স্বপন পিতা-মাতার খুব আদরের সন্তান। কিছুদিন পূর্বে পিতার মৃত্যু হলে সে খুব মুষড়ে পড়ে। ঘুমের মধ্যে সে প্রায়শই স্বপ্নে দেখে যে, পিতা তার পড়ার টেবিলের পাশে বসে পড়ালেখার খোঁজ খবর নিচ্ছেন। কয়েকদিন আগে সে স্বপ্নে দেখে মাসহ বাবার সাথে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পরদিন স্বপনের মা বাড়িতে কিছু ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। স্বপন বাবার আত্মার শান্তির চিন্তায় পড়ালেখায় আরো বেশি মনোযোগী হয়। 

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে গারো সম্প্রদায় নতুন আমন ধান উঠার পর শস্য দেবতা মিসি সালজংকে তুষ্ট করার জন্যে ওয়ানগালা উৎসব পালন করে।

এই উৎসবকে পরিপূর্ণ করে তোলার জন্যে তারা প্রীতিভোজের আয়োজন করে। গারো সম্প্রদায়ের লোকজন উৎসবমুখর পরিবেশে অত্যন্ত উৎফুল্লভাবে অংশগ্রহণ করে। খাবার গ্রহণের পর তারা আবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। এখানে স্পষ্টতই ধর্মের অন্তরজা দিক হলো দেবতাকে তুষ্ট করা আর বহিরঙ্গ দিক সকলের জন্যে দুপুরের খাবারের আয়োজন করা।

আমরা জানি, প্রকৃতির দুটি দিক হলো অন্তরঙ্গ ও বহিরঙ্গ। বৌদ্ধ ধর্মে ঈশ্বরের কথা না থাকায় অন্তরঙ্গ দিকটির অনুপস্থিত তা ভাবার কারণ নেই। কারণ অগাস্ট কোঁৎ মানবতাকে ধর্মের সাথে অভিন্ন মনে করেছেন। এখানে মানুষকে ভালোবাসাই হলো অন্তরঙ্গ দিক। আর বৌদ্ধধর্মের আচার অনুষ্ঠান পালন করা হলো বহিরঙ্গ দিক। খ্রিষ্টধর্মের ক্ষেত্রে অগাস্ট কোঁৎ মানবতাবাদের বিষয়টি দেখেছেন। এই মানবতাবাদ ধর্মের সামাজিকতাকেই বড় করেছে। খ্রিষ্টান ধর্মে ঈশ্বরের উপস্থিতি রয়েছে। আর খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা মানুষের উপকারার্থে নানারকম কল্যাণমূলক কাজ করে। ঈশ্বর এবং কল্যাণমূলক কাজ ধর্মের প্রকৃতির অন্তরঙ্গ ও বহিরঙ্গ দুটি দিকেরই অস্তিত্বকে বোঝায়। ইসলাম ধর্মে ধর্মের প্রকৃতির রূপ দুটি। আল্লাহকে প্রার্থনা করা অন্তরঙ্গ দিক এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা বহিরঙ্গ দিকের বহিঃপ্রকাশ। হিন্দু ধর্মে ধর্মের প্রকৃতির রূপ দুটি। ভগবানের প্রার্থনা করাকে অন্তরঙ্গ দিক এবং বিভিন্ন ধর্মীয় পূজাপার্বণ পালন করা বহিরঙ্গ দিককে বোঝায়।

উপরের আলোচনার বিশ্লেষণের প্রেক্ষিতে বলা যায়, ধর্মের প্রকৃতি দুটি যথা- অন্তরঙ্গ এবং বহিরঙ্গ। আর এই অন্তরঙ্গ এবং বহিরঙ্গের মাধ্যমে ধর্ম পরিপূর্ণতা পায় । 

উত্তরঃ

আচার অনুষ্ঠান ছাড়া ধর্ম, ধর্ম নয়- বক্তব্যটি ধর্মীয় আচার- আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরে।

পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষই কোনো না কোনো ধর্মের অনুসারী। আর এই ধর্মকে পালন করা হয় কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। আচার অনুষ্ঠান ধর্মের অন্যতম মৌল উপাদান। মানুষ তার ধর্মীয় মনোভাব প্রকাশ করে এই আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। অতএব বলা যায়, আচার-অনুষ্ঠান ছাড়া ধর্ম হতে পারে না।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের স্বপনের ঘটনা ধর্মের উৎপত্তি সংক্রান্ত সর্বপ্রাণবাদ তত্ত্বের সাথে মিল আছে।

প্রকৃতির অন্তরালের অলৌকিক শক্তিতে আস্থাই হচ্ছে সর্বপ্রাণবাদ। সর্বপ্রাণবাদ তত্ত্বের মূলকথা হলো মানুষ প্রথমে আত্মার ধারণায় উপনীত হয়েছে; তারপর সকল বস্তুতে আত্মার বা প্রাণের ধারণা আরোপ করেছে; এভাবেই মানুষ মহাশক্তিধর খোদা বা ঈশ্বরের ধারনায় উপনীত হয়েছে এবং ধর্মের উদ্ভব ঘটেছে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, কিছুদিন পূর্বে স্বপনের বাবার মৃত্যু হলে সে মুষড়ে পড়ে। ঘুমের মধ্য সে প্রায়ই স্বপ্নে দেখে তার পিতা পড়ার টেবিলের পাশে বসে ওর পড়ালেখার খোঁজ নিচ্ছে। অর্থাৎ স্বপন এখানে তার পিতার আত্মার উপস্থিতি অনুভব করছে, যা ধর্মের সর্বপ্রাণবাদ তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের স্বপনের ঘটনার সাথে ধর্মের উৎপত্তি সংক্রান্ত সর্বপ্রাণবাদ তত্ত্বের মিল আছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের স্বপনের লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার মাধ্যমে বোঝা যায় ধর্মের সামাজিক গুরুত্ব রয়েছে- বক্তব্যটি যৌক্তিক।

পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকেই ধর্মের একটি আধিপত্যবাদ ছিল। যুগে যুগে ধর্ম মানুষকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করেছে। সব সময়ই ধর্মের একটি সামাজিক গুরুত্ব ছিল। সামাজিকতার মধ্য দিয়েই ধর্মীয় কর্মগুলো সম্পাদন করা হয়। ধর্মের অমোঘ বানী সবসময়ই মানবমনে স্পৃহা জাগিয়েছে, করেছে উদ্যমী। ধর্মের দ্বারা প্রভাবিত হয়েই আমরা ভালো কাজের দিকে ঝাপিয়ে পড়ি, সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করি। ধর্ম আমাদের মনে শক্তি যোগায়, আত্মশক্তিতে বলীয়ান করে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, স্বপনের বাবা স্বপ্নযোগে এসে লেখাপড়ার ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়। এতে স্বপনের মধ্যে স্পৃহা বেড়ে যায়। ফলে সে লেখাপড়ায় আরো মনোযোগী হয়। স্বপ্নের মধ্যে তার বাবার উপস্থিতি সে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছে। আর এর পিছনে কাজ করেছে ধর্ম।

উল্লিখিত আলোচনা শেষে বলা যায়, স্বপনের পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ার মধ্য দিয়ে ধর্মের সামাজিক গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।

75

Related Question

View All
উত্তরঃ

সমাজস্থ কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীর মধ্যে সাম্যের অভাবই সামাজিক অসমতা।

অসমতা বলতে মূলত সমতার অভাবকে বোঝায়। মানুষের পদমর্যাদা, ক্ষমতা, সম্পদ, সুযোগ প্রভৃতির ভিত্তিতে সামাজিক ক্ষেত্রে সৃষ্ট অসম ও অনাকাঙ্ক্ষিত পার্থক্যই হলো সামাজিক অসমতা। মানবসমাজ বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নানা বৈচিত্র্যময় বিষয়ের ভিত্তিতে বিভাজিত। মানবসমাজের এ বৈচিত্র্যপূর্ণ বিভাজন সমাজজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।

7.5k
উত্তরঃ

উদ্দীপকে ধর্ম নামক সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

মানবসমাজে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Religion' যার অর্থ বন্ধন বা সংহতি। ধর্মের ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, ধর্ম হলো এমন একটি ধারণা যা কোনো একটি বিশেষ শক্তিধর সত্তায় বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে অভিন্ন ধারণা পোষণকারীদের ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ করে রাখে। নৃবিজ্ঞানী জেমস ফ্রেজার বলেন, "ধর্ম হচ্ছে অলৌকিক শক্তিতে বিশ্বাস। আর এ শক্তি মানবজীবন ও প্রকৃতির ধারাকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে।" সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার বলেন, "ধর্ম কেবল মানুষের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে তা নয়, ধর্ম মানুষ ও অন্য কোনো উর্ধ্ব শক্তির মধ্যে সম্পর্কের সৃষ্টি করে।" মানব সমাজের বিভিন্ন পাঠে বিভিন্ন স্থানে ধর্মের বিচিত্র রূপ লক্ষ করা যায়। প্রাচীনকাল হতেই মানুষ কোনো শক্তির ওপর ভয় ও বিশ্বাস স্থাপন করে মনস্তাত্ত্বিক পরিতৃপ্তির সাথে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে আসছে। বিপদ আপদ হতে মুক্তি পাবার আশায় মানুষ প্রার্থনা করছে। আর এ প্রার্থনাকে কেন্দ্র করে ইহজাগতিক মুক্তির লক্ষ্যে নির্মিত সংস্কৃতি থেকেই ধর্মের উৎপত্তি।

উপরের আলোচনা ও ধর্মের সংজ্ঞা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে ধর্ম নামক সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

335
উত্তরঃ

মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই উক্ত প্রতিষ্ঠান তথা ধর্ম; সামাজিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে- আমি এ উক্তির সাথে একমত।

ধর্মের একটি সামাজিক দিক রয়েছে। সামাজিক সংহতি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মধ্য দিয়ে ধর্ম তার সামাজিক ভূমিকা পালন করে থাকে। ব্যক্তি মানুষের আচার-আচরণ এবং সমাজজীবনের ধারা ধর্মীয় অনুশাসনের দ্বারা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রত্যক্ষ ও প্রচ্ছন্ন প্রভাব সামাজিক ব্যক্তিবর্গের পারিবারিক ও গোষ্ঠীজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে আছে। বিশেষ করে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনধারার ওপর ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব অপরিসীম। ধর্ম মানুষকে নীতিবান করে তুলে এবং সামাজিক বিধি-নিষেধ মেনে চলতে উৎসাহিত করে। ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে পারে। ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এর ফলে মানুষের আচার-ব্যবহার স্বভাবতই সংযত হয়ে পড়ে। ধর্ম বিশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের মনে উদয় হয় ভয় মিশ্রিত এক শ্রদ্ধা-ভক্তির মনোভাব। এই মনোভাবের ভিত্তিতে ব্যক্তি মানুষ তার বাহ্যিক আচার-আচরণকে সংযত ও নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য হয়। সমগ্র সমাজকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ধর্মের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সমাজজীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায় যে, মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই ধর্ম সামাজিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আর এ কারণেই আমি প্রশ্নোল্লিখিত উক্তির সাথে সহমত পোষণ করি।

285
উত্তরঃ

মানবসৃষ্ট সবকিছুর সমষ্টিই হলো সংস্কৃতি।

300
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews