আগেকার দিনে রাজ-রাজড়াদের অবস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় সাধারণ লোকজন কোনো সমস্যায় নিজেরাই যুক্তি-পরামর্শ করে কাজ করত।
বাঙালি জাতির আদিকালের ইতিহাস অনেক সম্মানের। সে সময় রাজা ও প্রজার এ পরিচয়টি ছিল না। তাদের মাঝে কোনো সমস্যা দেখা দিলে নিজেরাই একসঙ্গে বসে যুক্তি-পরামর্শের ভিত্তিতে সেই বিষয়ের সমাধান দিত। সুতরাং নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেরা করতেই তারা এভাবে কাজ করত।
Related Question
View Allবাংলাদেশের ইতিহাস আড়াই হাজার বছর বা তারও বেশি পুরনো।
আলোচ্য বাক্যে বোঝানো হয়েছে, ইতিহাসে থাকে সব রকম মানুষের জীবনযাত্রার পরিচয়।
এককালে বাংলাদেশে রাজার শাসন ছিল না। লোকজন নিজেরাই মিলেমিশে 'যুক্তি-পরামর্শ করে দেশ চালাত। এটি ছিল ইতিহাসের পূর্ব যুগের ঘটনা। তেইশ-চব্বিশ-শ বছর আগে রাজা কর্তৃক শাসন পরিচালনা শুরু হলে মানুষের জীবনাচরণ, জীবনযাত্রার ধরন, রাজনীতি, অর্থনীতি প্রভৃতি নিয়ে ইতিহাস লেখা শুরু হয়। প্রশ্নোক্ত বাক্যে এমন ভাবই বোঝানো হয়েছে।
দীপার দেখা গ্রামের লোকজনের পোশাক-পরিচ্ছদের সাথে হাজার বছর আগের পূর্বপুরুষদের পোশাকের মিল পাওয়া যায়।।
মানুষ যখন সভ্য হতে শুরু করে তখন থেকেই লজ্জা নিবারণ করতে শেখে। আর ধীরে ধীরে মানুষের বিভিন্ন রকম পোশাক-পরিচ্ছদ ও অলংকার ব্যবহারের প্রচলন দেখা যায়।
উদ্দীপকের দীপা গ্রামে তার বয়সী মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, ঠোঁটে লিপস্টিক, হাতে চুড়ি ও কানে স্বর্ণের দুল পরতে দেখে। গৃহিণীরা তাঁতের শাড়ি পরে এবং শাড়ির আঁচল টেনে ঘোমটা দেয়। তাদের হাতে-গলায় স্বর্ণালংকার শোভা পাচ্ছে। 'কত কাল ধরে' রচনায় লেখক বলেছেন, এক হাজার বছর আগে সব পুরুষই ধুতি পরত, সক মেয়েই শাড়ি পরত। এখনকার মতো তখনও মেয়েরা আঁচল টেনে ঘোমটা দিত। এক্ষেত্রেই উভয় বর্ণনার মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
"শত শত বছর চলে যায়, কিন্তু এদেশের মানুষের জীবনের অভাবগুলো চলে যায় না।” বিষয়টি উদ্দীপক ও 'কত কাল ধরে' প্রবন্ধের ক্ষেত্রে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
যখন এদেশে রাজ-রাজড়া ছিল না, তখন মানুষের মূল্যায়ন ছিল বেশি। লোকজন নিজেরাই যুক্তি-পরামর্শ করে কাজ করত, চাষ করত, ঘর বাঁধত, দেশ চালাত। মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল।
উদ্দীপকে দীপা দিনমজুরের জীবনযাত্রার যে চিত্র দেখতে পায় তা হলো এ রকম- দিনমজুরদের খড়ের তৈরি ঝুপড়ি ঘর। দিনমজুরের স্ত্রীর পরনে মলিন শাড়ি, সন্তানদের পরনে ছেঁড়া হাফপ্যান্ট এবং শরীরের রুগ্ণ দশা। 'কত কাল ধরে' রচনার লেখক দিনমজুরের দুরবস্থার জন্য রাজা-বাদশাদের আগমনকে কিছুটা দায়ী করেছেন। লেখকের মতে, রাজারা যখন এদেশে এলেন তাদের সঙ্গে মন্ত্রী, সামন্ত-মহাসামন্তের দল এলেন। তখন থেকেই ইতিহাসে রাজাদের নাম বড় বড় অক্ষরে লেখা হতে লাগল। আর প্রজারা পেছনে পড়ে রইল।
'কত কাল ধরে' প্রবন্ধে বাঙালি ও বাংলার অতীত ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনবোধের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এখানে অতীতে বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় শাসন-শোষণের শিকার হয়ে এদেশের সাধারণ মানুষের জীবনে কষ্ট নেমে আসার দিকটিও প্রতিফলিত হয়েছে। আলোচ্য উদ্দীপকে বিষয়টি উপস্থিত। কারণ শত শত বছর গেলেও এসব মানুষের জীবনে বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ করা যায় না। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
ইতিহাস বলতে শুধু রাজ-রাজড়াদের কথাই বোঝায় না।
উদ্দীপকটি 'কত কাল ধরে' রচনার মেয়েদের সাজসজ্জার বিষয়টি প্রকাশ করে।
প্রাচীন কাল থেকেই এদেশের মানুষের সাজসজ্জা ও পোশাকে রয়েছে বৈচিত্র্য। তারা বিভিন্নভাবে নিজেদের সাজাতে পছন্দ করত। তাদের সাজসজ্জায় এদেশের ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে মেয়েদের অলংকার ব্যবহার করে সাজসজ্জার কথা বলা হয়েছে। কবিতার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে মেয়েরা নাকে নোলক, ফুলের মালা, বাঁশ পাতার নথ, হাতে বালা, পাটের শাড়ি পরে। তাই তো ছেলেটির বিয়ের কনে হতে মেয়েটি রাজি হলে তাকে এসব দিতে চেয়েছে। 'কত কাল ধরে' প্রবন্ধেও এ বিষয়টির প্রকাশ ঘটেছে। মেয়েরা নিচু করে খোঁপা বাঁধত, তাতে ফুল দিত। তারা শাড়ি পরত। সাধারণ পরিবারের মেয়েরা হাতে শাঁখা, কানে কচি কলাপাতার মাকড়ি, গলায় ফুলের মালা ইত্যাদি দিয়ে সাজসজ্জা করতে পছন্দ করে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপক ও আলোচ্য রচনা উভয় জায়গায় সাজসজ্জার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
