সুরেশ তার প্রতিবেশী দ্বিজেন বাবুর জমি দখল করে নেয়। ফলে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। কিন্তু এক পর্যায়ে সুরেশ জটিল রোগে আক্রান্ত হলে দ্বিজেন বাবু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় সুরেশের মনে কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা হয় এবং সে দ্বিজেন বাবুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। দ্বিজেন বাবু সুরেশকে বুকে জড়িয়ে ধরে ক্ষমা করে দেন।

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

ধর্মের বাহ্য লক্ষণ দশটি।

উত্তরঃ

ক্ষমা দ্বারা অপরাধীর মনে অনুশোচনা হয়। এতে তার আত্মশুদ্ধির সুযোগ ঘটে। ভবিষ্যতে অন্যায়কারী বা অপরাধী আর কোনো অন্যায় অপরাধ করা থেকে বিরত থাকে। কারণ তার বিবেক এসব খারাপ কাজ করা থেকে তাকে নিবৃত্ত করবে। ক্ষমা দ্বারা শত্রুকে তার শত্রুতা থেকে নিবৃত্ত করা সম্ভব। এভাবে সমাজ থেকে সকল অশান্তি দূর করার জন্য অপরাধীকে ক্ষমা করা হয়।

উত্তরঃ

দ্বিজেন বাবুর ক্ষমার মধ্যে আমার পঠিত উপাখ্যানের শ্রীনিত্যানন্দ মহাপ্রভুর নৈতিক আদর্শ ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকের আলোচনায় সুরেশ দ্বীজেন বাবুর জমি দখল করে নেয় ও অনেক ঝামেলা করে। এসব নিয়ে দু পরিবারের মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠে। এক পর্যায়ে সুরেশ জটিল রোগে আক্রান্ত হলে দ্বীজেন বাবু ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।

আমার পঠিত উপাখ্যানেও শ্রীনিত্যানন্দ মহাপ্রভু ও জগাই মাধাইকে হরিনাম দিয়ে উদ্ধারের জন্য অনেক চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে মাধাই ক্রোধে জ্বলে ওঠে কলসির কানা দিয়ে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর কপালে আঘাত করে। পরে মাধাই তার ভুল বুঝতে পারলে শ্রীনিত্যানন্দ মহাপ্রভু তাকে বুকে জড়িয়ে নেয়।

উত্তরঃ

সুরেশ ছিল দৃষ্ট প্রকৃতির একটি লোক। সে ও দ্বিজেন বাবু একই গ্রামে বাস করে। দ্বিজেন বাবু গ্রামের একজন ভদ্রলোক মানুষ।

সবসময় নিজের সবকিছু বিলিয়ে দিয়ে পরের উপকার করে। সুরেশ একদিন দ্বিজেন বাবুর জমি দখল করে নেয়। এ ঘটনা নিয়ে দু পরিবারের মধ্যে অনেক দিন বিরোধ চলে। তারপর একদিন সুরেশ গুরুতর অসুস্থ হলে দ্বিজেন বাবু তার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।

এতে সুরেশ তার কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা করে দ্বিজেন বাবুর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে দ্বিজেন বাবু তাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে ক্ষমা করে দেন।

মাধাই-এর ক্ষেত্রেও আমরা দেখতে পাই, মাধাই হরিনাম শুনলেই পাগলের মতো ছুটে আসত আক্রমণের জন্য। তারপরও আক্রমণকে উপেক্ষা করে শ্রীনিত্যানন্দ মহাপ্রভু তাদের উদ্ধারের জন্য হরিণামের কথা বললে মাধাই কলসির কানা দিয়ে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর কপালে আঘাত করে। এতে নিত্যানন্দ প্রভু রক্তাক্ত হয়। পরে মাধাই তার ভুল বুঝতে পেরে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে নিত্যানন্দ মহাপ্রভু তাকে বুকে জড়িয়ে নেন।

তাই বলা যায়, সুরেশের অনুশোচনা যেন মাধাইয়ের অনুশোচনার অনুরূপ। এ যুক্তিটির সাথে আমিও একমত।

141

'নীতি' শব্দ থেকে 'নৈতিক' শব্দের উৎপত্তি। যে শিক্ষা দ্বারা মানুষের মনে নীতিবোধ জন্মে, কিছু আচার ও নিয়ম-কানুন আয়ত্ত হয়, তাকে 'নৈতিক শিক্ষা' বলা হয়। 'নৈতিক শিক্ষা' ধর্মের অঙ্গ। মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির জন্য নৈতিক শিক্ষার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দু ধর্মগ্রন্থসমূহে তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক উপাখ্যানের মধ্যদিয়েও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। এ অধ্যায়ে সত্যবাদিতা, ক্ষমার ধারণা ও গুরুত্ব এবং তৎসম্পর্কিত দৃষ্টান্তমূলক উপাখ্যান সন্নিবেশিত হয়েছে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • ধর্মীয় আদর্শের আলোকে সত্যবাদিতা ও ক্ষমার ধারণা দুটি ব্যাখ্যা করতে পারব
  • সত্যবাদিতা ও ক্ষমার আদর্শের প্রমাণ সম্পর্কিত একটি উপাখ্যান বর্ণনা করতে পারব
  • উপাখ্যানের শিক্ষা মূল্যায়ন করতে পারব
  • পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজে সত্যবলা ও ক্ষমার গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব
  • সত্য কথা বলার অভ্যাস ও ক্ষমার আদর্শ গঠনে পরিবারের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • ব্যক্তি ও সামজিক জীবনে ক্ষমার আদর্শ ও সত্যবলার গুরুত্ব উপলব্ধি করে সত্য বলার অভ্যাস গঠনে উদ্বুদ্ধ হব

Related Question

View All
উত্তরঃ

যে শিক্ষা দ্বারা মানুষের মনে নীতিবোধ জন্মে, কিছু আচার ও নিয়মকানুন আয়ত্ব হয়, তাকে নৈতিক শিক্ষা বলে। নৈতিক শিক্ষার মধ্যে রয়েছে সত্যবাদিতা, ক্ষমা, কর্তব্যনিষ্ঠা, গুরুভক্তি, ভ্রাতৃপ্রেম ইত্যাদি।

71
উত্তরঃ

সত্যকথা বলার অভ্যাস গঠনে পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মা-বাবা পরিবারের প্রধান তাই তাদেরকেই এ বিষয়ে অধিক সচেতন হতে হয়। মা-বাবাকে পরিবারের সকল কাজকর্মে সত্যকথা বলার অভ্যাস করতে হবে। পরিবারে সত্যকথা বলার পরিবেশ সৃষ্টি হলেই সন্তানের আচরণে তা প্রতিভাত হবে। সন্তান কোনো কাজে কোনো কারণে সত্য বলা থেকে বিরত থাকলে মা-বাবা এক্ষেত্রে তার ভুল সংশোধনের সুযোগ দিয়ে সত্য বলতে উৎসাহিত করবেন।

78
উত্তরঃ

ধর্মের বাহ্য লক্ষণ রয়েছে দশটি। এগুলো হলো- সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, দয়া, চুরি না করা, শুচিতা, ইন্দ্রিয়-সংযম, শুভবুদ্ধি, জ্ঞান, সত্য ও অক্রোধ।

105
উত্তরঃ

'নীতি' শব্দ থেকে 'নৈতিক' শব্দের উৎপত্তি। আর নীতি বিষয়ক শিক্ষণ বা জ্ঞান হলো নৈতিক শিক্ষা। যে শিক্ষা দ্বারা মানুষের মনে নীতিবোধ জন্মে, কিছু আচার ও নিয়মকানুন আয়ত্ত হয়, তাকে 'নৈতিক শিক্ষা' বলা হয়।

124
উত্তরঃ

যে শিক্ষা দ্বারা মানুষের মনে নীতিবোধ জন্মে, কিছু আচার ও নিয়মকানুন আয়ত্ত হয় তাকে বলা হয় 'নৈতিক শিক্ষা'। হিন্দু ধর্মগ্রন্থসমূহে তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক উপাখ্যানের মধ্য দিয়েও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে ব্যক্তির মধ্যে সত্যবাদিতা, ক্ষমার ধারণা জন্মে। আর এজন্যই নৈতিক শিক্ষাকে ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বলা হয়।

71
উত্তরঃ

গোপন না করে অকপটে সবকিছু প্রকাশ করার নামই 'সত্যবাদিতা'। সত্যবাদিতা মানব চরিত্রের একটি বিশেষ মহৎ গুণ। এ গুণ যার থাকে, তিনি সমাজে বিশেষভাবে সম্মানিত হন। সত্যবাদিতা হলো ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।

99
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews