কোনো মৌল বা যৌগের অণুর সংক্ষিপ্ত প্রকাশই হলো সংকেত।
আধানযুক্ত পরমাণুকে আয়ন বলে। যখন কোনো পরমাণু এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ বা গ্রহণ করে তখন পরমাণুটি আধানযুক্ত হয়। যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস ২, ৮, ১। এক্ষেত্রে সোডিয়াম (Na) পরমাণু ১টি ইলেকট্রন দান করে ধনাত্মক আয়ন (Na') সৃষ্টি করে। অনুরূপভাবে ফ্লোরিন পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস ২, ৭। এক্ষেত্রে ফ্লোরিন পরমাণু একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়ন সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে প্রদত্ত তিনটি মৌল A, B, C এর পারমাণবিক সংখ্যা যথাক্রমে ১০, ১২, ১৬ হওয়ায় মৌল তিনটি যথাক্রমে নিয়ন (Ne), ম্যাগনেসিয়াম (Mg) ও সালফার (১)। যেহেতু যেকোনো মৌলের পরমাণুর প্রোটনের সংখ্যা, মৌলটির পারমাণবিক সংখ্যার সমান। আবার প্রোটন সংখ্যার সমান সংখ্যক ঋণাত্মক ইলেকট্রন পরমাণুটির কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান থাকে। তাই বলা যায় Ne, Mg, S মৌল তিনটির ইলেকট্রন সংখ্যা যথাক্রমে ১০, ১২ ও ১৬।
Ne (১০) এর বিন্যাস ২, ৮
Mg(১২) এর বিন্যাস ২, ৮, ২
১(১৬) এর বিন্যাস ২, ৮, ৬।
নিম্নে Ne, Mg, S তিনটি মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস চিত্র এঁকে দেখানো হলো-

উদ্দীপকের B ও C মৌল দুটির পারমাণবিক সংখ্যা যথাক্রমে ১২ ও ১৬। অর্থাৎ B ও C মৌল দুইটি হলো ম্যাগনেসিয়াম (Mg) ও সালফার (S)। নিয়ে Mg ও ৪ মৌল দুটির পরমাণুসমূহের মধ্যে যৌগ গঠনের সক্ষমতা ইলেকট্রন বিন্যাসসহ বিশ্লেষণ করা হলো-
যেহেতু মৌলের পারমাণবিক সংখ্যার সমান সংখ্যক ইলেকট্রন পরমাণুর কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান থাকে, তাই বলা যায় Mg ও S মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন সংখ্যা যথাক্রমে ১২ ও ১৬। Mg পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস ১, ৮. ২।

অর্থাৎ এর শেষ কক্ষপথে ২টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে নিকটস্থ স্থিতিশীল মৌল নিয়নের (Ne - ২, ৮) ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জন করতে চায়। অপরদিকে S পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস ২, ৮, ৬ যা সর্বশেষ কক্ষপথে ২টি ইলেকট্রন গ্রহণের মাধ্যমে নিকটস্থ স্থিতিশীল মৌল আর্গন (Ar-২. ৮. ৮) এর ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জন করতে চায়।
এভাবে দুটি পরমাণুর ইলেকট্রন বর্জন ও গ্রহণের ফলে তাদের মধ্যে একটি আকর্ষণ বল কাজ করে। তখন তারা একে অন্যের সাথে আয়নিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আয়নিক যৌগ MgS গঠন করে। অর্থাৎ উপরোক্ত বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায়, B ও C অর্থাৎ Mg ও ৪ মৌল দুটির পরমাণুসমূহ যৌগ গঠনে সক্ষম।
Related Question
View Allসিলিকনের পারমাণবিক সংখ্যা ১৪।
Na' বলতে ধনাত্মক আধান যুক্ত আয়ন বা ক্যাটায়ন বুঝায়। কোনো পরমাণু যখন এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে তখন পরমাণুটি ধনাত্মক চার্জে তথা ক্যাটায়নে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে Na পরমাণু। টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Na' ক্যাটায়নে পরিণত হয়েছে; তাতে Na এর ইলেকট্রন সংখ্যা (11-1) = 10টি।
উল্লেখিত মডেলটি হলো রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল। নিচে
মডেলটির বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো:
১. পরমাণুতে ধনাত্মক আধান ও ভর নিউক্লিয়াস নামক একটি ক্ষুদ্র জায়গায় অবস্থান করে।
২. পরমাণুর বেশির ভাগ জায়গা ফাঁকা।
৩. ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণার তেমন কোনো ভর নেই।
৪. ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণা নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
৫. এই মডেলটিকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করা হয়। তাই এই মডেলকে Solar System বা সৌর মডেল বলে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত রাদারফোর্ডের মডেলে সৌর মডেল অনুসরণ করা হয় কি-না তা নিচে যাচাই করা হলো:
১. সৌরজগতের কেন্দ্রে রয়েছে সূর্য এবং সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহগুলো বিভিন্ন কক্ষপথে একইভাবে ঘুরতে থাকে। তেমনি পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কক্ষপথে এক বা একাধিক ইলেকট্রন ঘুরতে থাকে।
২. সৌরজগতে সূর্যের ভর গ্রহগুলোর প্রত্যেকটির ভরের তুলনায় অনেক বেশি। তেমনি পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর প্রত্যেকটি
ইলেকট্রনের ভরের তুলনায় অনেক বেশি। ৩. সৌরজগতের বেশির ভাগ স্থান ফাঁকা, তেমনি পরমাণুরও বেশির ভাগ জায়গা ফাঁকা।
৪. সৌরজগতের আয়তনের তুলনায় গ্রহগুলো ও সূর্যের মোট আয়তন খুবই কম। তেমনি পরমাণুর আয়তনের তুলনায় নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনগুলোর মোট আয়তন নগণ্য।
৫. সৌরজগতের গ্রহগুলোর কক্ষপথ সামান্য উপবৃত্তাকার। সূর্য এ উপবৃত্তের কেন্দ্রে থাকে। পরমাণুতেও ইলেকট্রনগুলোর কক্ষপথ বৃত্তাকার ও উপবৃত্তাকার হয় এবং নিউক্লিয়াসটি বৃত্ত বা উপবৃত্তের কেন্দ্রে থাকে।
অতএব, উপরোক্ত বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় উদ্দীপকে উল্লেখিত মডেলে সৌর মডেল অনুসরণ করা হয়।
যোজনী হলো অণু গঠনকালে কোনো মৌলের একটি পরমাণুর সাথে অপর একটি মৌলের পরমাণু যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা।
পারমাণবিক সংখ্যা বলতে কোনো পরমাণুর প্রোটন সংখ্যাকে বুঝানো হয়। ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা ১৭ বলতে বুঝায়, ক্লোরিনের একটি পরমাণুতে ১৭ টি প্রোটন আছে। একটি পরমাণুতে যেহেতু প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান তাই বোঝা যায়, ক্লোরিনের একটি পরমাণুতে ১৭ টি ইলেকট্রনও আছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!