খাস দরবার হাজার দেশের লোকে ভরল।
"অপমান তব করিব না আজ করিয়া নান্দী পাঠ।"- এ কথা কবি হজরত উমর ফারুককে উদ্দেশ করে বলেছেন। কবির দৃষ্টিতে হজরত উমর ফারুক (রা) এত বেশি মহানুভবতার অধিকারী ছিলেন, যা ছিল প্রশংসারও ঊর্ধ্বে।
'উমর ফারুক' কবিতায় কবি হজরত উমর ফারুক (রা)-এর মহানুভবতার পরিচয় তুলে ধরেছেন। তিনি ছিলেন অর্ধ পৃথিবীর সম্রাট। অথচ তাঁর কোনো অহংকার ছিল না। অন্যায়ের সঙ্গে কখনই তিনি কোনো আপস করেননি। সত্য প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন পর্বতের মতো, অটল। ঐশ্বর্যের হাতছানি তাঁকে কখনই সত্যচ্যুত করতে পারেনি। তাঁর শাসনামলে মানবতার দৃষ্টান্ত ছিল অতুলনীয়। এক কথায়, তাঁর মহানুভবতা ছিল আকাশচুম্বী। এ কারণে কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
উদ্দীপকটি 'উমর ফারুক' কবিতায় মদ্যপানের অপরাধে হজরত উমর ফারুক (রা)-এর পুত্র আবু শাহমাকে কঠোর শাস্তি দেওয়ার দিকটিকে নির্দেশ করে।
আইন সবার জন্যই সমান। কারণ সাম্যের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষ সমান। তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। জগতের আদর্শ শাসকরা সব সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
উদ্দীপকে আবদুর রহমান সাহেবকে আইনের প্রতি প্রবল শ্রদ্ধা পোষণ করতে দেখা যায়। তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে একটা নিয়ম চালু করেন, যে ছাত্র কোনো ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করবে তাকে সবার সামনে পঞ্চাশটি বেত মারা হবে। তার ছেলে একদিন তার স্কুলে একটি মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে। তিনি সকল ছাত্র-ছাত্রীর সামনে ছেলেকে শাস্তি দিয়ে নিয়ম যে সবার জন্যই সমান তা প্রমাণ করলেন। এ ঘটনাটি 'উমর ফারুক' কবিতার উমর ফারুক (রা)-এর বিচারের ঘটনার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা।
'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর ফারুক (রা) তাঁর শাসনামলে 'প্রকাশ্যে যে মদ্যপান করবে, তাকে আশিটি বেত মারার' আইন প্রতিষ্ঠা করেন। একদিন হজরত উমর ফারুক (রা)-এর ছেলে আবু শাহমা প্রকাশ্যে মদ্যপান করে। আবু শাহমা তাঁর ছেলে হয়েও শাস্তির ক্ষেত্রে সামান্যতম ছাড় পায়নি। হজরত উমর ফারুক (রা) স্বহস্তে শাস্তি কার্যকর করেন। এতে একপর্যায়ে আবু শাহমা প্রাণ হারায়। কবিতার এ দিকটির প্রকাশই উদ্দীপকে ঘটেছে।
"উদ্দীপকের আবদুর রহমান সাহেব ও 'উমর ফারুক' কবিতার হজরত উমর ফারুক (রা) একই আদর্শের অনুসারী।"- উক্তিটি যথার্থ।
আইনের যথার্থ প্রয়োগ অপরাধ দমনের পূর্বশর্ত। রাজা-প্রজা নির্বিশেষে সবাই আইনের আওতাধীন। এক্ষেত্রে অর্থের বা ক্ষমতার প্রভাবে কেউ যদি আইনের ব্যত্যয় ঘটায়, তবে সেটা আইনের প্রতি অবমাননার শামিল।
উদ্দীপকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একদিন তার ছেলে স্কুলের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করলে তিনি তাকে নিয়মানুসারে সবার সামনে পঞ্চাশ বেত মারলেন। 'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর ফারুকের চরিত্রেও এই আদর্শের প্রতিফলন পাওয়া যায়। হজরত উমর (রা) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। প্রকাশ্যে মদ্যপানের ব্যাপারে তিনি যে আইন চালু করলেন, তা হলো মদ্যপানকারীকে আশিটা বেত মারা হবে। এই আইন ভঙ্গ করলে তিনি নিজ পুত্রকে শাস্তি দেন।
হজরত উমর (রা) ছিলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্তকে শাস্তি দিয়েছেন। কে আপন কে পর তা বিবেচনা করেননি। উদ্দীপকের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহমানও তাই করেছেন। এ ক্ষেত্রে উদ্দীপকের আবদুর রহমান সাহেব ও 'উমর ফারুক' কবিতার উমর ফারুক (রা) একই আদর্শের অনুসারী।
Related Question
View All'উমর ফারুক' কবিতাটি 'জিঞ্জীর' কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।
হজরত উমর (রা)-কে 'আমিরুল মুমেনিন' বলার কারণ হলো তিনি ছিলেন সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণকারী, বিশ্বাসীদের নেতা।
