উত্তরঃ
উদ্দীপকে বর্ণিত হযরত উমর ইবনু আব্দুল আজিজ (র.) এবং পাঠ্যবইয়ের 'উমর ফারুক' কবিতার উমর ফারুক (র.) উভয়েই ন্যায়পরায়ণতা, জনকল্যাণ এবং আদর্শ শাসকের প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। উভয়ের শাসনপদ্ধতি, জনসেবার মানসিকতা এবং দৃঢ় নৈতিকতা এতটাই অভিন্ন যে, তাদের একই আদর্শের ধারক বলা যায়।
উদ্দীপকে হযরত উমর ইবনু আব্দুল আজিজ (র.)-কে একজন দক্ষ শাসক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি মসজিদে নববির সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধন করেন। তিনি প্রশাসনিক কাজে কর্মকর্তাদের ব্যবসা থেকে দূরে রাখতেন, ফলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। তাঁর সময়ে কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয় এবং সকল ধর্মের লোক স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করত। এসব গুণাবলি তাঁকে ন্যায়পরায়ণতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, যার ফলস্বরূপ তাঁকে ইসলামের 'পঞ্চম খলিফা' উপাধি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, 'উমর ফারুক' কবিতায় বর্ণিত উমর ফারুক (র.) ইসলামি শাসনের এক মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাঁর শাসনামলে ন্যায়বিচার, প্রজাবৎসলতা, রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত জীবনযাপন সবকিছুতেই ছিল এক অনুকরণীয় আদর্শ। তিনি ছিলেন কঠোর ন্যায়পরায়ণ, জনগণের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং রাষ্ট্রের কোষাগারকে ব্যক্তিগত ভোগবিলাস থেকে দূরে রেখেছিলেন।
হযরত উমর ইবনু আব্দুল আজিজ (র.) ও উমর ফারুক (র.)-এর আদর্শের প্রধান মিলগুলো হলো: প্রথমত, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। উমর ইবনু আব্দুল আজিজ (র.)-এর 'পঞ্চম খলিফা' উপাধি লাভ প্রমাণ করে যে তিনি উমর ফারুক (র.)-এর ন্যায়বিচারকে অনুসরণ করেছিলেন। উভয়ই সাধারণ মানুষের জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করেছিলেন, যেখানে শাসক বা ধনী-গরিবের কোনো ভেদাভেদ ছিল না। দ্বিতীয়ত, জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নতি। উদ্দীপকে উমর ইবনু আব্দুল আজিজ (র.)-এর সময়ে কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির কথা বলা হয়েছে, যা জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনেছিল। উমর ফারুক (র.)-ও জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ, পেনশন ব্যবস্থা প্রবর্তন ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। তৃতীয়ত, প্রশাসনিক দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত শাসন। উমর ইবনু আব্দুল আজিজ (র.) কর্মকর্তাদের ব্যবসা থেকে দূরে রেখে প্রশাসনে শৃঙ্খলা এনেছিলেন। উমর ফারুক (র.)-ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। চতুর্থত, ধর্মীয় সহনশীলতা। উদ্দীপকে উমর ইবনু আব্দুল আজিজ (র.)-এর সময়ে সকল ধর্মের লোকের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের কথা উল্লেখ আছে, যা উমর ফারুক (র.)-এর প্রতিষ্ঠিত উদার ও সহনশীল ইসলামিক শাসনের প্রতিফলন। উভয় শাসকই ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সাদাসিধে ছিলেন এবং রাষ্ট্রের সম্পদকে আমানত হিসেবে দেখতেন, যা তাদের একই আদর্শের ধারক হিসেবে প্রমাণ করে।
অতএব, উদ্দীপকের হযরত উমর ইবনু আব্দুল আজিজ (র.) এবং 'উমর ফারুক' কবিতার উমর ফারুক (র.) উভয়েই ন্যায়পরায়ণতা, মানবপ্রেম, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জনকল্যাণমুখী শাসনের যে আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। তাঁদের জীবন ও শাসনকাল ইসলামি ইতিহাসে এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। এ কারণে বলা যায়, তাঁরা একই আদর্শের ধারক ছিলেন।