'ঋতু বর্ণন' কবিতায় নিদাঘ সময়ে বা গ্রীষ্মকালে তপন অতি প্রচণ্ড হয়।
পাবন সময়ে বর্ষার অবিরাম বৃষ্টির ধারায় চারপাশ পানিতে ভরে ওঠে।
বর্ষাকালে প্রতিনিয়তই ঝরতে থাকে অবিরল বৃষ্টির ধারা। বৃষ্টির পূর্বমুহূর্তে ঘন ঘন মেঘের গর্জনে মুখরিত হয় প্রকৃতি। কোনো কিছুকেই তোয়াক্কা না করে বৃষ্টির জল অবিরাম বর্ষিত হয়। ফলে চারদিকে পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। এভাবে থই থই পানিতে বর্ষাকালে এক মনোরম পরিবেশ তৈরি হয়।
উদ্দীপকে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বসন্তকালে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় ঋতুভেদে প্রকৃতির বিচিত্র রূপ-রস-গন্ধের উন্মোচন ঘটেছে। আর বাংলার ছয়টি ঋতুর মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি ঋতু হলো বসন্ত। বসন্তকালে গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, ফুল ফোটে, স্নিগ্ধ দখিনা হাওয়া বয়ে যায়, ভ্রমরের গুঞ্জন শোনা যায় এবং কোকিলের কুহুতানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
উদ্দীপকে পৃথিবীতে ফাগুন তথা বসন্তের আগমনের বিষয়টি উঠে এসেছে। দখিনা বাতাসের আগমন, বাতাবি নেবুর ফুল ফোটা, আমগাছে মুকুল আসা এবং বাতাসের সাথে এই মুকুলের সুবাস ছড়িয়ে পড়ার মতো ঘটনাগুলো এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দিক সামগ্রিকভাবে বসন্তকালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেই নির্দেশ করে। অর্থাৎ, 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বসন্তকালের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের বিষয়টিই উদ্দীপকের কবিতাংশে চিত্রিত হয়েছে।
উদ্দীপকে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সকল দিক প্রকাশ না পাওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'ঋতু বর্ণন কবিতায় কবি আলাওল প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সাথে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। তিনি এখানে বসন্ত থেকে শুরু করে শীত পর্যন্ত ছয়টি ঋতুরই বর্ণনা দিয়েছেন। কবিতায় প্রতিটি ঋতুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং মানুষের মননে ঋতুগুলোর আবেগিক প্রভাব বিস্তারের দিকটি উঠে এসেছে।
উদ্দীপকে কেবল বসন্ত ঋতুর বর্ণনা দেখা যায়। এখানে ফাল্গুন মাসের আগমনি বার্তা দেওয়া হয়েছে। ফাগুন মাস তথা বসন্তের জন্য কবির অপেক্ষাও উদ্দীপকটির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। তবে বসন্ত ব্যতীত এখানে আর কোনো ঋতুর উল্লেখ নেই। 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় অন্যান্য ঋতুর পাশাপাশি বসন্ত ঋতুর বর্ণনা উল্লেখযোগ্য।
উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার শুরুর দিকে বর্ণিত বসন্তকালের ভাবকে ধারণ করে, কিন্তু বাকি পাঁচটি ঋতুর বর্ণনা এখানে অনুপস্থিত। তাই উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার খন্ডাংশকে উপস্থাপন করলেও সমগ্রভাবকে উপস্থাপন করতে সক্ষম নয়। ফলে উক্ত মন্তব্যের সাথে আমি একমত পোষণ করি।
Related Question
View Allমল্লার হলো সংগীতের একটি রাগ; রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরে গাওয়া হয়।
