সৈকত প্রায় দশ বছর বিদেশ থাকার পর দেশে ফিরে গ্রাম বাংলার অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় রাস্তাঘাটের ব্যাপক পরিবর্তন দেখে মুগ্ধ হন। তিনি গ্রামের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ, টেলিভিশন ও বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি দ্বারা কৃষিকাজে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হওয়ার উন্নয়ন দেখতে পান। তার মেয়ে তাকে বলে, স্কুলে এখন প্রায়ই ল্যাপটপের সহায়তায় ক্লাসে পাঠদান হয়। তিনি উপলব্ধি করলেন যে, সমাজ আগের দিনের চেয়ে অগ্রগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

মানুষের জ্ঞানের যথাযথ ব্যবহার, পরিকল্পনা ও পরীক্ষা- নিরীক্ষার মাধ্যমে একটি বিশেষ অবস্থা থেকে আরেকটি বিশেষ অবস্থায় উত্তরণকে সামাজিক প্রগতি বলে।

উত্তরঃ

বিবর্তন বলতে ধীরগতিতে ক্রমপরিবর্তনকে বোঝায়। বিবর্তন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজগুলো অধিকতর জটিল রূপ পরিগ্রহ করে। আর এই জটিল রূপ পরিগ্রহ করার কারণ হলো অধিকতর উন্নত প্রযুক্তি ধারা পরিবেশকে কাজে লাগানো। তাই বলা যায়, বিবর্তন বলতে সবসময় অগ্রসরতাকে বোঝানো

উত্তরঃ

উদ্দীপকের সৈকত গ্রামে এসে প্রযুক্তিগত সামাজিক পরিবর্তন লক্ষ করলেন।

সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উপাদানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিতর্কের উর্ধ্বে। প্রযুক্তিগত উপাদানের প্রভাবে সমগ্র বিশ্ব আজ মানুষের হাতের মুঠোয়। মানুষ আজ মুহূর্তের মধ্যেই তার কঠিন কাজগুলো অল্প সময়ের মধ্যে করছে। এমনকি মানুষ ঘরে বসেই দেশের বাইরে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ছোঁয়া এখন প্রতিটি ক্ষেত্রেই লক্ষ করা যাচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, শিল্প প্রতিটি ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তিগত উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে সমাজব্যবস্থায় যেমন আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, তেমনি মানুষের কাজগুলো এখন সহজসাধ্য হয়েছে। উদ্দীপকের সৈকত দীর্ঘদিন পর গ্রামে ফিরে রাস্তাঘাট, অবকাঠামোর ব্যাপক পরিবর্তন দেখে মুগ্ধ হন। তিনি গ্রামের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ, টেলিভিশন দেখে আরো বিস্মিত হন। শিক্ষাক্ষেত্রেও বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার তাকে মুগ্ধ করে। সৈকতের দেখা এই পরিবর্তনগুলো প্রযুক্তিগত উপাদানের ভূমিকার কথাই তুলে ধরে। তাই বলা যায়, সৈকত গ্রামে এসে প্রযুক্তিগত সামাজিক পরিবর্তন লক্ষ করেন।

উত্তরঃ

প্রযুক্তিগত পরিবর্তন শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা। আর এই দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয় আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা।

বর্তমান সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির প্রয়োগের নানাবিধ প্রয়াস লক্ষ করা যায়। বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা পাঠ্যক্রমে ICT অন্তর্ভুক্ত করেছে। আবার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আকর্ষণীয় ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ প্রস্তুত করা হচ্ছে যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজে ও আনন্দের সাথে বিবিধ বিষয় আয়ত্ত করতে পারছে। এই প্রযুক্তিগত উপাদানের ফলে এখন যেকোনো মানুষ যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারে। বাংলাদেশে বসেও এখন একজন শিক্ষার্থী চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারে।

প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষককে মুখোমুখি না দেখেও ই-মেইল, চ্যাট, ভিডিও কনফারেন্স-এর মাধ্যমে পাঠগ্রহণ করতে পারে। অনলাইনে শিক্ষক তার শিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন করে সার্টিফিকেট প্রদান করতে পারেন। এই ব্যবস্থাকে সহজভাবে Virtual Learning Environment (VLE) বলা হয়। বর্তমানে এই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০১২ এ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে আবশ্যকীয় বিষয় হিসেবে মাধ্যমিক স্তরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উপরের আলোচনার ওপর ভিত্তি করে তাই বলা যায়, শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

319
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মুখ্য উদ্দেশ্য হলো জগতের বাস্তব অবস্থা অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা।

