মেলা
আহসান হাবীব
ফুলের মেলা পাখির মেলা
আকাশ জুড়ে তারার মেলা
রোজ সকালে রঙের মেলা
সাত সাগরে ঢেউয়ের মেলা।
আর এক মেলা জগৎ জুড়ে
ভাইরা মিলে বোনরা মিলে
রং কুড়িয়ে বেড়ায় তারা
নীল আকাশের অপার নীলে
ফুলের বুকে সুবাস যতো
বুকে-মুখে নেয় মেখে তাই
পাখির কলকণ্ঠ থেকে
সুর তুলে নেয় তারা সবাই।
রাতের পথে পাড়ি যখন,
তারার অবাক দীপ জ্বেলে নেয়।
রোজ সকালের আকাশপথে
আলোর পাখি দেয় ছেড়ে দেয়
সাত সাগরের বুক থেকে নেয়
ঢেউ তুলে নেয় ভালোবাসার।
জগৎ জুড়ে যায় ছড়িয়ে,
যায় ছড়িয়ে আলো আশার।
ভালোবাসার এই যে মেলা
এই যে মেলা ভাই-এর বোনের,
এই যে হাসি এই যে খুশি
এই যে প্রীতি লক্ষ মনের-
কচি সবুজ ভাই-বোনদের
আপনি গড়া এই যে মেলা,
এই মেলাতে নিত্য চলে
আপন মনে একটি খেলা।
সারা বেলাই সেই এক খেলা
গড়বে নতুন একটি বাগান,
অনেক ফুল আর অনেক পাখি
সব পাখিদের আলাদা গান-
তার মাঝেই একটি সুরে
সবারই সুর যায় মিলিয়ে
এক দুনিয়া এক মানুষের
স্বপ্ন তারা যায় বিলিয়ে।

Related Question
View Allনীল আকাশের রং কুড়িয়ে বেড়ায় ভাইবোনেরা।
কবি শিশু-কিশোরদের বাগানের কথা বলেছেন।
প্রকৃতি জগতে কবি বিভিন্ন মেলার সমারোহ দেখতে পান। আবার শিশুদের মাঝেও রয়েছে একটি আলাদা জগৎ। কবি কলকাকলিতে মুখর শিশুদের মাঝে একটি নিষ্কলুষ বাগানের সন্ধান পেয়েছেন। সেই শিশুরা হিংসা-দ্বেষ, বিদ্বেষ সবকিছু বাদ দিয়ে ভালোবাসাপূর্ণ এক জগৎ তৈরি করবে। আপন - পর সবাইকে সুখে-দুঃখে আপন ভেবে নেবে। সেই ভালোবাসাপূর্ণ বাগানে ফুল হয়ে ফুটবে শিশু-কিশোররা।
উদ্দীপকের বর্ণনায় 'মেলা' কবিতার প্রকৃতির জগৎ-এর বিষয়বস্তুর সাথে মিল পাওয়া যায়।
কবি আহসান হাবিব 'মেলা' কবিতায় সুন্দর পৃথিবীর চিত্র তুলে ধরেছেন। প্রকৃতির জগতে দৃষ্টি রাখলে আমরা দেখতে পাই ফুলভরতি বাগান। গাছে গাছে পাখির বিচিত্র সমাহার। আকাশের দিকে তাকালে দেখতে পাই হাজার হাজার তারার মেলা।
উদ্দীপকে প্রকৃতির সৌন্দর্যের কিছু দিক তুরে ধরা হয়েছে। নদীর পাড়, নদীতে ভেসে বেড়ানো রংবেরঙের পালতোলা নৌকা। ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়ানো নানা রকমের সাদা-কালো পাখি। ধানখেতের সবুজ সমাহার। সবকিছু মিলে এক মোহনীয় পরিবেশ উঠে এসেছে। আলোচ্য কবিতায়ও কবি প্রকৃতির এই মোহনীয় সৌন্দর্যময় প্রকৃতির চিত্র তুলে ধরেছেন। তাই বলা যায়, প্রকৃতির জগতের মিলের দিক থেকে উদ্দীপক ও 'মেলা' কবিতার বিষয়বস্তুর মধ্যে মিল রয়েছে।
ভেদাভেদহীন একটি সুন্দর আনন্দপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের দিক থেকে বাউলের গানের মর্মকথা 'মেলা' কবিতার মূলভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।
'মেলা' কবিতায় উঠে এসেছে শিশু-কিশোরদের মনোভাবের কথা। প্রকৃতির সব উপাদানের মধ্যেই শিশুরা খুঁজে পায় ভালোবাসা। তারা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয় নবীন প্রাণের আশা। দেশ-কালের সীমানা ভেঙে তারা অন্তরের ভালোবাসা দিয়ে গড়তে চায় মানুষের জন্য একটা অভিন্ন পৃথিবী। যে পৃথিবীর মধ্যে কোনো বিবাদ থাকবে না। পৃথিবী হবে একটা দেশ আর মানবসমাজ হবে একটা পরিবারের মতো।
উদ্দীপকের বাউলের গানের মধ্যে ফুটে উঠেছে ঐক্যের আহ্বান। বাউল সুরে সুরে বলেছেন, বিভিন্ন বর্ণের গাভি হলেও দুধের বরণ একই রকম। তেমনিভাবে পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন ধরনের মানুষ থাকলেও সবাই আসলে একই মায়ের সন্তান। অর্থাৎ তিনি বিবাদহীন এক অভিন্ন পৃথিবীর কথাই ভাবার্থে বলেছেন।
'মেলা' কবিতা ও উদ্দীপকের বাউল গানের মধ্যে একটি ভালোবাসাপূর্ণ ও ভেদাভেদহীন সমাজের কথাই উঠে এসেছে। শিশুদের কোমল মনে যেমন শান্তিপূর্ণ অভিন্ন সমাজের প্রত্যাশা রয়েছে তেমনি উদ্দীপকের বাউল গানের মধ্যেও একই শান্তিপূর্ণ অভিন্ন সমাজের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে। তাই বলা যায়, বাউলের এই গানের মর্মকথাই 'মেলা' কবিতার মূলভাব।
পৃথিবীর সমস্ত শিশু-কিশোরের একতার উৎসবকে বোঝাতে কবি আর এক মেলা জগৎজুড়ে বলেছেন।
প্রকৃতির জগতে আমরা নানান মেলা দেখতে পাই। অন্যদিকে পৃথিবীর শিশু-কিশোরদের রয়েছে আলাদা জগৎ। যা একটি মেলার মতো। প্রকৃতির জগতের সবকিছু পেয়েছে শিশু-কিশোররা। পৃথিবীর সমস্ত শিশু-কিশোরের ভাষা এক নয়। তবে তাদের মনের ভাষার মধ্যে একটা মিল আছে। তাদের এই মনের মিলকে কবি একতার উৎসব হিসেবে তুলে ধরেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!