তিরন্দাজ

 

সেকালে দিল্লির কাছে হস্তিনা নামে এক নগর ছিল। শান্তনু সেই হস্তিনায় রাজত্ব করিতেন। একদিন শান্তনু যমুনার তীরে বেড়াইতে গিয়া অপরূপ সুন্দরী একটি কন্যা দেখিতে পাইলেন। এই কন্যার নাম সত্যবতী। শিশুকাল হইতে এক ধীবর তাঁহাকে পালন করিয়াছিল। রাজা ধীবরের কাছে গিয়া তাঁহার পালিত কন্যাটিকে বিবাহ করিতে চাহিলেন।
ধীবর বলিল, 'মহারাজ, আপনার দেব্রতের মতো সোনার চাঁদ ছেলে থাকিতে সত্যবতীর ছেলের রাজ্য পাইবার কোনোই সম্ভাবনা নাই, কাজেই এই বিবাহে আমি মত দিতে পারি না। দেবব্রত একদিন ধীবরের কাছে গিয়া বলিলেন, 'আমার পিতার সহিত আপনার কন্যার বিবাহ দিন। ভবিষ্যতে তাঁহার পুত্রই রাজা হইবেন। প্রতিজ্ঞা করিতেছি, আমি কখনো সিংহাসন দাবি করিব না।'
ধীবর বলিল, 'কুমার, এ প্রতিজ্ঞা আপনারই যোগ্য বটে, কিন্তু সিংহাসন লইয়া পরে আপনার পুত্রেরা যে গোলযোগ করিবেন না, তাহার নিশ্চয়তা কী?' তখন দেব্রত বলিলেন, 'আচ্ছা, আবার প্রতিজ্ঞা করিতেছি যে, আমি বিবাহও করিব না।' দেব্রতের এই ভীষণ প্রতিজ্ঞার জন্য তাঁহার নাম হইল ভীষ্ম।
মহাসমারোহে রাজা শান্তনু ও সত্যবতীর বিবাহ হইয়া গেল। তারপর যথাক্রমে তাঁহাদের চিত্রাঙ্গদ ও বিচিত্রবীর্য নামে দুই পুত্র হইল। ভীষ্ম রাজ্যের সকল অধিকার ত্যাগ করিয়াও রাজকার্যের সমস্ত ভার আনন্দের সহিত বহন করিতে লাগিলেন। বিচিত্রবীর্য বড়ো হইলে অম্বিকা ও অম্বালিকার সহিত তাঁহার বিবাহ হয়। কালক্রমে এই দুই কন্যার দুইটি পুত্র হইল। অম্বিকার পুত্রের নাম হইল ধৃতরাষ্ট্র, তিনি ছিলেন জন্মান্ধ । আর অম্বালিকার পুত্রের নাম পাণ্ডু ৷

অন্ধ ছিলেন বলে ধৃতরাষ্ট্র পিতার মৃত্যুর পর রাজা হইতে পারিলেন না। দেশের লোক পাণ্ডুকেই সিংহাসনে বসাইল। ইহাতে ধৃতরাষ্ট্র খুবই দুঃখিত হইলেন। পাণ্ডুর বড়ো ছেলের নাম যুধিষ্ঠির। ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব নামে তাঁহার আরও চারি পুত্র ছিলেন। ধৃতরাষ্ট্রের দুর্যোধন, দুঃশাসন প্রভৃতি একশত ছেলে আর দুঃশলা নামে একটি মেয়ে ছিল। পাণ্ডু কুরুবংশের রাজা হইলেও তাঁহার ছেলেগুলিকে লোকে ‘পাণ্ডব’ বলিত আর ধৃতরাষ্ট্রের ছেলেদের বলিত ‘কৌরব’।
বড়ো হইলে যুধিষ্ঠির হস্তিনার সিংহাসনে বসিবেন, এ দুঃখ কি আর দুর্যোধন প্রভৃতির সহ্য হয়! ছেলেবেলা হইতেই পাণ্ডবদের প্রতি হিংসায় তাহাদের বুক ফাটিয়া যাইতে লাগিল। এদিকে পাণ্ডুর ছেলেদের সরল মিষ্ট ব্যবহারে সকলেই সুখী হইত। কিন্তু পাণ্ডবদের সুখের দিন দেখিতে দেখিতে ফুরাইয়া গেল। অতি শিশুকালেই তাহারা পিতৃহীন হইলেন । তখন যুধিষ্ঠির, ভীম প্রভৃতি পাঁচ ভাই ধৃতরাষ্ট্রের একশত ছেলের সহিত একসঙ্গে বাস করিতে লাগিলেন। দুর্যোধন প্রভৃতির অন্তর যে কত কুটিল, পাণ্ডবেরা তাহা বেশ বুঝিতে পারিয়াছিলেন এবং সেই জন্য তাঁহারা বিশেষ সতর্ক হইয়া চলিতে লাগিলেন।

