আন্তর্জাতিক আদালতের সদরদপ্তর নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪১ খ্রি. যখন হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'পার্লহারবার' আক্রমণ করে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরে যুদ্ধ জাহাজে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন (১৪ আগষ্ট-১৯৪১)। উভয় নেতা একটা সনদে স্বাক্ষর করেন, যা ইতিহাসে 'আটলান্টিক সনদ' নামে পরিচিত। যুদ্ধসংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠকে হলেও যুদ্ধ বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পায়। যা পরবর্তী পর্যায়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের কাজের সাথে পাঠ্যবইয়ের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান কর্মকর্তার মিল রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদ হলো জাতিসংঘের হৃৎপিণ্ড। জাতিসংঘের সনদ। অনুযায়ী আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব এ পরিষদের। এ পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ৫ স্থায়ী ও ১০ অস্থায়ী সদস্য। ৫ স্থায়ী সদস্য জাতিসংঘের পাঁচ উদ্যোক্তা এবং অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে বিজয়ী ৫ শক্তি ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স। এ ৫ শক্তিকে বলা হয় পঞ্চশক্তি। যাদের 'ভেটো' বা বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে (ভেটো ল্যাটিন শব্দ, অর্থ আমি এটি মানি না)। সাধারণ পরিষদ কর্তৃক নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী ১০ সদস্য নির্বাচিত হবে। নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি হচ্ছে- ১. শান্তি ভঙ্গ, ভীতি প্রদর্শন ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা, ২. আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, ৩. আঞ্চলিক বন্দোবস্ত বিষয়ক ক্ষমতা, ৪. অছি বিষয়ক ক্ষমতা, ৫. নতুন সদস্য গ্রহণ বিষয়ক ক্ষমতা, ৬. সদস্য বহিষ্কার সংক্রান্ত ক্ষমতা, ৭. নির্বাচনমূলক ক্ষমতা, ৮. মিলিটারি স্টাফ কমিটি গঠন ইত্যাদি।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উল্লিখিত কর্মকর্তার সফলতা-ব্যর্থতা শক্তিধর রাষ্ট্রের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।
কেননা উল্লিখিত কর্মকর্তা বলতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানকে বোঝানো হয়েছে। আর নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে।
-একটি হলো স্থায়ী যার সদস্যসংখ্যা ৫টি আর অন্যটি হলো অস্থায়ী- যার সদস্যসংখ্যা ১০টি। স্থায়ী ৫টি সদস্য দেশ হলো-যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীন। যা পুরো পৃথিবীর অধিক ক্ষমতাধর রাষ্ট্রেরই নামান্তর। এদের সহযোগিতার ওপরই নিরাপত্তা পরিষদ তার ক্ষমতা ও কার্যাবলি পরিচালনা করে। তাই এদেরকে পঞ্চশক্তি বলা হয়। শুধু তাই নয়, এদের Veto (আমি মানি না) ক্ষমতা রয়েছে। সুতরাং এরা যদি সহযোগিতা না করে তাহলে নিরাপত্তা পরিষদ প্রায় অকেজো। অন্যদিকে, সাধারণ পরিষদ কর্তৃক নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী ১০টি সদস্য দেশও গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাদের মতামত পেশ করতে পারে।
অতএব, উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, যেহেতু নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫টি সদস্যদের দ্বারাই নিরাপত্তা পরিষদ পরিচালিত হয়। আর সেই ৫টি সদস্য দেশ হলো পৃথিবীর কর্ণধার।
তাই সমস্বরে বলা যায় 'যে, নিরাপত্তা পরিষদের সফলতা-ব্যর্থতা শক্তিধর এ ৫টি রাষ্ট্রের সহযোগিতার ওপরই নির্ভরশীল।
Related Question
View All১৯৪৭ সালের ৫ জুন মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জর্জ সি. মার্শাল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন সম্পর্কে মার্কিন নীতি ব্যাখ্যা করেন। মার্শালের এ নীতি ক্ষুধা, দারিদ্রদ্র্য, হতাশা ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কোনো দেশ বা মতাদর্শের বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, ইউরোপকে অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। মার্শালের এ পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা বিশ্ব ইতিহাসে 'মার্শাল পরিকল্পনা' নামে অভিহিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের যে আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাদৃশ্য রয়েছে তা হলো জাতিসংঘ।
