.

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

আবরণ: ঢাকনা, আচ্ছাদন, আচ্ছাদনী, বস্ত্র

আভরণ: অলংকার, ভূষণ, গহনা


বাংলা ব্যাকরণে কিছু শব্দ রয়েছে যা উচ্চারণগত দিক থেকে প্রায় একই রকম শোনায়, কিন্তু তাদের অর্থ সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন। এই ধরনের শব্দগুলোকে 'প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ' বলা হয়। যেমন: 'আবরণ' এবং 'আভরণ' শব্দদুটি শুনতে একই রকম মনে হলেও এদের অর্থ ভিন্ন।

        
  • আবরণ: এই শব্দটি মূলত কোনো কিছু ঢাকা বা আচ্ছাদিত করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি দিয়ে বাইরের আচ্ছাদন বা পোশাক বোঝানো হয়। উদাহরণস্বরূপ: "শীতের কারণে লোকটি মোটা আবরণে নিজেকে ঢেকেছে।"
  •     
  • আভরণ: এই শব্দটি অলংকার বা ভূষণ অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে পরা হয়। উদাহরণস্বরূপ: "নববধূ সোনায় মোড়া আভরণে সেজেছে।"

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে, বিশেষ করে বিসিএস, ব্যাংক বা অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বাংলা অংশে প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ থেকে প্রশ্ন প্রায়শই আসে। সঠিকভাবে এই শব্দগুলোর অর্থ পার্থক্য অনুধাবন করা ব্যাকরণিক জ্ঞান এবং শব্দভান্ডার বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। এটি লেখার নির্ভুলতা এবং অর্থের স্পষ্টতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই শব্দগুলোর সঠিক প্রয়োগ ভাষার সমৃদ্ধি ও প্রমিত ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ

মুখপত্র: কোনো সংস্থা, দল বা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রকাশিত সংবাদপত্র, সাময়িকপত্র বা প্রচারপত্র, যা তাদের নীতি, আদর্শ বা বক্তব্য প্রকাশ করে।

মুখপাত্র: যিনি কোনো ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলেন বা বক্তব্য দেন; মুখপাত্র।


বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যাদের উচ্চারণ প্রায় একই রকম হলেও অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এদেরকে প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ বলা হয়। প্রশ্নোক্ত 'মুখপত্র' ও 'মুখপাত্র' দুটি শব্দই এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ এবং এদের অর্থগত পার্থক্য জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে শুদ্ধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে।

      
  • মুখপত্র: এটি সাধারণত একটি অজীব বস্তু বা মাধ্যমকে বোঝায়, যেমন – সংবাদপত্র, পত্রিকা, সাময়িকী, বা কোনো সংগঠনের বুলেটিন। এটি হলো সেই মাধ্যম যার মাধ্যমে কোনো দল, প্রতিষ্ঠান বা সরকার তাদের আনুষ্ঠানিক বার্তা, নীতি, আদর্শ বা বিবৃতি জনসমক্ষে প্রকাশ করে। যেমন: "এই সংবাদপত্রটি সরকারের মুখপত্র হিসেবে কাজ করে।"
  •   
  • মুখপাত্র: এটি দ্বারা একজন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়। ইনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি কোনো ব্যক্তি, দল, সংস্থা বা সরকারের পক্ষ থেকে জনসম্মুখে কথা বলেন, বক্তব্য দেন অথবা বিবৃতি প্রদান করেন। ইনি সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বা মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। যেমন: "দলের মুখপাত্র আজ সাংবাদিকদের কাছে নতুন নীতি ব্যাখ্যা করেছেন।"

সুতরাং, সহজভাবে বললে, 'মুখপত্র' হলো একটি প্রকাশনা বা মাধ্যম, আর 'মুখপাত্র' হলেন একজন ব্যক্তিগত প্রতিনিধি

Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ

কুজন: খারাপ লোক, মন্দ লোক।

কূজন: পাখির ডাক, পাখিদের সুমধুর শব্দ।


বাংলা ভাষায় প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে শুদ্ধ প্রয়োগ ও অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে। এই ধরনের শব্দগুলি শুনতে প্রায় একই রকম মনে হলেও এদের বানান ও অর্থ ভিন্ন হয়।

  • কুজন: এই শব্দটি মূলত 'কু' (খারাপ/মন্দ) উপসর্গ এবং 'জন' (মানুষ) শব্দদ্বয়ের সমন্বয়ে গঠিত। এর অর্থ হলো মন্দ লোক, খারাপ স্বভাবের মানুষ অথবা দুষ্ট ব্যক্তি। যেমন: "মন্দ লোকের কুজন সমাজের জন্য ক্ষতিকর।"
  • কূজন: এই শব্দটি পাখির ডাক বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 'কূ' এখানে কোনো উপসর্গ নয়, বরং পুরো শব্দটিই পাখির সুমধুর ডাককে নির্দেশ করে। এটি সাধারণত পাখির মিষ্টি আওয়াজ বা কলরব অর্থে প্রয়োগ হয়। যেমন: "ভোরে পাখির কূজন মনকে স্নিগ্ধ করে তোলে।"

সুতরাং, এই দুটি শব্দের মধ্যে পার্থক্য কেবল একটি দীর্ঘস্বর (ূ) এবং হ্রস্বস্বর (ু) এর ব্যবহারেই নয়, এদের অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন। সঠিক প্রয়োগের জন্য এই পার্থক্য জানা জরুরি।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ

কোণ: জ্যামিতিক পরিমাপ (যেমন: ৯০ ডিগ্রি কোণ), অথবা কোনো কিছুর প্রান্ত বা সংযোগস্থল (যেমন: ঘরের কোণ)।

কোন: এটি একটি সর্বনাম। এটি জিজ্ঞাসা (যেমন: 'কোন বইটি তোমার?') অথবা অনির্দিষ্টতা বোঝাতে (যেমন: 'কোন এক দিন যাব') ব্যবহৃত হয়।


বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যাদের উচ্চারণ প্রায় একরকম হলেও অর্থ এবং ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন। কোণ এবং কোন তেমনই দুটি শব্দ, যা প্রায় সমোচ্চারিত শব্দের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ এবং এদের অর্থ পার্থক্য সঠিকভাবে জানা বাংলা ভাষার নির্ভুল প্রয়োগের জন্য জরুরি।

        
  • কোণ: এই শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ। এর দুটি প্রধান অর্থ রয়েছে—         
                  
    • জ্যামিতিক পরিমাপ: দুটি সরলরেখা বা তল একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হলে যে স্থান তৈরি হয়, তাকে কোণ বলে। যেমন: সমকোণ (right angle), সূক্ষ্মকোণ (acute angle), স্থূলকোণ (obtuse angle)।
    •             
    • প্রান্ত বা কিনারা: কোনো কিছুর শেষ প্রান্ত, কিনারা বা ভেতরের সংযোগস্থল বোঝাতেও এটি ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘরের কোণ, টেবিলের কোণ, রাস্তার মোড় বা কোণ।
    •         
            

    উদাহরণ: ত্রিভুজের তিনটি কোণ থাকে। শিশুরা ঘরের কোণে খেলছে।

        
  •     
  • কোন: এটি একটি সর্বনাম পদ। এর দুটি প্রধান ব্যবহার দেখা যায়—         
                  
    • প্রশ্নসূচক সর্বনাম: জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়। এটি 'কোনটি', 'কোন জন', 'কোন বিষয়ে' ইত্যাদির সংক্ষিপ্ত রূপ। যেমন: তুমি কোন বইটি পড়ছ? কোন ছাত্রটি আজ আসেনি? কোন ফল তোমার পছন্দ?
    •             
    • অনির্দিষ্টতাবাচক সর্বনাম: যখন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুকে চিহ্নিত করা না হয়, তখন অনির্দিষ্টতা বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়। যেমন: কোন এক দিন দেখা হবে। কোন না কোন উপায়ে কাজটা হয়ে যাবে।
    •         
            

    উদাহরণ: তোমার কোন জায়গায় যেতে ভালো লাগে?

