সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 'ছন্দের জাদুকর' হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
আলোচ্য চরণটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য আমরা সবাই সমানভাবে যুদ্ধ করি।
এ পৃথিবী জাত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষেরই বাসভূমি। পৃথিবীতে সবাই বেঁচে থাকতে চায়। তাই সবাইকে সমানভাবে লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়। কারণ লড়াই না করলে মানুষ টিকে থাকতে পারবে না। মানবিক জীবনযাপন করতে পারবে না। এ কারণেই আলোচ্য উক্তটির মধ্য দিয়ে বলা হয়েছে- বেঁচে থাকার জন্য আমরা সবাই সমান সংগ্রাম করি ।
উদ্দীপকটি 'মানুষ জাতি' কবিতার সাথে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ না করার দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ।
একই সঙ্গে এক পৃথিবীতে থাকার পরেও মানুষ একে অন্যের সাথে ভেদাভেদ করে। এই ভেদাভেদ মানুষকে অনেক দূরে ঠেলে দেয় একে অপরের থেকে। সমাজে সুন্দরভাবে থাকতে হলে এই ভেদাভেদ দূর করতে হবে।
ধর্ম আলাদা হলেও মানুষের বড় পরিচয় তার মনুষ্যত্ব সত্তার। মিথ্যা ধর্মের বলয় তৈরি করে মানুষের মাঝে বৈষম্য ও পার্থক্য তৈরি হয়েছে। প্রকৃত অর্থে মানুষই পূজনীয়, সেখানে কোনো ধর্মীয় পার্থক্য করে বিভেদ সৃষ্টি করা উচিত নয়। উদ্দীপকে এই বিষয়গুলো উপস্থাপিত হয়েছে। 'মানুষ' জাতি' কবিতায় মানুষের মধ্যকার কৃত্রিম ভেদাভেদ দূরে রাখার কথা বলা হয়েছে। ধর্ম, বর্ণ, জাতি দিয়ে মিথ্যা পার্থক্য করে মানুষ। আসলে পৃথিবীতে সব মানুষের একটাই পরিচয় হওয়া উচিত, আর তা হলো মানুষ। তাই বলা যায়, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ না করার দিক দিয়ে উদ্দীপক এবং 'মানুষ জাতি' কবিতা সাদৃশ্যপূর্ণ।
ধর্মীয় পরিচিতির চেয়ে মানুষ হিসেবে পরিচয়টাই বড়-উদ্দীপক ও 'মানুষ জাতি' কবিতার আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
পৃথিবীতে আমরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে নানা রকম পার্থক্য গড়ে তুলেছি। এই পার্থক্যই একজন মানুষকে আর একজন মানুষের কাছ থেকে অনেক দূরে ঠেলে দেয়। যার ফলে মানুষ ভুলে যায় তার নিজের আসল পরিচয় ও কর্তব্য।
উদ্দীপকে ধর্মীয় পার্থক্য ভুলে গিয়ে সব মানুষকে আপন ভাবার কথা ফুটে উঠেছে, মানুষ জাতির বন্দনা করা হয়েছে। সেখানে ধর্মীয় বলয় খুবই. নগণ্য। অর্থাৎ মানুষের পরিচয় হবে মানুষ, এছাড়া আর অন্য কোনো পরিচয় দিয়ে মানুষকে বিচার করা উচিত নয়। 'মানুষ জাতি' কবিতায় বলা হয়েছে, সব মানুষ সমান। তারা একই পৃথিবীতে সবাই বসবাস করে একই মায়ের সন্তানের মতো। আবার শরীরেও একই রক্ত এবং সবার প্রথম পরিচয় সে মানুষ। তাই কবিতায় জাতি, ধর্ম, বর্ণের 'মিথ্যা পরিচয়কে তুচ্ছ করে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উদ্দীপকে ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সব মানুষকে আপন করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। 'মানুষ জাতি' কবিতায়ও মানুষের তৈরি ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সব মানুষকে আপন ভাবার আহ্বান রয়েছে। তাই বলা যায়, ধর্মীয় পরিচিতির চেয়ে মানুষ হিসেবে পরিচয়টাই বড়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'মানুষ জাতি' কবিতাটি 'অভ্র আবীর' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
'দুনিয়া সবারি জনম-বেদি'- এ কথা দ্বারা বোঝানো হয়েছে-এ পৃথিবী সব মানুষেরই জন্মক্ষেত্র।
আমাদের এই পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষেরই বাসভূমি। একই মায়ের দুধ পান করে যেমন সন্তান বড় হয়ে ওঠে, তেমনি পৃথিবীর সব মানুষ একই পৃথিবীর খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে একই সূর্য ও চাঁদের আলোয় প্রতিপালিত হচ্ছে।
সারা পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সমগ্র মানবসমাজ- রহিম, শ্যামল ও রোজারিওর বন্ধুত্বে 'মানুষ জাতি' কবিতার এই বক্তব্যটি ফুটে উঠেছে।
মানুষের সত্যিকার পরিচয় সে মানুষ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ দিয়ে মানুষকে আলাদা করা হয়েছে। এ পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষেরই আবাসভূমি।
উদ্দীপকের রহিম, শ্যামল ও রোজারিও তিন বন্ধু তিন ধর্মের অনুসারী। তারা আনন্দ-উৎসবে, সুখে-দুঃখে একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করে। 'মানুষ জাতি' কবিতায় কবি বলেছেন, জগৎজুড়ে একটি জাতি আছে, সে জাতি হচ্ছে মানুষ জাতি। বাইরে যার রং যেমনই হোক, ভিতরে সবার রক্তের রং লাল। জাতি-ধর্ম-বর্ণের কৃত্রিম ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে মানুষ হিসেবে বিচার করা উচিত। 'মানুষ জাতি' কবিতার এই ভাবনা রহিম, শ্যামল ও রোজারিওর বন্ধুত্বের মাঝে ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকের রহিমের বাবার বক্তব্যই যেন 'মানুষ জাতি' কবিতার মূল সুর।"- উক্তিটি যথার্থ।
এ পৃথিবীর একই আলো-ছায়ায় সবাই বেড়ে ওঠে। গরম বা শীতের অনুভূতি, ক্ষুধা, তৃষ্ণা সবাই সমানভাবে অনুভব করে। এ পৃথিবীর কিছু সংকীর্ণ মনের মানুষ তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য করেছে।
উদ্দীপকে রহিম, শ্যামল ও রোজারিও তিন ধর্মের অনুসারী হলেও তারা সুখে-দুঃখে, আনন্দ-উৎসবে একে অন্যের পাশে থাকে। রহিমের বাবা বলেন, তোমাদের মতো সবাই বন্ধুসুলভ হলে এ পৃথিবী আরও সুন্দর বাসস্থান হবে। 'মানুষ জাতি' কবিতায় কবি বলতে চেয়েছেন, সারা পৃথিবীতে মানুষ নামে শুধু একটাই জাতি আছে। কবি এ কবিতায় মানুষের সেই পরিচয়কেই তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকের বন্ধুরা ধর্মের কারণে কাউকে আলাদা করে দেখেনি। সবাই সবার সবকিছু ভাগাভাগি করে নিয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রহিমের বাবার মন্তব্যই যেন 'মানুষ জাতি' কবিতার মূল সুর মন্তব্যটি যথার্থ।
শীতাতপ, ক্ষুধা, তৃষ্ণার জ্বালা সবাই সমানভাবে বুঝি।
পৃথিবীতে সব মানুষের বাস। তাই চাঁদ, সূর্য, আলো, বাতাসও সব মানুষ একইভাবে পায়। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
সব মানুষ একই পৃথিবীতে একই চাঁদ-সূর্যের আলো পেয়ে থাকে। তাহলে কেন মানুষে মানুষে এত ভেদাভেদ, বৈষম্য, হানাহানি? সব মানুষ একই সঙ্গে এক পৃথিবীর মাঝে থাকলে অবশ্যই তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যবোধ বিদ্যমান থাকা উচিত। মানুষের সঙ্গে মানুষের যেন কোনো পার্থক্য না থাকে সে কারণে কবিতায় এমন কথা বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!