'যে শাস্ত্র পাঠ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আর্থিক কার্যাবলি হিসাবের বইতে সুষ্ঠুভাবে লিপিবদ্ধ করা যায় এবং নির্দিষ্ট সময় শেষে এর সঠিক ফলাফল নিরূপণ করা যায়, তাকে হিসাববিজ্ঞান বলে।
হিসাববিজ্ঞান হলো একটি তথ্য ব্যবস্থা এবং একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা আর্থিক লেনদেনসমূহ চিহ্নিতকরণ, লিপিবদ্ধকরণ, শ্রেণিবিন্যাসকরণ ও সংক্ষিপ্তকরণ করে এবং আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে থাকে।
হিসাববিজ্ঞান ও হিসাবরক্ষণের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| হিসাববিজ্ঞান | হিসাবরক্ষণ |
| (i) আর্থিক লেনদেনসমূহের সার্বিক ফলাফল নির্ণয় ও বিবরণের সাহায্যে বিশ্লেষণ করাকে হিসাববিজ্ঞান বলে। | (i) অর্থ বা অর্থে পরিমাপযোগ্য ঘটনাসমূহ বিশেষ পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ করাকে হিসাবরক্ষণ বলে। |
| (ii) হিসাববিজ্ঞানীর কার্যে ব্যবহারিক গুরুত্ব বেশি দেওয়া হয়। | (ii) হিসাবরক্ষণের কার্যে তাত্ত্বিক গুরুত্ব বেশি দেওয়া হয়। |
ব্যবসায়ী-অব্যবসায়ী সকল শ্রেণির লোকের নিকট হিসাববিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, ক্লাব, সমিতি, হাসপাতাল, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিলসহ পেশাজীবীদের আর্থিক কার্যকলাপ হিসাববিজ্ঞানের আওতাভুক্ত রয়েছে। তাই বলা যায় হিসাববিজ্ঞানের কার্যক্ষেত্র বা আওতা খুবই ব্যাপক।
লেনদেন লিপিবদ্ধকরণ, শ্রেণিবিন্যাসকরণ ও সংক্ষেপকরণের পরে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতকরণ এবং বিভিন্ন প্রকার বিবরণী ও বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন তৈরি করা হিসাববিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর অন্তর্গত। হিসাব প্রতিবেদন ও বিবরণীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকার প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হয় এবং সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা সম্পর্কে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তাই বলা যায়, হিসাববিজ্ঞানে প্রস্তুতকৃত বিবরণী ও প্রতিবেদনের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা জানা ও বুঝা যায়।
হিসাববিজ্ঞানের দুটি উদ্দেশ্য হলো-
(i) লেনদেনসমূহ সঠিকভাবে হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধকরণ ব্যতীত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফল ও আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে জানা সম্ভব নয়। তাই হিসাববিজ্ঞানের প্রথম উদ্দেশ্য লেনদেনসমূহকে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে সঠিকভাবে হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধ করা।
(ii) হিসাববিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য আর্থিক ফলাফল ও আর্থিক অবস্থা নিরূপণ করা। লাভ-ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা সম্ভব। যাবতীয় আয় ও ব্যয় সঠিকভাবে লিপিবদ্ধকরণের মাধ্যমে ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতি নির্ণয় করা সম্ভব।
হিসাববিজ্ঞানের জ্ঞান ব্যবহার করে হিসাবের বিভিন্ন বিবরণী ও প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা জানা যায়। তাই হিসাববিজ্ঞানকে 'ব্যবসায়ের ভাষা' বলা হয়।
সরকার বিভিন্ন উৎস হতে কর, শুল্ক, ভ্যাট ধার্যের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করে এবং বিভিন্ন নিয়মিত ও উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় করে। সরকারের এ সকল কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য হিসাববিজ্ঞান সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
হিসাববিজ্ঞানের দুটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনীয়তা হলো-
(i) হিসাববিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বহুবিধ তথ্য সরবরাহ করে।
