পৃথিবী প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা সময়ে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবীর এ গতিই হচ্ছে বার্ষিক গতি।
সূর্য মাঝারি আকারের একটি নক্ষত্র। এটি পৃথিবীর তুলনায় লক্ষ লক্ষ গুণ বড়। সূর্য পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তাই পৃথিবী থেকে আমরা সূর্যকে এত ছোট দেখি।
উদ্দীপক থেকে পাই, মন্টু ২১ জুন তারিখে ঢাকায় থাকে। ঢাকা পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ার কারণে এ সময় ঢাকা কিছুটা সূর্যের কাছে চলে আসে। ফলে এ সময় লম্বভাবে ঢাকার বেশি সময় ধরে সূর্যের তাপ পড়ে এবং খুব গরম পড়ে। এই অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে জলাশয় থেকে পানির বাষ্পীভবনের হার বেড়ে যায়, যা মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঘনীভূত হয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। এজন্য মন্টুর অবস্থানকারী স্থান ঢাকায় তখন বর্ষাকাল হয়।
সাকিব ও মন্টুর অবস্থানকারী দেশ দুটিতে বিপরীত ঋতু বিরাজ করে বক্তব্যটির সাথে আমি একমত।
উত্তরের সপক্ষে যুক্তি: উদ্দীপক থেকে পাই, সাকিবের অবস্থানকারী দেশ আফ্রিকার দক্ষিণাংশের জিম্বাবুয়ে এবং মন্টুর অবস্থানকারী দেশ বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ যথাক্রমে দক্ষিণ ও উত্তর গোলার্ধের দেশ। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে পরিক্রমকালে কখনো পৃথিবীর উত্তর মেরু আবার কখনো দক্ষিণ মেরু সূর্যের কাছে আসে। এতে এক গোলার্ধে বড় দিন ও অপর গোলার্ধে বড় রাত হয়। আবার কখনো উভয় গোলার্ধে দিনরাত সমান থাকে। যেমন ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর উভয় গোলার্ধ সূর্য থেকে সমান দূরত্বে অবস্থান করে বলে উভয় গোলার্ধেই দিনরাত সমান হয়। আবার ২১ জুন তারিখে পৃথিবীর উত্তর মেরু সূর্যের সবচেয়ে কাছে চলে আসে বলে ঐ সময়ে সূর্য খাড়াভাবে মন্টুর অবস্থানকারী দেশে তাপ দেয়। ফলে বেশি তাপমাত্রার কারণে মন্টুর অবস্থানকারী দেশে গ্রীষ্মকাল ও সাকিবের অবস্থানকারী দেশে বিপরীত মেরুতে হওয়ায় তখন শীতকাল বিরাজ করবে। একইভাবে ২২ ডিসেম্বর তারিখে দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে। ঐ সময় সাকিবের অবস্থানকারী দেশে গ্রীষ্মকাল কিন্তু সূর্য থেকে বেশি দূরে থাকায় মন্টুর অবস্থানকারী দেশে সূর্যের তাপ কিছুটা কম পৌছায় বলে সেখানে শীতকাল বিরাজ করে। অতএব সাকিব ও মন্টুর অবস্থানকারী
দেও দুটিতে বিপরীত ঋতু বিরাজ করে।
Related Question
View Allপৃথিবী নিজ অক্ষের উপর কেন্দ্র করে ২৪ ঘণ্টায় একবার পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করাই আহ্নিক গতি।
জুনের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সূর্যের কিছুটা কাছে চলে আসে। তাই এ সময়ে সূর্যকে আমরা মাথার উপরে দেখতে পাই। এই সময়ে দিন সবচেয়ে বড় ও রাত সবচেয়ে ছোট হয়। খাড়াভাবে এবং দীর্ঘ সময় সূর্যের তাপ পাওয়ার কারণে এই সময়টিতে এবং এর কাছাকাছি সময়ে বাংলাদেশে বেশ গরম পড়ে। তবে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই সময়ে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
২১ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে রাত সবচেয়ে ছোট এবং দিন সবচেয়ে বড় হয়। উদ্দীপকের চিত্রে আমরা দেখি যে, ২১ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধের একটি অংশ সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে। ফলে সূর্য তখন দক্ষিণ গোলার্ধে খাড়াভাবে কিরণ দেয়। অতএব ২১ জুন ও এর কাছাকাছি সময়ে উত্তর গোলার্ধে যেরূপ সর্বাপেক্ষা অধিক উষ্ণ হয় ২১ ডিসেম্বরও এর কাছাকাছি সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে সেইরূপ সর্বাপেক্ষা অধিক উষ্ণ হয়। অতএব ২১ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল এবং এর বিপরীত কারণে উত্তর গোলার্ধে শীতকাল থাকে। তাই বলা যায়, ২১ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে রাত সবচেয়ে ছোট এবং দিন সবচেয়ে বড় হয়।
উত্তর গোলার্ধে ৩০ ডিসেম্বর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য কেমন হবে তা যুক্তিসহ নিচে উপস্থাপন করা হলো-
পৃথিবীর বিষুব রেখার দুই পার্শ্বকে দুটি গোলার্ধে ভাগ করা হয়। উত্তর অংশকে বলে উত্তর গোলার্ধ। পৃথিবী সূর্যের চারপাশে কিছুটা হেলে প্রদক্ষিণ করে। তবে পৃথিবী বছরের বিভিন্ন সময়ে তার হেলানো অবস্থার পরিবর্তন করে। ২৩ সেপ্টেম্বরের পর উত্তর মেরু সূর্য থেকে দূরে সরে যেতে থাকে আর দক্ষিণ মেরু তখন নিকটবর্তী হয়। এমতাবস্থায় উত্তর গোলার্ধে দিনের পরিমাণ কমতে থাকে এবং রাত্রি বড় হতে থাকে। ২১ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধের একটি অংশ সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে আর তখন বাংলাদেশ সূর্য থেকে দূরে অবস্থান করে। তাই তখন বাংলাদেশে দিন ছোট হয় এবং রাত বড় হয়। অর্থাৎ ২১ ডিসেম্বর পৃথিবী এমন এক অবস্থানে পৌঁছে যখন উত্তর গোলার্ধে সূর্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে। ফলস্বরূপ বলা যায়, উত্তর গোলার্ধে ৩০ ডিসেম্বর দিনের দৈর্ঘ্য ছোট হয় এবং রাতের দৈর্ঘ্য বড় হয়।
চাঁদ ২৭ দিন ৮ ঘণ্টায় পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে।
প্লুটো নামক জ্যোতিষ্কটিকে পূর্বে গ্রহ বলা হতো। কিন্তু এটি একটি ক্ষুদ্র ও অসম্পূর্ণ গ্রহ। গ্রহের নিজস্ব কক্ষপথ থাকে। কিন্তু প্লুটোর নিজস্ব কোনো কক্ষপথ নেই। তাই ২০০৯ সালে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত নেন যে প্লুটো সৌরজগতের সদস্য নয়। তাই প্লুটোকে সৌরজগতের সদস্য ধরা হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
