সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বলতে কী বোঝায়? বাংলাদেশে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সাথে নতুন কোন কোন কর্মসূচি যুক্ত হয়েছে? দারিদ্র্য বিমোচনে এর গুরুত্ব আলোচনা করুন।

Updated: 2 weeks ago
উত্তরঃ

সামাজিক নিরাপত্তা হলো রাষ্ট্র বা সমাজ কর্তৃক প্রদত্ত এমন একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা, যা মানুষকে বার্ধক্য, অসুস্থতা, বেকারত্ব ও অক্ষমতার মতো অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।
এটি নাগরিকের আয়ের ধারাবাহিকতা ও মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) মতে, এটি নাগরিকদের অনিবার্য যেকোনো অর্থনৈতিক ও সামাজিক দুর্দশা থেকে রক্ষা করার একটি মানবিক অঙ্গীকার। মূলত, সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করা এবং সমাজের অনগ্রসর ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে সামাজিক নিরাপত্তার ভূমিকা অপরিসীম। সামাজিক নিরাপত্তা খাত হলো এমন খাত যার মাধ্যমে সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের প্রথাগত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর (যেমন-বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, এবং ভিজিএফ/ভিজিডি) সাথে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জীবনচক্রভিত্তিক ও ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে কিছু নতুন এবং আধুনিক কর্মসূচি যুক্ত হয়েছে:

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি : স্বল্প ও প্রান্তিক আয়ের পরিবারগুলোকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা (যেমন প্রতি মাসে নির্দিষ্ট নগদ সহায়তা) দেওয়ার জন্য এই পরিবারভিত্তিক কার্ড চালু করা হয়েছে।

কৃষক কার্ড : কৃষকদের সহজ উপায়ে প্রণোদনা, কৃষি উপকরণ ও সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষে এই নতুন কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বেকার শ্রমিকদের সুরক্ষা কর্মসূচি : রপ্তানিমুখী ও অন্যান্য খাতের কর্মহীন বা দুর্দশাগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

ভিজিএফ (VGF) নতুন উইং : খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ কর্মজীবী দরিদ্রদের জন্য সমন্বিত নীতির আওতায় নগদ অর্থ সহায়তার নতুন কর্মসূচি।

দারিদ্র্য বিমোচনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির গুরুত্ব

মৌলিক চাহিদা পূরণ ও তাৎক্ষণিক দারিদ্র্য হ্রাস: সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে অতিদরিদ্র, প্রবীণ,

বিধবা, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের কাছে নগদ অর্থ ও খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। এতে খাদ্য, পোশাক, ওষুধসহ ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণের সক্ষমতা তৈরি হয় এবং চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া যায়।

মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দারিদ্র্যের চক্র ভাঙা : শিক্ষা উপবৃত্তি, মা ও শিশু সহায়তা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য ও পুষ্টিভিত্তিক কর্মসূচি দরিদ্র পরিবারের শিশু ও মায়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির সুযোগ বাড়ায়। এর ফলে শিশুদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া কমে, মানবসম্পদের গুণগত মান বৃদ্ধি পায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দারিদ্র্যের স্থায়ী চক্র থেকে বের করে আনার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

নারীর ক্ষমতায়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি : সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন ভাতা ও নগদ সহায়তা নারীদের কাছে সরাসরি পৌঁছালে তাঁদের নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা ও পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে ব্যাংকিং ও মোবাইল আর্থিক সেবার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা বাড়ে, যা নারীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক সংকটে ঝুঁকি মোকাবিলা : বন্যা, খরা, মহামারি, মূল্যস্ফীতি বা অন্যান্য অর্থনৈতিক সংকটে দরিদ্র পরিবারগুলোর আয় ও জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির নগদ ও খাদ্য সহায়তা এসব পরিবারকে সংকট মোকাবিলা, প্রয়োজনীয় ভোগব্যয় বজায় রাখা এবং ঋণগ্রস্ততা বা সম্পদ বিক্রির মতো ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত এড়াতে সহায়তা করে।

সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও বৈষম্য হ্রাস : সমাজের অবহেলিত, প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মূলধারায় যুক্ত করা সম্ভব হয়। এতে আয় ও সুযোগের বৈষম্য কিছুটা কমে এবং রাষ্ট্রীয় সেবা ও সম্পদে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পায়।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা সৃষ্টি : দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের হাতে নগদ অর্থ পৌঁছালে তারা স্থানীয় বাজার থেকে খাদ্য, পোশাক, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা ক্রয় করে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ভোগ ও চাহিদা বৃদ্ধি পায়, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল থাকে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ে।

সার্বিকভাবে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শুধু দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সাময়িক সহায়তা প্রদান করে না; বরং খাদ্য ও আয় নিরাপত্তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর কার্যকারিতা বাড়াতে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও স্বজনপ্রীতি-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
20

Related Question

View All
উত্তরঃ

স্থানীয় সরকার হলো সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অধীনে একটি নির্দিষ্ট এলাকার শাসন, উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কাজ পরিচালনার জন্য গঠিত স্বায়ত্তশাসিত শাসন ব্যবস্থা। এটি মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের আইনগত অনুমোদন সাপেক্ষে এবং স্থানীয় জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হয়। এই ব্যবস্থা স্থানীয় কর আদায়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ও আইনি ক্ষমতা ভোগ করে।

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান মূলত পাঁচ প্রকার। গ্রামীণ অঞ্চলে তিন স্তর বিশিষ্ট এবং শহরাঞ্চলে দুই ধরনের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো হলো: ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি কর্পোরেশন।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা

  • আর্থিক দুর্বলতা ও কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভরশীলতা : স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব রাজস্ব আহরণের সুযোগ ও সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো নির্মাণ, নাগরিক সেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ ও অনুদানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থের সংস্থান না থাকায় অনেক সময় স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত রাজস্বের যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবও আর্থিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে।
  • রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণ : স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় রাজনীতির অতিরিক্ত প্রভাব স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। দলীয় স্বার্থ, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও পারস্পরিক বিরোধের কারণে অনেক সময় জনগণের প্রয়োজনের পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেতে পারে। এর ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ধারণে ভারসাম্য নষ্ট হয়, স্থানীয় কোন্দল বৃদ্ধি পায় এবং জনগণের মধ্যে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।
  • দুর্নীতি, অনিয়ম ও দুর্বল জবাবদিহিতা : স্থানীয় পর্যায়ে প্রকল্প গ্রহণ, টেন্ডার, অর্থ ব্যয়, কর আদায় ও বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিচালনায় দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ থাকলে জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর তদারকি, নিরীক্ষা ও সামাজিক জবাবদিহিতার ঘাটতি এসব সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে উন্নয়ন ব্যয়ের কার্যকারিতা কমে এবং জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • দক্ষ জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি : অনেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দক্ষ প্রকৌশলী, হিসাবরক্ষক, নগর পরিকল্পনাবিদ, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত প্রশাসনিক কর্মীর পর্যাপ্ততা নেই। ফলে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাজেট ব্যবস্থাপনা, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও বাস্তবায়ন এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণে দুর্বলতা দেখা দেয়। একই সঙ্গে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আধুনিক প্রশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে সীমিত করে।
  • স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের সীমিত অংশগ্রহণ : স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মূল শক্তি হলো জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ; কিন্তু বাস্তবে ওয়ার্ড সভা, উন্মুক্ত বাজেট আলোচনা, স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সামাজিক নিরীক্ষায় জনগণের অংশগ্রহণ অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত মাত্রায় হয় না। ফলে স্থানীয় জনগণের প্রকৃত চাহিদা, সমস্যা ও অগ্রাধিকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। এতে স্থানীয় সরকার ও জনগণের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে ওঠার সুযোগও কমে যায়।
  • দুর্বল পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাব : স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন, স্থানীয় সম্পদ ও পরিবেশগত বাস্তবতাকে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয় না। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত সমন্বয়ের অভাব থাকলে একই ধরনের প্রকল্পে অর্থের অপচয় বা কাজের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। ফলে সীমিত সম্পদ ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা কঠিন হয়।
Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
15
উত্তরঃ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৭০ (Article-70) জাতীয় রাজনীতির স্থিতিশীলতা, দলীয় শৃঙ্খলা এবং সংসদীয় ক্ষমতার ভারসাম্যের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বহুল চর্চিত বিধান।

অনুচ্ছেদ-৭০ এর মূল বক্তব্য

সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরূপে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি:

(ক) উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা
(খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন (বা অনুপস্থিত থাকেন বা ভোটদানে বিরত থাকেন), তবে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে।

৭০ অনুচ্ছেদের তাৎপর্য

প্রশাসনিক ও সরকারের স্থিতিশীলতা রক্ষা : বাংলাদেশের সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের স্থায়িত্ব নির্ভর করে জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর। ৭০ অনুচ্ছেদের প্রধান ইতিবাচক তাৎপর্য হলো এটি রাজনীতিতে অসাধু 'ঘোড়া কেনাবেচা' (Horse-trading) এবং সুযোগসন্ধানী দলবদলের সংস্কৃতি বন্ধ করে। এটি না থাকলে সংসদ সদস্যরা অনৈতিক আর্থিক প্রলোভনে বা ব্যক্তিগত স্বার্থে হঠাৎ নিজ দল ত্যাগ করে বা বিরোধী দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অনাস্থা ভোট দিয়ে গঠিত সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারতেন। এর ফলে ঘনঘন সরকার পতন ও প্রশাসনিক স্থবিরতা থেকে দেশ রক্ষা পায়।

দলীয় শৃঙ্খলা ও জনমতের মর্যাদা বজায় রাখা : রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ শাসন ও নীতি বজায় রাখতে এটি একটি কঠোর আইনি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। সাধারণ নির্বাচনে যখন একজন প্রার্থী কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম, প্রতীক ও ইশতেহার নিয়ে জনগণের কাছে যান, তখন জনগণ মূলত সেই দলের নীতি ও প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখে তাঁকে ভোট দেন। নির্বাচিত হওয়ার পর সেই সদস্য যদি সংসদে নিজ দলের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন বা দল ত্যাগ করেন, তবে তা জনগণের আমানতের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে গণ্য হয়। ৭০ অনুচ্ছেদ নিশ্চিত করে যেন সংসদ সদস্যরা নিজ দলের নীতি ও আস্থার প্রতি অনুগত থাকেন।

নির্বাহী বিভাগ বা প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা বৃদ্ধি : এই অনুচ্ছেদের অন্যতম নেতিবাচক দিক হলো-এটি সংসদীয় ব্যবস্থার ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে সরকারি দলের প্রধান বা প্রধানমন্ত্রীর হাতে একক কর্তৃত্ব তুলে দেয়। একই ব্যক্তি যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা এবং সরকারি দলের প্রধান হন, তখন ৭০ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতার কারণে দলের অন্য কোনো সদস্য তাঁর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রী বা দলীয় হাইকম্যান্ডের সিদ্ধান্ত ভুল বা বিতর্কিত হলেও পদ হারানোর ভয়ে দলের সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে সংসদে সেটার বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন না।

সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতামত প্রকাশে বাধা : একটি আদর্শ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনপ্রণেতাদের মূল কাজ হলো নিজস্ব বিবেক, স্বাধীন চিন্তা এবং নিজ নির্বাচনী এলাকার জনগণের স্বার্থে সংসদে কথা বলা ও স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়া। কিন্তু ৭০ অনুচ্ছেদের কঠোরতার কারণে দলীয় নির্দেশনার বাইরে গিয়ে একজন সংসদ সদস্যের নিজস্ব মত জানানোর সুযোগ থাকে না। ফলে সংসদ সদস্যদের মৌলিক গঠনমূলক ভূমিকা সংকুচিত হয় এবং সংসদ অনেক সময় কেবল সরকারের সিদ্ধান্ত অনুমোদনের একটি 'রাবার স্ট্যাম্প'-এ পরিণত হয়।

ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি ব্যাহত হওয়া : গণতন্ত্রে আইনসভা (সংসদ) দ্বারা নির্বাহী বিভাগকে (সরকার) জবাবদিহির মুখোমুখি করার কথা। কিন্তু ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা নিজেদের দলের প্রধান বা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে বা ভোট দিতে পারেন না। ফলে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং প্রকৃত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
14
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews