'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় 'কার্তিক' মাসের উল্লেখ আছে।
অভাব দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত বলে কদম আলী অকাল বার্ধক্যে নত।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে জন্মভূমির প্রতি এদেশের মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরেছেন। এখানে তিনি গ্রামের পথ-ঘাট, পথ-প্রান্তরের মতো সরু পথ, ধানখেত, নদীর কিনার, সেখানকার মানুষ কদম আলী, জমিলার মা প্রভৃতির কথা বলেছেন। কবি নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে অভাবের কারণে না খেতে পাওয়া ক্লান্ত কদম আলীর কথাও স্মরণ করেছেন, চিকিৎসার অভাবে যে অকাল বার্ধক্যের শিকার হয়েছে। কবি কদম আলীকে গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকের সুমনের ভাবনার সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি ভাবনার জন্মভূমিপ্রীতির সাদৃশ্য রয়েছে।
জন্মভূমির প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসা চিরন্তন। জন্মভূমির প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের জীবন গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। কারণ এদেশের মানুষ গ্রামীণ প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে বেড়ে ওঠে।
উদ্দীপকে জন্মভূমির প্রতি সুমনের গভীর ভালোবাসার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। বহু বছর পর গ্রামে গিয়েও সে তার পরিচিত পরিবেশে বন্ধুদের সঙ্গে প্রাণের আবেগে মিশেছে। তার গ্রামের গাছপালা, পাখি, পরিচিত লোকজন দেখে খুব খুশি হয়েছে। উদ্দীপকের গ্রামের প্রতি গভীর টান এবং ভালোবাসার দিকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় প্রতিফলিত স্বদেশের প্রতি কবির গভীর ভালোবাসার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই কবিতায় কবি এদেশের প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে নিজের গভীর বন্ধনের কথা বলেছেন। তিনি কোনো আগন্তুক নন, জন্মভূমির সঙ্গেই তাঁর অস্তিত্বের শেকড় গাঁথা। উদ্দীপকের সুমনের মধ্যেও এই দিকটি অভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। সুমনও কবির মতো জন্মভূমির প্রকৃতির মধ্যে, নিজের চিরচেনা গ্রামের মধ্যে নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে।
না, উদ্দীপকে মামুন জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করলেও 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি ভাবনার সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না।
মানুষ তার জন্মভূমির আলো-বাতাসে, প্রকৃতির স্নেহস্পর্শে বেড়ে ওঠে। জন্মভূমি ও জন্মভূমির মাটির কাছে মানুষের ঋণের শেষ নেই। তা সত্ত্বেও অনেক সময় স্বদেশের প্রকৃতিকে ছেড়ে মানুষ নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। তাতে তার অর্থ-স্বার্থ রক্ষা হলেও স্বদেশপ্রেমের মনোভাব জাগ্রত হয় না।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরেছেন। কবি মনে করেন এদেশের শ্যামল প্রকৃতি তাঁর জীবনের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। আর তাই তিনি নিজের কথা বলতে গিয়ে তাঁর চিরচেনা গ্রাম, জনপদ, আসমান, জমিন, গাছপালা, পুকুর, জোনাকি, পাখি প্রভৃতির কথা বলেছেন। তিনি কদম আলী ও জমিলার মায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় থাকার কথা বলেছেন। কবির মতে তারা তাঁর চিরচেনা স্বজন। উদ্দীপকের মামুনের মধ্যে এই আত্মিক অনুভূতির প্রতিফলন ঘটেনি। কল্পনায় জন্মভূমির প্রতি টান অনুভব করলেও বাস্তবে প্রকৃতি-পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি কোনো টান লক্ষ করা যায় না।
উদ্দীপকের মামুন জন্মস্থানের প্রতি যতটা না অনুরাগী তার চেয়ে বহুগুণে সে শহরমুখী। সে শহরের পরিবেশেই নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। কল্পনায় জন্মভূমির প্রতি তার যে টান তা প্রকৃত অনুভূতি নয়। কারণ শহুরে চাকচিক্যকে সে জীবনের অনুষজ্ঞা করে নিয়েছে। অন্যদিকে আলোচ্য কবিতার কবি গ্রামীণ জনপদের সঙ্গেই জীবনের বন্ধন অনুভব করেছেন। জন্মভূমিকে আপন সভায় অনুভব করেছেন। এখানে কবি যেভাবে প্রকৃতির সাথে একাত্ম মামুন তা নয়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে মামুন জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করলেও আলোচ্য কবিতার কবিভাবনার সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!