        

এই দুটি শব্দের সঠিক ব্যবহার বাংলা ভাষার নির্ভুল প্রয়োগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এবং লিখিত যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই ধরনের শব্দের অর্থ পার্থক্য প্রায়শই জিজ্ঞাসা করা হয়।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ অবিমিশ্র: ভেজালহীন, বিশুদ্ধ, খাঁটি। অবিমৃষ্য: অবিবেচক, চিন্তাভাবনাহীন, হঠকারী।

বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যাদের উচ্চারণ প্রায় একই রকম শোনায়, কিন্তু তাদের অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এদেরকে প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ (Homophones or Homonyms) বলা হয়। এই শব্দগুলোর সঠিক অর্থ জানা না থাকলে বাক্য প্রয়োগে ভুল হতে পারে বা অর্থের বিকৃতি ঘটতে পারে।

        
  • অবিমিশ্র: এই শব্দটির অর্থ হলো যা মিশ্রিত নয়, অর্থাৎ বিশুদ্ধ বা খাঁটি। যেমন, "অবিমিশ্র ভালোবাসা" বলতে কোনো ভেজাল বা স্বার্থহীন ভালোবাসা বোঝায়।
  •     
  • অবিমৃষ্য: এই শব্দটির অর্থ হলো যে বিচার-বিবেচনা করে কাজ করে না, অর্থাৎ অবিবেচক বা হঠকারী। যেমন, "অবিমৃষ্যকারী কাজ" বলতে কোনো চিন্তাভাবনা না করে করা কাজকে বোঝায়, যার পরিণতি খারাপ হতে পারে।

এই দুটি শব্দের সামান্য উচ্চারণগত পার্থক্য থাকলেও তাদের অর্থগত ভিন্নতা বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বাক্য গঠনে সূক্ষ্মতা এনেছে।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ

যেসকল পদ দ্বারা কোন কাজ করা, ঘটা বা হওয়া বোঝায় এবং যা দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয়, তাদের ক্রিয়াপদ বলে। ক্রিয়াপদ ছাড়া বাক্য সম্পূর্ণ হয় না। বাংলা ব্যাকরণে ক্রিয়াপদের বিভিন্ন শ্রেণিবিভাগ রয়েছে, যা নিচে উদাহরণসহ আলোচনা করা হলো:

১. সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়া:

        
  •         সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়াপদ দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় এবং বাক্য শেষ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
            উদাহরণ: আমি বই পড়ি। (এখানে 'পড়ি' ক্রিয়াটি দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয়েছে।)     
  •     
  •         অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়াপদ দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় না এবং বাক্য শেষ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। অসমাপিকা ক্রিয়া সাধারণত 'ইয়া', 'ইলে', 'ইতে' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত হয় এবং এর পর আরেকটি সমাপিকা ক্রিয়া বসে বাক্যকে সম্পূর্ণ করে।
            উদাহরণ: আমি ভাত খেয়ে স্কুলে যাব। (এখানে 'খেয়ে' অসমাপিকা ক্রিয়া, যা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করেনি। 'যাব' সমাপিকা ক্রিয়া দ্বারা বাক্য সম্পূর্ণ হয়েছে।)     

২. কর্ম অনুসারে ক্রিয়া:

