উদ্দীপকের (b) যৌগটি (NaCl) একটি আয়নিক যৌগ যার মধ্যে ধনাত্মক Na+ ও ঋণাত্মক CI প্রান্ত বিদ্যমান। পানি সমযোজী যৌগ হলেও এর মধ্যে ধনাত্মক H+ প্রান্ত ও ঋণাত্মক OH° প্রান্ত বিদ্যমান। NaCl লবণকে পানিতে দিলে এটি পানির অণুর সাথে আকর্ষিত হয়। পানির ঋণাত্মক প্রান্ত NaCl এর ধনাত্মক Na⁺ প্রান্তকে এবং পানির ধনাত্মক প্রান্ত NaCl এর ঋণাত্মক CI প্রান্তকে আকর্ষণ করার মাধ্যমে পানিতে দ্রবীভূত করে।
পানি অণু সংযোজিত Na+ আয়ন পানি অণু সংযোজিত CI আয়ন অপরদিকে উদ্দীপকের (c) যৌগটি (CCl4) এটি সমযোজী যৌগ। এর মধ্যে অনুরূপ কোন ধনাত্মক ও ঋণাত্মক প্রান্ত না থাকায় পানির অণুর সাথে এর কোন আকর্ষণ থাকে না। তাই এটি পানি ও অন্যান্য পোলার দ্রাবকে অদ্রবণীয়।
আমরা জানি, সকল পদার্থই অনু এবং পরমাণু দিয়ে গঠিত। এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত 118টি মৌলের 118টি ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু রয়েছে। এদের মধ্য থেকে এক বা একাধিক মৌলের পরমাণু দিয়েই সকল পদার্থের অণু গঠিত হয়। পদার্থের অণুতে পরমাণুসমূহ এলোমেলো বা বিক্ষিপ্তভাবে থাকে না। পরমাণুসমূহ সুবিন্যস্ততাৰে থাকে। যে আকর্ষণ শাস্তির মাধ্যমে অণুতে দুটি পরমাণু পরস্পর যুদ্ধ থাকে তাকে রাসায়নিক ৰখন বলে। এই ৰখন বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। যেমন—আয়নিক বন্ধন, সমযোজী কখন কিংবা খাত বন্ধন। এ অঞ্চায়ে আয়নিক, সমযোর্থী বা ধাতব বন্ধন বিশিষ্ট যৌগের বন্ধন গঠন প্রক্রিয়া ও তাদের ধর্ম নিয়ে আলোচনা করা হবে।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা -
যোজ্যতা ইলেকট্রনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
মৌলের প্রতীক, যৌগমূলকের সংকেত ও এগুলোর যোজনী ব্যবহার করে যৌগের সংকেত লিখতে পারব।
নিষ্ক্রিয় গ্যাসের স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করতে পারব। • অষ্টক ও দুইয়ের নিয়মের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
রাসায়নিক বন্ধন এবং তা গঠনের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
আয়ন কীভাবে এবং কেন সৃষ্টি হয় তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
আয়নিক বন্ধন গঠনের প্রক্রিয়া বর্ণনা করতে পারব।
সমযোজী বন্ধন গঠনের প্রক্রিয়া বর্ণনা করতে পারব।
আয়নিক ও সমযোজী বন্ধনের সাথে গলনাঙ্ক, স্ফুটনাঙ্ক, দ্রাব্যতা, বিদ্যুৎ পরিবাহিতা এবং কেলাস গঠনের ধর্ম ব্যাখ্যা করতে পারব।
ধাতব বন্ধনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
ধাতব বন্ধনের সাহায্যে ধাতুর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা ব্যাখ্যা করতে পারব।
স্থানীয়ভাবে সহজপ্রাপ্য দ্রব্যের মধ্যে আরনিক ও সমযোজী যৌগ শনান্ত করতে পারব।