ক্ষত্রিয়ের ছেলেরা শাস্ত্রপাঠের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধবিদ্যাও শিখিতে আরম্ভ করে। রাজকুমারগণ কৃপাচার্য নামে একজন শিক্ষকের নিকট ধনুর্বিদ্যা শিক্ষা করিতেন। ভীষ্মের কিন্তু বরাবর এই ইচ্ছা যে, ভরদ্বাজ মুনির পুত্র সুবিখ্যাত দ্রোণাচার্যের ওপর ছেলেদের অস্ত্রশিক্ষার ভার দেন । ঘটনাক্রমে একদিন দ্রোণ নিজেই হস্তিনায় আসিয়া উপস্থিত হইলেন ।

শহরের বাহিরে পৌছিয়াই দ্রোণ দেখিলেন, রাজবাড়ির ছেলেরা উৎসাহের সহিত একটা লোহার গোলা লইয়া খেলা করিতেছে । খেলিতে খেলিতে গোলাটা হঠাৎ এক কুয়ার মধ্যে পড়িয়া গেল । তখন সকলেই উহা উঠাইয়া আনিবার চেষ্টা করিতে লাগিল বটে, কিন্তু কেহই কৃতকার্য হইল না । আচার্য এই ব্যাপার দেখিয়া হাসিতে হাসিতে বলিলেন, “ছি ছি! ক্ষত্রিয়ের ছেলে হইয়া তোমরা এই সামান্য কাজটা পারিলে না! এই দেখ, আমি গোলা তুলিয়া দিতেছি'—এই বলিয়া তিনি একটা শর লইয়া ওই গোলাতে বিদ্ধ করিলেন। তারপর শরের পেছনে শর, তার পেছনে আর একটা শর—পরে পরে এইভাবে বিদ্ধ করিয়া শেষের শরটি ধরিয়া অক্লেশেই গোলা টানিয়া তুলিলেন । গোলা উঠান হইলে ব্রাহ্মণ কুয়ার মধ্যে নিজের আংটি ফেলিয়া তাহাও ওইরূপ কৌশলে উঠাইয়া আনিলেন । ব্যাপার দেখিয়া সকলে তো অবাক!

দেখিতে দেখিতে এ খবর চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িল। ব্রাহ্মণের আশ্চর্য শক্তির কথা শুনিয়া ভীষ্মের বুঝিতে বাকি রহিল না যে, স্বয়ং দ্রোণাচার্য আসিয়াছেন । কেননা, এ কাজ আর কাহারও দ্বারা সম্ভব হইতে পারে না । তিনি মনে মনে এতদিন যাহা চাহিতেছিলেন, তাহাই হইল—দ্রোণ নিজেই আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ইহার পর আচার্যকে যথেষ্ট আদর-অভ্যর্থনা করিয়া লইয়া ভীষ্ম তাঁহার ওপর ছেলেদের অস্ত্রশিক্ষার ভার দিলেন । এরূপ আদর-যত্ন এবং হঠাৎ এতগুলি শিষ্য পাইয়া দ্রোণের তখন কী আনন্দ! তিনি বলিলেন, ‘বৎসগণ, আমি তোমাদিগকে এমন করিয়া যুদ্ধবিদ্যা শিখাইব যে লোকের তাক লাগিয়া যাইবে। শেষে কিন্তু আমার একটি কাজ করিয়া দিতে হইবে।'

