ট্রলি ব্যাগের হাতল লম্বা রাখা হয় যাতে ব্যাগ টানার সময় বলের প্রয়োগবিন্দু ব্যাগটির ভরকেন্দ্র থেকে দূরে থাকে এবং ব্যাগটিকে সহজে কাত করে সামনের দিকে টানা যায়। এর ফলে প্রয়োজনীয় ঘূর্ণন বল বা টর্ক (torque) কমিয়ে সহজে ব্যাগটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
লম্বা হাতল ব্যবহারের কারণে বলের প্রয়োগবিন্দু উঁচু হয় এবং তা ব্যাগের ভরকেন্দ্রের সাথে একটি বৃহত্তর উলম্ব দূরত্ব সৃষ্টি করে। যখন হাতল ধরে ব্যাগ টানা হয়, তখন প্রযুক্ত বল এবং ব্যাগের ভরকেন্দ্রের সাপেক্ষে বলের কার্যরেখার মধ্যবর্তী লম্ব দূরত্ব বৃদ্ধি পায়। এতে একই টর্ক উৎপন্ন করার জন্য তুলনামূলকভাবে কম বল প্রয়োগ করতে হয়। ফলে ব্যাগটি ঘোরাতে বা টানতে সুবিধা হয় এবং ব্যবহারকারীর উপর চাপ কম পড়ে, যা ব্যাগ বহন করা সহজ করে তোলে।
কুবেরের নৌকা যে বেগে অপর পাড়ে পৌঁছায়, তা হলো তার নিজস্ব বেগ এবং নদীর স্রোতের বেগের ভেক্টর যোগফল (resultant velocity)। যেহেতু দুটি বেগ ভিন্ন দিকে ক্রিয়াশীল, তাই এদের লব্ধি বেগ নির্ণয়ের জন্য ভেক্টর যোগের সূত্র প্রয়োগ করতে হবে।
উদ্দীপক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কুবেরের নৌকার বেগ (\(v_K\)) = 5.5 ms-1 এবং স্রোতের বেগ (\(u\)) = 1.2 ms-1। চিত্রানুযায়ী, কুবের নৌকাটি নদীর প্রস্থের সাথে (AB রেখা) 120° কোণে চালাচ্ছেন। এর অর্থ হলো, কুবেরের নৌকা নদীর প্রস্থের দিক (বা AB এর বিপরীত দিক) থেকে \(180^\circ - 120^\circ = 60^\circ\) কোণে স্রোতের প্রতিকূলে যাচ্ছে। যদি নদীর প্রস্থের দিককে y-অক্ষ এবং স্রোতের দিককে x-অক্ষ ধরা হয়, তবে কুবেরের নৌকার বেগের উপাংশগুলি হবে: নদীর প্রস্থ বরাবর উপাংশ, \(v_{Ky} = v_K \cos 60^\circ = 5.5 \times 0.5 = 2.75\) ms-1 এবং স্রোতের প্রতিকূলে উপাংশ, \(v_{Kx} = -v_K \sin 60^\circ = -5.5 \times \frac{\sqrt{3}}{2} = -4.7631\) ms-1।
একটি নদী পার হওয়ার ক্ষেত্রে যিনি দ্রুততম সময়ে অপর পাড়ে পৌঁছাবেন, তা নির্ণয় করতে হলে নদী পার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময়ের গাণিতিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। এই সময় নির্ণয়ে নদীর প্রস্থ বরাবর বেগের উপাংশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে সুজন ও কুবেরের নদী পার হওয়ার প্রয়োজনীয় সময় গাণিতিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলো এবং কে আগে অপর পাড়ে পৌঁছাবে তা নির্ধারণ করা হলো।
সুজনের ক্ষেত্রে:
উদ্দীপকে দেওয়া আছে,
নদীর প্রস্থ, \(D = 400 \text{ m}\)
এবং "AB বরাবর সুজনের নৌকার বেগ = 6 ms-1"। এখানে, AB নদীর প্রস্থ বরাবর নির্দেশ করে। এর অর্থ হলো, সুজন এমনভাবে নৌকা চালাচ্ছে যে তার নৌকার লব্ধি বেগের নদীর প্রস্থ বরাবর উপাংশ \(v_{S \perp} = 6 \text{ ms}^{-1}\)। এই বেগ তাকে সরাসরি অপর পাড়ে নিয়ে যাবে।
সুজনের নদী পার হওয়ার প্রয়োজনীয় সময়,
\(t_S = \frac{D}{v_{S \perp}}\)
\(t_S = \frac{400}{6}\)
\(t_S \approx 66.67 \text{ s}\)
মতামত:
গাণিতিক বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায় যে, সুজনের নদী পার হতে প্রায় \(66.67 \text{ s}\) এবং কুবেরের নদী পার হতে প্রায় \(83.98 \text{ s}\) সময় লাগে। যেহেতু সুজনের নদী পার হওয়ার প্রয়োজনীয় সময় কুবেরের চেয়ে কম (\(66.67 \text{ s} < 83.98 \text{ s}\)), তাই সুজন কুবেরের আগে অপর পাড়ে পৌঁছাবে। এর প্রধান কারণ হলো, সুজন তার নৌকাকে সরাসরি অপর পাড়ের দিকে একটি কার্যকর গতিতে (\(6 \text{ ms}^{-1}\)) পরিচালনা করছে, যা তাকে স্বল্প সময়ে নদী পার হতে সাহায্য করে। পক্ষান্তরে, কুবের তার নৌকাকে এমন একটি কোণে পরিচালনা করছে যার ফলে তার নৌকার বেগের শুধুমাত্র একটি তুলনামূলকভাবে ছোট উপাংশই নদীর প্রস্থ বরাবর কার্যকর থাকে, তাই তার বেশি সময় লাগে।
বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে জানতে হলে কোন বা কোন ধরনের পরিমাপের প্রয়োজন হয়। পদার্থের যে সব ভৌত বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করা যায় তাদেরকে রাশি (quantity) বলে। যেমন, দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, আয়তন, বেগ, কাজ ইত্যাদি প্রত্যেকে এক একটি রাশি। পদার্থবিজ্ঞানের অন্তর্গত যে কোন রাশিকে ভৌত (physical) রাশি বলে।
কিছু কিছু ভৌত রাশিকে শুধুমাত্র মান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায়। আবার অনেক ভৌত রাশি রয়েছে যাদেরকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ই প্রয়োজন হয়। তাই ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে আমরা দুই ভাগে বিভক্ত করতে পারি ; যথা—
(ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি (Scalar quantity)।
(খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বা সদিক রাশি (Vector quantity)।
(ক) স্কেলার রাশি :
যে সব ভৌত রাশির শুধু মান আছে, কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলে। যেমন দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, জনসংখ্যা, তাপমাত্রা, তাপ, বৈদ্যুতিক বিভব, দ্রুতি, কাজ ইত্যাদি কেলার বা অদিক রাশি।
(খ) ভেক্টর রাশি :
যে সব ভৌত রাশির মান এবং দিক দুই-ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলে। যেমন সরণ, বেগ, ত্বরণ, মন্দন, বল, ওজন ইত্যাদি ভেক্টর বা দিক রাশি।
১.২ ভেক্টর রাশির নির্দেশনা
Representation of a vector
কোন একটি ভেক্টর রাশিকে দুভাবে প্রকাশ করা হয়ে থাকে, যথা- (১) অক্ষর দ্বারা এবং (২) সরলরেখা দ্বারা।
১। অক্ষর দ্বারা কোন একটি ভেক্টর রাশিকে চারভাবে প্রকাশ করা হয়, যথা-
(ক) কোন অক্ষরের উপর তীর চিহ্ন দ্বারা রাশিটির ভেক্টর রূপ এবং এর দুই পাশের দুটি খাড়া রেখা দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়। সাধারণভাবে শুধু অক্ষর দ্বারাও রাশিটির মান নির্দেশ করা হয়।
A অক্ষরের ভেক্টর রূপ Ā এবং মান রূপ | A | বা A
(খ) কোন অক্ষরের উপর রেখা চিহ্ন দ্বারা রাশিটির ভেক্টর রূপ এবং এর দুই পাশের দুটি খাড়া রেখ দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়।
A অক্ষরের ভেক্টর রূপ Ā এবং মান রূপ । A
(গ) কোন অক্ষরের নিচে রেখা চিহ্ন দ্বারা রাশিটির ভেক্টর রূপ এবং এর দুই পাশের দুটি খাড়া রেখ দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়।
A অক্ষরের ভেক্টর রূপ এবং মান রূপ | |
(ঘ) মোটা হরফের অক্ষর দিয়ে ভেক্টর রাশি প্রকাশ করা হয়। যেমন A অক্ষরের ভেক্টর রূপ এবং এর মান A ভেক্টর রাশি নির্দেশের ক্ষেত্রে (ক)-এ ব্যবহৃত চিহ্নই শ্রেয়। তাই এই বই-এ আমরা এই পদ্ধতিই ব্যবহার করব।
২। সরলরেখা দ্বারা ভেক্টর রাশি নির্দেশ করতে হলে রাশিটির দিকে বা সমান্তরালে একটি সরলরেখা অংকন করে সরলরেখাটির শেষ প্রান্তে একটি তীর চিহ্ন দ্বারা রাশিটির দিক এবং কোন স্কেলে উত্ত সরলরেখাটির দৈর্ঘ্য দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়। এ পদ্ধতিকে জ্যামিতিক উপায়ে ভেক্টরের নির্দেশনাও বলে।
চিত্র :১.১
মনে করি, একটি ভেক্টর রাশির মান 5 এবং এর দিক পূর্ব দিক। একে সরলরেখা দ্বারা প্রকাশ করতে হবে। এখন AC একটি সরলরেখা পূর্ব- পশ্চিম দিক বরাবর অংকন করে AC সরলরেখা হতে সুবিধামত দৈর্ঘ্যকে একক ধরে এর 5 গুণ দৈর্ঘ্য AB কেটে নিই এবং AB-এর শেষ প্রান্তে পূর্ব দিকে তীর চিহ্ন যুক্ত করি [চিত্র ১:১]। এই তীর চিহ্নিত সরলরেখাই ভেক্টর রাশিটি নির্দেশ করবে। ভেক্টর রাশি নির্দেশী সরলরেখার তীর চিহ্নিত প্রান্ত B-কে শীর্ষবিন্দু বা অন্ত বিন্দু এবং অপর প্রান্ত A-কে আদিবিন্দু বা মূলবিন্দু বা পাদবিন্দু বলে।
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!