কোনো জনগোষ্ঠীর জীবনপ্রণালি সম্পর্কে লিখিত ইতিহাসই হলো এথনোগ্রাফি।
মানুষের আচরণ সম্পর্কিত জ্ঞান দান করে মনোবিজ্ঞান সমাজকর্মকে সহায়তা করে।
সমাজকর্ম হলো সুসংগঠিত সাহায্যদান পদ্ধতি। মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ, সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার উন্নয়ন এবং পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যবিধানে সহায়তা করা সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে সমাজবিজ্ঞানী জন স্টুয়ার্ট মিল বলেছেন, 'মানুষের বাহ্যিক আচরণ ও সামাজিক সম্পর্ক বুঝতে হলে তার মানসিক বৃত্তি ও প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন'। মানব বিকাশ ও আচরণ সমাজকর্মীদের জ্ঞানের অপরিহার্য অঙ্গ, যা মনোবিজ্ঞান অধ্যয়নে অর্জন করা যায়।
জলসীমা ও স্বর্ণার সংলাপের আলোকে বলা যায়, সীমার পঠিত বিষয়টি হলো সমাজকর্ম এবং স্বর্ণার বিষয়টি হলো সমাজবিজ্ঞান।
এ দুটি বিষয়ের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে যা উদ্দীপকের বর্ণনায় ফুটে উঠেছে।
সমাজকর্ম এবং সমাজবিজ্ঞান উভয়ই সামাজিক বিজ্ঞানের দুটি শাখা। সমাজ এবং সমাজের মানুষকে নিয়ে এদের বিষয়বস্তু আবর্তিত হলেও কর্মসূচি, পদ্ধতি কিংবা কৌশলগত দিক দিয়ে এরা ভিন্ন।
উদ্দীপকের সীমার সংলাপ দ্বারা প্রমাণিত হয় তার বিষয়টি প্রায়োগিক। অর্থাৎ এটি সরাসরি প্রয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। যেহেতু এটি সামাজিক কল্যাণে প্রয়োগযোগ্য এবং সমাজে বিদ্যমান সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োগ করা হয় তাই এটি সমাজকর্ম। সীমার পঠিত বিষয়টি তাত্ত্বিক। এটি সমাজের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে তত্ত্ব-উপাত্ত প্রদান করে। আবার সীমার পঠিত বিষয় তথা সমাজকর্মকে অনুশীলনধর্মী এবং সাহায্যকারী প্রক্রিয়া বলা যায়। অন্যদিকে স্বর্ণার বিষয়টি কেবলই অধ্যয়নধর্মী। সমাজের মৌলিক বিষয় নিয়ে অধ্যয়ন করে তত্ত্ব-উপাত্ত প্রদানই এর মূল উদ্দেশ্য। সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি সমাজকর্ম এবং সমাজবিজ্ঞান সম্পূর্ণ
আলোচ্য উদ্দীপকে সমাজকর্ম ও সমাজবিজ্ঞানের মধ্যকার কিছু মৌলিক বৈসাদৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। এ দুটি বিষয়ের মধ্যে কিছু
বৈসাদৃশ্য থাকলেও বাস্তবিকপক্ষে এরা একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। উদ্দীপকের বক্তব্য থেকেও যার প্রমাণ পাওয়া যায়।
সমাজকর্ম ও সমাজবিজ্ঞান উভয়ই সামাজিক বিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত দুটি বিষয়। সমাজ ও সামাজিক সম্পর্ক এদের বিষয়বস্তু। সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণ করে গোটা সমাজ সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ জ্ঞান দান করে সমাজবিজ্ঞান। আর সমাজকর্ম মানুষের সামাজিক সম্পর্কের ফলে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা করে। তাই বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে এ দুটি বিষয় প্রায় এক ও অভিন্ন। সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগের জন্য সমাজবিজ্ঞানীদের সমাজ তথা মানুষের বিভিন্ন সামাজিক আচার-আচরণ, বিশ্বাস, মূল্যবোধ ইত্যাদি সম্পর্কে অবহিত হতে হয়। আর সমাজকর্মের জ্ঞান বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগের জন্য সমাজবিজ্ঞানের সাহায্য গ্রহণ করতে হয়। কাজের ক্ষেত্রগত দিক থেকে উভয়ই সমাজকে কেন্দ্র করে আবর্তিত এবং উভয়ই সমস্যামুক্ত সমাজ গঠনে প্রত্যয়ী। উদ্দীপকে বর্ণিত সীমা এবং স্বর্ণার সংলাপেও এ বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। যেমন সীমার উদ্দেশ্য অর্জনে স্বর্ণার সমাজ সম্পর্কিত মৌলিক জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সীমা একটি সুখী ও কল্যাণময় সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এক্ষেত্রে সমাজ এবং সমাজে বসবাসরত মানুষের সামাজিক সম্পর্কের ধরণ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে হবে। আর এ সম্পর্কিত জ্ঞান দানে স্বর্ণার বিষয় তথা সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অত্যাবশ্যক। সমাজকর্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে সমাজের অনাকাঙ্ক্ষিত 'ঘটনাবলির কার্যকরী সমাধান প্রদান করে থাকে।
সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার-বিশ্লেষণ করে বলা যায় যে, সমাজকর্ম ও সমাজবিজ্ঞান উভয়ই মানুষ ও সমাজের কল্যাণে নিবেদিত এবং এ
Related Question
View All১৯৪২ সালের বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে সমাজকর্মের সূচনা হয়।
সুশাসন বলতে অংশীদারিত্বমূলক, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, দক্ষতা, ন্যায়পরায়ণতা প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রশাসনকে বোঝায়।
সুশাসন একটি গতিশীল ও চলমান ধারণা। এটি শাসনব্যবস্থার রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে। মূলত বলিষ্ঠ ও ন্যায়ানুগ উন্নয়নকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার জন্য একটি সুষ্ঠু নীতিমালার মাধ্যমে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা এবং তা বজায় রাখাই হলো সুশাসন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সমস্যাটির সমাধান কার্যক্রম অর্থাৎ কিশোর অপরাধ সংশোধন কার্যক্রম সমাজকর্মের আওতাভুক্ত।.