284
উত্তরঃ

পারিবারিক পরিবেশেই শিশুর সামাজিকীকরণের সূত্রপাত হয়। 

পরিবারের মধ্যে শিশু সমাজে প্রচলিত নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিক আদর্শ, আচার-আচরণ প্রভৃতির সাথে পরিচিত হয় এবং সেগুলোকে আয়ত্ত করে। যেসব পরিবারে বাবা-মা শিশুদের সঙ্গ দেন এবং তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন সেসব পরিবারের ছেলে- মেয়েরা পরবর্তী সময় সহজ জীবন যাপন করতে পারে। তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে অন্যের সাথে সহজে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।

364
উত্তরঃ

উদ্দীপকের জেলার পরিবর্তনকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় উন্নয়ন বলা হয়।

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো উন্নয়ন। উন্নয়ন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া। সাধারণ অর্থে পূর্বের সময়ের তুলনায় একটি সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থার অগ্রগতি হলে তাকে উন্নয়ন বলা যেতে পারে। এ অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের সামাজিক আকাঙ্ক্ষা। এ পরিবর্তন যখন মানুষের জীবনমান, সামাজিক সম্পর্ক, শান্তি, স্থিতিশীলতা, ব্যক্তি স্বাধীনতার সম্প্রসারণ ঘটায় তখন তা সামাজিক উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হয়।

উদ্দীপকের কৃষকরা মহাজনদের মাধ্যমে শোষিত হলে তারা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং সিদ্ধান্ত নেয় তারা আর তামাক চাষ করবে না। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে আত্মকর্মসংস্থানমূলক নানা কর্মকাণ্ড শুরু করে। ফলে কৃষকরা এখন সচ্ছল এবং অভাবমুক্ত। তাদের এই সচ্ছলতা উন্নয়নকেই নির্দেশ করে। কারণ উন্নয়ন মানেই অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন, যা কৃষকদের বেলায় ঘটেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষকদের পরিবর্তন তথা উক্ত অঞ্চলের পরিবর্তনকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় উন্নয়ন বলা যায়।

220
উত্তরঃ

'উদ্দীপকের কৃষকদের প্রতিবাদ যেন কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বের প্রতিচ্ছবি'- আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।

মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে তার বর্ণিত দাস, সামন্ত ও পুঁজিবাদী সমাজকে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। মার্কসের মতে প্রতিটি সমাজই দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। তেমনিভাবে দাস সমাজও দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। দাস এবং দাস মালিক। দাস সমাজের সবকিছু দাস মালিকের অনুকূলে থাকায় অধিকাংশ দাস বিদ্যমান সমাজব্যবস্থা মেনে নিতে রাজি হয়নি। অবশেষে কয়েকশ বছর সংগ্রামের পর তারা বিদ্যমান সমাজব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়।

দাস সমাজে যারা দাস ছিল সামন্ত সমাজে তারা ভূমিদাসে পরিণত হয়। এ সমাজে ব্যক্তি দাস সমাজ থেকে একটু বেশি স্বাধীনতা পায়, তবে পুরোপুরি স্বাধীনতা পায় না। ফলশ্রুতিতে এ সমাজের বিরুদ্ধেও তারা সংগ্রাম করে। মার্কসের মতানুসারে সামন্ত সমাজের অবসানের ফলে পুঁজিবাদী সমাজের আর্বিভাব ঘটে। এই পুঁজিবাদী সমাজে এসেই সবাই তাত্ত্বিকভাবে মুক্ত হয় এবং এ পর্যায়ে সমাজব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটে। যেমনটি আমরা উদ্দীপকে লক্ষ করি।

উপরের আলোচনায় এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, পুঁজিবাদী সমাজে পদার্পণের জন্য ব্যক্তিকে শ্রেণি সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আসতে হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষকদের প্রতিবাদ কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বেরই প্রতিচ্ছবি।

242
উত্তরঃ

লোকরীতি হচ্ছে সমাজের আদর্শ বা মানসম্পন্ন আচরণ যা সমাজের সদস্যদের জন্যে অবশ্য পালনীয়।

1.3k
উত্তরঃ

সংস্কৃতির যে অংশ অদৃশ্য তথা উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল তাই অবস্তুগত সংস্কৃতি । 

মানুষের চিন্তাভাবনা, শিল্প-সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, রাজনীতি, নীতিবোধ প্রভৃতি হচ্ছে অবস্তুগত সংস্কৃতি। অগবার্নের মতে, ধর্ম, ভাষা, সাহিত্য, বিশ্বাস, মানসিকতা, মূল্যবোধ প্রভৃতি হলো অবস্তুগত সংস্কৃতি।

383
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews