উত্তরঃ
ঘ নং প্রশ্নের উত্তর:
উদ্দীপকে সালাউদ্দীন আইয়ূবী তার বিজিত অঞ্চলের দায়িত্ব একজন বিশ্বস্ত সেনাপতির হাতে তুলে দিয়ে নিজ রাজ্যে ফিরে যান, যা তার দূরদর্শী ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের পরিচয় বহন করে। এই পদ্ধতির সাথে ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাকারী মুহাম্মদ ঘুরীর নীতিগত মিল বিদ্যমান, যিনি তার বিশ্বস্ত সেনাপতি কুতুবুদ্দিন আইবককে ভারতের বিজিত অঞ্চলসমূহের দায়িত্ব দিয়ে মুসলিম সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তাই, উদ্দীপকের সালাউদ্দীন আইয়ূবীর মতো উক্ত মুসলিম অভিযানকারীও তার একজন বিশ্বস্ত সেনাপতিকে দায়িত্ব দিয়ে ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন – এই মতামতের সাথে আমি সম্পূর্ণরূপে একমত।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে দেখা যায়, মুহাম্মদ ঘুরী যখন ভারত অভিযান শুরু করেন, তখন তার প্রধান লক্ষ্য ছিল ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করা। দ্বিতীয় তরাইনের যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ চৌহানকে পরাজিত করার পর তার বিজয়ের পথ প্রশস্ত হয়। কিন্তু ঘুরীর পক্ষে বিজিত বিশাল ভারতীয় ভূখণ্ডের শাসনভার নিজ হাতে রেখে কেন্দ্রীয়ভাবে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। উদ্দীপকের সালাউদ্দীনের মতো তিনিও অনুধাবন করেছিলেন যে, একটি শক্তিশালী ও সুসংহত মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে স্থানীয়ভাবে একজন যোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিনিধি থাকা আবশ্যক।
মুহাম্মদ ঘুরী তার বিশ্বস্ত ও সুযোগ্য সেনাপতি কুতুবুদ্দিন আইবককে ভারতের অধিকৃত অঞ্চলসমূহের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেন। আইবকের উপর দায়িত্ব ছিল ঘোরীর অনুপস্থিতিতে বিজিত অঞ্চলের শাসনভার পরিচালনা করা, সাম্রাজ্য বিস্তার করা এবং মুসলিম শাসনকে সুসংহত করা। কুতুবুদ্দিন আইবক অত্যন্ত দক্ষতা ও সাহসিকতার সাথে এই দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দিল্লি, আজমির, কোয়েল (আলিগড়) সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল জয় করে ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্যের ভিত্তি মজবুত করেন। তাঁর এই কার্যকলাপের মাধ্যমেই মূলত ভারতে মুসলিম শাসনের গোড়াপত্তন হয়, যা পরবর্তীতে দিল্লি সালতানাত হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
উপসংহারে বলা যায়, সালাউদ্দীন আইয়ূবী যেভাবে তার বিজিত অঞ্চলের সুশাসন নিশ্চিত করতে একজন সৎ ও যোগ্য সেনাপতির উপর আস্থা রেখেছিলেন, মুহাম্মদ ঘুরীও ঠিক একই বিচক্ষণতা ও কৌশল অবলম্বন করে কুতুবুদ্দিন আইবকের হাতে ভারতের প্রশাসনিক ও সামরিক দায়িত্ব অর্পণ করেন। এই দূরদর্শী পদক্ষেপের ফলেই ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা ও সুদূরপ্রসারী ভিত্তি লাভ সম্ভব হয়েছিল। সুতরাং, উদ্দীপকের বক্তব্যটি পাঠ্যবইয়ের তথ্যের আলোকে সম্পূর্ণ সঠিক ও যৌক্তিক।