কর্মীর মাঝে কর্ম করার আগ্রহ, উদ্দীপনা বা প্রেরণা সৃষ্টি করে এমন সুযোগ-সুবিধা বা উপায়কে উদ্দীপক বলে।
একই পরিমাণ উপকরণ ব্যবহার করে পূর্বের চেয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে তাকে উৎপাদনশীলতা বলে।
উৎপাদনশীলতার বিষয়টিকে বিভিন্নভাবে বিবেচনা করা সম্ভব। একজন একই পরিমাণ সময় ব্যয় করে যে পরিমাণ কাজ বা. উৎপাদন করে অন্যজন তার চেয়ে বেশি কাজ বা উৎপাদন করে। এখানে পরের জনের উৎপাদনশীলতা বেশি। উৎপাদনের বিভিন্ন উপাদান এবং তার কার্যকারিতা বিবেচনায় নিয়েও পরিমাপ সম্ভব। উৎপাদনশীলতাকে নিম্নোক্ত সমীকরণের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়:
উৎপাদনশীলতা = উৎপাদিত পণ্য (আউটপুট)/ উৎপাদনে ব্যবহৃত উপাদান (ইনপুট)
কর্মীদের প্রেষণার কথা বিবেচনা করে হাসান ইমাম তার প্রতিষ্ঠানে অনার্থিক প্রেষণা প্রয়োগ করেন।
কর্মীদের প্রণোদিত করার জন্য অর্থের বাইরে যেসকল উদ্দীপক ব্যবহৃত হয়, তাকে অনার্থিক প্রেষণা বলে। যেখানে আর্থিক প্রেষণা দ্বারা সঠিক ফললাভ করা না যায়, সেখানে অনার্থিক প্রেষণা দ্বারা ফললাভ করা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক প্রেষণার পাশাপাশি অনার্থিক প্রেষণাও দিতে হয়।
উদ্দীপকে হাসান ইমাম, তার প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের প্রেষণার কথা চিন্তা করে তিনি উপযুক্ত কর্মীদের চাকরি স্থায়ী করেন, কারখানায় বিনোদনের ব্যবস্থা করেন এবং অদক্ষ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেন। এসকল প্রেষণা অনার্থিক প্রেষণাদানের অন্তর্ভুক্ত বিধায় বলা যায়, উদ্দীপকে জনাব হাসান ইমাম তার প্রতিষ্ঠানে অনার্থিক প্রেষণা প্রয়োগ করেন।
প্রেষণা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাসান ইমাম অনার্থিক প্রেষণাদানের ব্যবস্থা করেন, যা পুরোপুরি বাস্তবসম্মত নয়।
আধুনিক ব্যবস্থাপনায় শ্রমিক-কর্মীদের নিকট হতে কাজ আদায়ে প্রেষণাদানের গুরুত্ব অপরিসীম। অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানসমূহে আর্থিক ও অনার্থিক প্রেষণা দেওয়া হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে হাসান ইমাম অনার্থিক প্রেষণা দেন। তিনি লক্ষ করেন তার প্রতিষ্ঠানে উৎপাদনশীলতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। তাই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রেষণা দানের লক্ষ্যে চাকরি স্থায়িত্বকরণ, 'বিনোদনের ব্যবস্থা এবং অদক্ষ কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তাতেও উৎপাদনশীলতা কাঙ্ক্ষিতভাবে অর্জিত হয় নি। উদ্দীপকে হাসান ইমামের উচিত ছিল অনার্থিক প্রেষণার পাশাপাশি আর্থিক প্রেষণা দেওয়া। তিনি কর্মীদের আর্থিক প্রেষণার আওতায় ন্যায্য বেতন, মুনাফার অংশ, বোনাস, আর্থিক নিরাপত্তা, বাসস্থান ভাতা, যাতায়াত ভাতা, পদোন্নতি, আর্থিক পুরস্কারসহ বিভিন্ন প্রণোদনামূলক প্রেষণা দেওয়া। কারণ প্রতিষ্ঠানে শুধু অনার্থিক প্রেষণা দ্বারা ফললাভ করা না গেলে পাশাপাশি আর্থিক প্রেষণাও প্রদান করা দরকার।
সুতরাং আমি বলব, প্রেষণা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাসান ইমাম কর্তৃক শুধু অনার্থিক প্রেষণা গ্রহণ করা পুরোপুরি বাস্তবসম্মত নয়।
Related Question
View Allন্যূনতম বাঁচার বা জীবনধারণের প্রয়োজনকে জৈবিক চাহিদা বলে।
প্রখ্যাত মার্কিন মনোবিজ্ঞানী ফ্রেডেরিক হার্জবার্গ প্রেষণার Y তত্ত্বের প্রবক্তা।
এরূপ তত্ত্বে কর্মীদের সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণা করা হয়। এক্ষেত্রে মনে করা হয় কর্মীরা কাজ করতে পছন্দ করে এবং তারা স্বউদ্যোগেই চলতে চায়। এ কারণে কর্মীদের ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি না করে তাদের স্বেচ্ছায় কাজ করতে দেওয়া হয়। এ তত্ত্ব কর্মীদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই Y তত্ত্বকে ইতিবাচক বলা হয়।
উদ্দীপকের কর্মপরিবেশ অনার্থিক ইতিবাচক প্রেষণা।