        
  •         সকর্মক ক্রিয়া: যে ক্রিয়াপদের কর্ম (object) থাকে, তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে। 'কী' বা 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে যদি উত্তর পাওয়া যায়, তবে তা সকর্মক ক্রিয়া।
            উদাহরণ: মা ভাত রান্না করছেন। (কী রান্না করছেন? – ভাত। এখানে 'ভাত' কর্ম।)     
  •     
  •         অকর্মক ক্রিয়া: যে ক্রিয়াপদের কর্ম থাকে না, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে। 'কী' বা 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে কোন উত্তর পাওয়া যায় না।
            উদাহরণ: সে ঘুমায়। (কী ঘুমায়? কাকে ঘুমায়? – কোনো উত্তর নেই। এখানে 'ঘুমায়' অকর্মক ক্রিয়া।)     
  •     
  •         দ্বিকর্মক ক্রিয়া: যে ক্রিয়াপদের দুটি কর্ম থাকে, তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে। একটি মুখ্য কর্ম (বস্তুবাচক) ও অন্যটি গৌণ কর্ম (প্রাণিবাচক) হয়।
            উদাহরণ: শিক্ষক ছাত্রদের বাংলা পড়াচ্ছেন। (কাকে পড়াচ্ছেন? – ছাত্রদের (গৌণ কর্ম)। কী পড়াচ্ছেন? – বাংলা (মুখ্য কর্ম)।)     

৩. গঠন অনুসারে ক্রিয়া:

        
  •         মৌলিক ক্রিয়া: যে ক্রিয়াপদ ধাতু থেকে সরাসরি উৎপন্ন হয় এবং যাকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে মৌলিক ক্রিয়া বলে।
            উদাহরণ: সে দেখে। (মূল ধাতু: দেখ্)     
  •     
  •         যৌগিক ক্রিয়া: একটি অসমাপিকা ক্রিয়া ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া একত্রিত হয়ে যখন একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
            উদাহরণ: রোগা শরীরটা শুকিয়ে যাচ্ছে। (এখানে 'শুকিয়ে' অসমাপিকা ক্রিয়া এবং 'যাচ্ছে' সমাপিকা ক্রিয়া একত্রিত হয়ে একটি বিশেষ অবস্থা বোঝাচ্ছে।)     
  •     
  •         প্রযোজক ক্রিয়া: যে ক্রিয়াপদে কর্তা নিজে কাজটি না করে অন্যকে দিয়ে কাজটি করায়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। এখানে একজন প্রযোজক কর্তা (যিনি কাজ করাচ্ছেন) এবং একজন প্রযোজ্য কর্তা (যিনি কাজটি করছেন) থাকে।
            উদাহরণ: মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। (এখানে মা প্রযোজক কর্তা এবং শিশু প্রযোজ্য কর্তা।)     
  •     
  •         নামধাতুর ক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা অব্যয়ের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগ করে যে ধাতু গঠিত হয় এবং তা থেকে যে ক্রিয়া উৎপন্ন হয়, তাকে নামধাতুর ক্রিয়া বলে।
            উদাহরণ: সে আমার সাথে মিশিয়াছে। (এখানে 'মিশ' একটি বিশেষ্য, যা থেকে 'মিশিয়াছে' ক্রিয়া গঠিত হয়েছে।)     
Satt AI
Satt AI
1 day ago
60

Related Question

View All
উত্তরঃ

ভূমিকা:

ছাত্রসমাজ একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাতা এবং পরিবর্তনের ধারক ও বাহক। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বাংলাদেশে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধিকার অর্জনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। রাজনীতি হলো একটি দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালনা এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া। যখন এই দুটি শক্তি সম্মিলিত হয়, তখন তা দেশের গতিপথ পরিবর্তনে এক অসামান্য ক্ষমতা ধারণ করে। তবে, ছাত্ররাজনীতির গতিপথ সর্বদা মসৃণ ছিল না; এর রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস যেমন, তেমনি রয়েছে কলঙ্কিত অধ্যায়ও।

ছাত্রসমাজের পরিচয়:

ছাত্রসমাজ বলতে একটি নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আওতাভুক্ত অথবা বৃহত্তর অর্থে শিক্ষাজীবনে অবস্থানরত তরুণ প্রজন্মকে বোঝায়। জ্ঞানার্জন, মেধার বিকাশ, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখা তাদের প্রধান কাজ। তারুণ্যের উচ্ছলতা, আদর্শবাদিতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মনোভাব এবং আপসহীনতা ছাত্রসমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য।

রাজনীতির পরিচয়:

রাজনীতি হলো রাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণ, সংরক্ষণ ও প্রয়োগের বিজ্ঞান ও শিল্প। এটি জনগণের কল্যাণ সাধন, সমাজের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের অবস্থান দৃঢ় করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। গণতন্ত্রে রাজনীতি জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল।

ছাত্র ও রাজনীতির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রতিটি পরতে ছাত্রসমাজের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ অবিস্মরণীয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের আত্মত্যাগ ও নেতৃত্ব ছিল অনবদ্য। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এসব আন্দোলন প্রমাণ করে, ছাত্রসমাজ কেবল বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে থাকা প্রজন্ম নয়, বরং তারা প্রয়োজনে রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি হিসেবেও আবির্ভূত হতে পারে।

ছাত্ররাজনীতির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা:

        
  • গণতন্ত্রের প্রহরী: ছাত্ররাজনীতি গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে এবং জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  •     
  • নেতৃত্ব তৈরি: ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রে ছাত্ররাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
  •     
  • সমাজসচেতনতা বৃদ্ধি: সামাজিক অসঙ্গতি, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ জনমত গঠনে সাহায্য করে।
  •     
  • অধিকার প্রতিষ্ঠা: শিক্ষাক্ষেত্রে ও বৃহত্তর সমাজের বিভিন্ন ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ছাত্ররাজনীতি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
  •     
  • দেশপ্রেম জাগ্রতকরণ: ছাত্ররাজনীতি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়ে তোলে।

ছাত্ররাজনীতির নেতিবাচক দিক:

গৌরবময় ইতিহাসের পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতির কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে, যা এর ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে।

        
  • সহিংসতা ও হানাহানি: ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দলীয় কোন্দলের কারণে শিক্ষাঙ্গনে প্রায়শই সহিংসতা দেখা যায়, যা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে।
  •     
  • সেশন জট: রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘর্ষের কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকা এবং পরীক্ষা বিঘ্নিত হওয়ায় সেশন জট সৃষ্টি হয়।
  •     
  • অরাজনৈতিক উদ্দেশ্য: কিছু ছাত্রনেতা ব্যক্তিগত বা দলীয় সংকীর্ণ স্বার্থে রাজনীতিকে ব্যবহার করে, যা সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে অনীহা তৈরি করে।
  •     
  • অস্ত্রের ব্যবহার: শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্রের ব্যবহার ছাত্ররাজনীতিকে কলুষিত করেছে এবং ছাত্রদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করেছে।
  •     
  • মূল্যবোধের অবক্ষয়: আদর্শভিত্তিক রাজনীতির পরিবর্তে সুবিধাবাদী ও পেশিশক্তির রাজনীতির কারণে ছাত্রসমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে।

ছাত্ররাজনীতির বর্তমান অবস্থা:

বর্তমানে বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি তার গৌরবময় ঐতিহ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে বলে অনেকে মনে করেন। দলতন্ত্র, পেশিশক্তি ও অর্থায়নের প্রভাবে ছাত্ররাজনীতি এখন অনেকটাই মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুড়বৃত্তি করছে। শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও একাডেমিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার পরিবর্তে কতিপয় ছাত্রনেতার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্ররাজনীতি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখছে।

ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক ভূমিকা ফিরিয়ে আনার উপায়:

ছাত্ররাজনীতির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি:

        
  • নৈতিকতা ও আদর্শের পুনরুত্থান: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মতো নেতৃত্বের আদর্শ ও নীতিকে অনুসরণ করতে হবে।
  •     
  • শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দিতে হবে।
  •     
  • সহিংসতা দমন: ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের সহিংসতা কঠোর হাতে দমন করতে হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
  •     
  • স্বচ্ছ নির্বাচন: ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।
  •     
  • রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা: মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোকে ছাত্ররাজনীতিকে লেজুড়বৃত্তি থেকে মুক্ত করে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

