টি করেছিলেন। এ সময় থেকেই বাংলার সকল অঞ্চলের অধিবাসী 'বাঙালি' বলে পরিচিত হয়। আর এ কারণেই ইলিয়াস শাহকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা বলা হয়।
উদ্দীপকে বিজয়ী সেনাপতির যুদ্ধ কৌশলের প্রতিফলন পাঠ্যবইয়ের ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির কর্মে প্রতিফলিত হয়েছে।
বখতিয়ার খলজি বিহার বিজয় করার পর নদীয়া আক্রমণ করার মনোস্থির করেন। রাজা লক্ষণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন। বিহার হতে বাংলায় প্রবেশ করতে হলে তেলিয়াগড় ও শিকড়িগড় এই দুই গিরিপথ দিয়ে আসতে হতো। কিন্তু এ গিরিপথ দুটি সুরক্ষিত থাকায় বখতিয়ার খলজি এ পথে না এসে ঝাড়খণ্ডের অরণ্যময় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়াতে তার সৈন্যদল খণ্ড খণ্ড ভাবে অগ্রসর হয়। মাত্র ১৭/১৮ জন সৈনিক নিয়ে বখতিয়ার খলজি মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া বিজয় করেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, রোমান যোদ্ধারা একইভাবে উপদলে বিভক্ত হয়ে জঙ্গল পথে বিপক্ষদলের প্রাসাদ আক্রমণের পরিকল্পনা করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বিজয়ী সেনাপতির কৌশলের প্রতিফলন পাঠ্যবইয়ের বখতিয়ার খলজির যুদ্ধকৌশলে প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বখতিয়ার খলজির যুদ্ধকৌশল প্রতিফলিত হয়েছে। ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি প্রথম জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেও ভাগ্য ও কর্মশক্তির সংমিশ্রণ তাকে সফলতা এনে দেয় বলে আমি মনে করি।
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশির বা আধুনিক দশত-ই-মার্গের অধিবাসী ছিলেন। তিনি ১১৯৫ খ্রিষ্টাব্দে নিজ জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে জীবিকার অন্বেষণে গজনিতে আসেন। এখানে তিনি শিহাবউদ্দিন ঘোরীর সৈন্য বিভাগে চাকরিপ্রার্থী হয়ে ব্যর্থ হন। গজনিতে ব্যর্থ হয়ে তিনি দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের দরবারে গিয়েও চাকরি পেতে ব্যর্থ হন। এরপর বদাউনের শাসনকর্তা মালিক হিজবরউদ্দিন তাকে মাসিক বেতনে সৈন্য বিভাগে নিযুক্ত করেন। কিন্তু উচ্চাভিলাষী বখতিয়ার এ ধরনের সামান্য বেতনে সন্তুষ্ট না হয়ে বদাউন ত্যাগ করে অযোধ্যায় যান। সেখানকার শাসনকর্তা তার সাহস ও বুদ্ধিমত্তায় সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ভাগবত ও ভিউলি নামক দুটি পরগনার জায়গীর দান করেন। বিহার জয় করে বখতিয়ার খলজি অনেক ধনরত্নের মালিক হন। এরপর তিনি রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া দখল করেন। তারপর তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে রাজধানী স্থাপন করেন।
তাই বলা যায়, প্রাথমিক জীবনে ব্যর্থ হলেও বখতিয়ার খলজি ভাগ্য ও কর্মের সমন্বয়ে পরবর্তীতে সফলতা লাভ করেন।
বাংলায় মুসলমান শাসকদের মধ্যে গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন।
বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হওয়াতে বাংলাকে 'বুলগাকপুর' বলা হয়েছিল।
বাংলায় মুসলমান শাসনের সূচনা থেকে অর্থাৎ ১২০৪ সাল থেকে ১৩৩৮ সাল পর্যন্ত সময়কাল ছিল খুবই গোলযোগপূর্ণ। বাংলার শাসকগণ দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বাধীন হতে চাইলে দিল্লির আক্রমণের মুখে তা ব্যর্থ হয়। ফলে মুসলমান শাসনের এ সময় ছিল বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলাময়। তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাকে 'বুলগাকপুর' অর্থাৎ বিদ্রোহের নগরী বলে আখ্যায়িত করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!