অপরের অধিকার বা স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করার অধিকারকেই বলা হয় স্বাধীনতা।
স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ হলো- ব্যক্তি স্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বাধীনতা।
সমাজস্থ ব্যক্তিরা ব্যক্তিগতভাবে আইন অনুমোদিত যে স্বাধীনতা ভোগ করে তাকেই সামাজিক স্বাধীনতা বলে। আবার রাষ্ট্রীয় শাসনকাজে অংশগ্রহণের নিমিত্তে যে স্বাধীনতা মানুষ ভোগ করে তাই রাজনৈতিক স্বাধীনতা। যেমন- ভোট প্রদানের স্বাধীনতা। এছাড়াও মানুষ প্রাকৃতিক, ব্যক্তিগত, অর্থনৈতিক, জাতীয় প্রভৃতি স্বাধীনতা ভোগ করে।
উদ্দীপকের সুমীর মতে, স্বাধীনতা যাতে স্বেচ্ছাচারিতায় পরিণত না হয় সেজন্য স্বাধীনতার একাধিক রক্ষাকবচ থাকা দরকার।
স্বাধীনতাকে যে বিষয়গুলো রক্ষা করে তাই স্বাধীনতার রক্ষাকবচ। স্বাধীনতার প্রয়োজনীয় রক্ষাকবচের মধ্যে আছে আইন। আইন স্বাধীনতার অন্যতম শর্ত ও সহায়ক শক্তি, একইসাথে স্বাধীনতার প্রধান রক্ষাকবচ। আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর। এজন্য জন লক বলেছেন- 'যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না'। আবার, গণতন্ত্র স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকায় তা জনস্বার্থে পরিচালিত হবে। এই শাসন ব্যবস্থায় জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়। তাছাড়া জনগণ অধিকার সচেতন থাকার ফলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ স্বাধীনতা রক্ষার 'অতন্দ্রপ্রহরী' হিসেবে কাজ করে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ। সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যম জনমত গঠনে সহায়তা করে। এ কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একান্ত প্রয়োজন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রবন্ধ, নিবন্ধ, আলোচনা, সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয় ইত্যাদির মাধ্যমে জনগণের স্বাধীনতা হরণকারী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দূরভিসন্ধিমূলক কার্যক্রমকে তুলে ধরা হয়। এছাড়াও আইনের অনুশাসন, দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা, ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ, স্বাধীন বিচার বিভাগ, শিক্ষার প্রসার, সরকার ও জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক, সদা সতর্ক জনমত, সৎ ও সুনির্দিষ্ট নেতৃত্ব ইত্যাদি স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং বলা যায়, স্বাধীনতা যাতে স্বেচ্ছাচারিতায় পরিণত না হয় সেজন্য উল্লিখিত রক্ষাকবচগুলো থাকা দরকার।
মানুষের বিভিন্ন দিকের উন্নয়ন ও বিকাশ স্বাধীনতার দ্বারা সুরক্ষিত- উক্তিটি যথার্থ।
স্বাধীনতা আছে বলেই ব্যক্তি তার উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়। স্বাধীনতাবিহীন ব্যক্তিসত্ত্বার উন্নয়ন ও বিকাশ সম্ভব নয়। এ কারণেই মানুষের বিভিন্ন দিকের উন্নয়ন ও বিকাশ স্বাধীনতার দ্বারা সুরক্ষিত।
সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা হলো অপরের কাজে কোনোরূপ হস্তক্ষেপ না করে নিজের কাজ সম্পাদন করার অধিকার। অর্থাৎ স্বাধীনতা হলো অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে নিজের অধিকার পূর্ণভাবে ভোগ করা। ব্যক্তি সমাজ বা রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এ স্বাধীনতা ভোগ করে। এই স্বাধীনতাগুলোই তার উন্নয়ন ও বিকাশে সহায়ক হয়। যেমন- ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ফলে ব্যক্তি নিজস্ব কাজকর্মের অধিকার ভোগ করতে পারে। এই স্বাধীনতা অন্যকে স্পর্শ করে না। কর্মের স্বাধীনতা, পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষার স্বাধীনতা, নির্দিষ্ট পেশা বাছাইয়ের স্বাধীনতা হচ্ছে ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এর মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটাতে পারে। আবার সামাজিক স্বাধীনতার মাধ্যমেও ব্যক্তি নিজের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটাতে পারে। সামাজিক স্বাধীনতা বলতে মানুষ সভ্য সামাজিক জীবনযাপনের জন্য যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে সেসব সুযোগ- সুবিধাকে বোঝায়। সভ্য জীবনযাপন যেকোনো ব্যক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে - মুখ্য ভূমিকা পালন করে। রাজনৈতিক স্বাধীনতাও ব্যক্তির বিভিন্ন দিকের - উন্নয়ন ও বিকাশে সহায়তা করে। রাজনৈতিক স্বাধীনতার বলেই ব্যক্তি রাষ্ট্রের শাসনকাজে অংশগ্রহণ করে যা তার মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার জন্ম দেয়। ফলে সে রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে নিজের বিভিন্ন দিকের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়। এমনিভাবে অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও ব্যক্তির সুকুমার বৃত্তির বিকাশ ঘটায়। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, বলতে ব্যক্তির জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সুযোগ-সুবিধা লাভের অধিকারকে বোঝায়। ব্যক্তি যখন জীবনধারণের অধিকার পূর্ণমাত্রায় ভোগ করবে তখন তার মধ্যে নৈতিক অবনতির সম্ভাবনা কম থাকবে। যা ব্যক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে সহায়ক হবে।
