C ধ্বংসে B এর রাসায়নিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ করো।

Updated: 1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে C বা ব্যাকটেরিয়ার মতো জীবাণু ধ্বংসে A ও B বা ত্বক ও পরিপাক তন্ত্রে উভয়েরই রাসায়নিক কার্যক্রম বিদ্যমান l

বিভিন্ন ধরনের জৈব রাসায়নিক উপাদান দেহের প্রতিরক্ষায় নানাভাবে ক্রিয়াশীল থাকে। ত্বকে নিঃসৃত বা ক্ষরিত বিভিন্ন উপাদান যেমন এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে তেমনি পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন রসও গৃহীত খাদ্যের সাথে প্রবেশকৃত ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। মানব ত্বকের স্বেদগ্রন্থি ও ঘামগ্রন্থি থেকে যথাক্রমে তেল বা স্বেদ ও ঘাম ক্ষরিত হয়। এতে জীবাণুনাশক থাকে ও তা ত্বককে অ্যাসিডডক (pH ৩.৫-৫.০) করে তোলে। এমন পরিবেশে জীবাণু বাঁচতে বা বংশ বৃদ্ধি করতে পারে না। অন্যদিকে ত্বকে যেসব অক্ষতিকর বা উপকারি ব্যাকটেরিয়া থাকে সেগুলোও যে অ্যাসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য ত্যাগ করে সেসব পদার্থও ত্বকের ওপরের জীবাণু দমনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এছাড়া অশ্রু, নালিকা ঝিল্লি ও কানের ভেতরের সেরুমিনাস গ্রন্থি ক্ষরিত সেরুমেন বা কানের মোমও ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ রোধ করতে সচেষ্ট থাকে। কিছু ব্যাকটেরিয়া সবসময়ই খাদ্য বাহিত হয়ে দেহে প্রবেশ করে। লালারসের লাইসোজাইম এনজাইম প্রথমেই এদের ধ্বংস করতে তৎপর হয়। পাকস্থলির 'গ্যাস্ট্রিক রসে বিভিন্ন এনজাইম ও বিপুল পরিমাণ HCI থাকে যা ব্যাকটেরিয়ার মতো জীবাণু অর্থাৎ C কে সহজেই ধ্বংস করতে পারে। ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে ক্ষরিত পিত্তরস অ্যান্টিবডি উৎপন্নের মাধ্যমে ক্ষুদ্রান্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি প্রতিহত করে। এছাড়া অন্ত্রে বসবাসকারী কয়েক ধরনের, মিথোজীবী অণুজীব ক্ষরিত অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে এবং সমগ্র পৌষ্টিকনালির বিভিন্ন এনজাইম ও মিউকাস ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

5

মানবদেহের প্রতিরক্ষা (Immunity):
যে প্রক্রিয়ায় দেহ ক্ষতিকর অণুজীব এবং বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে নিজেকে রক্ষা করে তাকে ইমিউনিটি (immunity) বা অনাক্রম্যতা বলে। ইমিউনিটি দুর্বল হলে ভ্যাক্সিন বা টিকা দিয়ে সবল করে তোলা হয়।

ইমিউন প্রতিরক্ষায় বিভিন্ন কোষের ভূমিকাঃ
ইমিউন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় (immune defense) অনেক ধরনের কোষ, অসংখ্য ও বৈচিত্র্যময় কাজের মাধ্যমে দেহকে সুস্থ-সবল রাখতে সদা তৎপর রয়েছে। নিচে এসব কোষের নাম, উৎপত্তিস্থল ও কাজের উল্লেখ করা হলোঃ

কোষের নাম    উৎপত্তি    কাজঃ

• লিউকোসাইট (নিউট্রোফিল) -  অস্থিমজ্জা   ফ্যাগোসাইটোসিস; প্রদাহকে ঘিরে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ক্ষরণ।
• বেসোফিল-   অস্থিমজ্জা   প্রদাহ সৃষ্টিতে হিস্টামিন ও অন্যান্য রাসায়নিক ক্ষরণ।
• ইওসিনোফিল  -অস্থিমজ্জা   বহুকোষী জীবাণু ধ্বংস; দ্রুত অতিসংবেদনশীল প্রতিক্রিয়ায় সাড়া দান।
• মনোসাইট -অস্থিমজ্জা  ম্যাক্রোফেজের অনুরূপ। 
• লিম্ফোসাইট  -ভ্রুণীয় স্টেমকোষ    নির্দিষ্ট ইমিউন সাড়ার শনাক্তকারী কোষ (recognition cells) হিসেবে কাজ করে।
• B-কোষ  –  নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে B-কোষের কোষঝিল্লির রিসেপ্টরে যুক্ত করে অ্যান্টিজেননির্ভর ইমিউন সাড়ার সূত্রপাত ঘটায়; নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে হেলপার কোষের সামনে তুলে ধরে।
• সাইটোটক্সিক T-কোষ  –  টার্গেট কোষের কোষঝিল্লিতে যুক্ত হয়ে সরাসরি কোষকে ধ্বংস করে।
• হেলপার T-কোষ  –  সাইটোকাইন (cytokines) ক্ষরণ করে B-কোষ, সাইটোটক্সিক T-কোষ, NK-কোষ ও ম্যাক্রোফেজকে সক্রিয় করে।
• NK-কোষ –  ভাইরাস আক্রান্ত ও ক্যান্সার কোষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধ্বংস করে।
• প্লাজমা কোষ  -  প্লীহা, টনসিল, লসিকা গ্রন্থি    অ্যান্টিবডি ক্ষরণ করে।
• ম্যাক্রোফেজ  - সমস্ত টিস্যু ও অঙ্গ ফ্যাগোসাইটোসিস; বিষাক্ত রাসায়নিক ক্ষরণের মাধ্যমে বহিঃকোষীয় ধ্বংস কার্যক্রম: হেলপার T-কোষের কাছে অ্যান্টিজেন উপস্থাপন।
• মাস্ট কোষ -  সমস্ত টিস্যু ও অঙ্গ প্রদাহের সঙ্গে জড়িত হিস্টামিন ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ।
 

Related Question

View All
উত্তরঃ

দেহের অনাক্রম্যতায় সাড়াদানকারী অণুপ্রবিষ্ট বহিরাগত বিষাক্ত পদার্থই হলো অ্যান্টিজেন।

6
উত্তরঃ

দেহকে কোনো রোগের বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতা করে গড়ে তোলাই হলো রোগ প্রতিরোধ। এই ব্যবস্থায় পূর্ব থেকে শরীর অনাকাঙ্ক্ষিত রোগজীবাণুকে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকে। টীকা দেওয়ার মাধ্যমে দেহকে নির্দিষ্ট রোগ হতে প্রতিরোধী করে তোলা যায়।

5
উত্তরঃ

উদ্দীপকের দেহের প্রতিরক্ষায় প্রথম স্তরটি হলো ত্বক। আমাদের দেহের সুরক্ষায় ত্বক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ত্বক আমাদের শরীরের বাইরের দিকের আবরণী। এটি ক্ষতিকর রোগের প্রভাব থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে। এর মধ্য দিয়ে সহজে কোনো কিছু ভেতরে যেতে পারে না। এটি দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও ক্যারোটিনাইড আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ করে।
দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH কে অম্লীয় (pH 3-5) করে তোলে। ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। কিছু সংখ্যক উপকারি ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে অ্যাসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে। যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি অ্যাসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে।

3
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে এনজাইম, অ্যাসিড, ম্যাক্রোফেজ ও নিউট্রোফিল বিশেষ ভূমিকা রাখে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

মানুষের মুখের লালাতে পেপটাইড যৌগ (লাইসোজাইম) রয়েছে। এরা Staphylococcus, Streptococcus, Bacillus ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া বিরোধী যৌগ। তবে যেসব ব্যাকটেরিয়া লালার এনজাইম সহনশীল তারা, পাকস্থলিতে পৌঁছালে পাকস্থলির HCI অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমের পানিকে বাইরে বের করে কোষ' সংকুচিত করে ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। তাছাড়া পাকস্থলিতে প্রোটিনধর্মী যেসব এনজাইম (যেমন- পেপসিন) রয়েছে তারাও ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। যেসব ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলিতেও মারা যায় না তারা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্যানেথ কোষ হতে নিঃসৃত ব্যাকটেরিয়া বিরোধী পেপটাইডধর্মী এনজাইম ক্রিয়ায় মারা যায়। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে Macrophage তিন ধরনের কাজ করে থাকে। যথা- Macrophage ক্ষণপদের মতো গঠন সৃষ্টি করে জীবাণুকে ফ্যাগোসোম নামক গহ্বরে আবদ্ধ করে ফেলে। পরবর্তীতে ইহা লাইসোজোমের সাথে একীভূত হয়ে Phagolysosome গঠন করে। লাইসোসোমের এনজাইম ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। ম্যাক্রোফেজ T-Lymphocyte কে ব্যাকটেরিয়ার প্রকৃতি সম্বন্দ্বে তথ্য
সরবরাহ করে থাকে।
নিউট্রোফিল তিনটি প্রধান উপায়ে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের কাজ করে থাকে। যেমন- এরা অপসোনাইজেশন প্রক্রিয়ায় অপসোনিন প্রোটিনের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে প্রবেশিত জীবাণুকে চিহ্নিত করে। নিউট্রোফিল সাইটোকাইন নিঃসৃত করে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। নিউট্রোফিল প্রোটিন ও ক্রোমাটিনের সমন্বয়ে Neutrophil Extracellular Traps বা NETS নামক ফাঁদ তৈরি করে যা ছাঁকনির মতো কাজ করে ব্যাকটেরিয়াকে আবদ্ধ ও ধ্বংস করে ফেলে।

3
উত্তরঃ

দেহের অনাক্রম্যতায় সাড়াদানকারী অণুপ্রবিষ্ট বহিরাগত বিষাক্ত পদার্থই হলো অ্যান্টিজেন।

4
উত্তরঃ

দেহে অনুপ্রবিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার গায়ে অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি কমপ্লেক্স যুক্ত হলে কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রোটিন নিউট্রোফিল ও ম্যাক্রোফেজকে প্রচন্ডভাবে ফ্যাগোসাইটোসিসে উদ্বুদ্ধ করে তোলে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় অপসোনাইজেশন।

5
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews