ঢাকা, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রিয় জারিফ/জোবায়দা,
আমার প্রীতি ও ভালোবাসা নিও। আশা করি ভালো আছো। গত সপ্তাহে আমি সপরিবারে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও মহাস্থানগড় ভ্রমণ করেছি। সেই ঐতিহাসিক স্থানগুলোর অভিজ্ঞতাই তোমাকে জানাচ্ছি।
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের বিশালতা ও প্রাচীন স্থাপত্য দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। মনে হয়েছে, যেন ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছি। এরপর মহাস্থানগড়ে গিয়ে প্রাচীন বাংলার রূপ ও সমৃদ্ধি দেখে মন ভরে গেল। সেখানে শিলাদেবীর ঘাট এবং জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রাচীন মুদ্রা ও মাটির ফলক আমাদের মুগ্ধ করেছে। এই ভ্রমণ আমার জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বাংলার ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তুলেছে।
তুমি যখন আসবি, তখন বিস্তারিত বলবো। তোর খবর জানিও। আজ আর নয়।
ইতি,
তোর বন্ধু,
মাসুদ/মাসুদা
২০ অক্টোবর ২০২৪
সম্পাদক,
দৈনিক ইত্তেফাক,
১, রামকৃষ্ণ মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩।
বিষয়: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিকারের দাবিতে জনসচেতনতা ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ।
জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকার ‘জনতার কণ্ঠস্বর’ বা ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে এর প্রতিকারের দাবিতে একটি চিঠি প্রকাশের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
সম্প্রতি দেশের সড়ক-মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা একটি ভয়াবহ মহামারির রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই দেখতে পাই অকালে ঝরে যাচ্ছে কতশত প্রাণ। সড়ক দুর্ঘটনা এখন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এর ফলে প্রতিদিন অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে, পঙ্গুত্ব বরণ করছে অনেক কর্মক্ষম মানুষ ।
সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে চালকদের বেপরোয়া গতি, অদক্ষতা, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল, রাস্তাঘাটের ত্রুটিপূর্ণ নকশা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা । এছাড়াও, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন ও পথচারীদের অসচেতনতাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এমতাবস্থায়, কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাই, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হোক। চালকদের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। রাস্তা পারাপারে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে ।
আমরা সড়কে আর কোনো প্রাণহানি দেখতে চাই না। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন—এটাই প্রত্যাশা।
বিনীত,
আরিফ/আরিফা
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
Related Question
View Allবৈশাখী মেলা
বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি বিশেষ অংশ হলো বৈশাখী মেলা। প্রতি বছর বাংলা পহেলা বৈশাখ, অর্থাৎ ১৪ই এপ্রিল, এই মেলার আয়োজন করা হয়। বৈশাখী মেলা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি বাংলার জীবনযাত্রার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত এক ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান।
মেলার শুরু হয় সকালবেলায়, যেখানে গ্রামের মানুষ তাদের পোষাক ও সাজসজ্জায় মেতে ওঠে। বাজারে নানা ধরনের স্টল ও দোকান বসে, যা বিভিন্ন রকমের পণ্য ও সামগ্রী বিক্রি করে। এই মেলায় স্থানীয় হস্তশিল্প, জামদানি শাড়ি, মাটির পুতুল, কুটির শিল্পের নানা সামগ্রী পাওয়া যায়। মেলার এক দিকের গন্ধ আসে পিঠে-পুলি, মোয়া, চিড়েসুড়ির মত ঐতিহ্যবাহী খাবারের সুবাস।
বৈশাখী মেলা শুধু কেনাকাটার জন্যই নয়, বরং এটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আনন্দের মিলনমেলা। মেলা উপলক্ষে গীতিনাট্য, লোকনৃত্য, গান, কৌতুক পরিবেশিত হয়। এই সাংস্কৃতিক কার্যক্রম গ্রামীণ জীবনকে প্রাণবন্ত করে তোলে এবং নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করায়।
মেলা শেষ হওয়ার পর, সবাই একসাথে আনন্দের সাথে বাড়ি ফিরে আসে, মনে মনে ভরপুর আশা ও স্মৃতি নিয়ে। বৈশাখী মেলা একদিকে যেমন বাংলার ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে, অন্যদিকে এটি সামাজিক মেলবন্ধনও শক্তিশালী করে।
এভাবে, বৈশাখী মেলা বাংলার সংস্কৃতির একটি অপরিহার্য অংশ, যা সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যবাহী জীবনের সাথে সম্পৃক্ত।
বৈশাখী মেলা
বৈশাখী মেলা নববর্ষের একটি উৎসব । নববর্ষ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই মেলা বসে । এটি বৈশাখের প্রথম দিনে (মাসের) অনুষ্ঠিত হয় । মূলত বৈশাখী মেলার আয়োজন করে স্থানীয় লোকেরা । পহেলা বৈশাখ আয়োজন করা হয় বাংলাদেশের বিভিন্নজায়গায় ছোট বড় অনেক স্থানে । মেলা শুরু করে স্থানীয় লোকেরা এই মেলাতে বিভিন্ন ধরনের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা গুলো শুরু করে । এই মেলাগুলো এক সপ্তাহ কিংবা এক মাস ব্যাপী হয়ে থাকে । বৈশাখী মেলা সাধারণত খোলা আকাশের নিচে বসে । প্রতিবছর রমনার বটমূলে বসে এ মেলার প্রভাতি আসর । এছাড়া গ্রামের হাট-বাজার, নদীর তীর, মন্দির প্রাঙ্গণে এ মেলা বসে । মানুষের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ করা যায় । নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, নানা ধরনের কুটিরশিল্প, খেলনাসহ হরেক রকম পণ্যের সমাহার ঘটে এ মেলায় । এছাড়াও থাকে যাত্রা, পুতুলনাচ, নাগরদোলা, সার্কাসসহ বিনোদনমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন । বিভিন্ন ধরনের মিষ্টিজাতীয় খাবারও পাওয়া যায় মেলায় । এমেলায় বসে বাঙ্গালীর ঐতিহ্যবাহি নানা খাবারের পশরা । হরেক রকমের মিষ্টি, বাতাসা, খই, মুড়ি, আচার সহ নানান রকম বাহারী বাঙ্গালী খাবার এ মেলার প্রধান আকর্ষন । এছাড়া রং-বেরঙের বেলুন আর বাঁশের বাঁশির সুর আর কচিকাচাদের কোলাহলে মুখরিত থাকে মেলা প্রাঙ্গন । বৈশাখী মেলায় গিয়ে তালপাতার তৈরি হাতপাখা কেনেন না এমন লোকের সংখ্যা খুব কম । লোহা ও কাঠের তৈরি সামগ্রীর মধ্যে দা, বঁটি, কাস্তে, ছুরি, খুন্তি, কোদাল, শাবল, পিঁড়ি, জলচৌকি, চেয়ার, টেবিল, খাট-পালঙ্ক ইত্যাদি পাওয়া যায় । বৈশাখি মেলা আনন্দের পাশাপাশি আমাদের জীবনের অনেক প্রয়োজন মেটায় ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!