আচার্যের কথা শুনিয়া আর সকলেই চুপ করিয়া রহিলেন। কেবল অর্জুন বলিলেন, ‘বলুন কী করতে হবে? আপনার আদেশ কখনও অমান্য করিব না।'
অর্জুনের কথায় প্রীত হইয়া দ্রোণ তাঁহাকে বুকে টানিয়া লইয়া আদর করিলেন। তারপর চোখের জল মুছিতে মুছিতে বলিলেন, ‘সে কথা পরে বলিব।' সেইদিন হইতে আচার্য অর্জুনকে ঠিক নিজের ছেলের মতো ভালোবাসিতে লাগিলেন ।
যথারীতি ছেলেদের অস্ত্রশিক্ষা আরম্ভ হইল। রাজকুমারদের সহিত আর যাহারা দ্রোণের নিকট শিক্ষা পাইত, তাহাদের মধ্যে কর্ণই প্রধান। এই কর্ণকে লোকে অধিরথ সারথির ছেলে বলিয়া জানিত। কিন্তু বাস্তবিক সে যুধিষ্ঠিরের সহোদর—কুন্তীর জ্যেষ্ঠপুত্র। কর্ণের জন্মের পর কুন্তী তাহাকে পরিত্যাগ করেন। কুন্তী যে কর্ণের মা, কথা আর কেহই জানিত না। কর্ণ নিজেও এ কথা অনেককাল পর্যন্ত জানিতে পারে নাই । এ
দ্রোণের শিক্ষাগুণে কয়েক মাসের মধ্যে সকলেরই খুব উন্নতি হইল । ধনুর্বিদ্যায় অর্জুন একজন অদ্বিতীয় বীর হইয়া উঠিলেন। গদায় দুর্যোধন ও ভীম এবং খড়্গগে নকুল ও সহদেব খুব নাম কিনিলেন। আচার্যের মুখে অর্জুনের প্রশংসা আর ধরে না। তিনি মনে করিলেন, ‘এই প্রিয় শিষ্যটিকে এমন-সকল কৌশল শিখাইব যে, পৃথিবীতে কেহই যেন ইহার সহিত আঁটিয়া উঠিতে না পারে।' আর সত্যই, কাজেও তিনি তাহা করিলেন । অর্জুনের আদর দেখিয়া হিংসায় দুর্যোধন আর বাঁচে না। কর্ণ বরাবরই অর্জুনকে ঘৃণা করিত। এখন হইতে সেও দুর্যোধনের দলে যোগ দিয়া কথায় কথায় পাণ্ডবদের অপমান করিতে লাগিল ।

এই সময় একদিন দ্রোণ কুমারগণের পরীক্ষার জন্য একটি নীলরঙের পাখি প্রস্তুত করিয়া গাছের ডালে বসাইয়া দিলেন। তারপর সকলকে ডাকিয়া বলিলেন, ‘ওই যে পাখিটি দেখিতেছ, উহার মাথা লক্ষ্য করিয়া তির ছুড়িতে হইবে। মাথাটি কাটিয়া ফেলিতে পারিলে বুঝিব আমার পরিশ্রম সার্থক হইয়াছে।'
এ কথায় চারিদিকেই উৎসাহের স্রোত বহিতে লাগিল। ক্রমে রাজকুমারগণ তির-ধনুক লইয়া প্রস্তুত হইলেন। তখন দ্রোণ যুধিষ্ঠিরকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘বল দেখি তুমি কী দেখিতেছ?' যুধিষ্ঠির বলিলেন, “একটা পাখি দেখিতেছি।' দ্রোণ পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলেন, 'আর কী দেখিতেছ?' যুধিষ্ঠির বলিলেন, ‘গাছের ডালপালা সবই দেখিতেছি, আপনাদের সকলকেও দেখিতেছি।' এরূপ উত্তরে দ্রোণ সন্তুষ্ট হইতে পারিলেন না; বলিলেন, ‘না বাপু, এখনও তোমার নজরই ঠিক হয় নাই ৷’

ইহার পর তিনি এক-এক করিয়া প্রায় সকলকেই ডাকিলেন, কিন্তু কেহই তাঁহার মনের মতো উত্তর দিতে পারিল না । শেষে অর্জুনকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, 'তুমি বল দেখি কী দেখিতেছ?' অর্জুন বলিলেন, 'আমি শুধু পাখির মাথা দেখিতেছি, আর কিছুই না।' এইবার দ্রোণের মুখ প্রফুল্ল হইয়া উঠিল । তিনি বলিলেন, 'আচ্ছা, মাথাটি কাট দেখি।' আচার্যের মুখের কথা না-ফুরাইতেই অর্জুনের বাণে পাখির কাটা-মাথা মাটিতে লুটাইয়া পড়িল ।

