পরমাণুর ইলেকট্রনসমূহ বিভিন্ন কক্ষপথে বণ্টনের নিয়মকে ইলেকট্রন বিন্যাস বলে।
জানা আছে, ভরসংখ্যা হলো প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার সমষ্টি। অক্সিজেনের ভরসংখ্যা ১৬ বলতে বুঝায়, অক্সিজেনে উপস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যার সমষ্টি ১৬। যেহেতু অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা হলো ৮। সুতরাং, এতে উপস্থিত
নিউট্রনের সংখ্যা = (১৬ - ৮) = ৮।
তাহলে অক্সিজেনের ভরসংখ্যা = (৮+৮) বা ১৬।
এখানে, A মৌলটির পারমাণবিক সংখ্যা ১১ এবং
A মৌলটির ভরসংখ্যা ২৩
জানা আছে, মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা প্রোটন সংখ্যা = ইলেকট্রন সংখ্যা
যেহেতু A মৌলের প্রোটন সংখ্যা ১১,
A মৌলের ইলেকট্রন সংখ্যা ১১
আবার, A মৌলের নিউট্রন সংখ্যা ভরসংখ্যা প্রোটন সংখ্যা
= ২৩ – ১১ = ১২,
সুতরাং A মৌলটির ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা যথাক্রমে ১১. ১১ এবং ১২।
উদ্দীপক অনুযায়ী, A ও B এর পারমাণবিক সংখ্যা যথাক্রমে ১১ ও ১৭। সুতরাং, A ও B মৌল দুটি যথাক্রমে সোডিয়াম (Na) এবং ক্লোরিন (CI) তাছাড়া Na মৌলের ভরসংখ্যা ২৩ এবং CI মৌলের ভরসংখ্যা ৩৫। Na ও CI পরমাণুদ্বয় ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে স্থিতিশীলতা অর্জন করতে সক্ষম। নিচে প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো-জানা আছে, মৌলের পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথে ২, ৮, ১৮ বা ৩২টি ইলেকট্রন থাকলে স্থিতিশীল হয়। সোডিয়াম ও ক্লোরিনের ইলেকট্রন বিন্যাস করে পাই-
সোডিয়াম (Na) পরমাণুর সর্বশেষ স্তরে ১টি ইলেকট্রন আছে। Na তার সর্বশেষ স্তরের ইলেকট্রন খুব সহজেই ত্যাগ করে নিষ্ক্রিয় গ্যাস নিয়নের ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জন করতে পারে এবং স্থিতিশীল হয়। অন্যদিকে, ক্লোরিন পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথে ৭টি ইলেকট্রন আছে। ৭টি ইলেকট্রন ত্যাগ করা কঠিন বলে ক্লোরিন সর্বশেষ স্তরে ১টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে নিকটদ্ধ নিষ্ক্রিয় গ্যাস আর্গনের স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জন করে। অতঃপর বিপরীত আধানদ্বয় যুক্ত হয়ে আয়নিক যৌগ NaCl গঠন করে।
এভাবে আয়ন সৃষ্টির মাধ্যমে ' পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে NaCl আয়নিক যৌগ গঠন করতে সক্ষম হয় তথা স্থিতিশীলতা অর্জন করে।
Related Question
View Allসিলিকনের পারমাণবিক সংখ্যা ১৪।
Na' বলতে ধনাত্মক আধান যুক্ত আয়ন বা ক্যাটায়ন বুঝায়। কোনো পরমাণু যখন এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে তখন পরমাণুটি ধনাত্মক চার্জে তথা ক্যাটায়নে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে Na পরমাণু। টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Na' ক্যাটায়নে পরিণত হয়েছে; তাতে Na এর ইলেকট্রন সংখ্যা (11-1) = 10টি।
উল্লেখিত মডেলটি হলো রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল। নিচে
মডেলটির বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো:
১. পরমাণুতে ধনাত্মক আধান ও ভর নিউক্লিয়াস নামক একটি ক্ষুদ্র জায়গায় অবস্থান করে।
২. পরমাণুর বেশির ভাগ জায়গা ফাঁকা।
৩. ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণার তেমন কোনো ভর নেই।
৪. ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণা নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
৫. এই মডেলটিকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করা হয়। তাই এই মডেলকে Solar System বা সৌর মডেল বলে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত রাদারফোর্ডের মডেলে সৌর মডেল অনুসরণ করা হয় কি-না তা নিচে যাচাই করা হলো:
১. সৌরজগতের কেন্দ্রে রয়েছে সূর্য এবং সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহগুলো বিভিন্ন কক্ষপথে একইভাবে ঘুরতে থাকে। তেমনি পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কক্ষপথে এক বা একাধিক ইলেকট্রন ঘুরতে থাকে।
২. সৌরজগতে সূর্যের ভর গ্রহগুলোর প্রত্যেকটির ভরের তুলনায় অনেক বেশি। তেমনি পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর প্রত্যেকটি
ইলেকট্রনের ভরের তুলনায় অনেক বেশি। ৩. সৌরজগতের বেশির ভাগ স্থান ফাঁকা, তেমনি পরমাণুরও বেশির ভাগ জায়গা ফাঁকা।
৪. সৌরজগতের আয়তনের তুলনায় গ্রহগুলো ও সূর্যের মোট আয়তন খুবই কম। তেমনি পরমাণুর আয়তনের তুলনায় নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনগুলোর মোট আয়তন নগণ্য।
৫. সৌরজগতের গ্রহগুলোর কক্ষপথ সামান্য উপবৃত্তাকার। সূর্য এ উপবৃত্তের কেন্দ্রে থাকে। পরমাণুতেও ইলেকট্রনগুলোর কক্ষপথ বৃত্তাকার ও উপবৃত্তাকার হয় এবং নিউক্লিয়াসটি বৃত্ত বা উপবৃত্তের কেন্দ্রে থাকে।
অতএব, উপরোক্ত বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় উদ্দীপকে উল্লেখিত মডেলে সৌর মডেল অনুসরণ করা হয়।
যোজনী হলো অণু গঠনকালে কোনো মৌলের একটি পরমাণুর সাথে অপর একটি মৌলের পরমাণু যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা।
পারমাণবিক সংখ্যা বলতে কোনো পরমাণুর প্রোটন সংখ্যাকে বুঝানো হয়। ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা ১৭ বলতে বুঝায়, ক্লোরিনের একটি পরমাণুতে ১৭ টি প্রোটন আছে। একটি পরমাণুতে যেহেতু প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান তাই বোঝা যায়, ক্লোরিনের একটি পরমাণুতে ১৭ টি ইলেকট্রনও আছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!