উপরের আলোচনা শেষে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, ব্যক্তির বিভিন্ন দিকের উন্নয়ন ও বিকাশ স্বাধীনতার দ্বারা সুরক্ষিত।
Related Question
View All'কমেনটরিজ অন দ্যা লজ অব ইংল্যান্ড' গ্রন্থটি ব্রিটিশ আইনজ্ঞ স্যার উইলিয়াম ব্লাকস্টোনের (Sir William Blackstone)।
এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক রক্ষার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়, তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।
বিভিন্ন রাষ্ট্র পরস্পরের সাথে কেমন আচরণ করবে, এক রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকদের সাথে কেমন ব্যবহার করবে, কীভাবে আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধান করা হবে তা আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়।
জনাব শ্যামল মিত্র যেখানে বিল উত্থাপন করেন তা আইনের প্রধান উৎস আইনসভাকে নির্দেশ করে।
জনাব শ্যামল মিত্র একজন সংসদ সদস্য। তিনি তার এলাকার ইভটিজিং সমস্যা সমাধানের জন্য সংসদে একটি বিল উত্থাপন করলে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। আর জাতীয় সংসদ হলো বাংলাদেশের আইনসভা। আধুনিককালে আইনের শ্রেষ্ঠতম ও বৃহত্তম উৎস হচ্ছে আইনসভা। প্রত্যেক রাষ্ট্রের আইনসভা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করে এবং প্রয়োজনবোধে আইনের রদবদল ও সংশোধন করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনসভার অপ্রতিহত ক্ষমতা রয়েছে। তার প্রভার সর্বত্র বিদ্যমান। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনসভা জনমতের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শ্যামল মিত্র তার এলাকার ইভটিজিং সমস্যা সমাধানের জন্য আইনসভায় বিল উত্থাপন করেন।
জনাব অর্ক 'বড়ুয়ার বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রদান পদ্ধতিটি আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস- উক্তিটি যথার্থ।
বিচারকের রায় আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বিচারকগণ সাধারণত দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে বিচার করেন। আদালতে উত্থাপিত মামলার বিচার কাজ সম্পাদন করার জন্য প্রচলিত আইন অস্পষ্ট হলে বিচারকগণ তাদের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন আইন তৈরি করে উক্ত মামলার রায় দেন এবং প্রয়োজনবোধে ঐ আইনের ব্যাখ্যা দেন। পরবর্তীকালে অন্যান্য বিচারকগণ সেসব রায় অনুসরণ করে বিচার করেন। এভাবে বিচারকের রায় আইনে পরিণত হয়। যেমন: যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক দুই প্রধান বিচারপতি জন মার্শাল (John Marshall) ও চার্লস হিউজেস (Charles Evans Hughes) বহু নতুন আইন সৃষ্টি করেছেন।
উদ্দীপকের জনাব অর্ক বড়ুয়ার ক্ষেত্রেও আমরা দেখতে পাই, তিনি একটি দেশের উচ্চ আদালতের প্রধান। একটি মামলায় অপরাধীর সাজা নির্ধারণের সময় প্রচলিত আইনের সাথে মিল না পেয়ে তিনি তার প্রজ্ঞা ও বিচার-বুদ্ধির ওপর ভিত্তি করে সাজা নির্ধারণ করেন। বিচারক অর্ক বড়ুয়ার এ কাজের সাথে আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস বিচারকের রায়ের সাদৃশ্য রয়েছে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, অর্ক বড়ুয়ার বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রদান পদ্ধতিটি আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
সাম্যকে ছয় ভাগে ভাগ করা যায়।
আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সবাই আইনের অধীন।
আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের সমান অধিকার প্রাপ্তির সুযোগকে আইনের শাসন বলে। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এর অর্থ জাতি-ধর্ম-বর্ণ- লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে আইনের সমান আশ্রয় লাভ করাকে বোঝায়। এ বিষয়টি সমাজে প্রতিষ্ঠা পেলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!