সুমন ও মামুন ঢাকায় বসবাস করে। বহু বছর পর সুমন বাড়ি ফিরলে গ্রামের লোকজন উৎসুক দৃষ্টিতে তার দিকে চেয়ে থাকে। সুমন স্কুল বন্ধু ফরিদকে জড়িয়ে ধরে। খোঁজখবর নেয়। তার ক্লান্ত চোখের চাহনি দেখে মর্মাহত হয়, বাড়ির আমগাছে টিয়া-শালিক দেখে রোমাঞ্চিত হয়। অথচ মামুনের বাড়ি ফেরার সময়ই হয়ে ওঠে না। কল্পনায় সে জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করলেও শহুরে চাকচিক্যকে জীবনের অনুষঙ্গ করে নিয়েছে।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় 'কার্তিক' মাসের উল্লেখ আছে।

উত্তরঃ

অভাব দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত বলে কদম আলী অকাল বার্ধক্যে নত। 

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে জন্মভূমির প্রতি এদেশের মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরেছেন। এখানে তিনি গ্রামের পথ-ঘাট, পথ-প্রান্তরের মতো সরু পথ, ধানখেত, নদীর কিনার, সেখানকার মানুষ কদম আলী, জমিলার মা প্রভৃতির কথা বলেছেন। কবি নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে অভাবের কারণে না খেতে পাওয়া ক্লান্ত কদম আলীর কথাও স্মরণ করেছেন, চিকিৎসার অভাবে যে অকাল বার্ধক্যের শিকার হয়েছে। কবি কদম আলীকে গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেছেন।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের সুমনের ভাবনার সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি ভাবনার জন্মভূমিপ্রীতির সাদৃশ্য রয়েছে। 

জন্মভূমির প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসা চিরন্তন। জন্মভূমির প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের জীবন গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। কারণ এদেশের মানুষ গ্রামীণ প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে বেড়ে ওঠে।

উদ্দীপকে জন্মভূমির প্রতি সুমনের গভীর ভালোবাসার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। বহু বছর পর গ্রামে গিয়েও সে তার পরিচিত পরিবেশে বন্ধুদের সঙ্গে প্রাণের আবেগে মিশেছে। তার গ্রামের গাছপালা, পাখি, পরিচিত লোকজন দেখে খুব খুশি হয়েছে। উদ্দীপকের গ্রামের প্রতি গভীর টান এবং ভালোবাসার দিকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় প্রতিফলিত স্বদেশের প্রতি কবির গভীর ভালোবাসার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই কবিতায় কবি এদেশের প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে নিজের গভীর বন্ধনের কথা বলেছেন। তিনি কোনো আগন্তুক নন, জন্মভূমির সঙ্গেই তাঁর অস্তিত্বের শেকড় গাঁথা। উদ্দীপকের সুমনের মধ্যেও এই দিকটি অভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। সুমনও কবির মতো জন্মভূমির প্রকৃতির মধ্যে, নিজের চিরচেনা গ্রামের মধ্যে নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে।

উত্তরঃ

না, উদ্দীপকে মামুন জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করলেও 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি ভাবনার সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না।

মানুষ তার জন্মভূমির আলো-বাতাসে, প্রকৃতির স্নেহস্পর্শে বেড়ে ওঠে। জন্মভূমি ও জন্মভূমির মাটির কাছে মানুষের ঋণের শেষ নেই। তা সত্ত্বেও অনেক সময় স্বদেশের প্রকৃতিকে ছেড়ে মানুষ নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। তাতে তার অর্থ-স্বার্থ রক্ষা হলেও স্বদেশপ্রেমের মনোভাব জাগ্রত হয় না।

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরেছেন। কবি মনে করেন এদেশের শ্যামল প্রকৃতি তাঁর জীবনের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। আর তাই তিনি নিজের কথা বলতে গিয়ে তাঁর চিরচেনা গ্রাম, জনপদ, আসমান, জমিন, গাছপালা, পুকুর, জোনাকি, পাখি প্রভৃতির কথা বলেছেন। তিনি কদম আলী ও জমিলার মায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় থাকার কথা বলেছেন। কবির মতে তারা তাঁর চিরচেনা স্বজন। উদ্দীপকের মামুনের মধ্যে এই আত্মিক অনুভূতির প্রতিফলন ঘটেনি। কল্পনায় জন্মভূমির প্রতি টান অনুভব করলেও বাস্তবে প্রকৃতি-পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি কোনো টান লক্ষ করা যায় না।

উদ্দীপকের মামুন জন্মস্থানের প্রতি যতটা না অনুরাগী তার চেয়ে বহুগুণে সে শহরমুখী। সে শহরের পরিবেশেই নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। কল্পনায় জন্মভূমির প্রতি তার যে টান তা প্রকৃত অনুভূতি নয়। কারণ শহুরে চাকচিক্যকে সে জীবনের অনুষজ্ঞা করে নিয়েছে। অন্যদিকে আলোচ্য কবিতার কবি গ্রামীণ জনপদের সঙ্গেই জীবনের বন্ধন অনুভব করেছেন। জন্মভূমিকে আপন সভায় অনুভব করেছেন। এখানে কবি যেভাবে প্রকৃতির সাথে একাত্ম মামুন তা নয়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে মামুন জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করলেও আলোচ্য কবিতার কবিভাবনার সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না।

286

আসমানের তারা সাক্ষী

সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই

নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী

সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী

পুবের পুকুর, তার ঝাকড়া ডুমুরের ডালে স্থির দৃষ্টি

মাছরাঙা আমাকে চেনে

আমি কোনো অভ্যাগত নই

খোদার কসম আমি ভিনদেশি পথিক নই

আমি কোনো আগন্তুক নই ।

আমি কোনো আগন্তুক নই, আমি

ছিলাম এখানে, আমি স্বাপ্নিক নিয়মে

এখানেই থাকি আর

এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা

সারা দেশে।

আমি কোনো আগন্তুক নই ৷

এই খর রৌদ্র জলজ বাতাস মেঘ ক্লান্ত বিকেলের

পাখিরা আমাকে চেনে

তারা জানে আমি কোনো অনাত্মীয় নই ।

কার্তিকের ধানের মঞ্জরী সাক্ষী

সাক্ষী তার চিরোল পাতার

টলমল শিশির – সাক্ষী জ্যোৎস্নার চাদরে ঢাকা

        নিশিন্দার ছায়া

অকাল বার্ধক্যে নত কদম আলী

তার ক্লান্ত চোখের আঁধার –

আমি চিনি, আমি তার চিরচেনা স্বজন একজন । আমি

জমিলার মা'র

শূন্য খা খা রান্নাঘর শুকনো থালা সব চিনি

সে আমাকে চেনে।

হাত রাখো বৈঠায় লাঙলে, দেখো

আমার হাতের স্পর্শ লেগে আছে কেমন গভীর । দেখো

মাটিতে আমার গন্ধ, আমার শরীরে

লেগে আছে এই স্নিগ্ধ মাটির সুবাস।

আমাকে বিশ্বাস করো, আমি কোনো আগন্তুক নই ।

দু'পাশে ধানের খেত

       সরু পথ

সামনে ধু ধু নদীর কিনার

আমার অস্তিত্বে গাঁথা । আমি এই উধাও নদীর

মুগ্ধ এক অবোধ বালক ৷
 

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews