এখন থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে মহামানব গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন।
মানুষের দুঃখ মুক্তির উপায় অন্বেষণের জন্য মহামানব বুদ্ধ রাজপ্রাসাদ, পিতামাতা, স্ত্রী-পুত্র, ভোগবিলাস বর্জন করে সন্ন্যাস জীবন গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৬ বছর কঠোর সাধনা করে তিনি বোধিজ্ঞান লাভ করেন। এভাবেই তিনি বুদ্ধ নামে খ্যাত হলেন।
মহামানব বুদ্ধ চর্মরোগে আক্রান্ত, সেবা-শুশ্রুষাবিহীন তিষ্য নামক এক ভিক্ষুকে দেখেন। অতঃপর তার সেবা আরম্ভ করেন। সেবা-শুশ্রুষার পর তিনি বিহারের ভিক্ষুদের ডেকে হিংসা-বিদ্বেষ ত্যাগ করার উপদেশ দেন। তিনি তাদের বলেন, "দরিদ্রের সহায় হওয়া, অরক্ষিতকে রক্ষা করা, রোগীর সেবা করা, মোহাচ্ছন্নকে মোহমুক্ত করা সবার নৈতিক দায়িত্ব।" তিনি এও বলেন, "এ জগতে মাতাপিতা, শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, আর্তপীড়িত এবং গুরুজনের সেবায় সুখ লাভ করা যায়।" উপদেশ দেওয়ার পর বুদ্ধ ভিক্ষুদের নিয়ম প্রবর্তন করলেন; অসুখের সময় শিষ্য গুরুর, গুরু শিষ্যের, সতীর্থ সতীর্থের সেবা করবে।
তাই বলা যায়, পবন বড়ুয়ার সেবাধর্মে মহামানব বুদ্ধের উপদেশ প্রতিফলিত হয়েছে। কেননা, পবন বড়ুয়া বুদ্ধের সেবাধর্ম অনুসরণ করে তার দূর সম্পর্কের আত্মীয়কে সেবাযত্নের মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন।
পবন বড়ুয়ার কর্মটি মানবসেবার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
নৈতিকতা হলো মহামানব বুদ্ধের ধর্মবাণীর মূলভিত্তি। গৌতম বুদ্ধ বলেন, "দরিদ্রের সহায় হওয়া, অরক্ষিতকে রক্ষা করা, রোগীর সেবা করা, মোহাচ্ছন্নকে মোহমুক্ত করা সকলের নৈতিক কর্তব্য।" তিনি এও বলেন, "এ জগতে মাতাপিতা, শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, আর্তপীড়িত এবং গুরুজনের সেবায় সুখ লাভ করা যায়।"
বুদ্ধের উপরিউক্ত কথায় মানব সেবার প্রয়োজনীয়তা ও মাহাত্ম্য উপলব্ধি করা যায়। সেবা হলো একটি নৈতিক কর্ম। নৈতিকতা অনুশীলনে মানুষের মানবিক গুণাবলি বিকশিত হয়। পবন বড়ুয়া মহামানব বুদ্ধের ধর্মসেবা অনুসরণ করেন। পরের মঙ্গল সাধনায় পবন বড়ুয়া নিজেকে উৎসর্গ করেন। কারণ, তিনি জানেন, নৈতিকতার অভাবেই অন্যায়-অশান্তি বিরাজ করে। তাই বলা যায়, পবন বড়ুয়ার কাজটি মানব সেবার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
Related Question
View Allগৌতম বুদ্ধের পিতার নাম রাজা শুদ্ধোদন।
নৈতিক ও শীল পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। 'নৈতিকতার' অর্থ নিয়মনীতি মেনে চলে সুশৃঙ্খল ও সৎ জীবনযাপন করা আর 'শীল' অর্থ হলো স্বভাব বা চরিত্র। বুদ্ধ তাঁর অনুসারীদের সংযত, আদর্শ এবং নৈতিক জীবনযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য তিনি বেশকিছু নিয়মনীতি বা বিধি-বিধান প্রবর্তন করেছেন। বৌদ্ধ পরিভাষায় এসব নৈতিক বিধিবিধানই হলো শীল।
সুশীল চাকমার ঘটনাটি বৃদ্ধের বোদ্ধিসত্ত্ব জীবনের ঘটনার সাথে সম্পর্কিত। গৌতম বুদ্ধ মচল গ্রামের যুবকদের কুশলকর্ম করার জন্য সংগঠিত করেন। কারণ ঐ গ্রামের যুবকরা হত্যা, চুরি, মিথ্যাচার, ব্যভিচার, মাদকদ্রব্য সেবন এমন অনেক অপকর্মে লিপ্ত ছিল। তাদেরকে নিয়ে বৃদ্ধ গ্রামের রাস্তাঘাট নির্মাণ, মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতেন। সেতু নির্মাণ, পুষ্করিণী খনন, বৃক্ষরোপণ, জমিচাষের জন্য জলাধার ও পুণ্যকর্ম সম্পাদন করতেন। যুবকরা বোধিসত্ত্বের উপদেশ মতো সকল প্রকার অকুশল কর্ম পরিত্যাগ করে পঞ্চশীল পালন করতে শুরু করে। ফলে গ্রামে অপরাধকর্মগুলো বন্ধ হয়ে যায়। শেষে বোধিসত্ত্ব ও যুবকদের নৈতিক ও জনহিতকর কাজের জন্য রাজা তাদের পুরস্কৃত করেন।
গ্রামবাসীর উন্নয়নে উদ্দীপকে সুশীল চাকমার গৃহীত পদক্ষেপটি বৌদ্ধধর্মের দৃষ্টিতে নৈতিক দায়িত্ব।
প্রতিদিন নানা কাজ করে মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। ভালো কাজ শান্তি প্রতিষ্ঠা করে এবং অপরের মঙ্গল সাধন করে। অপরদিকে মন্দ কাজ ক্ষতিকর ও নিন্দনীয়। সত্যভাষণ, পরোপকার, সেবা, দান, মৈত্রীভাব পোষণ, সৎ বাণিজ্য ইত্যাদি নৈতিক কাজ। ধর্মীয় বিধিবিধানে মন্দ কাজ না করা এবং ভালো কাজ সম্পাদন করার নির্দেশনা রয়েছে। নৈতিকতা হলো ভালো ও মন্দ কাজের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের মানদণ্ড। বুদ্ধ নৈতিকতা অনুশীলনে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। দৈনন্দিন বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে আমরা নৈতিকতার চর্চা করতে পারি। সুশীল চাকমা বিহারে যাওয়ার পথটি বেশ সাহসিকতা ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে এবং গ্রামের যুবকদের সহযোগিতায় সংস্কার ও মেরামত করেন, যা একটি জনহিতকর এবং নৈতিক কাজ। সুশীল চাকমার গৃহীত পদক্ষেপটি বৌদ্ধধর্মের দৃষ্টিতে এভাবেই ব্যাখ্যা করা যায়।
এখন থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে মহামানব গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন।
মানুষের দুঃখ মুক্তির উপায় অন্বেষণের জন্য মহামানব বুদ্ধ রাজপ্রাসাদ, পিতামাতা, স্ত্রী-পুত্র, ভোগবিলাস বর্জন করে সন্ন্যাস জীবন গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৬ বছর কঠোর সাধনা করে তিনি বোধিজ্ঞান লাভ করেন। এভাবেই তিনি বুদ্ধ নামে খ্যাত হলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!