আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরীজীবী শ্রেণি"- সংজ্ঞাটি অধ্যাপক ফাইনারের।
পদসোপান বলতে পদের গুরুত্ব ও পদের মর্যাদা অনুসারে পর্যায়ক্রমে শ্রেণিবিন্যাস বোঝায়। এ নীতি অনুযায়ী পদসমূহকে এমনভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয় যাতে প্রত্যেক নিম্নতর পদ কোনো উচ্চতর পদ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। পদসোপানের ফলে প্রত্যেক কর্মচারীই তার কার্যাবলির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দায়ী থাকেন।
জনাব সাহেদ আহমেদের মাঝে একজন প্রকৃত আমলার কতকগুলো গুণের সম্মিলন লক্ষ করা যায়। তিনি নিয়োগ কমিটিতে থাকাকালীন রাজনৈতিক সুপারিশ উপেক্ষা করেছেন। এটি তার দায়িত্বশীলতার প্রমাণ। তিনি কোনো প্রকার লোভ, ভীতি, অনুরাগ, বিরাগ তাকে প্রভাবিত করে নি। আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যপ্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তিনি নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ করেছেন। তিনি আমলা হিসেবে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে কাজ করলেও অরাজনৈতিক মনোভাব পোষণ করেন, যা একজন আমলার বিশেষ গুণ। তিনি পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সেবা জনগণের কাছে পৌছে দেওয়াই আমলার মৌলিক কাজ। সাহেদ আহমেদ জনসেবামূলক মনোভাব লালন করেন বিধায় তিনি অনিয়ম থেকে দূরে থেকেছেন। একজন আমলা হিসেবে তিনি প্রকৃত আমলার চরিত্রগুলোই ধারণ
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা একান্ত প্রয়োজন। আমলাদের দ্বারা সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়। আমলাতন্ত্রে যদি জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকে তবে যেকোনো কর্মসূচি সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়া সম্ভব। যেহেতু জবাবদিহিতা দুর্নীতি রোধ করে তাই আমলাগণ যদি তাদের কাজের জন্য জবাবদিহিতা করতে বাধ্য থাকেন তবে রাষ্ট্র ও সমাজ অনেকাংশে দুর্নীতিমুক্ত হবে। আর দুর্নীতিমুক্ত সমাজব্যবস্থাই সুশাসনের কাম্য। সুশাসনের প্রবক্তারা সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সুশাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারের সমস্ত কার্যক্রমকে দুর্নীতিমুক্ত করে উন্নয়ন নিশ্চিত করা। বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থায় আমলাতন্ত্রের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করা আমলাতন্ত্রের কাজ। তাই একটি দেশের আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ হলো সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাওয়া। কেননা আমলাগণ সরকারেরই অংশ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমলারা জবাবদিহি করবে কার কাছে? এর উত্তর সহজ করে বলা যায়, আমলারা জবাবদিহি করবে
জনগণের নিকট। জনগণ সার্বভৌম। রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের নামেই পরিচালিত হয় এবং জনগণের টাকায় আমলাদের বেতন হয়। তাই আমলারা নিজেদের প্রভু মনে না করে জনগণের সেবক মনে করলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। জনগণ সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে না। প্রতিনিধিত্বশীল সরকার ব্যবস্থায় জনগণের পক্ষে তাদের প্রতিনিধিরা আইনসভার সদস্যগণ রাষ্ট্র পরিচালনা করে থাকেন। তাই এ সকল প্রতিনিধিদের কাছেও আমলারা জবাবদিহি করতে বাধ্য। এভাবে আমলাতন্ত্রে জবাবদিহিতা যত বৃদ্ধি পাবে প্রশাসন তত স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত হবে। আর স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন সুশাসনের বিশেষ সহায়ক শক্তি।
তাই বলা যায়, আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত হয়।
Related Question
View AllBureaucracy' শব্দের প্রতিশব্দ 'আমলাতন্ত্র'।
আমলাতন্ত্রের এক বড় ত্রুটি হলো লালফিতায় দৌরাত্ম্য। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্বের নজিরকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে অতি আনুষ্ঠানিকতা পালনকে লালফিতার দৌরাত্ম্য বলা হয়। পদসোপান ভিত্তিতে কাগজপত্রের অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, যা দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। এর ফলে প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়।
আমলাতন্ত্র একটি পেশাদার, দক্ষ ও নিরপেক্ষ বাহিনী। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে তারা এই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে থাকেন। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের মমতাজ আলীর কার্যক্রমেও এরূপ দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেখা যায়। মমতাজ আলী তার কাজের ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করেন এবং সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন অনুসারে তার কাজ করেন। এটি আমলাতন্ত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মমতাজ আলী সাহেব তার। দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আমলাতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে তিনি তার কর্মকাণ্ডে যে সক্ষমতা প্রদর্শন। করেছেন, তা আমলাতন্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আমলাতন্ত্রের পদের ধারাক্রম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এখানে আমলাতন্ত্রের কার্যপ্রণালি এবং প্রক্রিয়া দেখা যায়।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আমলাদেরকে বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করতে হয়। উন্নয়মূলক কাজেও মমতাজ আলীদের মতো আমলারা মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন। অনেক সময় তাদের ভূমিকা দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহকের ন্যায়। আবার ক্ষেত্রবিশেষে এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়।
আমলারা রাষ্ট্রের জনগুরুত্বপূর্ণ সব কাজের তদারকিতে নিয়োজিত থাকেন। প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ, নীতির বাস্তবায়ন তথা কাজ সম্পন্ন করা, সরকারি সম্পদের হেফাজত করা, বিচারসংশ্লিষ্ট কাজ ইত্যাদি আমলাদের রুটিনওয়ার্ক। সরকারের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা করা, সম্ভাব্যতা যাচাই করা, সমীক্ষা করা, বাজেট প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদনের সুপারিশ করা, কাজ বাস্তবায়ন করা, তদারকি করা ইত্যাদি আমলাদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সূচনা ও বাস্তবায়ন করার মূল দায়িত্ব এ আমলাদের ওপরই ন্যস্ত থাকে।
আমলাদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা যত বেশি হবে, এসব ক্ষেত্রে সফলতা তত দ্রুত আসবে। কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রভাগে থাকেন এ আমলারা। এছাড়া সামাজিক পরিবর্তন, অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ইত্যাদি অবস্থাগত ক্ষেত্রেও আমলাদের ভূমিকা স্মরণযোগ্য। তবে আমলাতন্ত্রের অতি আনুষ্ঠানিকতা, লালফিতার দৌরাত্ম্য স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা, অবহেলা এবং অ-পেশাদারি আচরণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। কিন্তু এটি আমলাতন্ত্রের নীতির পরিপন্থী। আমলাতন্ত্রে কখনো এরূপ প্রত্যাশা করা হয় না। কিন্তু জনাব আলী সাহেবের মতো দক্ষ, সৎ ও কর্মনিষ্ঠ আমলারাই দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহক, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
অধ্যাপক অগ আমলাতন্ত্রকে পেশাদার দক্ষ বাহিনী বলে অভিহিত করেন।
কোনো সংগঠন পরিচালনার জন্য স্থায়ী বেতনভুক্ত দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে আমলা বলা হয়। আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র বলতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী বেতনভুক্ত কর্মীবাহিনীকে বোঝায়। আমলারা সুশৃঙ্খলভাবে পরস্পর পদের ক্রম অনুযায়ী সংযুক্ত এবং রাজনীতি নিরপেক্ষ থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ম্যাক্স ওয়েবারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!