(ii) হিসাব দ্বারা প্রতিষ্ঠানের সর্বাঙ্গীন আর্থিক অবস্থা নিরূপণ করা হয়।
সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মিতব্যয়ি জীবন গঠনের জন্য মানুষের দৈনন্দিন কর্মকান্ডের সুস্পষ্ট ও সঠিক হিসাব রাখার প্রয়োজনীয়তা. অপরিসীম। নিচে দৈনন্দিন জীবনে হিসাব রাখার দুটি প্রয়োজনীয়তা উপস্থাপন করা হলো-
(i) হিসাবনিকাশের মাধ্যমে ব্যক্তি ও পারিবারিক আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যয় করা যায়।
(ii) যথাযথ হিসাব রাখলে খরচ করার প্রবণতা হ্রাস এবং সঞ্চয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
প্রাচীন যুগে মানুষেরা দেয়ালে দাগ কেটে, রশিতে গিট দিয়ে এবং প্যাপিরাস নামক গাছের পাতা দিয়ে হিসাব রাখত। এই সময় চীন দেশের লোকেরা অ্যাবাকাস নামক যন্ত্র দিয়ে হিসাবকার্য পরিচালনা করত।
প্রাচীন যুগে মানুষেরা দেয়ালে দাগ কেটে, রশিতে গিট দিয়ে এবং প্যাপিরাস নামক গাছের পাতা দিয়ে হিসাব রাখত। এই সময় চীন দেশের লোকেরা অ্যাবাকাস নামক যন্ত্র দিয়ে হিসাবকার্য পরিচালনা করত। মুদ্রার প্রচলনের পূর্ববর্তী সময়ে বিনিময় প্রথার প্রচলন হয়। বিনিময় যুগে মানুষের মধ্যে পণ্যের আদান প্রদান হতো। তখন এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলের মানুষের সাথে পণ্যের বিনিময় করত। এ সময় মাটির দেয়ালে রং দিয়ে, দরজার পেছনে দাগ কেটে হিসাব রাখত।
১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে লুকা প্যাসিওলি নামে একজন ইতালীয় গণিতবিদ 'সুম্মা ডি এরিথমেটিকা জিওমেট্রিয়া প্রপোরশনিয়েট প্রপোরশনালিটা' নামে একটি গ্রন্থ লিখেন এবং এতে হিসাবরক্ষণের মূল নীতি "দুতরফা দাখিলা (Double Entry)" ব্যাখ্যা করা হয়।
সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং ব্যবসায়-বাণিজ্যের অগ্রগতি হয় এবং এরই ফলে হিসাববিজ্ঞানেরও উন্নতি হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির সাথে হিসাববিজ্ঞানের উন্নতি সম্পর্কিত। বর্তমান কম্পিউটারের যুগে বড় বড় প্রতিষ্ঠানে হিসাবের বই হাতে লিখার পরিবর্তে কম্পিউটারে করা হয়। ফলে সময় ও শ্রম লাঘবের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত গ্রহণ করা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সহজ, হয়।
হিসাববিজ্ঞান কারবার প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে হিসাবসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, তথ্য সরবরাহ, তথ্য বিশ্লেষণ ও ব্যবহার করে থাকে। এসব কারণে হিসাববিজ্ঞানকে তথ্য ব্যবস্থা বলা হয়।
হিসাব তথ্যের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারকারী হলো-
(i) মালিকপক্ষ,
(ii) ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ,
(iii) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণ,
(iv) অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষক।
হিসাব তথ্যের বাহ্যিক ব্যবহারকারীর নাম হলো-
(i) ঋণ প্রদানকারী,
(ii) সরকার,
(iii) পাওনাদার,
(iv) বিনিয়োগকারী।
শুধুমাত্র মুনাফা নির্ণয়ের জন্যই হিসাববিজ্ঞানকে ব্যবহার করা হয় না। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সমাজ ও পরিবেশের যাতে কোনো রকম ক্ষতি না হয়, সেদিকটিতেও হিসাববিজ্ঞান অবদান রাখে। জলবায়ু দূষণ রোধ, শিল্প-কারখানা থেকে অস্বাস্থ্যকর ধোঁয়া প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যসম্মত কাঁচামাল ব্যবহার, কম বিদ্যুৎ খরচ, সঠিক আবর্জনা ব্যবস্থাপনা এবং গরিব ও মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি প্রদানের মতো সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমাজ ও পরিবেশের সাথে হিসাবব্যবস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়।
মূল্যবোধ হলো ব্যক্তি ও সমাজের চিন্তা, চেতনা, বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা প্রভৃতির সমন্বয়ে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি মানদণ্ড। যার দ্বারা মানুষ কোনো বিষয়ের ভালো-মন্দ বিচার করে ভালোকে গ্রহণ ও মন্দকে বর্জন করে।
হিসাবরক্ষণের ক্ষেত্রে হিসাববিজ্ঞানের রীতি-নীতি ও কলাকৌশল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে আর্থিক দুর্নীতি, জালিয়াতি, সম্পদ ইত্যাদির ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং হিসাবের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। আর বছরের পর বছর এর অনুসরণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও দায়িত্ববোধ বিকশিত হয়।
সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত সম্পদের, সুষ্ঠু ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার ধর্মীয় মূল্যবোধের অংশ। সঠিক হিসার সংরক্ষণ করলে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে আয় বুঝে ব্যয় করার মানসিকতা সৃষ্টি ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
সরকারের আয়ের অন্যতম উৎস হচ্ছে ভ্যাট, কাস্টমস ডিউটি, আয়কর প্রভৃতি। হিসাববিজ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সঠিক আয় ও ব্যয় নির্ণয় করা সম্ভব। ফলে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়।
হিসাবরক্ষণের ক্ষেত্রে হিসাববিজ্ঞানের রীতি-নীতি ও কলাকৌশল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়। যার ফলে ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে সততা ও দায়িত্ববোধের বিকাশ, ঋণ পরিশোধে সচেতনতা সৃষ্টি, ধর্মীয় মূল্যবোধ সৃষ্টি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি ও প্রতারণা প্রতিরোধ করা যায়। এভাবেই মূল্যবোধ সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় হিসাববিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নিজের কাজের জন্য অন্যের নিকট দায়বদ্ধতাকে জবাবদিহিতা বলে। অর্থাৎ প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা সৃষ্টিতে হিসাববিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। হিসাববিজ্ঞান জবাবদিহিতা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, অর্থ ও শ্রমের অপচয় রোধ, জালিয়াতি ও প্রতারণা বন্ধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে ব্যবস্থাপনাকে সাহায্য করে থাকে।
আর্থিক লেনদেন লিপিবদ্ধকরণ ও বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ার 'কলাকৌশল যে শাস্ত্র শিক্ষা দেয় তাকে বলে হিসাববিজ্ঞান।
হিসাববিজ্ঞান যাবতীয় আর্থিক লেনদেনের হিসাব রাখে, শ্রেণিবিভাগ করে এবং ব্যাখ্যা করে।
হিসাববিজ্ঞানকে বলা হয় ব্যবসায়ের ভাষা।
হিসাববিজ্ঞানকে ব্যবসায়ের ভাষা বলার কারণ হলো প্রস্তুতকৃত বিবরণী ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা জানা ও বোঝা যায়।
হিসাববিজ্ঞান হলো সেই শাস্ত্র যার দ্বারা আর্থিক কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে লিপিবদ্ধ করা যায় এবং আর্থিক ফলাফল নির্ণয় করা যায়।
হিসাবরক্ষণের মূল কারণ হলো ব্যবসায়ের আর্থিক অবস্থা নিরূপণ করা।
প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকার প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানাতে সাহায্য করে প্রতিবেদন ও বিবরণী।
হিসাববিজ্ঞানের সর্বপ্রথম উদ্দেশ্য হচ্ছে লেনদেনের সুষ্ঠু লিপিবদ্ধকরণ।
হিসাববিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য আর্থিক ফলাফল নির্ণয় ও আর্থিক অবস্থা নিরূপণ।
প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করা' সম্ভব ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে।
হিসাববিজ্ঞানের উদ্দেশ্য নয় জনহিতকর ব্যয় সংকোচন।
ব্যবসায়ের গতিপ্রকৃতি বোঝা যায় লাভ-লোকসান নির্ণয়ের মাধ্যমে।
ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতি ও আর্থিক অবস্থা জানা যায় হিসাব রাখার মাধ্যমে।
আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন সম্ভব ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে।
যাবতীয় আয় ও ব্যয় সঠিকভাবে লিপিবদ্ধকরণের মাধ্যমে ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতি নির্ণয় সম্ভব।
যাবতীয় আয় ও ব্যয় সঠিকভাবে লিপিবদ্ধকরণের মাধ্যমে ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতি নির্ণয় সম্ভব।
কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফল ও আর্থিক অবস্থা ভালোভাবে জানার জন্য প্রয়োজন লেনদেনের সঠিক লিপিবদ্ধকরণ।
বিভিন্ন উৎস হতে কর, ভ্যাট, শুল্ক ধার্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ রাজস্ব হিসাবে আদায় করে সরকার।
আর্থিক সচ্ছলতা হিসাববিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা।
পেশাজীবীদের আয় নিরূপণ ও তদনুযায়ী আয়কর নির্ধারণে প্রয়োজন হিসাব রাখা।
পেশাজীবীদের (ডাক্তার, উকিল প্রভৃতি) হিসাব রাখার প্রয়োজন আয়কর নির্ধারণের জন্য।
অলাভজনক প্রতিষ্ঠান স্কুল/কলেজ, মাদ্রাসা/মসজিদ, ক্লাব/সমিতি।
হিসাববিজ্ঞানের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা নয়টি।
প্রাচীনকালে মানুষ হিসাব সংরক্ষণ করত গাছের গায়ে, গুহায় বা পাথরে চিহ্ন দিয়ে।
উৎপাদিত ফসলের হিসাব রাখা হতো ঘরে দাগ কেটে এবং রশিতে গিট দিয়ে।
হিসাবরক্ষণের সুনির্দিষ্ট নীতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন লুকা প্যাসিওলি।
লুকা প্যাসিওলি ছিলেন দার্শনিক/ধর্মযাজক।
লুকা প্যাসিওলি ছিলেন দার্শনিক/ধর্মযাজক।
সুম্মা ডি এরিথমেটিকা জিওমেট্রিয়া প্রপোরশনিয়েট প্রপোরশনালিটা' গ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন লুকা প্যাসিওলি।
'দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির উৎপত্তিকাল ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দ।
আধুনিক হিসাববিজ্ঞানের প্রবর্তক লুকা প্যাসিওলি।
আধুনিক হিসাববিজ্ঞানের উৎপত্তি ইতালিতে।
বর্তমান হিসাববিজ্ঞানের ভিত্তি দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি।
লুকা প্যাসিওলি ব্যাখ্যা করেন হিসাবরক্ষণের দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির মূলনীতি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি হিসাবরক্ষণের উন্নতি ঘটায়।
হিসাববিজ্ঞানকে অভিহিত করা হয় তথ্যব্যবস্থা নামে।
হিসাব তথ্যের ব্যবহারকারীকে ভাগ করা যায় দুই ভাগে। যথা: (ক) অভ্যন্তরীণ ব্যবহারকারী, (খ) বাহ্যিক ব্যবহারকারী।
হিসাব তথ্যের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারকারী ব্যবস্থাপক।
হিসাববিজ্ঞানের বাহ্যিক ব্যবহারকারী ঋণপ্রদানকারী, সরকার, পাওনাদার, কর্মচারী ও কর্মকর্তা ইত্যাদি।
সরকারের আয়ের অন্যতম উৎস হচ্ছে ভ্যাট, কাস্টমস ডিউটি, আয়কর প্রভৃতি।
জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছ দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা যায় আর্থিক লেনদেনগুলো যথাযথভাবে লিপিবদ্ধকরণের মাধ্যমে।
নিজের কাজের জন্য তৃতীয় পক্ষের নিকট দায়বদ্ধতাই হচ্ছে জবাবদিহিতা।
ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান তথা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্থ সম্পর্কিত ঘটনা পরিলক্ষিত হয়। এ সকল ঘটনার সংখ্যা অগণিত ও বৈচিত্র্যময়। নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও কৌশল ব্যতীত এ সকল আর্থিক ঘটনার সামগ্রিক ফলাফল ও প্রভাব জানা কঠিন। হিসাববিজ্ঞান হচ্ছে একটি প্রক্রিয়া, যেখানে সংঘটিত আর্থিক ঘটনাসমূহের সামগ্রিক প্রভাব এবং ফলাফল নির্ণয়ের পদ্ধতি ও কৌশল আলোচনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিভিন্ন পক্ষ হিসাব তথ্য জানতে সর্বদা আগ্রহী। তাই হিসাববিজ্ঞান আর্থিক লেনদেনসমূহের সংরক্ষণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে এদের প্রভাব ও ফলাফল নির্ণয় করে বিভিন্ন পক্ষকে প্রতিবেদন আকারে অবহিত করে।

এই অধ্যায় শেষে আমরা-
- হিসাববিজ্ঞানের ধারণা বর্ণনা করতে পারব।
