বুধা রাজাকার কমান্ডাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়েছিল প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য।
হরিকাকুরা গাঁ ছেড়ে চলে যাবে শুনে বুধা কষ্ট পেয়েছিল হরিকাকুর আদর মেশানো মানিকরাতন অকশনকে কোমরের মতে 'কাকতাড়ুয়া উপন্যাসে বুধা তার মা-বাবা, ভাই-বোনদের চিরতরে হারিয়ে একা হয়ে যায়। এতিম বুধাকে গ্রামের সরাই অলোবাসে,
স্নেহভরে নানা নামে ডাকে। হরিকাকু তাকে অতি স্নেহে মানিকরতন বলে ডাকে। দেশে যুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানি মিলিটারির ভয়ে গ্রামের মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে পালাতে থাকে। হরিকাকুও নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার আয়োজন করে। তার গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা শুনে বুধার কষ্ট লাগে। চলে যাওয়ার সময় বুধ্য হারিকাকুর বোঝা নিজে বহন করে তাকে অনেকটা পথ এগিয়ে দেয়
সারকথা: বুধার গাঁয়ের মানুষ হরিকাকুর অতি স্নেহের ডাক 'মানিকরতন' শুনতে পাবে না ভেবে বুধা এ পায় হরিকাকুর চলে যাওয়ার কথা শুনে কষ্ট
উদ্দীপকের জয়নালের মধ্যে উপন্যাসের বুধা চরিত্রের সাহসী ও প্রতিশোধস্পৃহার সাদৃশ্য বিদ্যমান।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এ দেশের নিরীহ মানুষের ওপর নির্মম নির্যাতন ও হত্যাযজ শুরু করে। তাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত ও স্বাধীন করতে এদেশের সর্বস্তরের মানুষ কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে
উদ্দীপকে বিরামপুর গ্রামে গিয়ে পাকিস্তানিদের ঘাঁটি স্থাপন, গ্রামের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, গণহত্যা ইত্যাদির কথা বলা হয়েছে। তাদের এই অন্যায় অত্যাচারে বিষয়টি ঐ গ্রামের কিশোর জয়নালকে গভীরভাবে ন্যাড়া দেয়। জয়নাল সব দেখেশুনে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। তার এই চেতনা 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধার প্রতিবাদী চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। বুধাও মিলিটারিদের অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ দেখে প্রতিশোধ নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে। রাজাকার আহাদ মুন্সির ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বাঙ্কারে মাইন পুঁতে মিলিটারি ক্যাম্প উড়িয়ে দিয়েছে। উদ্দীপকের জয়নালও মুক্তিযোদ্ধাদের সলো যোগ দিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের আস্তানায় মাইনের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং সেই কাজে সফল হয়ে 'জয় বাংলা' স্লোগান দিয়েছে
সারকথা: উদ্দীপকের কিশোর জয়নাল 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের কিশোর বুধার মতোই সাহসী এবং অন্যায়ের প্রতিবাদী। তারা উভয়েই • মুক্তিযোদ্ধাদের সলো মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে যুক্ত করে গভীর দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে।
উদ্দীপকের জয়নালের উচ্চারিত আনন্দিত 'জয় বাংলা' ধবনিটি 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের একটি সামগ্রিক চিত্রপট।'- মন্তব্যাট যথার্থ।
বাঙালিরা প্রতিবাদী। তারা কখনই শত্রুর শাসন-শোষণ, অত্যাচার-নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করেনি। তারা যথাসময়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। প্রয়োজনে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে বুধা এক এতিম কিশোর। শৈশবে সে বাবা-মা, ভাই-বোন সবাইকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়লেও ভীরু নয়। মিলিটারির হাত থেকে বাঁচার জন্য গ্রাম ছেড়ে সবাই পালিয়ে গেলেও সে যায় না। গ্রামে মিলিটারি ঢুকে বাজারে আগুন দিলে বুধা সেখানে আগুন নিভাতে ছুটে যায়। পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করার জন্য প্রতিশোধ নিতে বুধা আহাদ মুন্সির ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। কানু দয়ালের বাড়িতে রেডিওতে ভাষণ শুে নিজেকে 'জয় বাংলা' বলে পরিচয় দেয়। মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিনের পরামর্শে মিলিটারি ক্যাম্পে গিয়ে রেকি করে। বুধা কৌশলে বাঙ্কারে মাইন পুঁতে মিলিটারিদের ক্যাম্প উড়িয়ে দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে নৌকার পাটাতনে পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ে। উপন্যাসের এসব বিষয় উদ্দীপকের জয়নালের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। জয়নালও সাহসী কিশোর। সে পাকিস্তানি সেনাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। মুক্তিযোদ্ধা জলিলের পরামর্শে পাকসেনাদের
আস্তানার কাছে গোপনে মাইন পুঁতে এসেছে এবং যথাসময়ে তা বিস্ফোরিত হলে 'জয় বাংলা' ধ্বনি দিয়ে সে আনন্দ প্রকাশ করেছে। 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধার মধ্যে যে সাহস ও দেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে তা উদ্দীপকের জয়নালের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। তারা উভয়েই পাকিস্তানি হানাদারদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে গেরিলা আক্রমণ করেছে এবং সেই আক্রমণে জালোভকরেছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ
সারকথা: সাহস, দেশপ্রেম, শত্রুর অন্যায়ের প্রতিশোধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে গেরিলা মুক্তিযোদ্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ করার দিক থেকে উদ্দীপকের জয়নাল এবং উপন্যাসের বুধা এক ও অভিন্ন চরিত্র। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যাট যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!