'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধে উল্লিখিত 'মস্ত সত্যি' কথাটি হচ্ছে-"দশচক্রে ভগবান ভূত।"
স্পিরিট' বা আত্মার পবিত্রতা নষ্ট হয় ভাবের চোটে না বুঝে না শুনে শুধু একটু নাম বা বদনামের ভয়ে কাজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে সরে দাঁড়ালে।
প্রত্যেক মানুষেরই ভালো-মন্দের সুখ-দুঃখের বিবেচনাবোধ আছে। পড়ে পড়ে মার খাওয়া, পরাধীনতার গ্লানি বয়ে বেড়ানো সহ্যের শেষ সীমায় দাঁড়ানো মানুষেরও অনুভূতি আছে। সেই অনুভূতি বা ভাবকে জাগিয়ে তুলতে হবে। তবে তা হুজুগে মেতে করলে হবে না। তা করতে হলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে। আত্মস্বার্থ ত্যাগ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হতে হবে। সৎ সংকল্প, মহৎ ত্যাগকে স্থায়ীরূপে বরণ করে নিতে পারলে তবেই তা সম্ভব হবে। না হলে তাতে জাতির কল্যাণ না হয়ে অকল্যাণ ডেকে আনবে। কারণ স্পিরিট বা আত্মার পবিত্রতা বজায় রাখতে হলে মনুষ্যত্ব অর্জন করে ভাব ও কাজের সমন্বয় ঘটাতে হবে।
উদ্দীপকে পরোক্ষভাবে 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের ভাব ও কাজের সমন্বয় সাধনের দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
যেকোনো কাজের সফলতার জন্য কর্মদক্ষতা ও অধ্যবসায় প্রয়োজন। পরিপূর্ণ জ্ঞান ও দক্ষতা না নিয়ে কোনো কাজে অগ্রসর হওয়া উচিত নয়। কোনো কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হলে ওই কাজের জন্য নিয়োজিত ব্যক্তিকে উপযুক্ত জ্ঞানবুদ্ধি ও দক্ষতার অধিকারী হতে হয়। না হলে ওই কাজের সফলতা অর্জিত হয় না।
উদ্দীপকে স্বাধীনতা অর্জনের পর তা কীভাবে অর্থবহ করে তোলা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। স্বাধীনতা অর্জন মানে পরাধীনতা থেকে মুক্তি, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক অধিকার অর্জন। প্রথম সংগ্রাম ছিল শত্রুর হাত থেকে দেশকে, দেশের মানুষকে উদ্ধার এবং তাদের তাড়িয়ে নিজের দেশকে নিজের করে নেওয়ার সংগ্রাম। আর দ্বিতীয় সংগ্রাম হচ্ছে- নিজের দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল ও উন্নত করার জন্য কাজ করা। উদ্দীপকের এই মৌল বিষয়টি আলোচ্য 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ সেখানে শুধু ভাব বা শুধু কাজ নয়, দেশ ও জাতির কল্যাণে এ দুইয়ের সমন্বয় সাধন করার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়টি স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার দিকটিকে প্রতিফলিত করেছে।
"উদ্দীপকের মূলভাব 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের একটি বিশেষ বিষয়কে নির্দেশ করে, পুরো ভাবকে ধারণ করে না।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাঙালি কাজে মজার চেয়ে ভাবে মজে বেশি। বাঙালি আবেগের বশে বহু ক্ষেত্রেই অবশ হয়ে পড়ে। ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি না করে সে নানা সমস্যা-সংকটে পড়ে কষ্টভোগ করে। কোনো কিছু অর্জনে বাঙালি যে পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করে, সেই অর্জনকে ধরে রাখার বেলায় তা করে না। তারা বহু মূল্যে পাওয়া ধন অবহেলায় হারায়।
উদ্দীপকে স্বাধীনতা অর্জন এবং এর মূল্য ও মর্যাদা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। বহু সংগ্রাম, রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এর চেয়ে কঠিন কাজ স্বাধীনতাকে রক্ষা করে ফলপ্রসূ করা। কারণ জাতীয় নানা সমস্যা-সংকটের কারণে স্বাধীনতার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। জাতীয় ঐক্যের অভাবে স্বাধীনতার পূর্ণ সুখ-সুবিধা থেকে জাতি বঞ্চিত হয়। দেশের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বনির্ভরতার প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় না। উদ্দীপকের এই বিষয়টি পরোক্ষভাবে 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধে প্রতিফলিত হয়েছে। সেখানে উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য ভাব ও কাজের সমন্বয় সাধন করতে বলা হয়েছে।
'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধে লেখক ভাব ও কাজের সংজ্ঞা, একটির সঙ্গে অন্যটির সম্পর্ক এ দুইয়ের ঐক্যসাধনের সুফল, এ দুইয়ের ব্যবধানের কুফল ইত্যাদি আলোচিত হয়েছে। ব্যক্তি থেকে সমাজ, দেশ ও জাতীয় উন্নতির ক্রমধারায় ভাবের জাগরণ কীভাবে ভূমিকা রাখে এবং কাজের সঙ্গে তার সমন্বয় সাধন না হলে তা কীভাবে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় তা তুলে ধরা হয়েছে। এগুলোর কিছু কিছু বিষয় আলোচ্য উদ্দীপকে পরোক্ষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু পুরো বিষয় তাতে প্রতিফলিত হয়নি। কারণ প্রবন্ধে লেখক বিভিন্ন উপমা ও উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। আলোচ্য উদ্দীপকে অনুরূপ ব্যাখ্যা নেই। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allযিনি ভাবের বাঁশি বাজিয়ে জনসাধারণকে নাচাবেন তাঁকে নিঃস্বার্থ ত্যাগী ঋষি হতে হবে।
