পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্যাসের সাথে গ্লুকোজ বিক্রিয়া করে।
দিনের বেলা সূর্যের তাপে ভূপৃষ্ঠের পানি সমুদ্র, নদ-নদী, খাল- বিলের পানি বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং এক পর্যায়ে বাষ্প ঘনীভূত হয়ে প্রথমে মেঘ ও পরে তা বৃষ্টি আকারে ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসে। এই বৃষ্টির পানির বড় একটি অংশ নদ-নদী, খাল-বিল ও সমুদ্রে গিয়ে পড়ে এবং আবার বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুমণ্ডলে যায় ও বৃষ্টি আকারে ভূ-পৃষ্ঠের ফিরে আসে। এভাবে পানির ভূ-পৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডলে চক্রাকারে আবর্তনকে পানির পুনরাবর্তন বলে।
উদ্দীপকের চিত্রে কল-কারখানা ও জলযান হতে নিগর্ত বর্জ্য নদীতে নিক্ষেপ করতে দেখা যাচ্ছে। অনেক দিন ধরে নদীতে কল-কারখানা ও
জলযানের বর্জ্য নিক্ষেপ করা হলে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো হবে-
i. শিল্প কারখানার বর্জ্য নদীর পানির সাথে মিশে পানির রং পরিবর্তন করে।
ii. শিল্প কারখানার বর্জ্যে থাকা রাসায়নিক যৌগ যেমন- ফসফরাস, সীসা, ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, সিজিয়াম ইত্যাদি নদীর জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকে।
iii. শিল্প কারখানার বর্জ্যে উপস্থিত ফসফেট নদীতে শ্যাওলা উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এই শ্যাওলাগুলো মারা যাওয়ার পর নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন এর সাথে বিক্রিয়া করে। এর ফলে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। এই অক্সিজেনের অভাবে মাছসহ সকল প্রাণী মারা যায়।
iv. নদীতে চলাচলকারী জলযান হতে নির্গত তেল, বর্জ্য নদীর পানির উপর ভাসতে থাকে ফলে নদীর পানিতে অক্সিজেন দ্রবীভূত হতে পারে না। ফলে নদীতে অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয়।
তাই চিত্রে উল্লিখিত শিল্পের বর্জ্য এবং জলযান থেকে নির্গত বর্জ্যের কারণে নদীতে প্রাণের অস্তিত্ব ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে এবং এক সময় তা মরা নদীতে পরিণত হতে পারে।
আমি মনে করি উদ্দীপকে উল্লিখিত নদীটিকে জলজ প্রাণী বসবাসের জন্য উপযোগী করা সম্ভব। এর জন্য যে সকল কারণে নদ-নদীর পানি দূষিত হয় সে কারণগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
শিল্প-কারখানার সৃষ্ট বর্জ্যপানি পরিশোধন করে তারপর নদীতে ফেলা শুরু করতে হবে। এ পরিশোধন কাজের জন্য দরকার বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা অর্থাৎ ইটিপি (Effluent Treatment Plant বা ETP)। ইটিপি কীভাবে তৈরি করা হবে তা নির্ভর করে কী ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ বর্জ্যপানিতে বিদ্যমান তার ওপর। যেহেতু একেক ধরনের শিল্প-কারখানা থেকে একেক ধরনের বর্জ্য পানি বের হয়, তাই একটি সাধারণ ইটিপি দিয়ে সব কারখানার বর্জ্যপানি পরিশোধন করা সম্ভব নয়। তবে একই ধরনের শিল্প-কারখানা দিয়ে একটি শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলে সব কারখানার বর্জ্য পানি একত্রিত করে একটি ETPতে পরিশোধন করা যেতে পারে।
উদ্দীপকের চিত্রের কলকারখানার বর্জ্য পরিশোধনের জন্য একটি ETP
স্থাপন করে, তাতে বর্জ্যসমূহ পরিশোধন করে নদীতে ফেলা হলে নদীর পানির pH পরিবর্তন এবং জলজ পরিবেশ নষ্ট হয় না। তাছাড়া নদীতে চলাচলকারী জলযান হতে তেল, বর্জ্য নদীতে নিক্ষেপ করার উপর আইন প্রণয়ন, জনমত গড়ে তোলা গেলে চিত্রের নদীটি দূষণ কমানো সম্ভব।
উপরিউক্ত আলোচনা হতে স্পষ্ট যে, জলজ পরিবেশ রক্ষার জন্য জনমত গড়ে তোলা ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে নদীর জলজ প্রাণী বসবাসের উপযোগী করা সম্ভব।
পানির আরেক নাম জীবন। শুধু জীবন ধারণের জন্য নয়, দেশের উন্নয়নের জন্যও আমাদের পানির দরকার। নানা উৎস থেকে আমরা পানি পাই। নানা কারণে আমাদের অতিপ্রয়োজনীয় এই পানির উৎস হুমকির মুখে পড়ছে। এই অধ্যায়ে আমরা এই হুমকিগুলোর কথা জানব এবং কেমন করে তার মোকাবেলা করতে পারব, সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা:
- পানির ধর্ম বর্ণনা করতে পারব।
- পানির গঠন ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পানির বিভিন্ন উৎস বর্ণনা করতে পারব।
- জলজ উদ্ভিদ ও জলজ প্রাণীর জন্য পানির প্রয়োজনীয়তা এবং পানির মানদন্ড ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশ সংরক্ষণে পানির পুনরাবর্তন ধাপসমূহে পানির ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারব।
- মানসম্মত পানির প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করতে পারব।
- পানি বিপুখকরণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বাংলাদেশে পানির উৎসে দূষণের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পানিদূষণের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব।
- বাংলাদেশের মিঠা পানিতে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব।
- পানিদূষণ প্রতিরোধের কৌশল ও নাগরিকের দায়িত্ব বর্ণনা করতে পারব।
- উন্নয়ন কার্যক্রমে পানির ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারব।
- বাংলাদেশে পানির উৎসে হুমকির প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব।
- পানির উৎস সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং কৌশল বর্ণনা করতে পারব।
- পানি প্রাপ্তি সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার – ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পানিপ্রবাহের সর্বজনীনতা এবং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি বর্ণনা করতে পারব ।
- বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার এবং সুস্থ জীবনযাপনে এর প্রভাব বিষয়ে অনুসন্ধানমূলক কাজ পরিচালনা করতে পারব।
- পানির সংকটের (গৃহস্থালি/কৃষি/শিল্পে ব্যবহার) কারণ অনুসন্ধান করতে পারব।
- পানি ব্যবহার ও পানির সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পোস্টার অঙ্কন করতে পারব।
- পানির উৎসে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ, দূষণ রোধ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করব।
- “পানি নাগরিকের মৌলিক মানবিক অধিকার” বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করব।
- পানির অপচয়রোধ এবং কার্যকর ব্যবহারে সচেতন হব।
Related Question
View Allপৃথিবীতে পানি একই প্রক্রিয়ায় ঘুরে ফিরে ব্যবহার হয়। এটি সূর্যের তাপে বাষ্পীভবন, মেঘে রূপান্তর ও বৃষ্টির মাধ্যমে আবার ভূমি ও সমুদ্রে ফিরে আসে। একে পানির পুনরাবর্তন বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!