ভূগোলের যে শাখায় ভৌত পরিবেশ ও এর মধ্যে কার্যরত বিভিন্ন প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকে তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে।
স্থান ও কালের পরিবর্তনের সঙ্গে পরিবেশও পরিবর্তিত হয়। যেমন শুরুতে মাটি, পানি, বায়ু, উদ্ভিদ, প্রাণী নিয়ে' ছিল মানুষের পরিবেশ। পরবর্তীতে এর মধ্যে যোগ হয়েছে মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কার্যাবলি। ফলে সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন ধরনের পরিবেশ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত A এর উপাদানগুলো হলো পাহাড়-পর্বত, মানুষ, কৃষিকাজ, খনিজ পদার্থ ও পশু পালন। এর মধ্যে পাহাড়-পর্বত, মানুষ, খনিজ পদার্থ প্রাকৃতিক পরিবেশের এবং কৃষিকাজ ও পশুপালন সামাজিক পরিবেশের আওতাভুক্ত।
প্রাকৃতিক জড় ও জীব উপাদান নিয়ে যে পরিবেশ গঠিত তাকে ভৌত বা প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে। এই পরিবেশে থাকে মাটি, পানি, বায়ু, পাহাড়, পর্বত, নদী, সাগর, আলো, গাছপালা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, মানুষ ও অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণী। এছাড়াও প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কাজ করে। এগুলো সামাজিক পরিবেশের অন্তর্গত। এসব কাজ হলো কৃষিকাজ, পশুপালন, বনজ ও খনিজ সম্পদ সংগ্রহ ইত্যাদি।
সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' এর উপাদানগুলো প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের আওতাভুক্ত।
উদ্দীপকে B এর উপাদানগুলো যাতায়াত ব্যবস্থা ও অঞ্চলভেদে পৃথিবীর ভূপ্রকৃতি এবং C এর উপাদানগুলো জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি- প্রকৃতি এবং পরিবেশ ও সমুদ্র রক্ষার কৌশল। এই দুটি উপাদানের মধ্যে B এর উপাদানগুলোর প্রভাব মানবজীবনে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
মানুষ প্রতিনিয়ত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করছে। এ জন্য তাদের প্রয়োজন যাতায়াত ব্যবস্থার। তাছাড়া মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানি ও রপ্তানির জন্য প্রয়োজন যাতায়াত ব্যবস্থা। যাতায়াত ব্যবস্থা ছাড়া মানবজীবন কল্পনাও করা যায় না। কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই যাতায়াত ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। যে দেশের যাতায়াত ব্যবস্থা যত ভালো সে দেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে তত উন্নত। তাছাড়া অঞ্চলভেদে ভূপ্রকৃতিও মানব জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
যেমন- জনবসতি গড়ে ওঠার পেছনে ভূপ্রকৃতি ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করে। সমতল ভূমিতে কৃষিকাজ সহজে করা যায়। কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় ভূমি
অসমতল হওয়ায় কৃষিকাজ করা তেমন সম্ভব হয় না। ফলে যাতায়াতের
সুবিধার জন্য কৃষি জমির নিকটে জনবসতি তৈরি হয়। অন্যদিকে
জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি-প্রকৃতি এবং পরিবেশ ও সমুদ্রকে রক্ষা সরাসরি
মানবজীবনকে প্রভাবিত করে না, বরং বিষয়গুলো নীতিগত।
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, যাতায়াত ব্যবস্থা ও ভূপ্রকৃতি মানবজীবনে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allভূগোল শব্দটি সর্বপ্রথম ইরাটসথেনিস ব্যবহার করেছেন।
পৃথিবীর প্রায় চারভাগের তিনভাগই সমুদ্র। তাই সমুদ্রবিদ্যার বিষয়বস্তুও ব্যাপক।
সমুদ্রপথে যোগাযোগ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উত্থান, অবনমন, সমুদ্রের পানির রাসায়নিক গুণাগুণ ও লবণাক্ততা নির্ধারণ, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সমুদ্রবিদ্যার বিষয়বস্তুর অন্তর্গত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!