কুমিল্লা সমবায় সমিতি ১৯৬০ সালে চালু হয়।
বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমির সংক্ষিপ্ত রূপ হলো বার্ড (BARD)।
পল্লি অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ১৯৫৯ সালে কুমিল্লায় পল্লি উন্নয়ন একাডেমি স্থাপন করেন। এ একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন কুমিল্লা মডেলের রূপকার বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ড. আখতার হামিদ খান। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ সংস্থা 'বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমি (BARD)' নামে পরিচিত হয়।
উদ্দীপকের শেষে যে আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে তা হলো স্বনির্ভর আন্দোলন। কেননা পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে জানা যায়, স্বনির্ভর আন্দোলন গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত একটি প্রয়াস।
স্বনির্ভর কথাটির অর্থ হলো নিজের ওপর নির্ভরশীলতা। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালে প্রথমে স্বনির্ভর আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। এই উদ্দেশ্য ছাড়াও এ আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে স্থানীয় সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের প্রচেষ্টা চালানো। যা উদ্দীপকের শেষের আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পল্লি এলাকার আর্থসামাজিক সমস্যা সমাধানে স্বনির্ভর আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে ব্যাপক খাদ্য ঘাটতি বিদ্যমান। তাই প্রতিবছর ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টন খাদ্য আমদানি করতে হয়। ফলে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। তাই স্বনির্ভর আন্দোলনের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। স্বনির্ভর আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জনগণকে কর্মে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে স্বনির্ভর আন্দোলন আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে। দেশের গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ ধর্মভীরু এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন হওয়ার ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তাই স্বনির্ভর আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামের কর্মশালা করতে পারলে সামাজিক গোঁড়ামি ও কুসংস্কার দূর হবে এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বাংলাদেশের বিশেষ করে গ্রামীণ পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবকাঠামো খুব দুর্বল। এমতাবস্থায় স্বনির্ভর আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে স্বেচ্ছাশ্রম দ্বারা রাস্তাঘাট তৈরিতে স্বনির্ভর আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১.৩৭% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে যা দেশের জন্য খুবই ভয়াবহ সংকেত। তাই স্বনির্ভর আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি জোরদার করা যেতে পারে।
এভাবে স্বনির্ভর আন্দোলন পল্লি এলাকার আর্থ-সামাজিক সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের মুসলিম সমাজব্যবস্থায় বিধবা বিবাহের স্বীকৃতি রয়েছে।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।
'৬৯' এর গণ আন্দোলনের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এর আগে তিনি ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা তুলে নেন। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিতে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নতুন সামরিক সরকার বাধ্য হয়। গণঅভ্যুত্থানের ফলে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটে।
উদ্দীপকের 'আলোর দিশারী' সংস্থাটি একটি বেসরকারি সংস্থা।
বেসরকারি সংস্থা বলতে কোনো অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে বোঝায়, যা উন্নয়ন সহযোগিতা অথবা শিক্ষা ও নীতিগত কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকে। বাংলাদেশে বেসরকারি সংস্থাসমূহ বিভিন্ন আর্থ- সামাজিক কর্মকাণ্ড যেমন- দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সুরক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রামীণ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এ সংস্থাসমূহ জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান, বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা, কৃষি উন্নয়নসহ নানা ফলপ্রসু পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বর্তমানে দেশে রেজিস্ট্রিকৃত প্রায় ২,৫০০ দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থা প্রায় দুই কোটি উপকারভোগী তৈরি এবং অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। যেমনটি উদ্দীপকেও দেখা যায়।
উদ্দীপকে লক্ষণীয় যে, নিরক্ষরতা, অনুর্বর জমি, মূলধনের অভাব ইত্যাদি কারণে নীলফামারী জেলার খানাবাড়ি গ্রামের মানুষ দারিদ্র্যের শিকার। এমতাবস্থায় 'আলোর দিশারী' নামক স্থানীয় একটি সংস্থা গ্রামের মানুষের মাঝে শিক্ষার বিস্তার, মূলধন যোগান, ফসলের চারা বিতাড়ন ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করে। ফলে কিছুদিন পর দেখা যায়, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছে। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এটা স্পষ্ট যে, 'আলোর দিশারী' নামক সংস্থাটি একটি বেসরকারি সংস্থা।
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্থা অর্থাৎ বেসরকারি সংস্থাগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।
সমকালীন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনে অনেক বেসরকারি সংস্থা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এসব সংস্থা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের মানসিক, দৈহিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালায়। পাশাপাশি এসব বেসরকারি সংস্থা গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নেও প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। ফলে গ্রামে রাস্তাঘাট, বাজার, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এ কারণে সমকালীন বাংলাদেশের সমাজকাঠামো নানাভাবে পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ লাভ করছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, দারিদ্র্য বিমোচন প্রতিটি ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাসমূহের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যা বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে বেসরকারি সংস্থাসমূহের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, নিজেকে বয়স্ক ভাবা একটি মানসিক রোগ।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থার প্রথম সোপান ইউনিয়ন পরিষদ। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা গ্রামীণ সমাজে ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থান করেন। এদের বেশিরভাগই ধনী লোক, প্রভাবশালী পরিবার থেকে আগত। এরা মূলত গ্রামীণ জনগণের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী অবস্থান নেয়। গ্রামের নানা রকম উন্নয়নমূলক কাজ ক্ষমতাসীন সরকার এদের মাধ্যমেই সম্পন্ন করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!