কৃষি উৎপাদনের প্রধান লক্ষ্য হলো খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন।
বাংলাদেশে স্ট্রবেরির চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কারণ এদেশের মাটি ও জলবায়ু এ ফল চাষের উপযোগী। সর্বোপরি স্ট্রবেরি উদ্ভিদটি ছোট এবং যেকোনো জায়গায় চাষযোগ্য। এই ফলে বহুবিধ ভিটামিন, খনিজ লবণ বিদ্যমান এবং এটি ক্যানসার প্রতিরোধে অনন্য ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে কৃষি কর্মকর্তার প্রথম মন্তব্য হলো- 'পরিবার গঠনে কৃষির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ'।
কৃষিকে কেন্দ্র করেই পরিবারের সৃষ্টি। প্রাচীনযুগে পরিবেশের বিভিন্ন ঘটনা ও এদের পারস্পরিক সম্পর্ক পর্যবেক্ষণের সুযোগ হলো নারীদের। তাই তারা বীজ থেকে নতুন চারা তৈরি এবং ঐ বীজের মতো নতুন ফল তৈরির বিষয়টি আয়ত্ত করে ফেলল। ধীরে ধীরে পশুর মাংসের মতোই গাছগুলোর বিভিন্ন অংশ সিদ্ধ করে বা পুড়িয়ে সুস্বাদু খাবার তৈরির পদ্ধতি শিখে ফেলল। পচনশীল নয় এমন শস্যের সন্ধান যখন তারা তখন সেগুলো উৎপাদন করতে লাগল। এই কৃষানি নারীরা যখন তাদের পছন্দমতো পুরুষ সঙ্গীকে নিয়ে সংসার শুরু করল এবং পরবর্তীতে তাদের
ছেলেমেয়ে হলো তখনই গড়ে উঠল পরিবার। অর্থাৎ, পরিবার গঠনে কৃষির ভূমিকা অগ্রগণ্য।
কৃষি কর্মকর্তার ২য় মন্তব্যটি হলো "কৃষির ওপর ভিত্তি করেই সমাজ গড়ে ওঠেছে"।
আদিযুগ থেকেই পরিবারের সদস্যরা সক্ষমতা ও সুবিধা অনুযায়ী পরিবারের কাজগুলো সম্পাদন করতেন। পরবর্তীতে দেখা গেল, মানুষ ফসলের পরিচর্যা করে ফলন বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ফসল সংরক্ষণের বিভিন্ন উপায় শিখে ফেলল। এতে করে কৃষির পরিধি ও পরিসর বৃদ্ধি পেল। আস্তে আস্তে মানুষ উন্নত পদ্ধতিতে বাড়িঘর তৈরি করতে শিখল এবং বেশকিছু ঘরবাড়ি মিলে গ্রামের পত্তন হলো। মানুষ ঋতুভিত্তিক ফসল চাষ শেখার পর উৎপাদন দ্রুত বেড়ে চলল। এরপর দেখা গেল, - কৃষিকাজ এবং পরিবারের অন্যান্য আনুষাঙ্গিক জিনিস উৎপাদনে কিছু লোক অন্যদের চাইতে দক্ষ। এই শ্রম বিভাজনের ফলে নানা পেশার - লোকজন নিয়ে সমাজ গঠিত হয়।
যেহেতু কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা মানুষের সামাজিক গোড়াপত্তন ঘটিয়েছিল, তাই কৃষি কর্মকর্তার উপরিউক্ত উক্তিটি যুক্তিযুক্ত।
Related Question
View Allকৃষিকে পেশা হিসেবে নেওয়ার আগে মানুষ ২টি উপায়ে, যথা-পশুপাখি শিকার অথবা ফলমূল আহরণ করে খাদ্য সংগ্রহ করত।
কতদিনের দৈর্ঘ্যের তারতম্যের কারণে বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন ফসল জন্মায়। কিন্তু কলা সব ঋতুতে জন্মায়, কারণ দিনের দৈর্ঘ্যের তারতম্য কলার ফুল ধারণের ওপর কোন প্রভাব ফেলে না। তাই কলাকে ঋতু নিরপেক্ষ ফল বলা হয়।
উদ্দীপকে রফিকের কৃষিজ সম্পদ বলতে একটি ছোট্ট বসতবাড়ি, ভর মাঝারি আকারের পুকুর ও ৫০ শতাংশ ফসলি জমি ছিল।
রফিক তাঁর চাচার পরামর্শমতো কৃষিজ সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহারের দ উদ্যোগ নেন। তিনি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। উৎপাদিত মাছের ৬ মাধ্যমে তাঁর পরিবারের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ হয়। অতিরিক্ত মাছ নয় তিনি বাজারে বিক্রি করেন, যার ফলে তাঁর অর্থনৈতিক সংকট দূর হয়। পরবর্তীতে রফিক তাঁর জমিতে ঋতুভিত্তিক ও লাভজনক ফসলের চাষাবাদ ২ শুরু করেন। এক্ষেত্রেও পারিবারিক খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জন অতিরিক্ত ফসল বিক্রি করে তিনি বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হন।
অর্থাৎ, রফিক উল্লিখিত উপায়ে তাঁর কৃষিজ সম্পদের বহুমাত্রিক ব্যবহার জন করে লাভবান হয়েছিলেন।
রফিক তাঁর পুকুরে মাছ চাষ ও ৫০ শতাংশ জমিতে ফসল আবাদের উদ্যোগ নেন।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বাংলাদেশের কৃষি জমি, নদনদী ও খালবিল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে দেখা দিচ্ছে খাদ্য ও পুষ্টির ঘাটতি। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক ৮০ গ্রাম আমিষের প্রয়োজন অথচ আমরা বর্তমানে গড়ে মাত্র ২১ গ্রাম আমিষ পেয়ে থাকি। রফিকের পুকুরে মাছ চাষ করার উদ্যোগ তাঁর পরিবারের সদস্যদের আমিষের চাহিদা পূরণ করবে। এছাড়াও অতিরিক্ত মাছ বাজারে বিক্রির ফলে তার অর্থনৈতিক সংকট দূর হবে এবং দেশে মাছের মোট উৎপাদনের সাথে সেটা যোগ হবে। এই বাড়তি উৎপাদন দেশের খাদ্য ও পুষ্টির ঘাটতি কিছুটা হলেও কমিয়ে আনবে। জমি পতিত না রেখে যথাযথভাবে ব্যবহারের ফলে দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
সুতরাং, রফিকের কৃষিজ সম্পদ ব্যবহারের উদ্যোগগুলো যুক্তিযুক্ত ও সময়োপযোগী।
মানুষ শিকারের যুগে আগুনের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ শিখেছিল।
পরিবার হলো মানব সমাজের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
খাদ্যসহ সার্বিক নিরাপত্তার প্রথম ও প্রধান কেন্দ্র হলো পরিবার। পরিবারসমূহ স্নেহ, ভালোবাসা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে সুরক্ষিত।
এছাড়া বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী পরিবারের সদস্যরা কাজ ভাগ করে নেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