আর একদিন দ্রোণকে কুমিরে ধরিয়াছিল। তিনি ইচ্ছা করিলেই কুমিরকে মারিতে পারিতেন, কিন্তু তাহা না-করিয়া যেন মহাবিপদেই পড়িয়াছেন, এইরূপ ভান করিয়া চিৎকার করিতে লাগিলেন। কুমারেরা ভয়ে একেবারে জড়সড়, কিন্তু অর্জুনের মনে ভয়ের লেশমাত্র নেই। তিনি তখনই কয়েকটা বাণ মারিয়া কুমিরকে খণ্ড খণ্ড করিয়া ফেলিলেন ।
ইহাতে দ্রোণ যে কীরূপ সন্তুষ্ট হইলেন, তাহা আর কী বলিব! তিনি অর্জুনকে আশীর্বাদ করিয়া 'ব্রহ্মশিরা' নামে এক অস্ত্র পুরস্কার দিলেন। সে অতি ভয়ানক অস্ত্র। তাহার তেজে স্বর্গ-মর্ত্য কাঁপিয়া ওঠে। মানুষের ওপর সে অস্ত্র ছাড়িতে আচার্য কিন্তু অর্জুনকে নিষেধ করিয়া দিলেন ।
ইহার পর আরও কিছুদিন চলিয়া গেল। ক্রমে সকলেই এক-একজন বীর হইয়া উঠিলেন। এইবার দশজনের সাক্ষাতে কুমারদের রণকৌশল প্রদর্শনের সময় উপস্থিত । দ্রোণের পরামর্শে অন্ধরাজ প্রকাণ্ড এক রঙ্গভূমি প্রস্তুত করাইলেন। উহার মাঝখানে খেলিবার স্থান এবং চারিদিকে
রাজা-রাজড়া ও বড়ো বড়ো বীরদিগের বসিবার জন্য সুন্দর সুন্দর মঞ্চ। মহিলাগণের জন্য স্বতন্ত্র আসন। বিচিত্র
পত্র-পুষ্পে, নিশান-ঝালরে সমুদয় রঙ্গভূমি ঝলমল করিতে লাগিল ।
আগেই দেশে দেশে ঢোল পিটাইয়া এ সংবাদ ঘোষণা করা হইয়াছিল। পরীক্ষার দিন রঙ্গভূমি একেবারে লোকে লোকারণ্য । তাহাদের কোলাহলে ও বাদ্যের শব্দে সারা দেশ মাতিয়া উঠিল ।

যথাসময়ে ধৃতরাষ্ট্র এবং ভীষ্ম, কৃপ, বিদুর প্রমুখ সভায় প্রবেশ করিলেন। তারপর মান্য ব্যক্তিগণের অভ্যর্থনা
চলিতে লাগিল। ক্রমে মহিলাগণ আসিয়া উপস্থিত হইলেন। শেষে দেশ-বিদেশের ছোটো-বড়ো কেহই আর
আসিতে বাকি থাকিল না । সকলে আপন আপন আসন গ্রহণ করিলে, আচার্য দ্ৰোণ শ্বেতবসনভূষণে সজ্জিত হইয়া
রঙ্গভূমিতে প্রবেশ করিলেন।
কুমারগণ সারি বাঁধিয়া দলে দলে দেখা দিতে লাগিলেন। তাঁহাদের সাজসজ্জা আর অস্ত্রের চাকচিক্যে চারিদিকে উজ্জ্বল হইয়া উঠিল । জয়ধ্বনি ও বাদ্য-কোলাহল থামিলে দুর্যোধন আর ভীম গদাহস্তে অগ্রসর হইলেন। তাঁহাদের চালচলন ও যুদ্ধের কৌশল কী সুন্দর! কিন্তু কিছুক্ষণ খেলিতে খেলিতে উভয়ে এমন উত্তেজিত হইয়া উঠিলেন যে, দ্রোণাচার্য ভয় পাইয়া তাঁহাদিগকে থামাইয়া দিতে বাধ্য হইলেন ।

গদা-খেলার পর কুমারগণ দুই দলে বিভক্ত হইয়া নকল যুদ্ধের অভিনয় দেখাইয়া সকলকে চমৎকৃত করিলেন । শেষে আসিলেন অর্জুন। যেমন বীরের ন্যায় চেহারা, তেমনি তাঁহার হাতের কায়দা। তিনি অগ্নিবাণে চারিদিকে আগুন জ্বালাইয়া, বরুণবাণে তখনই আবার তাহা নিভাইয়া ফেলিলেন; এক বাণে আকাশে বায়ু ও মেঘের সৃষ্টি করিলেন, এক বাণে বিশাল পর্বত গড়িলেন, এক বাণে নিজেই ভূমিতে প্রবেশ করিয়া পর-মুহূর্তেই আবার বাহিরে আসিলেন । তাঁহার বাণে কখনও রৌদ্র, কখনও মেঘ, কখনও বৃষ্টি—যেন বাজিকরের ভেলকি ! লোকের চোখে ধাঁধা লাগিয়া গেল । শেষে অর্জুন এক বাণে আপনাকে এমন করিয়া লুকাইলেন যে, কেহ আর তাহাকে দেখিতে পাইল না । আশ্চর্য শিক্ষা !
অর্জুনের জয়ধ্বনিতে চারিদিক ভরিয়া উঠিল।

 

Content added By

Related Question

View More

মহাভারতের চরিত্র শান্তনু ও গঙ্গাদেবীর পুত্র হলেন দেবব্রত। মহাভারতে তিনি ভীষ্ম নামেই সমধিক পরিচিত।

একদিন রাজা শান্তনু মৃগয়ায় গিয়ে এক মৎস্যজীবীর পালিতা কন্যা সত্যবতীকে দেখে মোহিত হন এবং তাকে বিয়ে করতে চান।

সত্যবতীর পিতা শান্তনুকে কন্যাদান করতে রাজি হন এই শর্তে যে, সত্যবতীর পুত্র বড় হয়ে রাজ্যভার পাবে। শান্তনু এতে বিমর্ষ হন এবং রাজ্যে ফিরে যান। কিন্তু দেবব্রত বিষয়টি জানতে পারেন এবং তিনি মৎস্যজীবীকে কথা দেন যে, তিনি রাজত্ব দাবি করবেন না। তাতেও সত্যবতীর পিতার চিন্তা দূর হয় না। কারণ, দেবব্রত সিংহাসন দাবি না করলেও, দেবব্রতর সন্তানরা তা দাবি করতে পারে। তখন দেবব্রত পিতার ইচ্ছাপূরণের জন্য প্রতিজ্ঞা করেন যে, তিনি কোনোদিনও বিবাহ করবেন না। এমন একটা ভীষণ প্রতিজ্ঞা করেছিলেন বলেই পরে তিনি ভীষ্ম হিসেবে পরিচিত হন। শৌর্যে, বীর্যে, জ্ঞানে, রাজনীতিতে; দৃঢ়তা ও ধর্ম-সংযমে ভীষ্মে তো মহাপুরুষ জগতে বিরল।

যোগীন্দ্রনাথ সরকার রচিত 'তিরন্দাজ' গল্পটি ছোটোদের জন্য লেখা মহাভারতের 'আদিপর্ব' থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে পাণ্ডু ও কুরুর সন্তানদের মধ্যকার পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সম্পর্ক এবং যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শিতা প্রদর্শনের ঘটনা স্থান পেয়েছ।

'তিরন্দাজ' গল্পটি মহাভারতের অন্যতম চরিত্র কৌরব ও পাণ্ডবদের বীরত্ব ও প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্ক নিয়ে রচিত। দিল্লির হস্তিনাপুরের রাজা শান্তনুর বংশধর এই কৌরব ও পাণ্ডবগণ। আদিকাল থেকেই রাজা শান্তনুর বংশধরদের মধ্যে রাজত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটে। অন্ধ ছিলেন বলে ধৃতরাষ্ট্র পিতার সিংহাসনে বসতে পারেননি। ফলে তার পুত্রও সিংহাসনলাভ করতে পারবে না। সিংহাসনের উত্তরাধিকার হন পান্ডুর জ্যেষ্ঠ পুত্র যুধিষ্ঠির। ফলে কৌরব ও পাণ্ডবদের মধ্যে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সম্পর্ক তৈরি হয়। কৌরবরা পাণ্ডবদের সাথে ভালো আচরণ করত না। তবে তাদের পিতামহ ভীষ্ম উভয়দেরই স্নেহ করতেন। তিনি চেয়েছিলেন অস্ত্রবিদ্যার গুরু দ্রোণাচার্যের হাতে তাদের অস্ত্রশিক্ষা দেবেন। দ্রোণাচার্যও তাদেরকে সানন্দে অস্ত্রবিদ্যা শেখাতে লাগলেন। দেখা গেল প্রত্যেকেই অস্ত্রচালনায় বিশেষ জ্ঞানার্জন করে। তাদের মধ্যে অর্জুন দ্রোণাচার্যের কাছে সর্বাধিক প্রিয় হয়ে ওঠেন তার বিশেষ বৈশিষ্ট্যের গুণে। তার অস্ত্রশিক্ষার পারদর্শিতায় মুগ্ধ হয়ে দ্রোণাচার্য তাকে 'ব্রহ্মশিরা' নামের একটি বিশেষ ক্ষমতাধর অস্ত্র উপহার দেন। দ্রোণাচার্য কৌরব ও পাণ্ডবদের রণকৌশলে পারদর্শিতা পরীক্ষার জন্য রণক্ষেত্রের আয়োজন করেন। এতে সবাই প্রত্যেকের যুদ্ধবিদ্যা দেখিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। অর্জুন সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত হন।

'তিরন্দাজ' গল্পটিতে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে একটি রাজবংশের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্ক, তাদের শ্রম ও আগ্রহের ফলে প্রাপ্ত পুরস্কার, গুরু-শিষ্যের মধ্যকার স্নেহ-ভালোবাসা ও বিশ্বাসের এক মেলবন্ধন। নিষ্ঠার সাথে শিক্ষকের নির্দেশনাবলি পালন করলে যে সুফল পাওয়া যায় তা অর্জুনের অস্ত্রশিক্ষায় পারদর্শিতা থেকেই অনুমেয়। অর্জুনের অক্লান্ত শ্রম ও চর্চা তাকে শ্রেষ্ঠ তিরন্দাজে পরিণত করে। সেই সাথে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালোবাসারও নিদর্শন 'তিরন্দাজ' গল্পটি। দ্রোণাচার্য অর্জুনের নিষ্ঠা, দৃঢ় মনোযোগ ও গুরুভক্তি সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন। এজন্যই কুমিরের আক্রমণে তিনি ভীত হননি, নিজে বাঁচারও চেষ্টা করেননি। তিনি জানতেন অর্জুন তাকে ঠিক বাঁচিয়ে নেবেন। গুরু-শিষ্যের এই অপূর্ব স্নেহ-ভালোবাসা ও বিশ্বাসের মেলবন্ধন গল্পটিকে একটি উচ্চ মাত্রা দান করেছে।

মহাভারতের দুটি বিখ্যাত বংশধর কৌরব ও পান্ডব। তারা একই বংশের হলেও রাজত্ব নিয়ে তাদের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের সূত্রপাত হয় এবং রাজত্বের উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বে আলাদা হয়ে যায়।

দিল্লির হস্তিনাপুরের রাজা ছিলেন শান্তনু। তিনি মৎস্যকন্যা সত্যবতীকে বিবাহ করেন। তাদের ঘরে চিত্রাঙ্গদ ও বিচিত্রবীর্য নামে দুটি পুত্রসন্তান হয়। বিচিত্রবীর্যের দুই স্ত্রী অম্বিকা ও অম্বালিকা। অম্বিকার গর্ভজাত সন্তান ধৃতরাষ্ট্র এবং অম্বালিকার পুত্র পাণ্ডু। জন্মান্ধ হওয়ায় ধৃতরাষ্ট্র রাজ্যভার নিতে পারেননি। অন্যদিকে ছোট হওয়া সত্ত্বেও পাণ্ডুই দেশের রাজ্যভার গ্রহণ করেন। এই পাণ্ডু ও কুন্তীর পাঁচ ছেলে যাদেরকে 'পঞ্চপাণ্ডব' নামে ডাকা হয়। তারা হলেন যথাক্রমে-যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব। অন্যদিকে ধৃতরাষ্ট্রের দুর্যোধন, দুঃশাসন প্রভৃতি একশত ছেলে আর দুঃসলা নামে এক মেয়ে ছিল। পাণ্ডু কুরুবংশের হলেও তার ছেলেদেরকে 'পাণ্ডব' বলে ডাকত এবং ধৃতরাষ্ট্রের ছেলেদের বলা হতো 'কৌরব'।

মহাভারতের 'কৌরব' ও 'পাণ্ডব'রা আসলে একই রাজবংশের। ক্ষমতার লড়াইয়ের কারণে তারা আলাদা রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন।

মহাভারতে 'পঞ্চপাণ্ডব' নামে পরিচিত পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়জন ছিলেন অর্জুন। অর্জুন ধনুর্বিদ্যায় বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর অস্ত্রশিক্ষার গুরু দ্রোণাচার্যের কাছ থেকে তিনি ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন সততা, নিষ্ঠা, আগ্রহ ও গুরুভক্তির মাধ্যমে।

কৌরব ও পান্ডবদের পিতামহ ভীষ্ম ছেলেদের অস্ত্রশিক্ষায় পারদর্শী করে তোলার জন্য ভরদ্বাজ মুনিপুত্র দ্রোণাচার্যের ওপর ভার দেন। দ্রোণাচার্য সানন্দে তাদের অস্ত্রশিক্ষা দিতে থাকেন। তাদের মধ্যে অর্জুন দ্রোণাচার্যের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেন। অর্জুন ছিলেন প্রচণ্ড মনোযোগী, আগ্রহী এবং গুরুভক্ত। দ্রোণাচার্য তাদেরকে বলেন- "আমি তোমাদের এমনভাবে অস্ত্র শিক্ষা দেব যে, সবারই তাক লেগে যাবে। শেষে কিন্তু আমার একটি কাজ করে দিতে হবে।" একথা শুনে সবাই চুপ থাকলেও অর্জুন বলে উঠলেন যে তিনি তার গুরুর আদেশ কখনই অমান্য করবেন না। অর্জুনের কথায় দ্রোণাচার্য অত্যন্ত প্রীত হন এবং তাকে নিজের ছেলের মতো ভালোবাসতে থাকেন। তাদের অস্ত্রশিক্ষার কতটুকু উন্নতি হলো তা দেখার জন্য দ্রোণাচার্য একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। তিনি সবাইকে একটি পাখির চোখের লক্ষ্যভেদ করতে বলেন। দ্রোণাচার্য সবাইকে জিজ্ঞেস করেন তারা কে কী দেখতে পাচ্ছে। কেউই আশানুরূপ উত্তর দিতে পারেননি। একমাত্র অর্জুন মনোযোগ ও লক্ষ্য ঠিক রাখতে পেরেছেন যা দ্রোণাচার্যকে মুগ্ধ করে। আবার কুমিরের হাত থেকেও অর্জুন সাহসিকতার সাথে দ্রোণাচার্যকে বাঁচান। অর্জুনের কাজে খুশি হয়ে তিনি অর্জুনকে অতি শক্তিশালী 'ব্রহ্মশিরা' অস্ত্র উপহার দেন।

দ্রোণাচার্যের অতি স্নেহের ও পছন্দের শিষ্য ছিলেন অর্জুন। অর্জুনের অস্ত্রশিক্ষার ক্ষমতা ও কৌশল প্রায় প্রাবাদিক পর্যায়ে পৌঁছে দেন তিনি। অর্জুন এই বিদ্যা শিখেছিলেন প্রচন্ড আগ্রহ, পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে। দ্রোণাচার্যের সব পরীক্ষাতেই অর্জুন উত্তীর্ণ হতে সক্ষম হন। অর্জুনের প্রবল ইচ্ছা, আগ্রহ ও গুরুর প্রতি ভক্তি তাকে উচ্চতম স্থানে জায়গা করে দেয়। দ্রোণাচার্য তাঁর যুদ্ধবিদ্যাকৌশল, তীব্র মনোযোগ, আগ্রহ ও গুরুর প্রতি শ্রদ্ধায় খুবই প্রীত হন। এভাবেই অর্জুন দ্রোণাচার্যের মন জয় করে নিয়েছিলেন।

ভীষ্ম দ্রোণাচার্যের ওপর ছেলেদের অস্ত্রশিক্ষার ভার দিয়েছিলেন। এই অস্ত্রগুরু মহাভারতের যুগের আধুনিক সামরিক কলাকৌশল, ব্যূহ রচনা, দিব্যাস্ত্র প্রভৃতিতে খুবই দক্ষ ছিলেন।

দ্রোণ যিনি দ্রোণাচার্য নামে পরিচিত, তিনি হলেন মহাভারতে বর্ণিত অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। তিনি ঋষি ভরদ্বাজের পুত্র এবং ঋষি অগ্নিরসের বংশজ। তিনি অস্ত্রবিদ্যায় বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। এমনকি ভয়ংকর দিব্যাস্ত্র ব্রহ্মাস্ত্রের ব্যবহারও তিনি জানতেন। রাজা ভরতের উত্তরাধিকার অনুসারে, একজন যোগ্য ব্যক্তিকে রাজকীয় রীতি মেনে হস্তিনাপুরের রাজা হতে হবে। তাই ভীষ্ম একজন যোগ্য উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য অস্ত্রশিক্ষার গুরু দ্রোণাচার্যকে কৌরব ও পাণ্ডবদের রণকৌশল শেখানোর কাজে নিযুক্ত করতে চান। কিছুদিন পর দ্রোণাচার্য নিজেই হস্তিনাপুরে এলে ভীষ্ম তাঁকে ছেলেদের অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষার দায়িত্ব দেন যাতে তারা রাজ্যভার নেওয়ার যোগ্য উত্তরসূরি হয়ে ওঠেন।

দ্রোণাচার্য ছিলেন এক আশ্চর্য প্রতিভাধর অস্ত্রবিদ্যায় পারদর্শী চরিত্র। তাঁর পারদর্শিতা সম্পর্কে ভীষ্ম অবগত ছিলেন। রাজ্যের জন্য যোগ্য উত্তরাধিকার পেতে চাইলে দ্রোণাচার্যের অস্ত্রশিক্ষা খুবই জরুরি। এসব বিবেচনা করেই ভীষ্ম দ্রোণাচার্যকে ছেলেদের অস্ত্রশিক্ষার গুরুভার দিয়েছিলেন।

মহাভারতের অন্যতম প্রধান চরিত্র অর্জুন। তিনি ছিলেন ভীষণ দক্ষ ধনুর্বিদ যাঁর অস্ত্র চালনায় কোনো সমকক্ষ ছিল না। শৈশব থেকেই অর্জুনের দক্ষতা ও বীরত্ব ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ছিলেন পাণ্ডবদের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিভাবান।

মহাভারতের অন্যতম প্রধান চরিত্র অর্জুন। তিনি ছিলেন ভীষণ দক্ষ ধনুর্বিদ যাঁর অস্ত্র চালনায় কোনো সমকক্ষ ছিল না। শৈশব থেকেই অর্জুনের দক্ষতা ও বীরত্ব ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ছিলেন পাণ্ডবদের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিভাবান।

অর্জুনের চরিত্র মহাভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল অসাধারণ তীরন্দাজিতে। তার অস্ত্রবিদ্যার গুরু ছিলেন দ্রোণাচার্য। হস্তিনাপুরের যোগ্য উত্তরসূরি নির্বাচন করার জন্য ভীষ্ম কৌরব ও পান্ডবদেরকে যুদ্ধবিদ্যা শিক্ষার জন্য অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্যকে নিয়োগ করেন। দ্রোণাচার্য তাদেরকে স্নেহ ও সযত্নে যুদ্ধবিদ্যা শেখান। তাদের মধ্যে অর্জুন তার বিশেষ গুণে দ্রোণাচার্যকে মুগ্ধ করেন। অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষায় অর্জুনের পারদর্শিতা অন্য সবাইকে ছাড়িয়ে যায়। তাদের অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষার উন্নতি কতটুকু হলো তা দেখার জন্য দ্রোণাচার্য একটি রণকৌশল প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন। এতে সবাই তাদের যুদ্ধবিদ্যা দেখিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে। কিন্তু অর্জুনের রণকৌশল সর্বাধিক প্রশংসিত হয়। যেমন বীরের ন্যায় তার চেহারা, তেমনই তার হাতের কায়দা। তিনি অগ্নিবাণে চারিদিকে আগুন জ্বালিয়ে তা আবার বরুণবাণে নিভিয়ে দেন। এক বাণে আকাশে বায়ু ও মেঘ সৃষ্টি করেন, এক বাণে বিশাল পর্বত সৃষ্টি করেন, আবার এক বাণে নিজেই ভূমিতে প্রবেশ করে পরমুহূর্তেই বাইরে বেরিয়ে এলেন। তার বাণে কখনো রৌদ্র, কখনো মেঘ, আবার কখনা বৃষ্টি- যেন কোনো বাজিকরের ভেলকি চলছে! এসব দেখে লোকের চোখে যে ধাঁধাঁ লেগে যায়। আবার শেষে অর্জুন এক বাণে নিজেকে এমনভাবে লুকিয়ে ফেলেন যে, কেউ আর তাকে দেখতে পেল না। এমন আশ্চর্য ধনুর্বিদ্যা দেখে অর্জুনের জয়ধ্বনিতে চারিদিকে ভরে উঠেছিল।
তিরন্দাজিতে আশ্চর্য জ্ঞানসম্পন্ন অর্জুন দ্রোণাচার্যের অস্ত্রশিক্ষার শ্রেষ্ঠ ফসল। অর্জুন একদিকে যেমন অসাধারণ যোদ্ধা, অন্যদিকে তেমনই নৈতিক ও মানবিক গুণসম্পন্ন একজন মানুষ। গুরুর প্রতি অসামান্য ভক্তি ও পরম শ্রদ্ধা-ভালোবাসা তার অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।

শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...