- হিসাববিজ্ঞানের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে পারব।
- হিসাববিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- হিসাববিজ্ঞানের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- হিসাব তথ্যের ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে পারব।
- মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতা সৃষ্টিতে হিসাববিজ্ঞানের ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারব।
- সমাজ ও পরিবেশের সাথে হিসাবব্যবস্থার সম্পর্ক বর্ণনা করতে পারব।
- দৈনন্দিন, ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে হিসাব রাখতে আগ্রহী হব।
Related Question
View All'যে শাস্ত্র পাঠ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আর্থিক কার্যাবলি হিসাবের বইতে সুষ্ঠুভাবে লিপিবদ্ধ করা যায় এবং নির্দিষ্ট সময় শেষে এর সঠিক ফলাফল নিরূপণ করা যায়, তাকে হিসাববিজ্ঞান বলে।
হিসাববিজ্ঞান হলো একটি তথ্য ব্যবস্থা এবং একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা আর্থিক লেনদেনসমূহ চিহ্নিতকরণ, লিপিবদ্ধকরণ, শ্রেণিবিন্যাসকরণ ও সংক্ষিপ্তকরণ করে এবং আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে থাকে।
হিসাববিজ্ঞান ও হিসাবরক্ষণের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| হিসাববিজ্ঞান | হিসাবরক্ষণ |
| (i) আর্থিক লেনদেনসমূহের সার্বিক ফলাফল নির্ণয় ও বিবরণের সাহায্যে বিশ্লেষণ করাকে হিসাববিজ্ঞান বলে। | (i) অর্থ বা অর্থে পরিমাপযোগ্য ঘটনাসমূহ বিশেষ পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ করাকে হিসাবরক্ষণ বলে। |
| (ii) হিসাববিজ্ঞানীর কার্যে ব্যবহারিক গুরুত্ব বেশি দেওয়া হয়। | (ii) হিসাবরক্ষণের কার্যে তাত্ত্বিক গুরুত্ব বেশি দেওয়া হয়। |
ব্যবসায়ী-অব্যবসায়ী সকল শ্রেণির লোকের নিকট হিসাববিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, ক্লাব, সমিতি, হাসপাতাল, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিলসহ পেশাজীবীদের আর্থিক কার্যকলাপ হিসাববিজ্ঞানের আওতাভুক্ত রয়েছে। তাই বলা যায় হিসাববিজ্ঞানের কার্যক্ষেত্র বা আওতা খুবই ব্যাপক।
লেনদেন লিপিবদ্ধকরণ, শ্রেণিবিন্যাসকরণ ও সংক্ষেপকরণের পরে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতকরণ এবং বিভিন্ন প্রকার বিবরণী ও বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন তৈরি করা হিসাববিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর অন্তর্গত। হিসাব প্রতিবেদন ও বিবরণীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকার প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হয় এবং সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা সম্পর্কে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তাই বলা যায়, হিসাববিজ্ঞানে প্রস্তুতকৃত বিবরণী ও প্রতিবেদনের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা জানা ও বুঝা যায়।
হিসাববিজ্ঞানের দুটি উদ্দেশ্য হলো-
(i) লেনদেনসমূহ সঠিকভাবে হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধকরণ ব্যতীত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফল ও আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে জানা সম্ভব নয়। তাই হিসাববিজ্ঞানের প্রথম উদ্দেশ্য লেনদেনসমূহকে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে সঠিকভাবে হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধ করা।
(ii) হিসাববিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য আর্থিক ফলাফল ও আর্থিক অবস্থা নিরূপণ করা। লাভ-ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা সম্ভব। যাবতীয় আয় ও ব্যয় সঠিকভাবে লিপিবদ্ধকরণের মাধ্যমে ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতি নির্ণয় করা সম্ভব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!