পৃথিবীতে সকল শক্তির উৎস সূর্য।
উদ্ভিদের পাতায় বিদ্যমান সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি, কার্বন ডাইঅক্সাইড রাসায়নিক বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। এজন্য পাতাকে উদ্ভিদের রাসায়নিক কারখানা বলে।
উদ্দীপকে A ও B হলো যথাক্রমে কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) ও অক্সিজেন (O2)। জীবজগতে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের গুরুত্ব নিচে বর্ণনা করা হলো-
সালোকসংশ্লেষণের সময় উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। ফলে পরিবেশে প্রাণিকুলের বেঁচে থাকার জন্য অতি প্রয়োজনীয় অক্সিজেন গ্যাসের অভাব ঘটে না। অন্যদিকে প্রাণিজগতের সকল প্রাণী অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে, ফলে পরিবেশ অক্সিজেন ঘাটতি এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড আধিক্য ঘটার কথা। বিন্তু প্রকৃত অর্থে তা ঘটছে না। কারণ সালোকসংশ্লেষণের সময় পরিবেশ থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গৃহীত হচ্ছে এবং অক্সিজেন নির্গত হচ্ছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, জীবজগতের কল্যাণে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড বিশেষ অবদান রেখে চলেছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিক্রিয়ায় B উপাদানটি হলো অক্সিজেন। উল্লিখিত বিক্রিয়ায় অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন তৈরি হয়। এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নিচে একটি পরীক্ষা উল্লেখ করা হলো-
উপকরণ: একটি বিকার, একটি ফানেল, একটি টেস্টটিউব, পানি, সতেজ জলজ উদ্ভিদ হাইড্রিলা ও একটি দিয়াশলাই।উপকরণ: একটি বিকার, একটি ফানেল, একটি টেস্টটিউব, পানি, সতেজ জলজ উদ্ভিদ হাইড্রিলা ও একটি দিয়াশলাই।

ফানেলের নলের উপরের দিকে থাকে। এরপর বিকারে আরও পানি ঢালি যাতে ফানেলের নল সম্পূর্ণভাবে পানিতে ডুবে থাকে। এবার টেস্টটিউব পানি দিয়ে পূর্ণ করে এর মুখ বৃদ্ধাঙুল দিয়ে বন্ধ করে ফানেলের নলের উপর এমনভাবে উল্টিয়ে দেই যাতে টেস্টটিউবের পানি বের না হয়ে যায়। এরপর পরীক্ষণটি সূর্যালোকে রাখি।
পর্যবেক্ষণ: কিছুক্ষণ পর দেখতে পাব হাইড্রিলা উদ্ভিদগুলোর কান্ডের প্রান্ত দিয়ে বুদবুদ আকারে গ্যাস বের হয়ে টেস্টটিউবে জমা হচ্ছে এবং টেস্টটিউবের পানি নিচে নেমে যাচ্ছে। টেস্টটিউবের প্রায় সম্পূর্ণটা গ্যাসে পূর্ণ হলে দিয়াশলাইয়ের একটা সদ্য নেভানো কাঠি টেস্টটিউবের মুখে প্রবেশ করালে, নেভানো কাঠিটি দপ করে জ্বলে উঠবে। এ থেকে বলা যায়, টেস্টটিউবে গ্যাস রয়েছে এবং এ গ্যাসটি হলো অক্সিজেন।
কারণ অক্সিজেন নিজে জ্বলে না কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে।
পৃথিবীর প্রতিটি জীবের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন হয়। এ খাদ্য কোথা থেকে আসে, তা কি তোমরা জান? সাধারণত সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। তবে এর বাইরে সবুজ শৈবাল ও কিছু ব্যাকটেরিয়াও খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। এ অধ্যায়ে আমরা সবুজ উদ্ভিদ কিভাবে খাদ্য প্রস্তুত করে সে বিষয়ে জানতে পারব। উদ্ভিদ নিজে প্রস্তুতকৃত খাদ্য ব্যবহার করে তার দেহের বৃদ্ধি ও অন্যান্য কাজে লাগায়। সবুজ উদ্ভিদ কীভাবে খাদ্য প্রস্তুত করে। এ অধ্যায়ে সে বিষয়ে আমরা জানতে পারব।
