২৬ এপ্রিল, ২০২৬
মনোহরপুর, ভোলা।
প্রিয় তুষার,
আমার শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নিও। আশা করি পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভালো আছো। গতকালই তোমার চিঠি পেয়েছি। চিঠিতে তুমি আমার সাম্প্রতিক দিনগুলো কেমন কাটল তা জানতে চেয়েছ। আজ তোমাকে আমার একটি দারুণ অভিজ্ঞতার কথা বলব।
গত সপ্তাহে আমাদের বিদ্যালয় থেকে আমরা বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ ভ্রমণে গিয়েছিলাম। বহুদিনের ইচ্ছা ছিল বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী এই স্থানটি দেখার। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।
মসজিদটিতে প্রবেশ করতেই এক অন্যরকম অনুভূতি হলো। এর বিশালতা এবং প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী আমাকে সত্যি মুগ্ধ করেছে। ষাটগম্বুজ নাম হলেও এর ভেতরে রয়েছে মোট একাশিটি গম্বুজ! ষাটটি পাথরের খিলানের ওপর এই বিশাল স্থাপনা দাঁড়িয়ে আছে বলেই হয়তো লোকমুখে এর এমন নাম। সুলতান মাহমুদ শাহের আমলে পীর খান জাহান আলী এই অসাধারণ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। এর টেরাকোটার কাজ এবং লাল ইটের কারুকার্য তৎকালীন মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন।
সেখানে একটি জাদুঘরও রয়েছে। সেখানে আমরা প্রাচীন আমলের মুদ্রা, শিলালিপি ও নানা ঐতিহাসিক জিনিসপত্র দেখতে পাই। ইতিহাসের বইয়ে যেসব কথা পড়েছি, তা চোখের সামনে দেখে অন্যরকম রোমাঞ্চ অনুভব করেছি। সত্যিই এই ভ্রমণটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা একটি অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
আজ আর নয়। তোমার স্কুলের পড়াশোনা কেমন চলছে জানিও। তোমার বাবা-মাকে আমার সালাম দেবে।
ইতি,
তোমার বন্ধু
শিশির
২৭ এপ্রিল, ২০২৬
প্রধান শিক্ষক,
খুলনা জিলা স্কুল,
খুলনা।
বিষয়: ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় ছুটি চেয়ে আবেদন।
মহোদয়,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির 'ক' শাখার একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী (রোল- ০৫)। আমি গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত থাকায় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারিনি। বর্তমানে আমি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুস্থ হয়ে উঠেছি।
অতএব, মহোদয়ের নিকট আকুল আবেদন, আমার শারীরিক অবস্থা ও অনুপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনা করে উক্ত পাঁচ দিনের ছুটি মঞ্জুর করে বাধিত করবেন।
বিনীত,
আপনার একান্ত অনুগত ছাত্র,
সাজিদ
নবম শ্রেণি, শাখা- 'ক'
রোল- ০৫
খুলনা জিলা স্কুল।
Related Question
View Allবৈশাখী মেলা
বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি বিশেষ অংশ হলো বৈশাখী মেলা। প্রতি বছর বাংলা পহেলা বৈশাখ, অর্থাৎ ১৪ই এপ্রিল, এই মেলার আয়োজন করা হয়। বৈশাখী মেলা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি বাংলার জীবনযাত্রার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত এক ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান।
মেলার শুরু হয় সকালবেলায়, যেখানে গ্রামের মানুষ তাদের পোষাক ও সাজসজ্জায় মেতে ওঠে। বাজারে নানা ধরনের স্টল ও দোকান বসে, যা বিভিন্ন রকমের পণ্য ও সামগ্রী বিক্রি করে। এই মেলায় স্থানীয় হস্তশিল্প, জামদানি শাড়ি, মাটির পুতুল, কুটির শিল্পের নানা সামগ্রী পাওয়া যায়। মেলার এক দিকের গন্ধ আসে পিঠে-পুলি, মোয়া, চিড়েসুড়ির মত ঐতিহ্যবাহী খাবারের সুবাস।
বৈশাখী মেলা শুধু কেনাকাটার জন্যই নয়, বরং এটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আনন্দের মিলনমেলা। মেলা উপলক্ষে গীতিনাট্য, লোকনৃত্য, গান, কৌতুক পরিবেশিত হয়। এই সাংস্কৃতিক কার্যক্রম গ্রামীণ জীবনকে প্রাণবন্ত করে তোলে এবং নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করায়।
মেলা শেষ হওয়ার পর, সবাই একসাথে আনন্দের সাথে বাড়ি ফিরে আসে, মনে মনে ভরপুর আশা ও স্মৃতি নিয়ে। বৈশাখী মেলা একদিকে যেমন বাংলার ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে, অন্যদিকে এটি সামাজিক মেলবন্ধনও শক্তিশালী করে।
এভাবে, বৈশাখী মেলা বাংলার সংস্কৃতির একটি অপরিহার্য অংশ, যা সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যবাহী জীবনের সাথে সম্পৃক্ত।
বৈশাখী মেলা
বৈশাখী মেলা নববর্ষের একটি উৎসব । নববর্ষ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই মেলা বসে । এটি বৈশাখের প্রথম দিনে (মাসের) অনুষ্ঠিত হয় । মূলত বৈশাখী মেলার আয়োজন করে স্থানীয় লোকেরা । পহেলা বৈশাখ আয়োজন করা হয় বাংলাদেশের বিভিন্নজায়গায় ছোট বড় অনেক স্থানে । মেলা শুরু করে স্থানীয় লোকেরা এই মেলাতে বিভিন্ন ধরনের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা গুলো শুরু করে । এই মেলাগুলো এক সপ্তাহ কিংবা এক মাস ব্যাপী হয়ে থাকে । বৈশাখী মেলা সাধারণত খোলা আকাশের নিচে বসে । প্রতিবছর রমনার বটমূলে বসে এ মেলার প্রভাতি আসর । এছাড়া গ্রামের হাট-বাজার, নদীর তীর, মন্দির প্রাঙ্গণে এ মেলা বসে । মানুষের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ করা যায় । নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, নানা ধরনের কুটিরশিল্প, খেলনাসহ হরেক রকম পণ্যের সমাহার ঘটে এ মেলায় । এছাড়াও থাকে যাত্রা, পুতুলনাচ, নাগরদোলা, সার্কাসসহ বিনোদনমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন । বিভিন্ন ধরনের মিষ্টিজাতীয় খাবারও পাওয়া যায় মেলায় । এমেলায় বসে বাঙ্গালীর ঐতিহ্যবাহি নানা খাবারের পশরা । হরেক রকমের মিষ্টি, বাতাসা, খই, মুড়ি, আচার সহ নানান রকম বাহারী বাঙ্গালী খাবার এ মেলার প্রধান আকর্ষন । এছাড়া রং-বেরঙের বেলুন আর বাঁশের বাঁশির সুর আর কচিকাচাদের কোলাহলে মুখরিত থাকে মেলা প্রাঙ্গন । বৈশাখী মেলায় গিয়ে তালপাতার তৈরি হাতপাখা কেনেন না এমন লোকের সংখ্যা খুব কম । লোহা ও কাঠের তৈরি সামগ্রীর মধ্যে দা, বঁটি, কাস্তে, ছুরি, খুন্তি, কোদাল, শাবল, পিঁড়ি, জলচৌকি, চেয়ার, টেবিল, খাট-পালঙ্ক ইত্যাদি পাওয়া যায় । বৈশাখি মেলা আনন্দের পাশাপাশি আমাদের জীবনের অনেক প্রয়োজন মেটায় ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!