যে ইতিহাস সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলির ধারাবাহিক বর্ণনা করে তাকে সাম্প্রতিক ইতিহাস বলে।
অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহ নিয়েই ইতিহাস রচিত হয় বলে ইতিহাসকে অতীতমুখী বলা হয়।
মানুষ বা মানবীয় সভ্যতার অতীত ঘটনা ও কার্যাবলির ওপর আলোচনা- পর্যালোচনা ও গবেষণা করা ইতিহাসের কাজ। অতীত ঘটনাপ্রবাহই ইতিহাসের বিচরণক্ষেত্র। ইতিহাস সত্যনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে অতীতকে পুনর্গঠিত করে মানুষকে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়। এ কারণে বলা হয় ইতিহাস অতীতমুখী।
উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্রে ইতিহাসের অলিখিত উপাদান প্রদর্শিত হয়েছে।
ইতিহাসের উপাদানকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- লিখিত উপাদান ও অলিখিত উপাদান। যেসব বস্তু বা উপাদান থেকে আমরা বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাই সেসব বস্তু বা উপাদানই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহই ইতিহাসের অলিখিত উপাদান। যেমন- প্রাচীন শিল্পকীর্তি, অলঙ্কার, মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি, ইমারত, মৃৎশিল্প ইত্যাদি।উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্রে প্রাচীন আমলে মাটির তৈরি টেপা মূর্তি দেখানো হয়েছে, যা মূলত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন অর্থাৎ অলিখিত উপাদানের অন্তর্ভুক্ত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্রে ইতিহাসের অলিখিত উপাদান প্রদর্শিত হয়েছে।
উদ্দীপকে ইতিহাসের অলিখিত উপাদান প্রদর্শিত হয়েছে। শুধুমাত্র অলিখিত উপাদানের মাধ্যমে একটি জাতির পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানা সম্ভব নয়।
ইতিহাস রচনায় লিখিত ও অলিখিত উভয় উপাদানই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু লিখিত উপাদান বা অলিখিত উপাদান দ্বারা পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনা করা সম্ভব নয়। কেননা একটি মাত্র উপাদান ইতিহাস সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য-উপাত্ত দিতে পারে না। একজন ঐতিহাসিকের দায়িত্ব হলো সমস্ত উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সমন্বয়ে সঠিক ইতিহাস রচনা করা। আর এক্ষেত্রে ইতিহাসের লিখিত উপাদানের সাথে অলিখিত উপাদানের সমন্বয় সাধন করা প্রয়োজন।
অলিখিত উপাদান যেমন- মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি, ইমারত, সমরাস্ত্র প্রভৃতির বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেই সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। অপরদিকে লিখিত উপাদানগুলোতে কোনো বিষয় সম্পর্কে সমকালীন বা পরবর্তী সময়ের ঐতিহাসিক, সাহিত্যিক, পর্যটকদের লিখিত বিবরণ পাওয়া যায়। এ সব লিখিত বিবরণ ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস রচনার জন্য লিখিত ও অলিখিত উভয় ধরনের উপাদানের আবশ্যকতা রয়েছে।
উপরের আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, শুধু অলিখিত উপাদানের মাধ্যমে কোনো একটি জাতির পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানা সম্ভব নয়। পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনার জন্য অলিখিত উপাদানের পাশাপাশি লিখিত উপাদানও গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allহিউয়েন সাং চীনের পরিব্রাজক।
সময়ের বিবর্তনে মানুষের কর্মকাণ্ডের পরিধি বৃদ্ধির ফলে ইতিহাসের পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে।
সভ্যতার অগ্রগতি ও সময়ের বিবর্তনে ইতিহাসচর্চায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসৃত হচ্ছে। ফলে ইতিহাস বিষয়ে শাখা-প্রশাখার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এভাবেই ইতিহাসের পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে।
সজল জাতীয় গণগ্রন্থাগারে ইতিহাসের লিখিত উপাদান দেখতে পায়।
ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানের মধ্যে সাহিত্য, নথিপত্র, জীবনী, রূপকথা, কিংবদন্তি, গল্পকাহিনি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সাহিত্য কর্মেও তৎকালীন সময়ের অনেক তথ্য পাওয়া যায়। এসব সাহিত্য কর্মের মধ্যে রয়েছে অর্থশাস্ত্র, তবকাত-ই-নাসিরী, আইন-ই- আকবরী ইত্যাদি।
এছাড়াও ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানের মধ্যে বৈদেশিক বিবরণসমূহও অন্তর্ভুক্ত। এ লিখিত উপাদানগুলোর মাধ্যমে আমরা সমকালীন সময়ের অনেক তথ্য পেয়ে থাকি।
উদ্দীপকের সজল গণগ্রন্থাগারে বিভিন্ন বইপত্র পড়ে। সে বিজ্ঞানের ছাত্র হলেও বিভিন্ন উৎস থেকে ইতিহাসের বইপত্র সংগ্রহ করে। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সজলের পঠিত বিষয়গুলো ইতিহাসের লিখিত উপাদানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
না, সজলের বন্ধুর মানসিকতার সাথে আমি একমত নই। কেননা নিজেকে বিকশিত করতে ইতিহাস পাঠের প্রয়োজন আছে।
ইতিহাস পাঠের তাৎপর্য অনেক। কেননা এটি মানুষকে অতীতের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান অবস্থা বুঝতে এবং ভবিষ্যৎ অনুমান করতে সাহায্য করে। ইতিহাস পাঠের ফলে মানুষের পক্ষে নিজ সম্পর্কে ও নিজ দেশ সম্পর্কে মঙ্গল-অমঙ্গলের পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব হয়। এছাড়াও ইতিহাস পাঠ মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আর এ বিবরণ যদি হয় নিজ দেশ, জাতির সফল সংগ্রাম ও গৌরবময় ঐতিহ্যের, তাহলে তা মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। একই সঙ্গে আত্মপ্রত্যয়ী, আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে। তাছাড়াও ইতিহাস পাঠ মানুষকে সচেতন করে তোলে। বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর উত্থান-পতন এবং সভ্যতার বিকাশ ও পতনের কারণগুলো জানতে পারলে মানুষ ভালো- মন্দের পার্থক্য সহজেই বুঝতে পারে। ফলে সে তার কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকে। সর্বোপরি মানুষ ইতিহাস পাঠ করে অতীত ঘটনাবলির দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
পরিশেষে বলা যায় যে, ইতিহাস সম্পর্কে সজলের বন্ধুর নেতিবাচক মন্তব্যটি গ্রহণযোগ্য নয়।
ইতিহাসকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
যেসব বস্তু বা উপাদান থেকে আমরা বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাই সে সব বস্তু বা উপাদানই ইতিহাসের অলিখিত উপাদান। ইতিহাসের অলিখিত উপাদানকে আবার প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানও বলে। মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি ইত্যাদি হলো ইতিহাসের অলিখিত উপাদানের উদাহরণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!