মানুষের মুক্তি ও উন্নতি সাধনের জন্য লেখক 'স্পিরিট' বা আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে বলেছেন।
একটি দেশের সার্বিক কল্যাণ সাধনে তরুণরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের মুক্তি, উন্নতি ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে তরুণরাই ভরসার স্থল। যুগে যুগে এদেশের যত অর্জন হয়েছে সেগুলো তাদের তারুণ্যের, চেতনার পথ ধরেই হয়েছে। তারা আত্মসচেতন হলে সমস্ত অন্যায়, অবিচার, নীচতা-হীনতা দূর হয়, সত্য-সুন্দর ও ন্যায়ের পথ সুগম হয়। এর জন্য অবশ্য প্রয়োজন হয় আত্মার শক্তি। এসব কারণে লেখক তরুণদের মধ্যে স্পিরিট বা আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে বলেছেন।
উদ্দীপকটি 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের ভাবের দাসত্ব না করে 'ভাব'কে কাজের দাসরূপে নিয়োগ করার দিকটি নির্দেশ করে।
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। পরিশ্রম না করে কেউ উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে পারে না। বাঙালির অনগ্রসরতার মূলে রয়েছে তাদের শ্রমবিমুখতা। তারা ভাবের দাসত্বে চেতনাহীন। কাজের সঙ্গে তাদের ভাবের সমন্বয় ঘটে না।
উদ্দীপকে ভাবকল্পনা এবং কর্মের বিষয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখানে শুধু ভাব দিয়ে যে উন্নতি সম্ভব নয় সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যমে নিজের সৃজনীশক্তির বিকাশ ঘটিয়ে কর্মানুশীলনের মাধ্যমে নিজের, দেশ ও জাতির কল্যাণের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টি আলোচ্য 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের আলোচিত বিষয়ের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সেখানে লেখক 'ভাব' ও 'কাজ' এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে দেশ ও জাতির মুক্তি ও উন্নতির কথা বলেছেন। লেখক বলেছেন, "ভাব'কে কার্যের দাসরূপে নিয়োগ করিতে না পারিলে ভাবের কোনো সার্থকতাই থাকে না।" উদ্দীপকেও এর সমর্থন পাওয়া যায়।
"কল্পনার জগতে হাবু-ডুবু না খেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক"- মন্তব্যটি 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের আলোকে যথার্থ।
বাঙালি শ্রমবিমুখ বলে পৃথিবীর বহু জাতি থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। তাদের মনে ভাবকল্পনার শেষ নেই। আর সেই কারণেই জীবনের অশেষ কাজ পেছনে পড়ে থাকে। যা তাদের জীবনের উন্নতি ও অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধে প্রতিফলিত ভাবের দাসত্ব না করে কাজে অগ্রসর হয়ে 'ভাব'কে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। শুধু স্বপ্ন ও কল্পনায় বিভোর থাকলে জীবনে উন্নতি করা সম্ভব নয়। ভাবকে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে না পারলে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভব নয়। 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধে শুধু ভাব দিয়ে যে কিছুই অর্জন করা যায় না সেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দেশ ও জাতির উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য কর্মশক্তি এবং সঠিক উদ্যোগের দরকার হয়। ভাবের মাধ্যমে মানুষকে জাগিয়ে তোলা যায়, কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনা ও কাজের স্পৃহা ছাড়া যেকোনো ভালো উদ্যোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধে শুধু ভাবের উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত না হয়ে, ভাবের সঙ্গে পরিকল্পিত কর্মশক্তি ও বাস্তব উদ্যোগের প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ভাব বিষয়টি মূলত আবেগনির্ভর। তাই শুধু ভাব বা আবেগ দিয়ে কাজ সম্পাদিত হয় না। কাজের জন্য এর যথার্থ প্রয়োগ আবশ্যক। কাজেই সার্বিক মুক্তি, উন্নতি ও কল্যাণের জন্য ভাব-কল্পনার সঙ্গে কাজের সমন্বয় সাধন করতে হয়। এসব দিক বিচার করে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
দেয়াল ভাঙতে হলে দেয়ালের ভিত্তিমূলে শাবল মারতে হবে।
প্রশ্নোক্ত বাক্যটি দ্বারা লেখক মানুষের মুক্তি ও উন্নতির পথের অন্তরায়গুলো দূর করতে চাইলে অন্যায়ের ভিত্তিমূলে প্রতিবাদের শাবল মারার নির্দেশ করেছেন।
সাধারণভাবে কোনো ভালো কাজের পক্ষে যেমন সমর্থন পাওয়া যায়, তেমনই এর বিপরীত প্রতিক্রিয়া ও কার্যক্রমও লক্ষ করা যায়। সমাজের এক শ্রেণির মানুষ চেষ্টা করে যাতে কাজটা না হয়, কাজটি যাতে থেমে যায়। এতে আমাদের মহৎ উদ্দেশ্য নষ্ট হয়, কর্মস্পৃহা কমে যায়। আমরা লোকভয়, লোকলজ্জা এবং নানা সমস্যা-সংকট বিবেচনা করে রণে ভঙ্গ দিই। প্রকৃতপক্ষে তা করা উচিত নয়। আমাদের উচিত সর্বশক্তি নিয়ে তাঁদের হীনশক্তির মূলে আঘাত করে প্রতিবাদ করে নিজেদের অধিকার, স্বাধীনতা এবং যাবতীয় প্রাপ্য বুঝে নেওয়া। তাতেই আমাদের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!