মাটির দ্বিতীয় স্তরটিকে সাবসয়েল বলে।
গাছপালায় বিদ্যমান থাকা জৈব পদার্থ কার্বন। গাছপালা ক্ষয় প্রাপ্ত হয়ে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। জমাকৃত কার্বনের স্তর পানি বা কাদার নিচে চাপা পড়ে এবং বাতাসের সংস্পর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। এটি আবার ক্ষয় প্রাপ্ত হয় পিট এ পরিণত হয়। পরিবর্তিতে উচ্চ চাপে ও তাপে এই পিট পরিবর্তিত হয়ে কার্বন সমৃদ্ধ কয়লায় পরিণত হয়। এভাবে কয়লা তৈরি হয়।
উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী সিয়ামের বিজ্ঞান শিক্ষক মাটি দূষণ সম্পর্কে সিয়ামকে অবহিত করেন। বন্যার কারণে প্রতি বছর মাটিক্ষয় হচ্ছে। এর কারণে আমরা নানা রকম হুমকির সম্মুখীহন হচ্ছি। নিচে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হলো-
বাংলাদেশ ভৌগোলিক কারণে বন্যাপ্রবণ একটি দেশ। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি নদ-নদীই খরস্রোতা, যার ফল হলো নদী ভাঙ্গন। নদী ভাঙ্গনের ফলে সৃষ্ট মাটি পানির স্রোতে মিশে যায় এবং একপর্যায়ে নদীর তলায় জমা হয় ও নদী ভরাট হয়ে যায়। এতে একদিকে যেমন নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়, অন্যদিকে তেমনি নদী শুকিয়ে যেতে পারে বা মরেও যেতে পারে।
আমাদের দেশের অনেক নদী ইতিমধ্যেই মরে গেছে। কররের বিবিয়ানা, শাখা বরাক-এসব নদীই এখন মরা নদী এমনকি একসময়ের খরস্রোতা পদ্মা নদীর অবস্থাও সংকটাপন্ন। পদ্মা নদীত ওপর নির্মিত পাকশী ব্রিজের নিচে গরুর গাড়ি চলার কারণ হলো, নদী ভরাট হয়ে যাওয়া। নদী শুকিয়ে যাওয়ার অর্থই হলো প্রাণিসম্পদ বিলুপ্ত ১ হয়ে যাওয়া।
উপরোক্ত কারণসমূহ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, বন্যার কারদে মাটি ক্ষয়ের ফলে এক জায়গার মাটি অন্যাস্থানে গিয়ে জমা হওয়ায় আমরা নানারকম হুমকির সম্মুখীন হচ্ছি
উদ্দীপকের তথ্য মতে, সিয়ামের শিক্ষকের শেষের উত্তিটি হলো নদী ভাঙ্গনের ফলে অতিরিক্ত পলি থেকে ও মাটি দূষিত হচ্ছে। উক্তিটি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
নদীভাঙনের কথা আমরা সবাই জানি। নদীভাঙনের কলে নদীর পাড় ভাঙা মাটি বা অন্য যেকোনভাবে সৃষ্ট মাটি বা পানিতে অদ্রবণীয় পদার্থ পানির দ্বারা প্রবাহিত হয়ে একপর্যায়ে গিয়ে কোথাও না কোথাও তলানি আকারে পড়ে এবং সেটি কখনো নদ-নদী, খাল-বিল ইত্যাদির তলদেশে জমা হতে পারে আবার কখনো কদলি জমিতে জমা হতে পারে। আরেকটি বিষয় হলো, এই সমস্ত তলানিতে নানারকম অতিকর পদার্থ থাকতে পারে। এই জাতীয় তলানি ফসলি জমির ওপর পড়লে তা জমির উপরিভাগ যা ফসল উৎপাদনে মূল ভূমিকা পালন করে, তার ওপর আস্তরণ সৃষ্টি করে। ফলে এর ফসল উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়। এসব পদার্থ নদীগর্ভে জমা হয়ে নদী ভরাট হয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে মাটি দূষণ বেড়েই চলেছে।
উপরোক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, সিয়াদের শিক্ষকের শেষোক্ত উক্তিটি যথার্থই ছিলো।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!