খিলাফত আন্দোলনের নেতা ছিলেন মাওলানা মোহাম্মদ আলী।
অসহযোগ আন্দোলন ছিল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে কংগ্রেস মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে যে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ডাক দেয়, তাকে অসহযোগ আন্দোলন বলা হয়।
১৯২০ সালের মার্চে গান্ধীজী অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এ সময় কেন্দ্রীয় খিলাফত কমিটিও 'মুসলমানদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে ব্রিটিশ সরকারের সাথে অসহযোগিতার নীতি ঘোষণা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের নেতারা যৌথভাবে আন্দোলন পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। গান্ধীজী ১৯২০ সালের ১ আগস্টে অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এ আন্দোলনে ইংল্যান্ডের পণ্য সামগ্রী বর্জন, সরকারি খেতাব বর্জন, সরকারি অনুষ্ঠান ও স্কুল-কলেজ বর্জন, আইনসভা ও আদালত বর্জন ইত্যাদির মাধ্যমে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকারের বিরোধিতা করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের মধে প্রকৃতিগতভাবে যেমন মিল রয়েছে, তেমনি অমিলও লক্ষ করা যায়।
খিলাফত আন্দোলন ছিল বিশ্বের মুসলমানদের ধর্মীয় মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান খিলাফত রক্ষার আন্দোলন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি হেরে গেলে তার মিত্র তুরস্কের ভূখণ্ড ব্রিটেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা ভাগাভাগি করে নেয়। তুরস্ক তখন ছিল ইসলামের খিলাফতের ধারক। বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের কারণে তুরস্কের খিলাফতের অস্তিত্ব থাকা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের মুসলিমরা খিলাফতের অস্তিত্ব রক্ষায় ঐ আন্দোলন করে। ১৯২০ সালের জুন মাসে খিলাফত কমিটির আহ্বানে এলাহাবাদে এক সভায় সরকারের সাথে অসহযোগিতার কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। অপরদিকে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত অসহযোগ আন্দোলনও ছিল সরকারবিরোধী। মুসলিম সম্প্রদায়ের সমর্থনের প্রত্যাশায় গান্ধী খিলাফত আন্দোলনে যোগ দেন।
খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি একই রকম ছিল। উভয় কর্মসূচিতেই ইংল্যান্ডে তৈরি পণ্য বর্জন করা হয়েছিল। দুই আন্দোলনেই জনগণকে দেশীয় পণ্যসামগ্রী ব্যবহারের আহ্বান জানানো খিলাফত, আন্দোলন মাওলানা মোহাম্মদ আলী, শওকত আলী ও আবুল কালামের নেতৃত্বে চললেও অসহযোগ আন্দোলন শুধু গান্ধীজির নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল। আর খিলাফত আন্দোলন শুধু মুসলমানদের দ্বারা পরিচালিত হলেও অসহযোগ আন্দোলনে হিন্দু-মুসলমান সবার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। সর্বোপরি খিলাফত আন্দোলন ধর্মীয় অনুপ্রেরণা থেকে পরিচালিত হয়েছিল, কিন্তু অসহযোগ আন্দোলন ছিল জাতীয়তাবাদী আন্দোলন। সুতরাং দেখা যায়, খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যে মিল-অমিল উভয়ই ছিল। এই দুই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভারতে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছিল।
মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব।
১৯১৯ সালে ভারতে মুসলমানদের খিলাফত আন্দোলনের সূচনা হয়। এ সময় গান্ধীজীর নেতৃত্বে কংগ্রেস দলও ভারতের স্বায়ত্তশাসনের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে। গান্ধীজী কুখ্যাত রাওলাট আইন পাস ও জালিয়ানওয়ালাবাগের নির্মম হত্যাকান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে অসহযোগ আন্দোলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এ লক্ষ্যে ১৯২০ সালে তিনি অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করেন। কর্মসূচির মধ্যে ছিল ১৯ মার্চ শোক দিবস পালন করা। এ সময় খিলাফত কমিটি ব্রিটিশ শাসকদের সাথে অসহযোগিতার নীতি ঘোষণা করে। ১৯২০ সালের জুলাইয়ে সিন্ধু প্রদেশে খিলাফত বিষয়ক সম্মেলনে গান্ধীজী যোগ দেন। তিনি ভারতের ২৩ কোটি হিন্দুকে ৭ কোটি মুসলমানের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সিন্ধুর সম্মেলনে গান্ধীজী ঘোষণা করেন, ১ আগস্ট অনশন ও প্রার্থনার মাধ্যমে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস-অসহযোগ আন্দোলন শুরু করা হবে। কলকাতায় কংগ্রেস দলের সম্মেলনে তিনি তার এক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। গান্ধী বলেন, ভারতবাসী তার পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে এক বছরের মধ্যেই ভারতের স্বরাজ লাভ করা সম্ভব। মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ কয়েকজন নেতা এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে গান্ধীজীর প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরে কংগ্রেসের নাগপুর অধিবেশনে গান্ধীজীর অহিংস আন্দোলনের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। গান্ধীজীর এ আন্দোলনে ব্রিটিশ পণ্য বর্জন, সরকারি খেতাব বর্জন, আইন সভা ও আদালত বর্জনের নীতি অনুসরণ করা হয়। গান্ধীজীর নেতৃত্বে হিন্দু ও মুসলমান উভয়ে এ আন্দোলনে যোগদান করে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্বের যোগ্যতার কারণে গান্ধীজির পক্ষে এক পর্যায়ে খিলাফত ও অসহযোগ উভয় আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তিনি তাই এক অনন্য চরিত্র।
Related Question
View Allভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান হয় ১৮৫৮ সালে।
ভারতে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্ধারিত তারিখে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভূমি নিলামে তুলে বকেয়া আদায়ের যে কঠোর আইন ছিল তাকে সূর্যাস্ত আইন বলে।
১৭৯৩ সালে সূর্যাস্ত আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইন অনুযায়ী জমিদারদের নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করতে হতো। যেসব জমিদার ঐ সময়ের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হতেন, তাদের জমিদারি নিলামে তোলা হতো। সূর্যাস্ত আইনের কবলে পড়ে বাংলার অসংখ্য জমিদার, বিশেষ করে মুসলমান ভূস্বামীরা তাদের জমিদারি হারান।
উদ্দীপকে ভাইসরয় লর্ড রিপনের কথা বলা হয়েছে। লর্ড রিপন মূলত সংস্কার কার্যক্রমের জন্যই অধিক পরিচিত। নিম্নে তার তিনটি সংস্কারমূলক কাজ তুলে ধরা হলো:
লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে তার পূর্ববর্তী ভাইসরয় লর্ড লিটন কর্তৃক প্রবর্তিত সংবাদপত্র আইন রহিত করে দেশীয় ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে মতামত প্রকাশে পূর্ণ স্বাধীনতা দেন। লর্ড রিপনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি হলো ১৮৮৫ সালের রাজস্ব ও প্রজাস্বত্ব আইন। বাংলাদেশ ও অযোধ্যার রায়তদের অবস্থার উন্নতির জন্য তিনি এ প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়ন করেন। লর্ড রিপনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি হলো ইলবার্ট বিল প্রণয়ন। এ বিলের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় এবং ইউরোপীয়দের মধ্যে জাতিগত বৈষম্য নিরসনে মাধ্যমে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করেন, যা ইতিপূর্বে ছিল না। যদিও পরবর্তীতে এ বিল সংশোধিত হয়। কিন্তু এ বিল নিয়ে ভারত ও ইউরোপীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব ভারতবাসীর মাঝে জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ভারতে একজন ভাইসরয় ছিলেন যিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গ্লাডস্টোনের উদারনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন। Bengal Municiple Act প্রণয়ন তার অবিস্মরণীয় কীর্তি। উদ্দীপকের এই ভাইসরয় মূলত লর্ড রিপনেরই প্রতিচ্ছবি। কেননা উদ্দীপকের তথ্য লর্ড রিপনের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ভাইসরয় লর্ড রিপনের কথা বলা হয়েছে।
লর্ড রিপন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী নীতির ঘোর বিরোধিতা করে ভারতীয়দের আশা-আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা দেন।
উদ্দীপকে যে শাসকের কথা বলা হয়েছে তিনি সাম্রাজ্যবাদ নীতির বিরোধী ছিলেন। ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই শাসক রাজনীতির ক্ষেত্রে উদারনীতি অবলম্বন করে জনসাধারণকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনে উৎসাহিত করেন। লর্ড রিপনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়।
লর্ড রিপন কলকাতা আসার পূর্বে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী গ্লাডস্টোনের উদারনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন ১৮৫২ থেকে ১৮৭৯ সাল পর্যন্ত। পরবর্তীতে লর্ড লিটনের পদত্যাগের পর তিনি ভারতের ভাইসরয় নিযুক্ত হন ১৮৮০ সালে। তিনি সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরোধী ছিলেন। পাশাপাশি ভারতবাসীর রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রাজনীতির ক্ষেত্রে উদারনীতি অবলম্বন করে জনসাধারণকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনে উৎসাহিত করেন। এভাবে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই লর্ড রিপন একজন উদারপন্থি ও শান্তিপ্রিয় শাসক হিসেবে ভারতবাসীর নিকট পরিচিতি লাভকরেন।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, যেখানে লর্ড রিপনের পূর্ববর্তী শাসকরা সাম্রাজ্যবাদী নীতিকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন সেখানে লর্ড রিপন এর ঘোর বিরোধী ছিলেন। তাই বলা যায়, তিনি ভারতীয়দের রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা দিয়েছেন।
১৯৪৬ সালে 'মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা' পেশ করা হয়।
বলর্ড রিপন তার উদারনৈতিক শাসনের জন্য 'Ripon the Good' নামে সুপরিচিত।
লর্ড বেন্টিংক মহীশূর রাজ্যটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেছিলেন। লর্ড রিপন পুনরায় এটি মহীশরের হিন্দু রাজবংশের নিকট হস্তান্তর করেন। ১৮৮২ সালে তিনি পূর্ববর্তী ভাইসরয় লর্ড লিটন প্রবর্তিত সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act) রহিত করে সংবাদপত্রগুলোকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে মতামত প্রকাশের সুযোগ করে দেন। ভারতবর্ষে শিক্ষা বিস্তারের জন্য লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে হান্টার কমিশন (Hunter Commission) গঠন করেন। তিনি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনমূলক আইন (Bengal Municipal Act) এবং রাজস্ব ও প্রজাস্বত্ব আইন করেন। এছাড়া তিনি লবণ ও অন্যান্য বাণিজ্য দ্রব্যের ওপর থেকে শুল্ক হ্রাস করে ভারতবাসীর প্রশংসা অর্জন করেন। তাই তিনি ভারতবাসীর জন্য ছিলেন 'Ripon the Good' |
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!