প্রেষণা হলো কর্মসংক্রান্ত মনোবল যা মানুষকে কোনো কাজে উদ্বুদ্ধ করে
দৈনন্দিন কাজ ও সময়কে ভিত্তি করে যে পরিকল্পনা করা হয়, তাকে সময় তালিকা বলে।
সময় পরিকল্পনা করার পর তা বাস্তবায়ন করতে হবে। সময় সম্পর্কে যে সচেতন তার জন্য সময় তালিকা বাস্তবায়ন করা সহজ। এটি বাস্তবায়নের সময় যদি হঠাৎ করে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তখন নমনীয় বৈশিষ্ট্যের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হয়। সময় তালিকা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে যে, সময় তালিকা অনুযায়ী সব কাজকরা হয়েছে কিনা। সময় তালিকাটি এমন জায়গায় রাখতে হবে যাতে সহজেই নজরে আসে। এছাড়া এটি বাস্তবায়নে ঘড়ি দেখার অভ্যাস করতে হবে। সুতরাং, সময় তালিকা বাস্তবায়নে সচেতনতা আবশ্যক।
রাজিন নৈরাশ্যজনিত মানসিক ক্লান্তিতে ভুগছে। নৈরাশ্য ও হতাশা থেকে যে মানসিক ক্লান্তির সৃষ্টি হয় তাই নৈরাশ্যজনিত ক্লান্তি। এটি অনেক কারণে হতে পারে।
কাজে ব্যর্থতা থেকে নৈরাশ্যজনিত ক্লান্তিবোধ হতে পারে। কাজের বিষয়ে কোনো ধারণা না থাকলে হতাশার সৃষ্টি হয়। ফলে কাজে বিশৃঙ্খলা ও গোলমাল দেখা দেয়; যা মানসিক ক্লান্তি সৃষ্টি করে। রাজিনের ইচ্ছা ছিল, সে বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য যাবে। কিন্তু কয়েকবার চেষ্টা করে সে ব্যর্থ হয়। এর ফলে তার মন খারাপ হলো। সে হতাশ হয়ে পড়ল। এই হতাশাই তার মধ্যে নৈরাশ্যজনিত মানসিক ক্লান্তি সৃষ্টি করেছে।
রাজিনের বাবা বলেন, "অবস্থার প্রেক্ষিতে লক্ষ্যকে পরিবর্তন করতে হয়।" তার উক্তিটি অত্যন্ত যৌক্তিক।
আমাদের পারিবারিক জীবনচক্রের বিভিন্ন স্তরে লক্ষ্যের পরিবর্তন হয়। কখনও কখনও কোনো লক্ষ্যকে একেবারে বাদ দেওয়া হয়, আবার কখনও অর্জন করা কষ্টকর বলে তাকে অযৌক্তিক মনে হয়। পরিবারের সদস্যদের মনোভাব ও আগ্রহ অনেক সময় নতুন লক্ষ্যের সৃষ্টি করে।মৃত্যু, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা, বেকারত্ব, চাকুরিচ্যুতির মতো দুঃসময়েও হঠাৎ লক্ষ্য পরিবর্তন করতে হয়। এ ঘটনাগুলো পারিবারিক জীবনে অনেক পরিবর্তন আনে। এক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পদের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক উদ্দেশ্যগুলোকে পুনরায় বিবেচনা করে দেখার প্রয়োজন।
পরিবারের প্রত্যেকেরই নিজস্ব কিছু চাহিদা আছে। এ চাহিদা থেকে নিজস্ব পছন্দ তৈরি হয়। যখন সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্তের ওপর লক্ষ্য স্থির করা হয় তখন দ্বন্দ্ব কম হয় এবং তা অর্জনও সহজ হয়।
রাজিনের স্বপ্ন ছিল উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়া। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও সে ব্যর্থ হয়। এতে রাজিনের মন খারাপ হলে বাবা উল্লিখিত উক্তিটি করেন এবং তা অত্যন্ত যৌক্তিক।
Related Question
View Allপ্রকৃত আয় পরিবারের নির্দিষ্ট সময়ে ভোগ্য দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্ম দ্বারা গঠিত। প্রকৃত আয় বাড়ানোর উপায়গুলো হলো-
যখন বিভিন্ন দোকান বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হ্রাসকৃত মূল্যে দ্রব্যসামগ্রী বিক্রি করে তখন সেগুলো কেনা। পরিচিত ব্যক্তি যেমন- চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রকৌশলী ইত্যাদি পেশার ব্যক্তির কাছ থেকে পরিবার স্বল্প মূল্যে বা বিনামূল্যে সেবা লাভ করে আয় বাড়াতে পারে। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেও প্রকৃত আয় বাড়ানো যায়। যেমন: সরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা গ্রহণ।
কাজ ও সময়কে ভিত্তি করে যে পরিকল্পনা করা হয় তাই সময় তালিকা।