বিশ্ব ইতিহাসে এক দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার আশার আলো প্রজ্বলিত করে জাতিসংঘ জন্মলাভ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি রক্ষা ও আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য ১৯১৯ সালে লীগ অব নেশনস গঠিত হয়। কিন্তু ১৯৩৮ সালের মধ্যেই লীগের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এক প্রকার বিলুপ্ত হয়ে যায়। একদিকে জাপান, ইতালি ও জার্মানির আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ এবং অপরদিকে যৌথ নিরাপত্তার দায়বদ্ধতা পালনে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের ব্যর্থতা, যুক্তরাষ্ট্রর বিচ্ছিন্ন থাকার নীতি এবং সোভিয়েত রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে বাইরে থাকার নীতি প্রভৃতি কারণে লীগের সমাধি হয়। ১৯৩৯ সালের মধ্যে বৃহৎ শক্তিবর্গ বিভিন্ন জোট গঠন করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। স্বাভাবিকভাবেই এ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অধিকতর ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করে মানুষ আরও বেশি শঙ্কিত হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যৎ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চিন্তান্বিত হয়ে পড়ে। ফলে বিশ্ববাসী একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেই মিত্রশক্তির নেতারা একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা ভাবতে থাকেন। তারা ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইয়াল্টায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে নিরাপত্তা পরিষদের গঠন ও তার ভোটদান পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। এ আলোচনার ভিত্তিতে ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো শহরে এক বিশ্ব সম্মেলনে জাতিসংঘের সনদ উত্থাপিত হয়। পরিশেষে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর ৫১টি দেশ জাতিসংঘের সনদ স্বাক্ষর করে এবং এ চার্টার স্বাক্ষরিত হওয়ার সাথে সাথে জাতিসংঘ কার্যকরী রূপ লাভ করে। উদ্দীপকে এমন ঘটনারই ইঙ্গিত রয়েছে।
বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রদানে উক্ত সংগঠনটির অর্থাৎ জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল নীরব বা নেতিবাচক।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছাড়া কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না। এজন্য মুজিবনগর সরকার তার ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য তৎপর হয়। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের এই স্বীকৃতির দাবি অযৌক্তিক ছিল না। কেননা, একটি নতুন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য যেসব শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন, তার সবই বাংলাদেশ পূরণ করেছিল। তবে বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে জাতিসংঘ কার্যকর কোনো ভূমিকা নিতে পারেনি। বাংলাদেশের জনগণকে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সশস্ত্র যুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমেই তার স্বীকৃতি আদায় করে নিতে হয়েছিল। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সামনে যে সমস্যাটি ছিল তা - হলো এর সনদের ২/৭ ধারা। এই ধারায় কোনো রাষ্ট্রের জনগণের মানবাধিকার বা আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার নীতির মধ্যে সীমারেখা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মুসলিম দেশগুলোর পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার প্রশ্নে বাংলাদেশের স্বীকৃতির বিরোধিতা করে। অন্যদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারত, পোল্যান্ড ইত্যাদি রাষ্ট্র পাকিস্তানি বর্বরতা ও গণহত্যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেয়। কিন্তু জাতিসংঘ রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার যুক্তির প্রশ্নে বিজয় অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদসা হিসেবে যোগদান করে।
১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪১ সালে যখন হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল হারবার আক্রমণ করে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরে যুদ্ধ জাহাজে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। উভয় নেতা একটি সনদে স্বাক্ষর করেন, যা ইতিহাসে আর্টলান্টিক সনদ বা আটলান্টিক চার্টার নামে পরিচিত। যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক হলেও যুদ্ধ বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পায়, যা পরবর্তী পর্যায়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!