হবহাউস মানুষের আকাঙ্ক্ষিত মূল্যবোধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ পরিবর্তনকে প্রগতি বলে আখ্যা দিয়েছেন।
আদিম সমাজে কোনো শ্রেণিবিভেদ না থাকার কারণে এ সমাজব্যবস্থাকে আদিম সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থাও বলা হয়ে থাকে। আজ অবধি পৃথিবীতে যত সমাজব্যবস্থার অভ্যুদয় ঘটেছে তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে প্রাচীন এবং বেশি দিন স্থায়ী ছিল। আজ থেকে ২০ লাখ বছর আগে এই সমাজব্যবস্থার অভ্যুদয় হয়েছিল। আর আট/নয় হাজার বছর আগে শ্রেণি বিভক্ত সমাজের অভ্যুদয়ের আগ পর্যন্ত তা টিকে ছিল। এ সমাজে উৎপাদন শক্তি ছিল খুবই সরল ও অনুন্নত। ব্যক্তিগত কোনো সম্পত্তি ছিল না। সব সম্পত্তিই ছিল যৌথ সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত। শ্রেণিবিভাগও প্রায় অজ্ঞাত ছিল।
উদ্দীপকে সামাজিক পরিবর্তনের উপাদানের যে প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে তাহলো অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণবাদ। কেননা উদ্দীপকে দেখা যায়, সমাজবিজ্ঞান ক্লাসে আলোচনা প্রসঙ্গে সোহেল বলে, সমাজের মৌল বা অর্থনৈতিক শক্তিই সমাজের সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে যা অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণবাদের মূল কথার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আবার সোহেলের কথার প্রেক্ষিতে আরমান বলে, অর্থনৈতিক শক্তি দ্বারাই সমাজ সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং অর্থনৈতিক কারণই সামাজিক পরিবর্তনের প্রধান বা মূল কারণ যা অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণবাদের সাথে বিশেষভাবে জড়িত যা কার্ল মার্কস এর মতামতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে সামাজিক পরিবর্তনের উপাদানের যে প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে তাহলো অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণবাদ।
সামাজিক পরিবর্তনে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণবাদই শুধুমাত্র সমাজ পরিবর্তনে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে-এ বক্তব্যটির সাথে আমি একমত পোষণ করছি না।
সামাজিক পরিবর্তন মানুষের চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা, কর্ম ও পার্থিব উপাদানপ্রসূত নয়। পার্থিব পরিবর্তন অপার্থিব উপাদানের ওপর নির্ভরশীল। জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার এ মতবাদকে বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার মতে, ধর্মীয় আদর্শ বা মূল্যবোধ সমাজ পরির্তনের জন্যে দায়ী অর্থাৎ ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ সমাজের অর্থব্যবস্থাসহ অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করে এবং এগুলোতে পরিবর্তন সূচিত করে। চক্রাকার আবর্তন সংক্রান্ত মতবাদ অনুসারে মানুষের ইতিহাস কালচক্রে বিবর্তিত হচ্ছে। অর্থাৎ মানুষের ইতিহাস যেখান থেকে শুরু হয়েছে সেখানে আবার ঘুরে ফিরে আসবে। ইতালীয় সমাজবিজ্ঞানী প্যারেটোর নাম এ মতবাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তার মতে, সমগ্র মানব ইতিহাস শাসক এলিট শ্রেণির উত্থান-পতনের ইতিহাস এবং এর মূলে রয়েছে এলিট এবং সাধারণ শ্রেণির মানুষের মধ্যে অবিরাম সংঘর্ষ। প্রতিটি সংঘর্ষে শাসক এলিটের পতনও অবশ্যম্ভাবী। এছাড়া সমাজবিজ্ঞানী স্প্রেংগলারের মতে, প্রতিটি সভ্যতারই উৎপত্তি, বিকাশ ও ধ্বংসের পর্যায় রয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, সামাজিক পরিবর্তনের উপাদানসমূহের প্রভাব সমাজ জীবনে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
Related Question
View Allবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মুখ্য উদ্দেশ্য হলো জগতের বাস্তব অবস্থা অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা।
পারিবারিক পরিবেশেই শিশুর সামাজিকীকরণের সূত্রপাত হয়।
পরিবারের মধ্যে শিশু সমাজে প্রচলিত নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিক আদর্শ, আচার-আচরণ প্রভৃতির সাথে পরিচিত হয় এবং সেগুলোকে আয়ত্ত করে। যেসব পরিবারে বাবা-মা শিশুদের সঙ্গ দেন এবং তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন সেসব পরিবারের ছেলে- মেয়েরা পরবর্তী সময় সহজ জীবন যাপন করতে পারে। তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে অন্যের সাথে সহজে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।
উদ্দীপকের জেলার পরিবর্তনকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় উন্নয়ন বলা হয়।
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো উন্নয়ন। উন্নয়ন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া। সাধারণ অর্থে পূর্বের সময়ের তুলনায় একটি সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থার অগ্রগতি হলে তাকে উন্নয়ন বলা যেতে পারে। এ অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের সামাজিক আকাঙ্ক্ষা। এ পরিবর্তন যখন মানুষের জীবনমান, সামাজিক সম্পর্ক, শান্তি, স্থিতিশীলতা, ব্যক্তি স্বাধীনতার সম্প্রসারণ ঘটায় তখন তা সামাজিক উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হয়।
উদ্দীপকের কৃষকরা মহাজনদের মাধ্যমে শোষিত হলে তারা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং সিদ্ধান্ত নেয় তারা আর তামাক চাষ করবে না। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে আত্মকর্মসংস্থানমূলক নানা কর্মকাণ্ড শুরু করে। ফলে কৃষকরা এখন সচ্ছল এবং অভাবমুক্ত। তাদের এই সচ্ছলতা উন্নয়নকেই নির্দেশ করে। কারণ উন্নয়ন মানেই অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন, যা কৃষকদের বেলায় ঘটেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষকদের পরিবর্তন তথা উক্ত অঞ্চলের পরিবর্তনকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় উন্নয়ন বলা যায়।
'উদ্দীপকের কৃষকদের প্রতিবাদ যেন কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বের প্রতিচ্ছবি'- আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।
মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে তার বর্ণিত দাস, সামন্ত ও পুঁজিবাদী সমাজকে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। মার্কসের মতে প্রতিটি সমাজই দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। তেমনিভাবে দাস সমাজও দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। দাস এবং দাস মালিক। দাস সমাজের সবকিছু দাস মালিকের অনুকূলে থাকায় অধিকাংশ দাস বিদ্যমান সমাজব্যবস্থা মেনে নিতে রাজি হয়নি। অবশেষে কয়েকশ বছর সংগ্রামের পর তারা বিদ্যমান সমাজব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়।
দাস সমাজে যারা দাস ছিল সামন্ত সমাজে তারা ভূমিদাসে পরিণত হয়। এ সমাজে ব্যক্তি দাস সমাজ থেকে একটু বেশি স্বাধীনতা পায়, তবে পুরোপুরি স্বাধীনতা পায় না। ফলশ্রুতিতে এ সমাজের বিরুদ্ধেও তারা সংগ্রাম করে। মার্কসের মতানুসারে সামন্ত সমাজের অবসানের ফলে পুঁজিবাদী সমাজের আর্বিভাব ঘটে। এই পুঁজিবাদী সমাজে এসেই সবাই তাত্ত্বিকভাবে মুক্ত হয় এবং এ পর্যায়ে সমাজব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটে। যেমনটি আমরা উদ্দীপকে লক্ষ করি।
উপরের আলোচনায় এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, পুঁজিবাদী সমাজে পদার্পণের জন্য ব্যক্তিকে শ্রেণি সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আসতে হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষকদের প্রতিবাদ কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বেরই প্রতিচ্ছবি।
লোকরীতি হচ্ছে সমাজের আদর্শ বা মানসম্পন্ন আচরণ যা সমাজের সদস্যদের জন্যে অবশ্য পালনীয়।
সংস্কৃতির যে অংশ অদৃশ্য তথা উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল তাই অবস্তুগত সংস্কৃতি ।
মানুষের চিন্তাভাবনা, শিল্প-সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, রাজনীতি, নীতিবোধ প্রভৃতি হচ্ছে অবস্তুগত সংস্কৃতি। অগবার্নের মতে, ধর্ম, ভাষা, সাহিত্য, বিশ্বাস, মানসিকতা, মূল্যবোধ প্রভৃতি হলো অবস্তুগত সংস্কৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!