মিতা একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় প্রায়ই তার কলেজে যেতে দেরি হয়। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত সে টিভি দেখে। পরীক্ষায় সে ভালো ফলাফল করতে পারে না। এই সমস্যা দূর করতে মিতার সময় তালিকা অনুসরণ করা উচিত।
মিতার জন্য কলেজ খোলার দিনের একটি সময় তালিকা উল্লেখ করা হলো-
| সময় | কার্য বিবরণী | সময়ের পরিমাণ | |
| ঘণ্টা | মিনিট | ||
| ৬.০০-৭.০০ | ঘুম থেকে ওঠা, বিছানা গোছানো, হাতমুখ ধোয়া, ধর্মীয় কাজ করা, নিজস্ব কোনো কাজ করা। | ১ | ০০ |
| ৭.০০-৭.৩০ | নাস্তা তৈরিতে সাহায্য করা, নাস্তা খাওয়া। | ০ | ৩০ |
| ৭.৩০-৯.০০ | পড়াশোনা করা | ১ | ৩০ |
| ৯.০০-১০.৩০ | টিউটর থাকলে পড়া/লেখাপড়া করা। | ১ | ৩০ |
| ১০.৩০-১১.০০ | গোসল করা, খাওয়া, কলেজের জন্য তৈরি হওয়া। | ০ | ৩০ |
| ১১.০০-০৪.৩০ | শ্রেণিকক্ষে অবস্থান, পাঠে মনোযোগ দেওয়া। | ৫ | ৩০ |
| ৪.৩০-৫.০০ | বাসায় পৌছানো, নামাজ পড়া। | ০ | ৩০ |
| সময় | কার্য বিবরণী | সময়ের পরিমাণ | |
| ঘণ্টা |
মিনিট | ||
| ৫.০০-৬.৩০ | বিশ্রাম ও হালকা নাস্তা খাওয়া, বাড়ির কাজে সাহায্য করা। | ১ | ৩০ |
| ৬.৩০-৭.০০ | নামাজ পড়া। | ০ | ৩০ |
| ৭.০০-১০.৩০ | পড়াশোনা করা। | ৩ | ৩০ |
| ১০.৩০-১১.১০ | নামাজ পড়া, খাওয়া | ০ | ৪০ |
| ১১.১০-১১.২০ | দাঁত ব্রাশ করা, ঘুমের জন্য তৈরি হওয়া। | ০ | ১০ |
| ১১.২০-৬.০০ | ঘুমানো। | ৬ | ৪০ |
| মোট সময় | ২৪ ঘণ্টা | ০০ | |
কাজ সহজকরণের উপায় হলো কাজকে সহজ উপায়ে সম্পাদন করা।
বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সময় ও শক্তির সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে যেকোনো কাজ সহজে সম্পন্ন করার পদ্ধতিই হলো কাজ সহজকরণ পদ্ধতি।
-সহজকরণ পদ্ধতি অবলম্বন করে কাজ করলে সমস্যায় পড়তে হয় না। যেমন- কাজের সময় দুই হাত ব্যবহার করা, সঠিক দেহভঙ্গি নিয়ে
কাজ করা, যেকোনো কাজ করার সময় কাজের ধারা সম্পর্কে ধারণা থাকা, ভারি কাজের পর হালকা কাজ করা ইত্যাদি। কাজের সরঞ্জাম সরল ও মজবুত হতে হবে। কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন এনেও কাজ সহজ করা যায়। যেমন- শাকসবজি একবারে ধুয়ে কাটার পর পাত্রে রাখা, যেন অন্য পাত্রে রাখার প্রয়োজন না হয়। উৎপাদিত দ্রব্য পরিবর্তন করেও সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করা যায়। যেমন- গৃহিণী টেবিল ক্লথের পরিবর্তে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন। ফলে ধোয়ার জন্য সময় ও শক্তি ব্যয় হবে না। এছাড়া গৃহস্থালির কাজ সহজ ও সংক্ষেপে করার জন্য অনেক নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার হচ্ছে যা সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করতে সাহায্য করে। যেমন- ওয়াশিং মেশিন, প্রেসার কুকার ইত্যাদি।
সুতরাং, কাজ সহজকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে সময় ও শক্তি দুটোই সংরক্ষণ সম্ভব। মিতার বাবার এই উক্তিটি যথার্থ।
কোনো একটি কাজ সম্পূর্ণভাবে করার জন্য কাজের বিভিন্ন পর্যায়ের বর্ণনাই প্রসেস চার্ট।
কাজ সহজ করার বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করা যায়।
ব্যবহৃত দ্রব্যের পরিবর্তন করেও সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করা যায়। যেমন- খাবার টেবিলে কাপড়ের টেবিল ক্লথ ব্যবহার না করে প্লাস্টিকের টেবিল ক্লথের উপর টেবিল ম্যাট ব্যবহার করলে গৃহ ব্যবস্থাপকের পরিশ্রম কম হয়, সহজেই টেবিল পরিষ্কার করা যায়। এতে সময় ও শক্তি ব্যয় কম হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!