হিসাব তথ্যের বাহ্যিক ব্যবহারকারীর নাম হলো-
(i) ঋণ প্রদানকারী,
(ii) সরকার,
(iii) পাওনাদার,
(iv) বিনিয়োগকারী।
ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান তথা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্থ সম্পর্কিত ঘটনা পরিলক্ষিত হয়। এ সকল ঘটনার সংখ্যা অগণিত ও বৈচিত্র্যময়। নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও কৌশল ব্যতীত এ সকল আর্থিক ঘটনার সামগ্রিক ফলাফল ও প্রভাব জানা কঠিন। হিসাববিজ্ঞান হচ্ছে একটি প্রক্রিয়া, যেখানে সংঘটিত আর্থিক ঘটনাসমূহের সামগ্রিক প্রভাব এবং ফলাফল নির্ণয়ের পদ্ধতি ও কৌশল আলোচনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিভিন্ন পক্ষ হিসাব তথ্য জানতে সর্বদা আগ্রহী। তাই হিসাববিজ্ঞান আর্থিক লেনদেনসমূহের সংরক্ষণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে এদের প্রভাব ও ফলাফল নির্ণয় করে বিভিন্ন পক্ষকে প্রতিবেদন আকারে অবহিত করে।

এই অধ্যায় শেষে আমরা-
- হিসাববিজ্ঞানের ধারণা বর্ণনা করতে পারব।
- হিসাববিজ্ঞানের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে পারব।
- হিসাববিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- হিসাববিজ্ঞানের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- হিসাব তথ্যের ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে পারব।
- মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতা সৃষ্টিতে হিসাববিজ্ঞানের ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারব।
- সমাজ ও পরিবেশের সাথে হিসাবব্যবস্থার সম্পর্ক বর্ণনা করতে পারব।
- দৈনন্দিন, ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে হিসাব রাখতে আগ্রহী হব।
Related Question
View All'যে শাস্ত্র পাঠ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আর্থিক কার্যাবলি হিসাবের বইতে সুষ্ঠুভাবে লিপিবদ্ধ করা যায় এবং নির্দিষ্ট সময় শেষে এর সঠিক ফলাফল নিরূপণ করা যায়, তাকে হিসাববিজ্ঞান বলে।
হিসাববিজ্ঞান হলো একটি তথ্য ব্যবস্থা এবং একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা আর্থিক লেনদেনসমূহ চিহ্নিতকরণ, লিপিবদ্ধকরণ, শ্রেণিবিন্যাসকরণ ও সংক্ষিপ্তকরণ করে এবং আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে থাকে।
হিসাববিজ্ঞান ও হিসাবরক্ষণের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| হিসাববিজ্ঞান | হিসাবরক্ষণ |
| (i) আর্থিক লেনদেনসমূহের সার্বিক ফলাফল নির্ণয় ও বিবরণের সাহায্যে বিশ্লেষণ করাকে হিসাববিজ্ঞান বলে। | (i) অর্থ বা অর্থে পরিমাপযোগ্য ঘটনাসমূহ বিশেষ পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ করাকে হিসাবরক্ষণ বলে। |
| (ii) হিসাববিজ্ঞানীর কার্যে ব্যবহারিক গুরুত্ব বেশি দেওয়া হয়। | (ii) হিসাবরক্ষণের কার্যে তাত্ত্বিক গুরুত্ব বেশি দেওয়া হয়। |
ব্যবসায়ী-অব্যবসায়ী সকল শ্রেণির লোকের নিকট হিসাববিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, ক্লাব, সমিতি, হাসপাতাল, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিলসহ পেশাজীবীদের আর্থিক কার্যকলাপ হিসাববিজ্ঞানের আওতাভুক্ত রয়েছে। তাই বলা যায় হিসাববিজ্ঞানের কার্যক্ষেত্র বা আওতা খুবই ব্যাপক।
লেনদেন লিপিবদ্ধকরণ, শ্রেণিবিন্যাসকরণ ও সংক্ষেপকরণের পরে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতকরণ এবং বিভিন্ন প্রকার বিবরণী ও বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন তৈরি করা হিসাববিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর অন্তর্গত। হিসাব প্রতিবেদন ও বিবরণীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকার প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হয় এবং সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা সম্পর্কে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তাই বলা যায়, হিসাববিজ্ঞানে প্রস্তুতকৃত বিবরণী ও প্রতিবেদনের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা জানা ও বুঝা যায়।
হিসাববিজ্ঞানের দুটি উদ্দেশ্য হলো-
(i) লেনদেনসমূহ সঠিকভাবে হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধকরণ ব্যতীত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফল ও আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে জানা সম্ভব নয়। তাই হিসাববিজ্ঞানের প্রথম উদ্দেশ্য লেনদেনসমূহকে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে সঠিকভাবে হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধ করা।
(ii) হিসাববিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য আর্থিক ফলাফল ও আর্থিক অবস্থা নিরূপণ করা। লাভ-ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা সম্ভব। যাবতীয় আয় ও ব্যয় সঠিকভাবে লিপিবদ্ধকরণের মাধ্যমে ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতি নির্ণয় করা সম্ভব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!