'Economy and Society' গ্রন্থটির রচয়িতা জার্মান দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার।
ফরাসি দার্শনিক অগাস্ট কোঁৎ তার Systeme de Politique Positive' গ্রন্থে সমাজবিজ্ঞানকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে শাস্ত্রটিকে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক গতিশীলতার বিজ্ঞান হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কোঁৎ সামাজিক স্থিতিশীলতা বলতে পরিবার, ধর্ম, শিক্ষা, বিবাহ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির পারস্পরিক সম্পর্কের আলোচনাকে বুঝিয়েছেন। কারণ তিনি মনে করেন, এ বিষয়গুলো তুলনামূলকভাবে স্থায়ী। অন্যদিকে সামাজিক গতিশীলতা বলতে তিনি বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান কীভাবে কালের চক্রের সাথে পরিবর্তিত হচ্ছে তার আলোচনাকে বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ সামাজিক গতিশীলতা সমাজের পরিবর্তন, বিবর্তন, প্রগতি, স্তরবিন্যাস ইত্যাদি বিষয় নিয়ে অধ্যয়ন করে। কোঁৎ মনে করেন, সমাজবিজ্ঞানে এ দুটি বিষয় সম্পর্কেই মূলত আলোচনা করা হয়। আর অগাস্ট কোঁৎ-এর এ মতের ওপর ভিত্তি করে সমাজবিজ্ঞানকে 'সামাজিক স্থিতিশীলতা ও গতিশীলতার বিজ্ঞান' বলা হয়।
জাউদ্দীপকের কমল হাসিবকে সমাজবিজ্ঞান শাস্ত্র পাঠ করার কথা বলেছে।
আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান এমন একটি মৌলিক সামাজিক বিজ্ঞান, যার মূল বিষয় হলো মানুষের সামাজিক সম্পর্কের সামগ্রিক আলোচনা। সামাজিক এ সম্পর্কের ভিতরে পারিবারিক জীবন যেমন অন্তর্ভুক্ত, তেমনি ব্যক্তির রাজনৈতিক জীবনও এর আওতাভুক্ত। আর রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো সমাজবিজ্ঞানের সেই বিশেষ শাখা, যা সমাজের রাজনৈতিক বিষয়াবলি আলোচনা করে। এ জন্যই বলা হয়, সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন না করলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্বরূপ অনুধাবন প্রায় অসম্ভব। কেননা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কেন্দ্রীয় বিষয় হলো রাষ্ট্র, আর এই রাষ্ট্র প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল সামাজিক সংগঠন। এ জন্যই সমাজবিজ্ঞান রাষ্ট্রের উৎপত্তি, বিকাশ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, উন্নয়ন ও আদর্শ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে। সুতরাং কোনো ব্যক্তি রাজনীতি করতে চাইলে তাকে অবশ্যই সমাজবিজ্ঞান পাঠ করতে হবে।
উদ্দীপকের হাসিব পড়াশোনা শেষ করে রাজনীতি করতে চায়। কিন্তু রাজনৈতিক উন্নয়ন, সংস্কৃতি, আদর্শ ইত্যাদি সম্পর্কে তার স্বচ্ছ ধারণা নেই। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কেও সে কিছুই জানে না। পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য হাসিবকে অবশ্যই সমাজবিজ্ঞান পাঠ করতে হবে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায় যে, কমল হাসিবকে রাজনীতি করার পূর্বে এ সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনের জন্য সমাজবিজ্ঞান শাস্ত্র পাঠ করতে বলেছে।
উদ্দীপকের কমল হাসিবকে সমাজবিজ্ঞান শাস্ত্র পাঠ করার কথা বলেছে।
আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান এমন একটি মৌলিক সামাজিক বিজ্ঞান, যার মূল বিষয় হলো মানুষের সামাজিক সম্পর্কের সামগ্রিক আলোচনা। সামাজিক এ সম্পর্কের ভিতরে পারিবারিক জীবন যেমন অন্তর্ভুক্ত, তেমনি ব্যক্তির রাজনৈতিক জীবনও এর আওতাভুক্ত। আর রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো সমাজবিজ্ঞানের সেই বিশেষ শাখা, যা সমাজের রাজনৈতিক বিষয়াবলি আলোচনা করে। এ জন্যই বলা হয়, সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন না করলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্বরূপ অনুধাবন প্রায় অসম্ভব। কেননা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কেন্দ্রীয় বিষয় হলো রাষ্ট্র, আর এই রাষ্ট্র প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল সামাজিক সংগঠন। এ জন্যই সমাজবিজ্ঞান রাষ্ট্রের উৎপত্তি, বিকাশ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, উন্নয়ন ও আদর্শ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে। সুতরাং কোনো ব্যক্তি রাজনীতি করতে চাইলে তাকে অবশ্যই সমাজবিজ্ঞান পাঠ করতে হবে।
উদ্দীপকের হাসিব পড়াশোনা শেষ করে রাজনীতি করতে চায়। কিন্তু রাজনৈতিক উন্নয়ন, সংস্কৃতি, আদর্শ ইত্যাদি সম্পর্কে তার স্বচ্ছ ধারণা নেই। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কেও সে কিছুই জানে না। পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য হাসিবকে অবশ্যই সমাজবিজ্ঞান পাঠ করতে হবে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায় যে, কমল হাসিবকে রাজনীতি করার পূর্বে এ সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনের জন্য সমাজবিজ্ঞান শাস্ত্র পাঠ করতে বলেছে।
'উদ্দীপক দ্বারা নির্দেশকৃত বিষয় তথা সমাজবিজ্ঞানের পরিধি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে'- আমি এ বক্তব্যকে সমর্থন করি। এ বিষয়ে আমার যুক্তি নিচে উপস্থাপন করা হলো-
প্রতিটি শাস্ত্রের মতো সমাজবিজ্ঞানেরও সুনির্দিষ্ট আলোচনার পরিধি রয়েছে। তবে অন্যান্য শাস্ত্রের চেয়ে এর আলোচনার পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। কেননা সমাজবিজ্ঞানের মূল আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, সমাজে বসবাসকারী মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, যা ব্যাপক ও বিস্তৃত। বস্তুত মানুষের সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়ের সঙ্গেই সমাজবিজ্ঞানের সম্পর্ক রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- ইতিহাস, অর্থনীতি, মন ও শরীর সম্পর্কীয় বিষয়সমূহ, ধর্ম, শিক্ষা, রাজনীতি, আইন, শিল্প প্রভৃতি সব বিষয়ের সাথেই সমাজবিজ্ঞানের একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সমাজ যতো আধুনিক হচ্ছে এ বিষয়গুলোর পরিধিও ততো বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই সমাজবিজ্ঞানের পরিধিও ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। আর এ কারণে সৃষ্টি হচ্ছে সমাজবিজ্ঞানের নতুন নতুন শাখা-প্রশাখা। এসব নতুন সৃষ্ট শাখার মধ্যে রয়েছে- গ্রামীণ ও নগর সমাজবিজ্ঞান, সামাজিক মনোবিজ্ঞান, শিল্প সমাজবিজ্ঞান, শিক্ষার সমাজবিজ্ঞান, আইনের সমাজবিজ্ঞান, সামাজিক পরিসংখ্যান, অপরাধের সমাজবিজ্ঞান ইত্যাদি। আবার এসব শাখাসমূহের আলোচ্য বিষয় নিয়ে ব্যাপক ও বিস্তৃত গবেষণার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে বহু প্রশাখা। যেমন- পরিবার ও বিবাহের সমাজতত্ত্ব, চিকিৎসা সমাজবিজ্ঞান, আত্মহত্যার সমাজতত্ত্ব, পেশার সমাজবিজ্ঞান, নামের সমাজবিজ্ঞান, কাঠামোগত সমাজবিজ্ঞান ইত্যাদি।
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার পরিসমাপ্তিতে বলা যায়, সময়ের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সমাজবিজ্ঞান শাস্ত্রের ব্যাপ্তি ও পরিধি ক্রমশ বিস্তৃতি লাভ করছে। আর তাই প্রশ্নোল্লিখিত বক্তব্যের সাথে আমি সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করি।
Related Question
View Allআচার-আচরণের পশ্চাতে মানসিক কারণ ছাড়া অর্থনৈতিক, র ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি শক্তির প্রভাব রয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে যে কয়েকজন ব্যক্তির অবদান স্বীকার্যক তার মধ্যে ম্যাকিয়াভেলি অন্যতম। সমাজদর্শন প্রচার করতে গিয়ে তিনি বাস্তবতার আশ্রয় নিয়েছেন। এর মাধ্যমে ম্যাকিয়াভেলি নি সমাজের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তার The Prince গ্রন্থে আলোচনা করেন। তার সমাজ আলোচনার মূল ভিত্তি ছিল মানব প্রকৃতি ও মানব মনোভাব। তৎকালীন সময়ে সমাজের মানুষ যে নৈরাজ্যকর অবস্থায় ছিল ম্যাকিয়াভেলি তার সুষ্ঠু ব্যাখ্যা দেন যা সমাজবিজ্ঞান বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি হলো ধর্ম। কারণ ধর্ম হচ্ছে অতিপ্রাকৃত শক্তিতে বিশ্বাস। ধর্মে জ্ঞান, অনুভূতি ও ক্রিয়ার এক সার্থক সমন্বয় দেখা দেয়। এছাড়া মানুষ পার্থিব ও অপার্থিব কোনো কিছু পাওয়ার আশায় এ শক্তিতে বিশ্বাস করে। ধর্ম সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত।
সমাজজীবনে ধর্মের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে জাতি ও গোষ্ঠীগত পার্থক্য এবং শ্রেণিবিভাজন পরিলক্ষিত হয়। ধর্ম মানুষের আচরণ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ইত্যাদিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সমাজ বা গোষ্ঠীগত স্বকীয়তা দান করে। ধর্মীয় মূল্যবোধ, বিশ্বাস, ধর্মের উৎপত্তি ও এর বিকাশ, ধর্মের গুরুত্ব, ধর্মের প্রভাব, ধর্মের প্রকারভেদ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে এর কার্যকারিতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সমাজবিজ্ঞান আলোচনা করে থাকে।
সুতরাং আমরা যথার্থই বলতে পারি যে, স্যারের আলোচিত ধর্ম সম্পর্কিত জ্ঞান সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত।
ধর্ম ছাড়াও সকল সামাজিক ঘটনাই সমাজবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়বস্তুর অন্তর্গত। প্রতিনিয়ত সমাজবিজ্ঞানের নতুন নতুন শাখার উদ্ভব ঘটছে। নিচে সমাজবিজ্ঞানের শাখাসমূহ উল্লেখ করা হলো- মানবসমাজের সবচেয়ে আদিম সংগঠন হলো পরিবার। প্রাচীনকালে পরিবারকে কেন্দ্র করেই মানবসমাজের সব কর্মকাণ্ড সম্পাদিত হতো। সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম শাখা হলো পরিবারের সমাজবিজ্ঞান।
ঐতিহাসিক সমাজবিজ্ঞানে প্রাচীন সমাজ, সমাজের উদ্ভব, বিকাশ এবং বর্তমান সমাজের জীবনযাত্রা সম্পর্কে গবেষণা করা হয়।
সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম উপাদান হচ্ছে জনসংখ্যা। জনগণই সমাজের গোড়াপত্তন করে। সমাজ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করতে হলে জনসংখ্যার কাঠামো, বণ্টন, বয়ঃকাঠামো, আদমশুমারি, জনসংখ্যা তত্ত্ব ইত্যাদি সম্পর্কে জানা অপরিহার্য।
অপরাধ, অপরাধপ্রবণতা, দারিদ্র্য, কিশোর অপরাধ, অপরাধের কারণ, অপরাধের স্বরূপ প্রভৃতি নিয়ে অপরাধ সমাজবিজ্ঞান আলোচনা করে থাকে।
রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিষয়াদির সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি, গোষ্ঠী তথা নাগরিকের সম্পর্ক নিরূপণ করে।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, সমাজবিজ্ঞানের পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত।
'ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও মালিকানা সব দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং শোষণের মূল'- উক্তিটি জার্মান দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ কার্ল মার্কস-এর।
সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে আমেরিকান আইনবিদ ও সামাজিক নৃবিজ্ঞানী লুইস হেনরি মর্গান অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন।
ইরোকুয়া ইন্ডিয়ান নৃগোষ্ঠীর উৎপত্তি ও বিবর্তন সম্পর্কে গবেষণা করে হেনরি মর্গান ১৮৭৭ সালে রচনা করেন 'Ancient Society', যেখানে তিনি সমাজ বিবর্তনের তিনটি ধাপ চিহ্নিত করেন; যথা- বন্যদশা, বর্বরদশা ও সভ্যতা। এছাড়া মর্গান আদিম পরিবারব্যবস্থা, বিবাহ এবং সম্পত্তির বিকাশ নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন, যা সামাজিক নৃবিজ্ঞানের ভিত্তিমূল হিসেবে বিবেচিত হয়। বস্তুত নতুন একটি বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের পথচলায় লুইস হেনরি মর্গানের বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!