'খুদে গোয়েন্দার অভিযান' গল্পের থার্ড ক্লাসের ছাত্র খোকা গোয়েন্দা কাহিনির ভীষণ ভক্ত। এ কারণে সে সব কিছুর ভিতরে রহস্য খুঁজে বেড়ায়। তাই তার কাছে পুরোনো বাড়ির ভিতর চলা শুটিংকে রহস্যজনক ঘটনা মনে হয়।
খোকা একদিন স্কুল ফেরার সময় দেখতে পায় কয়েকজন ব্যক্তি মিলে একজনকে দলিলে স্বাক্ষর করতে বলছে, স্বাক্ষর না করলে আধ ঘণ্টার মধ্যে তাকে খুন করা হবে। লোকটিকে বাঁচানোর জন্য খোকা দ্রুত থানায় গিয়ে পুলিশে খবর দেয়। থানার ওসি কয়েকজন পুলিশ নিয়ে ছুটে যান সে বাড়িতে। গিয়ে দেখেন সেখানে একটি পরিচিত নাট্যদলের নতুন এক নাটকের মহড়া চলছে। সেটি যে নাটকের মহড়া তা খোকা বুঝতেই পারেনি। খোকার কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ওসি সাহেবকে।
খোকার কথামতো অভিযানে এসে সময় নষ্ট হয় পুলিশের, নাটকের দলটিও পড়ে বিব্রতকর অবস্থায়। এ কারণেই ওসি সাহেব খোকাকে আচ্ছা করে ধমকে দেন।
শহীদ সাবের রচিত 'খুদে গোয়েন্দার অভিযান' একটি চমৎকার গল্প। এ গল্পের প্রধান চরিত্র সৈফুদ্দিন ওরফে খোকা থার্ড ক্লাসের ছাত্র। এই বয়সেই সে প্রচুর গোয়েন্দা কাহিনি পড়ে ফেলেছে। বই পড়ে তার মধ্যেও গোয়েন্দা হয়ে ওঠার প্রবল বাসনা জাগ্রত হয়।
স্কুল থেকে ফেরার পথে একটি পুরোনো বাড়িতে সে একটি রহস্যজনক ঘটনা দেখতে পায়। সেখানে সে দেখে কয়েকজন ব্যক্তি মিলে একজন ব্যক্তিকে জিম্মি করে রেখেছে দলিলে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্যে। স্বাক্ষর না করলে আধা ঘণ্টার মধ্যে তাকে খুন করা হবে। এই ঘটনা দেখে সে ছুটে যায় পুলিশের কাছে। পুলিশ খোকার বর্ণনা শুনে লোকটিকে বাঁচাতে হাজির হয় ঘটনাস্থলে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখে একটি পরিচিত নাট্যদলের নাটকের মহড়া চলছে। সেটি যে নাটকের মহড়া তা না বুঝেই খোকা পুলিশে খবর দেয়। কেননা, প্রচুর গোয়েন্দা কাহিনি পড়ার কারণে খোকা নিজেকেও গোয়েন্দা ভাবতে শুরু করে। অতি কল্পনায় বিভোর কিশোর খোকা রহস্য উন্মোচনের চেষ্টায় বিভোর থাকে।
কল্পনায় ডুবে থাকা কিশোরের কথা শুনে অভিযানে এসে বিব্রত হয় পুলিশ, বিব্রত হয় নাট্যদলটিও। অতি কৌতূহল কিংবা সীমাহীন ঝোঁক যে কারো জন্য শুভ ফল বয়ে আনে না তাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আলোচ্য গল্পটিতে।
Related Question
View Allসাবধানে পা টিপে টিপে আসুন, নইলে- ফুডুৎ।'- এ কথা খোকা বলেছিল।
মমতাজ সাহেব ও তার সঙ্গীদের ওসি ভয় না-পাওয়ার কথা বললেন।
'খুদে গোয়েন্দার অভিযান' গল্পে খোকার কথামতো ওসি সাহেব তদন্ত করতে যান। একসঙ্গে এত পুলিশ, দারোগা দেখে মমতাজ সাহেব ও তার সঙ্গীরা সবাই দারুণ হকচকিয়ে গেলেন। ওসি তাদের ভয় ভাঙানোর জন্য বললেন, 'কিছু মনে করবেন না। অসময়ে হানা দিয়ে আপনাদের কাজের ব্যাঘাত করলাম বলে। ব্যাপার কিছুই নয়। আমরা সবাই এসেছিলাম একটা অনুরোধ নিয়ে। আমরা যেন বাদ না পড়ি।' ওসি এখানে মমতাজ সাহেবদের নাটকের কথা বলেছেন।
উদ্দীপকটি 'খুদে গোয়েন্দার অভিযান' গল্পের খোকার প্রচুর গোয়েন্দা-কাহিনি পড়ার দিকটিকে নির্দেশ করেছে।
মানুষের ভালো অভ্যাসগুলোর মধ্যে বই পড়া অন্যতম। বই পড়ে মানুষ নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে। একেক জনের একেক রকমের বই পছন্দ।