রৌদ্র ত্রাসে রহে ছায়া চরণে সরণে' বলতে গ্রীষ্মে সূর্যের প্রখরতায় মানুষের ছায়াও চরণতলে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি আলাওল গ্রীষ্মের তাপদাহের কথা বলেছেন। এ সময় সূর্যের প্রচণ্ড তাপ থাকে। প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের আগমনে চারদিক প্রচণ্ড উত্তাপে ফেটে পড়ে। সূর্য তার সমস্ত রাগ নিয়ে যেন হাজির হয়। রৌদ্রের এই প্রখরতার জনজীবন অতীষ্ঠ হয়ে পড়ে। সূর্যের কিরণ থাকে মাথার উপর। ফলে দুপুরে ছায়াও মানুষের সোজা পায়ের নিচ বরাবর যেন আশ্রয় নেয়। আর এ বিষয়টি বোঝাতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে বসন্তের সৌন্দর্যের কথা বর্ণিত হয়েছে যা 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বসন্ত ঋতুর বর্ণনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বসন্তের অপরূপ সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। এই ঋতুতে চারিদিক ফুলে ফুলে শোভিত থাকে। দখিনা বাতাস প্রেমের দেবতার বার্তাবাহক হয়ে হাজির হয়। চারপাশের গাছপালায় নতুন পাতা এবং ফুলের সমারোহ থাকে। ফলে বনে বনে সৌন্দর্য উপভোগের সাড়া পড়ে যায়।
উদ্দীপকে বসন্তের অপরূপ সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। এই সময় জোছনা রাতে সবাই বনে বনে সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছে। বসন্তের মাতাল সমীরণ সবাইকে সৌন্দর্য উপভোগের বার্তা দিয়ে গিয়েছে। বসন্তের এই অপরূপ সৌন্দর্য 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও আমরা দেখতে পাই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সঙ্গো 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বসন্ত ঋতুর সাদৃশ্য রয়েছে।
ঋতু বর্ণন' কবিতায় বাংলার ষড়ঋতুর অপরূপ সৌন্দর্যের কথা বলা হলেও উদ্দীপকে কেবল বসন্ত ঋতুর কথা বর্ণিত হয়েছে বিধায় উদ্দীপকটি কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেনি।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় ষড়ঋতুর রূপবৈচিত্র্য এবং এর সঙ্গে মানবমন্ত্রে সম্পর্কের দিকটি বর্ণিত হয়েছে। বাংলার প্রকৃতিতে বসন্তে নবীন পত্র-পুষ্প, 'গ্রীষ্মের সূর্যতাপ, বর্ষার অবিরল জলধারা, শরতের নির্মল আকাশ, হেমন্তের পুষ্পতুল্য তাম্বুল, শীতের দীঘল রজনি যে পরিবর্তন সাধন করে তা কবি তাঁর কবিতায় সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রকৃতির এই রূপমাধুরী মানুষের মনেও প্রভাব ফেলে। প্রকৃতির মতোই মানুষের মনও একেক ঋতুতে একেক রূপ ধারণ করে।
উদ্দীপকে বসন্তের মাতাল সমীরণের কথা বলা হয়েছে। এই ঋতুতে জোছনা রাতে সবাই বনে সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছে। কেননা বসন্তের বন ফুলে ফুলে শোভিত থাকে। এই শোভা উপভোগ করার আনন্দ সবাই পেতে চায়। বসন্তের এই অপরূপ সৌন্দর্য তুলে ধরার জন্যই উদ্দীপকটির অবতারণা করা হয়েছে। 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও বসন্ত ঋতুর প্রায় একইরকম বর্ণনা ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে বসন্তের রূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বসন্তের রূপ ছাড়াও বাংলার সব ঋতুর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কবিতায় গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত ঋতুর রূপমাধুরী ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া ঋতুর এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের দিকটিও আলোচ্য কবিতায় তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে বসন্ত ঋতুর সৌন্দর্য ব্যতীত অন্যান্য দিক অনুপস্থিত। ফলে উদ্দীপকটি ঝতু বর্ণন' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করতে পারেনি।
'কিংশুক' শব্দের অর্থ পলাশ ফুল বা বৃক্ষ।
'নানা পুষ্প মালা গলে বড় হরষিত'- বলতে বসন্ত ঋতুতে নিজেকে সাজিয়ে আনন্দিত হওয়ার দিককে বোঝানো হয়েছে।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বসন্ত প্রকৃতির নতুন সাজে সেজে ওঠার কথা বলা হয়েছে। বসন্তে নানা রকম ফুল ফোটে। প্রকৃতি তখন রঙিন রূপ ধারণ করে। বসন্তকে বরণ করতে এবং প্রকৃতির সাথে নিজেদের সংযুক্ত করতে সবাই নানা রকম সাজে নিজেকে সজ্জিত করে। ফুলের মালা গলায় পরে তারা আনন্দ, উল্লাস করে। এ দিক বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!