অবতারের গুণাবলি সাধু বাবার মাঝে বিদ্যমান থাকায় সাধু বাবাকেই অবতারের প্রতিচ্ছবি বলা যায়।
পৃথিবীতে যখন গ্লানি হয় অধর্ম বেড়ে যায় তখন ভগবান বিভিন্নরূপে পৃথিবীতে নেমে আসে তাঁর ভক্তদের রক্ষা করার জন্য। তখন তাঁকে অবতার বলা হয়। উদ্দীপকের সাধু বাবাও ঠিক তেমনি অসহায় কৃষ্ণাকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন অবতারের মতো। মাঝে মাঝে মনুষ্য সমাজে ধর্মের প্রতি অবজ্ঞা, অবহেলা দেখা দেয়। ধার্মিকদের জীবনে নেমে আসে নিপীড়ন- নির্যাতন। দুষ্কৃতিকারীদের অত্যাচার-অনাচারে কলুষিত হয় সমাজজীবন। এরূপ অবস্থায় অনন্য শক্তিধর ঈশ্বর জীবের ন্যায় দেহধারণ করে আবির্ভূত হন ধর্মকে রক্ষা করতে, ধার্মিককে রক্ষা করতে। অবতারের উদ্দেশ্য দুষ্কৃতিকারীদের বিনাশ সাধন করে ধার্মিককে দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্ত করা এবং ধর্ম সংস্থাপন করা, যা সাধু বাবার চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে। এজন্য তিনি যেন অবতারেরই প্রতিচ্ছবি।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allঅবতার ও দেব-দেবী একই ঈশ্বরের বিভিন্ন প্রকাশ, ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় এ বিশ্বাসকে একেশ্বরবাদ বলা হয়।
যোগের সাধন প্রক্রিয়ায় মনকে শুদ্ধ ও শান্ত করার জন্য যোগ দর্শনে আট প্রকার সাধন ক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। তন্মধ্যে প্রত্যাহার অন্যতম। দেহের ইন্দ্রিয়গুলোকে নিজ নিজ বিষয় হতে তুলে এনে চিত্তের অনুগামী করার নাম প্রত্যাহার। দৃঢ় সংকল্প ও অভ্যাসের দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলোকে অন্তর্মুখী করা হলে চিত্ত আরাধ্য বস্তুকে নিবিষ্ট হতে পারে।
দ্বিজেন্দ্রনাথ একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি। তাঁর বয়স ৭৫ বছর। এসময় তিনি বানপ্রস্থ আশ্রম শেষ করেছেন। বানপ্রস্থ আশ্রমের সময় তিনি সংসারে থেকেও অত্যন্ত সংযমী ছিলেন। তিনি সংসারের সমস্ত দায়িত্ব পুত্রের হাতে অর্পণ করে মন্দিরে মন্দিরে ঈশ্বর ধ্যানে মগ্ন থাকেন।
বানপ্রস্থে বনে নির্জন পরিবেশে অবসর জীবনযাপন করতে হয়। তবে সভ্যতার অগ্রগতিতে মানুষ বনবাসী না হয়ে গৃহত্যাগ করে কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে বৈরাগ্যময় জীবনযাপন করতে পারেন। দ্বিজেন্দ্রনাথ এ পর্যায়ে ভজন, পূজন, কীর্তন, জপ, ধ্যান প্রভৃতি ধর্মীয় কর্মে থেকে বানপ্রস্থ জীবন অতিক্রান্ত করেছেন।
দ্বিজেন্দ্রনাথ একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি। তিনি বানপ্রস্থ জীবন শেষ করেছেন। এতে তাঁর আত্মতৃপ্তি হয়নি। তাই জীবনের পরম প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে তিনি সংসার ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। আলোচ্য অংশে সন্ন্যাস আশ্রমে যাওয়ার উল্লেখ রয়েছে। সন্ন্যাস শব্দের অর্থ সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ। এ আশ্রমে এসে সন্ন্যাসী একাকী জীবনধারণ করবেন। সন্ন্যাস আশ্রমে অতীত জীবনের স্মৃতি সব পরিহার করে এক মনে এক ধ্যানে ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকতে হয়। শাস্ত্র বচনে জানা যায়-
"দন্ড গ্রহণমাত্রেণ নরো নারায়ণো ভবেৎ” অর্থাৎ সন্ন্যাস গ্রহণ করলেই মানুষ নারায়ণ বা দেবতা হয়ে যায়। তবে সন্ন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য হল কর্মফলাসক্তি ও ভোগাসক্তি ত্যাগ। এ সম্পর্কে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে-
"অনাশ্রিতঃ কর্মফলং কার্যং কর্ম করোতি যঃ।
স সন্ন্যাসী চ যোগী চ ন নিরগ্নির্ন চাক্রিয়ঃ ॥” (৬/১)
অর্থাৎ কর্মফলের বাসনা না করে যিনি কর্তব্যকর্ম করেন তিনিই সন্ন্যাসী, তিনিই যোগী। শুধুমাত্র গৃহাদি কর্ম বা শরীর ধারণের উপকরণ সংগ্রহে কর্মত্যাগই সন্ন্যাস নয়।
তাই সার্বিক আলোচনার বিষয়বস্তু অনুযায়ী আমি মনে করি, জীবনের পরম প্রাপ্তি লাভে দ্বিজেন্দ্রনাথের সিদ্ধান্তটিই ছিল যৌক্তিক।
ফলাকাঙ্ক্ষা বর্জিত কর্মকে কর্মযোেগ বলে।
কামনা-বাসনা মুক্ত কর্মের ফল কর্মকর্তাকে স্পর্শ করে না কারণ এ ধরনের কর্মে ফলাকাঙ্ক্ষা থাকে না। কামনা-বাসনা মুক্ত বা নিষ্কার্ম কর্মে কর্তা কোনো রকম ফলের আশা না করেই কর্ম করে। তিনি মনে করেন কর্মের কর্তা আমি নই, কর্মফলও আমার নয়। এ নিষ্কাম কর্মই যোগসাধনার ক্ষেত্রে কর্মযোগ। নিষ্কাম কর্মে মোক্ষলাভ হয়। ফলাকাঙ্ক্ষা থাকে না বলেই কামনা-বাসনামুক্ত কর্মের ফল কর্মকর্তাকে স্পর্শ করে না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!