উদ্দীপকে নুরু ও নিরুর মধ্যে ডিটেকটিভ বই পড়া না-পড়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একটি দ্রব্য চুরি হওয়া না-হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে নুরু নিরুকে শার্লক হোমসের বিখ্যাত স্বতঃসিদ্ধ সত্যের সংজ্ঞাটির কথা বলেছে। এ বিষয়টি 'খুদে গোয়েন্দার অভিযান' গল্পের খোকার প্রচুর গোয়েন্দা কাহিনি পড়ার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই সে একটি পুরনো বাড়িতে রহস্যজনক ঘটনার সন্ধান পেয়ে পুলিশকে খবর দিয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে পুলিশ এসে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করেছে। সেই সত্য উদ্দীপকের সত্যকে নির্দেশ করে।
"মিল থাকলেও উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'খুদে গোয়েন্দার অভিযান' গল্পের মূলভাব এক নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
কিশোর মন নানা বিষয় জানার জন্য কৌতূহলী হয়। বই পড়ে, ভ্রমণ করে কিশোররা তাদের কৌতূহল মেটাতে চায়। তারা নিজেদের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কখনো বড়দের অবাক করে দেয়, আবার কখনো হতাশ করে।
উদ্দীপকে শার্লক হোমসের 'যখন সব অনুমান ফাঁকা বলে প্রমাণিত হয়, তখন যে অনুমানটি অবশিষ্ট থাকে, তাই সত্য'- এই বিখ্যাত স্বতঃসিদ্ধ বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকের এ বিষয়টি 'খুদে গোয়েন্দার অভিযান' গল্পের খোকার অনুমান ফাঁকা প্রমাপ্তি হওয়া এবং অবশিষ্ট অনুমানের সত্যের ঘটনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ বিষয়টি ছাড়াও 'খুদে গোয়েন্দার অভিযান' গল্পে আরও কিছু বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে যেগুলো উদ্দীপকে নেই।
'খুদে গোয়েন্দার অভিযান' গল্পে একটি পুরনো বাড়িতে রহস্যজনক ঘটনার সন্ধান পেয়ে খোকা পুলিশে জানায় যে ঐ বাড়িতে কয়েকজন ব্যক্তি একজনকে দলিলে স্বাক্ষর করতে বলছে; তা না করলে আধঘণ্টার মধ্যে তাকে খুন করার হুমকি দিচ্ছে। ওসি খোকাকে সঙ্গে নিয়ে সেই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বুঝতে পারেন যে, সেখানে বিখ্যাত অভিনেতা মমতাজ সাহেব ও তার সঙ্গীরা নতুন এক নাটকের মহড়া দিচ্ছেন। ঘটনাটি যে নাটকের মহড়া খোকা তা বুঝতে পারেনি। এ বিষয়টি উদ্দীপকে নেই। এখানে বেশি গোয়েন্দা-কাহিনি পড়ার কারণে খোরা বাস্তব জীবনেও সেরকম ঘটনার কল্পনা করে নিয়েছে। এখানে তার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
ওসি পান্ডুলিপির কয়েক পৃষ্ঠা উলটে সমস্ত ব্যাপারটি বুঝতে পারেন।
রাজামিত্র রোডের বাড়িতে আইঢাই অভিনেতা সঙ্ঘের নতুন নাটকের মহড়া চলাকালে পুলিশের অভিযান সম্পর্কে সংবাদপত্রে খবর ছাপা হয়।
সংবাদপত্রে বলা হয়- ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, সৈফুদ্দীন ওরফে খোকাবাবু নামে এক বালক থানা পুলিশকে খবর দেয় যে, 'কিছু লোক মিলে অপর একটি লোককে খুন করিতে যাইতেছে। 'তাহারা সেই লোকটিকে কোনো একটি দলিলে স্বাক্ষর করিবার আদেশসহ আধঘণ্টা সময় দিয়াছে, এই আধঘণ্টার মধ্যে উক্ত দলিলে স্বাক্ষর না-করিলে তাহাকে রিভলবার দ্বারা হত্যা করিবার হুমকি দেওয়া হইয়াছে।'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