অর্থ বা আর্থিক সুযোগ-সুবিধার বাইরে প্রেষণাদানের যে সকল উপায় রয়েছে তার মাধ্যমে প্রেষণাদানকেই অনার্থিক প্রেষণা বলে। তেমনি একটি প্রেষণা হলো সুষ্ঠু কার্যপরিবেশ। কর্মী যে পারিপার্শ্বিকতায় কাজ করে তা কর্মবান্ধব হওয়াকেই সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ হিসেবে গণ্য করা হয়। পর্যাপ্ত জায়গা, আলো-বাতাসের ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সাজানো- গুছানো পরিবেশ, উপযুক্ত নিয়ম-রীতি, উত্তম শ্রম-ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক সবমিলিয়েই প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ গড়ে ওঠে। কর্মী যেখানে কাজ করে সেই স্থানের পরিবেশ উন্নত হলে তা কর্মীদের মনোবল উন্নত করে। তখন কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে।
উদ্দীপকে M & M কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ কর্মীদের কর্মপরিবেশ বহুলাংশে বৃদ্ধি করায় শ্রমিক-কর্মীরা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করছে। এর ফলে কর্মীদের মনোবল উন্নত হয় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে। তখন প্রতিষ্ঠান তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য সহজেই অর্জন করতে পারে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ একটি অনার্থিক ইতিবাচক প্রেষণা।
অর্থ ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধার সাথে সম্পৃক্ত প্রণোদনামূলক ব্যবস্থাকে আর্থিক প্রেষণা বলে। এ আর্থিক প্রেষণা কর্মীদের কাজের গতিকে বৃদ্ধি করে।
ব্যবস্থাপনার কাজ হলো অন্যের দ্বারা কাজ সম্পাদন করিয়ে নেওয়া। কিন্তু কাজের ব্যাপারটি বিশেষভাবে কর্মীদের কার্য সন্তুষ্টির সাথে সম্পর্কিত। আর উচ্চ কার্য সন্তুষ্টি সৃষ্টি করে প্রেষণা। তন্মধ্যে আর্থিক প্রেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতি এবং কাজের প্রতি কর্মীদের অধিক আন্তরিক করে তোলে। ন্যায্য বেতন, মুনাফার অংশ, বোনাস, আর্থিক নিরাপত্তা, অগ্রিম, বাসস্থান ভাতা, যাতায়াত ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, পদোন্নতি, আর্থিক পুরস্কার, রেশন সুবিধা, কেন্টিন সহযোগিতা ইত্যাদি নানা প্রকার আর্থিক সুবিধা কর্মীদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করে। ফলে কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকে M & M কোম্পানি বাংলা নববর্ষ উৎসব পালনের জন্য প্রত্যেককে বোনাস প্রদানের ঘোষণা দেয়। এর ফলে শ্রমিক-কর্মীরা বিপুল উদ্দীপনা নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে সেই সাথে কর্মীদের কাজের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ মানুষের জীবনে যে সীমাহীন অভাব লক্ষণীয় তার মুখ্য অংশের পূরণ অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট। কর্মীরা যখন আর্থিক প্রেষণা পায় তখন তারা আর্থিক দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে তাদের উৎপাদন কার্য চালিয়ে যায়। এতে কর্মীরা কাজে উৎসাহিত হয় এবং গতি বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং 'আর্থিক প্রেষণা কর্মীদের কাজের গতিকে বৃদ্ধি করে'- কথাটি যথার্থ।
সমাজের অন্যদের থেকে বা বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও সহকর্মীদের থেকে নিজেকে একটু উচ্চতায় এবং উপরে উঠার আগ্রহকে আত্মতৃপ্তির চাহিদা বলে।
কর্মীদেরকে কাজের প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে সেচ্ছাপ্রণোদিত করার কাজকে প্রেষণা বলে।
মনোবল মানসিক শক্তি সংশ্লিষ্ট। কর্মীদের মানসিক অবস্থা যদি প্রতিষ্ঠান ও কাজের প্রতি ইতিবাচক হয় তবে কর্মীর মনোবল উত্তম বিবেচিত হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য উত্তম প্রেষণার ব্যবস্থা করলে কর্মীদের কার্যসন্তুষ্টি বাড়ে যা তাদের মনোবল বৃদ্ধি করে। তাই প্রেষণার সাথে কর্মী মনোবলের সরাসরি সম্পর্ক বিদ্যমান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!