আধুনিক সমাজকর্ম যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করে সংশোধনমূলক কার্যক্রম সেগুলোর অন্যতম। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম মূলত সামাজিক শৃঙ্খলা ও শান্তি বিনষ্টকারী অপরাধী এবং কিশোর অপরাধীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ ধরনের কার্যক্রমের মধ্যে কিশোর অপরাধ সংশোধন, কিশোর আদালত, প্রবেশন, প্যারোল, মুক্ত কয়েদি পুনর্বাসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এতে অপরাধীরা স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে আসার সুযোগ পায়।
উদ্দীপকে বর্ণিত কিশোর আলিফের বন্ধুরা ঈগল গ্যাংয়ের সদস্য। তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে। একদিন ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে তাদের সাথে অন্য গ্যাংয়ের মারামারি হলে একজন কিশোর খুন হয়। এক্ষেত্রে দুই গ্যাংয়ের সদস্যরাই কিশোর এবং এরা সবাই কিশোর অপরাধী। এসব কিশোর অপরাধমূলক সমস্যা সমাধানে সমাজকর্ম কাজ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত সমস্যা সমাধান কার্যক্রম সমাজকর্মের অন্তর্ভুক্ত।
আলিফের চাচার পেশা তথা আইন পেশার সাথে উক্ত বিষয় অর্থাৎ সমাজকর্মের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।
আইন পেশা একটি সেবা প্রদানকারী পেশা। এ পেশার প্রধান দিক হলো আইনজীবীরা সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাদের স্বার্থ ও অধিকার সংরক্ষণে কাজ করেন। বর্তমানে সমাজকর্ম পেশায় সমাজকর্মীদের মানুষের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় আইনবিষয়ক জ্ঞান অর্জন করতে হয়। অনেক সময় সমাজকর্মীরা মানুষের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সরাসরি আইন পেশার সাহায্য নেন। তবে বৃহত্তর পরিসরে আইন পেশা সমাজকর্মের একটি অংশ। তাই অনেক সময় ব্যক্তি একাধারে সমাজকর্মী ও আইনজীবী উভয় পেশাই গ্রহণ করতে পারেন। এখানে সমাজকর্মের লক্ষ্য পূরণে তিনি আইন পেশাকে সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করেন। আধুনিক সমাজকর্ম অপরাধ ও কিশোর অপরাধ নিরসনে শাস্তির পরিবর্তে সংশোধনমূলক ব্যবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সংশোধনমূলক কার্যক্রম যেমন- প্রবেশন, প্যাারোল, কিশোর আদালত প্রভৃতিতে সমাজকর্মীদের পাশাপাশি আইনজীবীরা বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। এতে দেখা যায়, আইন পেশা ও সমাজকর্ম ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
উদ্দীপকে কিশোর আলিফের বন্ধুরা ঈগল গ্যাংয়ের সদস্য। তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে। ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে অন্য গ্যাংয়ের সাথে মারামারি হলে একজন কিশোর মারা যায়। এরপর পুলিশ এসে আলিফ ও তার বন্ধুদের থানায় নিয়ে যায়। আলিফের আইনজীবী চাচা আলিফকে সহায়তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা করেন। এক্ষেত্রে আলিফের মতো কিশোরদের সংশোধন ও মুক্তির জন্য সমাজকর্মী এবং আইনজীবী একসাথে কাজ করবে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, আলিফের চাচার পেশা অর্থাৎ আইন পেশার সাথে সমাজকর্মের খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
১৯৫৭ সালে সুইজারল্যান্ডে 'Study Group' সমাজকর্মীদের জন্যে পেশাগত নীতিমালা নির্ধারণ করে।
ইংল্যান্ডে সামাজিক বিমা পদ্ধতি মূলত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত।
সামাজিক বিমা কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণ কিছু সুবিধা ও সেবা পায়। এই সেবার মধ্যে রয়েছে সাধারণত অবসরভোগীদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা, অক্ষমতা বিমা, বেঁচে থাকার সুযোগ-সুবিধা, সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল এবং বেকারত্ব বিমা। এ বিমায় সমহারে চাঁদার পরিবর্তে আয়ভিত্তিক চাঁদা ও সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!