বাংলাদেশে ১৬৩টি চা-বাগান আছে।
যেসব ফসল বা শস্য সরাসরি খাদ্যের উদ্দেশ্যে চাষ করা হয় তাকে খাদ্যশস্য বলে। খাদ্যশস্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শস্য হলো-ধান, গম, যব, ডাল, তেলবীজ প্রভৃতি।
উদ্দীপকে সামীরের সংস্থাটি একটি কৃষি সংস্থা। আর এ সংস্থার নাম হলো- 'বাংলাদেশ ধান গবেষণা সংস্থা'।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের কৃষির পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নে কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমের পাশাপাশি কয়েকটি কৃষি সংস্থার ভূমিকা-অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এসব সংস্থার একটি হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা সংস্থা'। সংক্ষেপে এ সংস্থাকে BRRI বলা হয়। এর পূর্ণ রূপ হলো Bangladesh Rice Research Institute. নতুন নতুন বীজের উদ্ভাবন, পুরানো কম উৎপাদনশীল বীজের পরিবর্তে উচ্চফলনশীল ধানবীজের উদ্ভাবন এবং ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করা এ সংস্থার কাজ। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা সংস্থা এ সংস্থার সাথে বিভিন্ন ইস্যুতে জড়িত আছে। এ সংস্থা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আইলা, সিডরের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের ফসলের যে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, তা পুষিয়ে নিয়ে নতুন বন্যা প্রতিরোধ (Flood tolerent) লবণ সহিষ্ণু বা বীজ উদ্ভাবন করেছে।
সুতরাং বলা যায় যে, বাংলাদেশ ধান গবেষণা সংস্থা। বিভিন্নভাবে এ দেশের কৃষিক্ষেত্রে কৃষকদের নানাভাবে সহায়তা করে আসছে।
উদ্দীপকে আলোচিত সংস্থাটি হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা সংস্থা। বাংলাদেশের এ সংস্থার মতো আরও অনেক সংস্থা রয়েছে- কথাটি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ধান, গম, আখ, পাট, চা, তুলা, মৎস্য, পশুপালন, শাকসবজি, বীজ উন্নয়ন প্রভৃতি কৃষিকাজের অন্তর্ভুক্ত। এসব কৃষি ফসলের উন্নয়নে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন সংস্থার অবদান লক্ষ করা যায়। যার মধ্যে একটি সংস্থা হলো BRRI। এ সংস্থার মূল কাজ হলো বীজের উৎপাদন। উচ্চফলনশীল বীজ উৎপাদন এবং বীজের গুণ বৃদ্ধি করা। এ সংস্থার ২১টি বীজ উৎপাদন খামার এবং এ সংক্রান্ত ১৫টি চুক্তিবদ্ধ উৎপাদন খামার রয়েছে। তারপর এসব বীজকে যান্ত্রিকভাবে ১২টি বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদনক্ষম করে তোলা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরেকটি সংস্থা কৃষিতে গবেষণা ও ফলপ্রসূ কৃষি সম্প্রসারণ সেবাদানের মাধ্যমে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকে। এ সংস্থার নাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ কাজ করে। এ সংস্থা কৃষি, বন, পরিবেশ, মৎস্য ও পশুপালন, গ্রামীণ উন্নয়ন থেকে শুরু করে শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করে থাকে। এ সংস্থাকে সংক্ষেপে BARC বলে।
কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা সংস্থার বিশালতা ব্যাপক ও বিস্তৃত। এ সংস্থা বহু শস্য গবেষণায় নিয়োজিত। যেমন-ডাল, কলম উৎপাদন, তৈলবীজ, শাকসবজি, ফল, ফুল ইত্যাদি উন্নয়নের সাথে - জড়িত। প্রজাতি উন্নয়ন ছাড়াও এ সংস্থা অপ্রচলিত এলাকা - যেখানে
Related Question
View Allভূমি কর্ষণ বা চাষ করার মাধ্যমে ফসল উপাদন করাকে কৃষি বলে।
যে কৃষি ব্যবস্থায় একই জমিতে বাণিজ্যিক পশুপালন ও মৎস্য চাষ এক সাথে করাকে মিশ্র কৃষি বলে।
এ ধরনের কৃষি ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং উত্তর-পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোতে লক্ষ করা যায়। এ ব্যবস্থায় কৃষক একই জমি হতে শুধু ফসলই নয়; বরং মাংস, দুধ, মাখন ইত্যাদিও লাভ করে থাকে। মোটর ও রেলযোগে যাতায়াতের সুবিধা থাকায় উক্ত পণ্যাদি শহরে দ্রুত প্রেরিত হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে শস্য-১ বলতে ধানকে বোঝানো হয়েছে। ধান
বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য যা সারা বিশ্বব্যাপি উৎপদিত হয়। তবে 'এশিয়া মহাদেশে ধানের ফলন তুলনামূলকভাবে বেশি। এশিয়া মহাদেশের মধ্যে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, জাপান প্রভৃতি দেশ উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে চীন প্রথম ও' ভারত দ্বিতীয়। নিচে এশিয়া মহাদেশে ধানের উৎপাদনের একটি তালিকা দেখানো হলো-
সারণি ৪.১ : পৃথিবীর প্রধান ধান উৎপাদনকারী দেশ, ২০১৯
দেশ | উৎপাদন (মিলিয়ন মেট্রিক টন) |
২০১৯ | |
চীন | ১৪৮.৫ |
ভারত | ১১৬.৪২ |
ইন্দোনেশিয়া | ৩৬.৭ |
বাংলাদেশ | ৩৪.৯১ |
ভিয়েতনাম | ২৭.৭৭ |
থাইল্যান্ড | ২০.৩৪ |
মিয়ানমার | ১৩.২ |
ফিলিপাইন | ১১.৭৩ |
জাপান | ৭.৬৬ |
ব্রাজিল | ৭.১৪ |
Source: FAO Statistical Yearbook, 2019
এছাড়া এশিয়ার মধ্যে মালায়শিয়া। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইরাক, কম্বোডিয়। তাইওয়ান নেপাল, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি অঞ্চলেও ধান উৎপন্ন হয়।
উদ্দীপকে শস্য-২ হলো গম। গম সারা বিশ্বের প্রধান খাদ্য শস্য।
তাই অর্থনৈতিকভাবেও গম খুব গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্য। নিচে গমের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গম সব ধরনের খাদ্যশস্যের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালের প্রায় ৪৪.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গম বিশ্ব বাজারে রপ্তানি হয়। গম উৎপাদনকারী প্রধান দেশসমূহের প্রায় অধিকাংশই কমবেশি গম আমদানি করে ও থাকে। সুতরাং রপ্তানিকারক দেশের সংখ্যা খুবই সীমিত। তাই মুষ্টিমেয় রপ্তানিকারক দেশের ইচ্ছা মোতাবেক গমের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় থাকে। ২০২১ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৪৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গম আমদানি হয়। এ কারণে গমের যথেষ্ট অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। গমের প্রধান প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলো হলো রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা ও ইউক্রেন, রোমানিয়া, জামার্নি রাজখিস্তান। এদের মধ্যে রাশিয়া প্রথম ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়। গমের প্রধান প্রধান আমদানিকারক দেশগুলো হলো ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ইতালি ব্রাজিল, মিসর, ফিলিপাইন, নাইজেরিয়া ও তুরষ্ক। এদের মধ্যে মিসর প্রথম ও ইন্দোনেশিয়া দ্বিতীয়।
পরিশেষে বলা যায় গম বিশ্ব বাজারে প্রধান চাহিদাসম্পন্ন খাদ্যশস্য। তাই সারাবিশ্বের আমদানি ও রপ্তানিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করে এ পণ্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
ভূমি কর্ষণ বা চাষ করার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করাকে কৃষি বলে।
উত্তর আমেরিকার কানাডার দক্ষিণাংশ হতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণে ওকলাহোমা ও মিসৌরি রাজ্য পর্যন্ত সমগ্র প্রেইরী অঞ্চলকে পৃথিবীর রুটির ঝুড়ি বলা হয়।
রুটি প্রস্তুতের উপযোগী উন্নতমানের এত অধিক গম পৃথিবীর অন্য কোনো অঞ্চলে উৎপাদিত হয় না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত গম উৎপন্ন হয় বলে এ অঞ্চলের অধিকাংশ গমই রুটি প্রস্তুতের জন্য দেশ-বিদেশের বাজারে রপ্তানি হয়ে থাকে। এ কারণে উত্তর আমেরিকার এ অঞ্চলকে পৃথিবীর 'রুটির ঝুড়ি' বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!