এই অধ্যায় শেষে আমরা
• উদ্ভিদ কীভাবে খাদ্য প্রস্তুত করে ব্যাখ্যা করতে পারব।
• সালোকসংশ্লেষণের উপর জীবজগতের নির্ভরশীলতা ব্যাখ্যা করতে পারব।
• খাদ্য প্রস্তুতে উদ্ভিদের অবদান উপলব্ধি করতে পারব এবং উদ্ভিদের প্রতি সংবেদনশীল হব।
Related Question
View Allযে প্রক্রিয়ায় সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
সাধারণত উদ্ভিদের পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হয়ে থাকে। ফলে বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। এছাড়া পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি এবং পাতায় অসংখ্য পত্ররন্দ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় আদান-প্রদান সহজে ঘটে। এসব কারণেই সালোকসংশ্লেষণ প্রধানত উদ্ভিদের পাতায় সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকের P বেলজারে মোমবাতিটি জ্বলে থাকে। নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন নির্গমন করে। এ প্রক্রিয়ায় নির্গত অক্সিজেন বেলজারে আবদ্ধ থাকার কারণে পরিবেশে উন্মুক্ত না হতে পেরে বেলজারটি অক্সিজেন গ্যাস দ্বারা পূর্ণ হয়। আমরা জানি, অক্সিজেন নিজে জ্বলে না কিন্তু আগুনকে জ্বলতে সাহায্য করে। যেখানে অক্সিজেন থাকে না সেখানে আগুন জ্বলে না। যেহেতু বেলজারে অক্সিজেন আছে তাই বেলজারের ভেতরে থাকা মোমবাতিটিও জ্বলে থাকে।
না; চিত্রে প্রদর্শিত অবস্থায় Q বেলজারের গাছটি বেঁচে থাকবে না।
উত্তরের পক্ষে যুক্তি আমরা জানি, সালোকসংশ্লেষণ একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। সালোকসংশ্লেষণের সময় বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাইঅক্সাইড পত্ররন্দ্রের ভেতর দিয়ে পাতায় প্রবেশ করার পর সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের বিক্রিয়া ঘটে ও শর্করা উৎপন্ন করে এবং উপজাত হিসেবে অক্সিজেন নির্গত করে। Q চিহ্নিত চিত্রে বেলজারের ভেতরে উদ্ভিদটি আটকে থাকায় পরিবেশের সাথে খাদ্য তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করতে পারবে না। কিন্তু উদ্ভিদে খাদ্য তৈরির জন্য কার্বন ডাইঅক্সাইড অপরিহার্য। তাই কার্বন ডাইঅক্সাইডের অভাবে খাদ্য তৈরি প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। এভাবে খাদ্যের অভাবে উদ্ভিদে শক্তি উৎপন্ন না হলে কিছুদিনেই চিহ্নিত বেলজারের উদ্ভিদটি নেতিয়ে পড়বে এবং এক সময় মারা যাবে।
পৃথিবীতে সকল শক্তির উৎস হলো সূর্য।
সবুজ উদ্ভিদেরা সূর্যের আলোকে ব্যবহার করে পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় নিজেদের খাদ্য ও অক্সিজেন প্রস্তুত করার পদ্ধতিকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলো একটি অপরিহার্য উপাদান। আর আলোর প্রধান উৎস হলো সূর্যালোক। যেহেতু সালোকসংশ্লেষণে সূর্যালোক প্রয়োজন হয় আর রাতের বেলায় সূর্যালোক থাকে না তাই রাতে সালোকসংশ্লেষণ হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