উমর ফারুক কবিতার হজরত উমর ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। তাঁর জীবনাদর্শ ও সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সবার কাছে দৃষ্টান্তস্বরূপ। তিনি ছিলেন সবচেয়ে বিশ্বাসী। ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তিনি যেমন ছিলেন কঠোর, তেমনই মানুষের প্রতি করুণায় তিনি ছিলেন কোমলপ্রাণ। তিনি কখনই কোনো বিশ্বাস ভঙ্গ করেননি। মূলত তাঁর আদর্শবান ব্যক্তিত্বের কারণেই তাঁকে 'আমিরুল মুমেনিন' বলা হয়েছে।
একজন আদর্শ ন্যায়বান শাসকের চরিত্রের দিক থেকে চেয়ারম্যান আব্বাস আলী হজরত উমরের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
একজন শাসক মানে শুধু অন্যের ওপর কর্তৃত্ব করা নয়। একজন আদর্শ শাসক হতে হলে তাকে অনেক বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়। শাসক যদি শাসিতদের দুঃখে সমান দুঃখী না হন তাহলে তিনি কখনো প্রজাবান্ধব শাসক হতে পারবেন না।
'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর (রা)-এর জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানসিকতা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়। উমর ফারুক ছিলেন একজন আদর্শ শাসক। ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তিনি নিজ পুত্রকে শাস্তি দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। তিনি প্রজাদের দুঃখ-কষ্ট হৃদয় দিয়ে অনুভব করতেন। অন্যদিকে উদ্দীপকের চেয়ারম্যান আব্বাস আলী বন্যায় তার এলাকা দুর্দশাগ্রস্ত হলেও তিনি ঢাকায় অবস্থান করেন। উপরন্তু তার ঘরে বন্যার ত্রাণসামগ্রী চুরি করে রাখতে দেখা যায়। এভাবেই একজন ন্যায়বান ও আদর্শ শাসকের চরিত্রের দিক থেকে চেয়ারম্যান আব্বাস আলী হজরত উমরের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
আব্বাস আলী চেয়ারম্যানকে উমরের মতো আদর্শ মানুষ হতে হলে একজন প্রকৃত শাসকের যেসব গুণ রয়েছে সেগুলো তাকে ধারণ করতে হবে।
শাসক ও শাসিতের মধ্যে যদি সমঝোতার সম্পর্ক না থাকে তাহলে তিনি ভালো শাসক হতে পারেন না। একজন প্রকৃত শাসক সব সময় শাসিতদের দুঃখ-কষ্ট হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেন। শাসিতদের প্রয়োজনকে নিজের প্রয়োজন ভেবে কাজ করে যান।
'উমর ফারুক' কবিতায় কবি হজরত উমরের জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানবিকতা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। খলিফা উমর (রা) ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তিত্ব। তাঁর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা ও সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হয়েও তিনি অতি সহজ, সরল, অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেছেন। প্রজাদের প্রয়োজনে তিনি ছিলেন নিবেদিত। অন্যদিকে উদ্দীপকের আব্বাস আলী চেয়ারম্যানের চরিত্র ভিন্ন। তিনি গ্রামবাসীর বিশেষ প্রয়োজনের সময়ও শুধু নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখেছেন।
চেয়ারম্যান আব্বাস আলীকে উমরের মতো হতে হলে তার মধ্যে মানবিক দিক জাগ্রত করতে হবে। তার চরিত্রে হজরত উমরের মতো বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা, সাম্যবাদিতা ও অন্যান্য আদর্শের সমন্বয় ঘটাতে হবে। সর্বোপরি গ্রামবাসীর দুঃখ-কষ্ট হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করলে তবেই আব্বাস আলী চেয়ারম্যান হজরত উমরের মতো আদর্শ মানুষ হতে পারবেন।
'আমির-উল-মুমেনিন' শব্দের অর্থ হলো- বিশ্বাসীদের নেতা।
"সাইমুম-ঝড়ে পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক'নুয়ে" বলতে কবি খলিফা উমরের ঘর নুয়ে পড়লেও তিনি যে আদর্শচ্যুত হয়ে পড়েননি তা বুঝিয়েছেন।
অর্ধ-পৃথিবীর শাসনকর্তা হজরত উমর (রা) ছিলেন ন্যায়ের প্রতি কুসুম-কোমল আর অন্যায়ের প্রতি বজ্রসম কঠিন। তাঁর দরবার ছিল সাধারণ কুটিরের মতো। মরুভূমির সাইমুম ঝড়ে তা ভূলুণ্ঠিত হলেও তাঁর ব্যক্তিত্ব সামান্য আদর্শচ্যুত কিংবা দুর্বল হয়নি বা নুয়ে পড়েনি। এখানে উমরের দৃঢ়চেতা মানসিকতাকে কবি রূপকাকারে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!