উপসংহার:

ছাত্রসমাজ ও রাজনীতি একে অপরের পরিপূরক হতে পারে, যদি রাজনীতি দেশ ও দশের কল্যাণের জন্য পরিচালিত হয়। ছাত্ররাজনীতিকে আবারও তার স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনতে হলে ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একটি সুস্থ ও গঠনমূলক ছাত্ররাজনীতিই পারে দেশকে সুনাগরিক উপহার দিতে এবং জাতির ভবিষ্যৎ পথকে সুগম করতে। শিক্ষা ও প্রজ্ঞা নির্ভর ছাত্ররাজনীতিই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে সার্থক করতে পারে।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
144
উত্তরঃ

আজ পৃথিবীতে এক অদ্ভুত নৈতিক অন্ধকার নেমে এসেছে। এই যুগে যারা অন্ধ, অর্থাৎ বিবেকহীন, প্রেমহীন, প্রীতিহীন ও করুণাহীন, তারাই সমাজে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তার করছে। তাদের কুপরামর্শ ছাড়া যেন পৃথিবী অচল। অন্যদিকে, যাদের হৃদয়ে মানুষের প্রতি গভীর আস্থা আছে, যারা মহৎ সত্য, রীতি, শিল্প বা সাধনাকে এখনো স্বাভাবিক বলে মনে করে, তাদের হৃদয় আজ শকুন ও শেয়ালের খাদ্যে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ, দুর্নীতি ও অনাচারের এই সময়ে মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষেরা কোণঠাসা ও লাঞ্ছিত।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
251
উত্তরঃ

চট্টগ্রাম

২৫ মার্চ ২০২৪


প্রিয় খ,

আশা করি ভালো আছিস। তোর চিঠি পেয়ে খুব খুশি হলাম। আজ আমি তোকে দক্ষ জনবল সৃষ্টিতে কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কিছু কথা লিখতে চাই।

আমাদের দেশের উন্নয়নের জন্য দক্ষ জনবল অপরিহার্য। শুধু সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে চাকরির বাজার দখল করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কারিগরি শিক্ষা এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। কারিগরি শিক্ষা মানুষকে হাতে-কলমে কাজ শেখায়, যা তাকে দ্রুত কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়।

কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী সুনির্দিষ্ট পেশার জন্য নিজেকে তৈরি করতে পারে। যেমন – ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, কম্পিউটার টেকনোলজি ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা শিল্প-কারখানা, কলকারখানা বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজ করতে পারে। এতে দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং বেকারত্বের হার কমে আসে। উন্নত দেশগুলোতে কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক প্রচলন আছে এবং তাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূলে এটি একটি বড় কারণ।

শুধু চাকরির জন্য নয়, কারিগরি শিক্ষা মানুষকে আত্মনির্ভরশীল হতেও সাহায্য করে। নিজের জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একজন ব্যক্তি নিজেই উদ্যোক্তা হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই, দেশের টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

আশা করি আমার কথাগুলো তোর ভালো লেগেছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে। তোর পরিবারের সবাইকে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা জানাবি।


ইতি,

তোর বন্ধু,

Satt AI
Satt AI
1 day ago
137
উত্তরঃ

আত্মনির্ভরশীলতা অর্থ নিজের উপর নির্ভর করা। এটি একটি মহৎ গুণ। আত্ম-সাহায্যই শ্রেষ্ঠ সাহায্য। যারা নিজেদের সাহায্য করে, ঈশ্বর তাদের সাহায্য করেন। তাই, প্রত্যেককে আত্মনির্ভরশীল হতে হলে তার নিজের যোগ্যতার উপর নির্ভর করতে হবে। একজন আত্মনির্ভরশীল মানুষের নিজের যোগ্যতার উপর আস্থা থাকে। সে কঠিন পরিস্থিতির মুখেও সাহস হারায় না।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
211
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews